📄 জুমার পূর্বে নফল নামায পড়া বৈধ কিনা
জুমার নামাযের পূর্বে নফল নামায পড়া জায়েয, তবে এর কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। রসূলুল্লাহ সা. জুমার পূর্বে নফল নামায আদায় করতেন এবং সাহাবিরাও তা করতেন।
তবে জুমার খুতবা শুরু হওয়ার পর কোনো নফল নামায পড়া জায়েয নয়, যদি না তাহিয়্যাতুল মসজিদ (মসজিদে প্রবেশের নামায) হয়।
📄 মসজিদে কোনো মুসল্লির তন্দ্রা এলে অন্য জায়গায় সরে যাওয়া উচিত
যদি কোনো মুসল্লির জুমার খুতবার সময় বা নামাযে তন্দ্রা আসে, তাহলে তার জন্য অন্য জায়গায় সরে যাওয়া বা সামান্য নড়াচড়া করা উচিত, যাতে তার ঘুম চলে যায়। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যদি তোমাদের কেউ নামাযে ঘুমিয়ে পড়ে, তাহলে সে যেন ঘুমিয়ে নেয়, যতক্ষণ না তার ঘুম চলে যায়।" (বুখারি, মুসলিম)
এটি নামাযের একাগ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
📄 জুমার নামায ফরয হবার দলিল
জুমার নামায ফরয হওয়ার দলিল পবিত্র কুরআন ও রসূলুল্লাহ সা. এর সুন্নাহে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে মুমিনগণ, যখন জুমার দিন নামাযের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ছুটে যাও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটিই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।" (সূরা জুমু'আ: ৯)
এই আয়াত জুমার নামাযের অপরিহার্যতা প্রমাণ করে।
📄 কার উপর জুমা ফরয এবং কার উপর ফরয নয়
জুমার নামায কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপর ফরয এবং কিছু ব্যক্তির উপর ফরয নয়:
জুমার নামায ফরয:
১. প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক, স্বাধীন পুরুষ মুসলমান।
২. যে শহরে জুমার নামায অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে অবস্থানকারী।
জুমার নামায ফরয নয়:
১. মহিলা, শিশু, পাগল।
২. মুসাফির (যদি সে জুমার নামাযের ওয়াক্তে কোনো শহরে না থাকে)।
৩. অসুস্থ ব্যক্তি, যার মসজিদে যেতে কষ্ট হয়।
৪. দাস বা কয়েদী।
৫. অন্ধ ব্যক্তি।
তবে যাদের উপর জুমা ফরয নয়, তাদের জন্য যোহরের নামায আদায় করা ফরয।