📄 জুমার নামাযের জন্যে নামাযীর সংখ্যা
জুমার নামায সহীহ হওয়ার জন্য নামাযীর সংখ্যা নিয়ে ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
১. ইমাম আবু হানিফা: ইমাম সহ কমপক্ষে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ মুক্তাদি থাকতে হবে।
২. ইমাম শাফেয়ী: ইমাম সহ কমপক্ষে চল্লিশজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ মুক্তাদি থাকতে হবে।
৩. ইমাম মালেক: ইমাম সহ কমপক্ষে বারোজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ মুক্তাদি থাকতে হবে।
৪. ইমাম আহমদ: ইমাম সহ কমপক্ষে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ মুক্তাদি থাকতে হবে।
তবে অধিকাংশ আলেম মনে করেন, একটি জামাত গঠিত হওয়ার জন্য কমপক্ষে দুইজন পুরুষ মুক্তাদিই যথেষ্ট।
📄 জুমার নামাযের স্থান
জুমার নামায এমন স্থানে আদায় করা উচিত, যা মুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত এবং যেখানে সবাই সহজে একত্রিত হতে পারে। সাধারণত এটি বড় মসজিদে বা খোলা ময়দানে আদায় করা হয়।
জুমার নামায এমন স্থানে আদায় করা জায়েয নয়, যা মুসলিমদের জন্য নির্দিষ্ট বা যেখানে প্রবেশে বাধা থাকে।
📄 জুমার ব্যাপারে ফকীহদের আরোপিত শর্তাবলী পর্যালোচনা
জুমার নামাযের জন্য ফকীহগণ কিছু শর্ত আরোপ করেছেন, যা নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এই শর্তগুলো হলো:
১. জামাত: জুমার নামায জামাতে আদায় করা অপরিহার্য।
২. শহর বা জনপদ: জুমার নামায শহর বা বড় জনপদে আদায় করা উচিত।
৩. ওয়াক্ত: যোহরের ওয়াক্তে আদায় করতে হবে।
৪. খুতবা: নামাযের পূর্বে খুতবা দেওয়া ওয়াজিব।
৫. সংখ্যা: নামাযীর নির্দিষ্ট সংখ্যা (মতভেদ আছে)।
৬. ইজন আম (সাধারণ অনুমতি): সকলের জন্য মসজিদে প্রবেশ ও নামায আদায়ের অনুমতি থাকতে হবে।
এই শর্তগুলোর উপর ভিত্তি করে জুমার নামাযের বৈধতা নির্ধারিত হয়।
📄 জুমার খুতবা বা ভাষণ
জুমার নামাযের পূর্বে খুতবা দেওয়া ওয়াজিব। এই খুতবা দুটি অংশে বিভক্ত থাকে এবং এতে আল্লাহর প্রশংসা, রসূলুল্লাহ সা. এর উপর দরূদ, তাকওয়া, এবং মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। ইমাম খুতবা দেন।
খুতবার উদ্দেশ্য হলো মুসলিমদেরকে উপদেশ দেওয়া এবং তাদের মধ্যে ইসলামী চেতনা বৃদ্ধি করা। খুতবা আরবী ভাষায় দেওয়া মুস্তাহাব।