📄 যেসব ওযরে জামাত ত্যাগ করা যায়
কিছু ওজর বা কারণ রয়েছে, যার কারণে জামাতে নামায ত্যাগ করা জায়েয:
১. অসুস্থতা: যদি কেউ অসুস্থতার কারণে মসজিদে যেতে না পারে বা জামাতে নামায আদায় করতে না পারে।
২. তীব্র ক্ষুধা বা তৃষ্ণা: যদি খাবার বা পানির প্রয়োজন তীব্র হয় এবং তা নামাযে একাগ্রতা নষ্ট করে।
৩. প্রাকৃতিক দুর্যোগ: যেমন তীব্র বৃষ্টি, বরফ বা ঝড়।
৪. শত্রুর ভয়: যদি শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কা থাকে।
৫. পায়খানা বা পেশাবের তীব্র চাপ: যদি পায়খানা বা পেশাবের তীব্র চাপ থাকে এবং তা নামাযে একাগ্রতা নষ্ট করে।
৬. সফর: যদি সফরে থাকে এবং জামাতে নামাযের সুযোগ না পায়।
এই ওজরগুলো থাকলে একা নামায আদায় করা জায়েয।
📄 ইমামতির জন্য কে বেশি যোগ্য
ইমামতির জন্য কিছু নির্দিষ্ট গুণাবলী সম্পন্ন ব্যক্তি বেশি যোগ্য:
১. কুরআন সম্পর্কে বেশি জ্ঞানী: যে কুরআন সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানে এবং সুন্দরভাবে তিলাওয়াত করতে পারে।
২. সুন্নাহ সম্পর্কে বেশি জ্ঞানী: যে রসূলুল্লাহ সা. এর সুন্নাহ সম্পর্কে বেশি জানে।
৩. তাকওয়া: যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বেশি ভয় রাখে এবং সৎকর্মশীল।
৪. বয়স্ক: যদি জ্ঞান ও তাকওয়ায় সমান হয়, তাহলে বয়স্ক ব্যক্তি অগ্রাধিকার পাবে।
৫. সুন্দর কণ্ঠ: যদি অন্যান্য গুণাবলীতে সমান হয়, তাহলে সুন্দর কণ্ঠের ব্যক্তি অগ্রাধিকার পাবে।
৬. গোত্রের নেতা: যদি অন্যান্য গুণাবলীতে সমান হয়, তাহলে গোত্রের নেতা অগ্রাধিকার পাবে।
রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তোমাদের ইমামতি করবে সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী।" (মুসলিম)
📄 যাদের ইমামতি বৈধ
সাধারণত প্রত্যেক পুরুষ মুসলমান, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক এবং পবিত্র ব্যক্তি ইমামতি করতে পারে। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ইমামতি জায়েয:
১. যে ব্যক্তি সুস্থ এবং নামাযের সকল শর্ত পূরণ করে।
২. যে ব্যক্তি নামাযের আহকাম সম্পর্কে জানে।
৩. যে ব্যক্তি জামাতে নামাযের জন্য যোগ্য।
ফাসিক (পাপাচারী) বা বিদয়াতি (নতুন প্রথা অনুসারী) ব্যক্তির ইমামতি মাকরূহ, তবে তাদের পেছনে নামায আদায় করা জায়েয।
📄 যাদের ইমামতি শুদ্ধ নয়
কিছু ব্যক্তির ইমামতি শুদ্ধ নয়:
১. কাফের বা মুশরিক: তাদের পেছনে নামায আদায় করা জায়েয নয়।
২. পাগল বা অপ্রাপ্তবয়স্ক: তাদের উপর নামায ফরয নয়, তাই তাদের ইমামতিও শুদ্ধ নয়।
৩. মাসবুক: যে ব্যক্তি নামাযের কিছু অংশ পায়নি, সে ইমামতি করতে পারে না।
৪. মহিলা: পুরুষদের জামাতে মহিলাদের ইমামতি জায়েয নয়।
৫. অসুস্থ ব্যক্তি: যদি তার অসুস্থতা এমন হয় যে সে নামাযের রুকনগুলো সঠিকভাবে আদায় করতে পারে না।
এদের পেছনে নামায আদায় করলে নামায বাতিল হয়ে যাবে।