📄 জুমার খুতবা বা ভাষণ
জুমার নামাযের পূর্বে খুতবা দেওয়া ওয়াজিব। এই খুতবা দুটি অংশে বিভক্ত থাকে এবং এতে আল্লাহর প্রশংসা, রসূলুল্লাহ সা. এর উপর দরূদ, তাকওয়া, এবং মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। ইমাম খুতবা দেন।
খুতবার উদ্দেশ্য হলো মুসলিমদেরকে উপদেশ দেওয়া এবং তাদের মধ্যে ইসলামী চেতনা বৃদ্ধি করা। খুতবা আরবী ভাষায় দেওয়া মুস্তাহাব।
📄 খুতবার সময় কথা বলা নিষেধ
খুতবার সময় কথা বলা নিষেধ। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যখন ইমাম খুতবা দেয়, তখন যে ব্যক্তি কথা বলে, সে যেন গাধার মতো বোঝা বহন করে।" (আবু দাউদ)
খুতবার সময় মনোযোগ সহকারে শোনা এবং নীরবে থাকা মুস্তাহাব। যদি কেউ কথা বলে, তাহলে সে গুনাহগার হবে।
📄 জুমার এক রাকাত বা তারও কম পাওয়া
যদি কেউ জুমার নামাযে এক রাকাত বা তারও কম পায়, তাহলে তার নামাযের বৈধতা নিয়ে ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে:
১. ইমাম আবু হানিফা: যদি কেউ জুমার নামাযে শেষ তাশাহহুদ পায়, তাহলে সে জুমা পেয়েছে। যদি তাশাহহুদ না পায়, তাহলে সে যোহরের নামায আদায় করবে।
২. ইমাম শাফেয়ী: যদি কেউ জুমার নামাযে অন্তত এক রাকাত পায়, তাহলে সে জুমা পেয়েছে। যদি এক রাকাত না পায়, তাহলে সে যোহরের নামায আদায় করবে।
৩. ইমাম মালেক: যদি কেউ জুমার নামাযে অন্তত এক রাকাত পায়, তাহলে সে জুমা পেয়েছে। যদি এক রাকাত না পায়, তাহলে সে যোহরের নামায আদায় করবে।
৪. ইমাম আহমদ: যদি কেউ জুমার নামাযে অন্তত এক রাকাত পায়, তাহলে সে জুমা পেয়েছে। যদি এক রাকাত না পায়, তাহলে সে যোহরের নামায আদায় করবে।
তবে যদি কেউ জুমার নামায সম্পূর্ণভাবে ছুটে যায়, তাহলে সে যোহরের নামায আদায় করবে।
📄 জুমার আগে ও পরে নফল নামায
জুমার নামাযের আগে এবং পরে নফল নামায আদায় করা সুন্নাত। জুমার আগে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার নফল নামায নেই, তবে যতটুকু সম্ভব আদায় করা যেতে পারে। জুমার পরে দুই রাকাত বা চার রাকাত নফল নামায আদায় করা সুন্নাত। রসূলুল্লাহ সা. জুমার পরে নামায আদায় করতেন। (মুসলিম)
এই নফল নামাযগুলো জুমার দিনের মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং মুসলিমদের জন্য অতিরিক্ত সওয়াব এনে দেয়।