📄 সালাতুল হাজত
সালাতুল হাজত হলো কোনো প্রয়োজন বা সমস্যার সমাধানের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়ে আদায় করা নফল নামায। এটি দুই রাকাত নফল নামায, যার পর আল্লাহর প্রশংসা এবং রসূলুল্লাহ সা. এর প্রতি দরূদ পাঠ করে নিজের প্রয়োজন আল্লাহর কাছে পেশ করতে হয়। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যার আল্লাহর কাছে বা কোনো মানুষের কাছে কোনো প্রয়োজন আছে, সে যেন ওযু করে এবং দুই রাকাত নামায আদায় করে, তারপর আল্লাহর প্রশংসা ও রসূলের উপর দরূদ পড়ে দোয়া করে।" (তিরমিযি, ইবনে মাজাহ)
এই নামাযের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করে এবং তাঁর সাহায্য কামনা করে।
📄 সালাতুত তাওবা
সালাতুত তাওবা হলো কোনো গুনাহ করার পর আল্লাহর কাছে তওবা চেয়ে আদায় করা নফল নামায। এটি দুই রাকাত নফল নামায, যার পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও তওবা কামনা করতে হয়। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "কোনো বান্দা যদি গুনাহ করে, তারপর পবিত্র হয়ে দুই রাকাত নামায আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।" (আবু দাউদ, তিরমিযি)
এই নামাযের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয় এবং গুনাহ থেকে ফিরে আসে।
📄 সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের নামায
সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের সময় বিশেষ নামায আদায় করা সুন্নাত। এই নামাযকে 'সালাতুল কুসুফ' (সূর্য গ্রহণের নামায) এবং 'সালাতুল খুসুফ' (চন্দ্র গ্রহণের নামায) বলা হয়। এটি দুই রাকাত নামায, যা জামাতে আদায় করা হয় এবং এতে কিয়াম, রুকু ও সিজদা তুলনামূলকভাবে লম্বা হয়। রসূলুল্লাহ সা. সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের সময় এই নামায আদায় করতেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর নিদর্শনাবলী সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতেন।
এই নামাযের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং তাঁর নিদর্শনাবলী নিয়ে চিন্তা করা।
📄 ইসতিসকার নামায
ইসতিসকার নামায হলো বৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়ে আদায় করা নামায। এটি দুই রাকাত নামায, যা খোলা ময়দানে আদায় করা হয় এবং এতে ইমাম খুৎবা দেন। রসূলুল্লাহ সা. যখন বৃষ্টির অভাব হতো, তখন ইসতিসকার নামায আদায় করতেন।
এই নামাযের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন পেশ করে এবং তাঁর রহমত কামনা করে।