📄 রোগীর নামায
রোগীর জন্য নামায সহজ করা হয়েছে। যদি কেউ দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে না পারে, তাহলে সে বসে আদায় করবে। যদি বসেও না পারে, তাহলে শুয়ে ইশারা করে নামায আদায় করবে। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "দাঁড়িয়ে নামায আদায় করো, যদি না পারো তাহলে বসে, যদি না পারো তাহলে শুয়ে।" (বুখারি)
রোগী তার অবস্থা অনুযায়ী নামাযের রুকনগুলো যতটা সম্ভব সঠিকভাবে আদায় করবে।
📄 সালাতুল খাওফ বা যুদ্ধ, ভয় ও সন্ত্রাসকালীন নামায
সালাতুল খাওফ হলো যুদ্ধ, ভয় বা সন্ত্রাসকালীন পরিস্থিতিতে আদায় করা বিশেষ নামায। এটি নামাযের সংক্ষিপ্ত রূপ, যা জামাতে আদায় করা হয়। রসূলুল্লাহ সা. যুদ্ধের ময়দানে সালাতুল খাওফ আদায় করতেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "যখন তোমরা সফরে থাকো এবং তোমাদের উপর শত্রুদের আক্রমণের আশঙ্কা থাকে, তখন নামায সংক্ষিপ্ত করা তোমাদের জন্য কোনো গুনাহ নয়।" (সূরা নিসা: ১০২)
এই নামাযের উদ্দেশ্য হলো নামাযীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নামাযের ওয়াক্ত নষ্ট না হওয়া।
📄 শত্রুর পিছু ধাওয়াকারী ও শত্রুর ভয়ে পলায়নপর ব্যক্তির নামায
শত্রুর পিছু ধাওয়াকারী বা শত্রুর ভয়ে পলায়নপর ব্যক্তির জন্য নামায সংক্ষিপ্ত করা এবং ইশারা করে নামায আদায় করা জায়েয। যদি তারা নামাযের ওয়াক্তে ঘোড়ার পিঠে বা অন্য কোনো যানবাহনে থাকে, তাহলে তারা যানবাহনের উপর নামায আদায় করতে পারবে এবং ইশারা করে রুকু ও সিজদা করবে। রসূলুল্লাহ সা. এই পরিস্থিতিতে এই নিয়ম পালন করতেন।
এই বিধান মানুষের জন্য সহজতা আনার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে, যাতে নামাযের ওয়াক্ত নষ্ট না হয়।
📄 নৌকায়, ট্রেনে ও উড়োজাহাজে নামায পড়া
নৌকায়, ট্রেনে এবং উড়োজাহাজে নামায আদায় করা জায়েয, যদি নামাযের ওয়াক্ত হয়ে যায় এবং সেখানে নামাযের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে। যদি কিবলামুখী হওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে যে দিকে সম্ভব, সে দিকে মুখ করে নামায আদায় করবে। রসূলুল্লাহ সা. নৌকায় নামায আদায় করতেন।
যদি কিবলা পরিবর্তন হয়, তাহলে নামাযের মাঝখানে দিক পরিবর্তন করা জায়েয।