📄 ফজরের নামাযে কুনুত পড়া
ফজরের নামাযে কুনুত পড়া জায়েয কিনা, তা নিয়ে ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
১. ইমাম শাফেয়ী: ফজরের নামাযে সবসময় কুনুত পড়া সুন্নাত, তবে তা কুনুতে নাযেলার মতো নয়।
২. ইমাম আবু হানিফা: ফজরের নামাযে কুনুত পড়া জায়েয নয়, যদি না কোনো বিশেষ বিপদ বা দুর্যোগ থাকে।
৩. ইমাম মালেক: ফজরের নামাযে কুনুত পড়া জায়েয, তবে তা সুন্নাত নয়।
৪. ইমাম আহমদ: ফজরের নামাযে কুনুত পড়া জায়েয নয়, যদি না কোনো বিশেষ বিপদ বা দুর্যোগ থাকে।
তবে কুনুতে নাযেলা যেকোনো ফরয নামাযে পড়া যেতে পারে।
📄 কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ নামায
কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ নামায হলো রাতের শেষ ভাগে আদায় করা নফল নামায। এটি রসূলুল্লাহ সা. এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত এবং এর অনেক ফযিলত রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করো, এটি তোমার জন্য অতিরিক্ত। অচিরেই তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে দাঁড় করাবেন।" (সূরা ইসরা: ৭৯)
তাহাজ্জুদ নামায দুই রাকাত করে আদায় করা হয় এবং এর কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই, তবে আট বা বারো রাকাত আদায় করা মুস্তাহাব। এটি রাতের নীরবতার মধ্যে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সাহায্য করে।
📄 রমযানের রাতে নামায পড়া
রমযানের রাতে তারাবীহ নামায আদায় করা সুন্নাতুল মুয়াক্কাদা। এটি এশার নামাযের পর আদায় করা হয় এবং এটি বিশ রাকাত বা আট রাকাত হতে পারে, এ নিয়ে ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমযানের রাতে নামায আদায় করে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।" (বুখারি, মুসলিম)
তারাবীহ নামায জামাতে আদায় করা মুস্তাহাব।
📄 সালাতুদ্দোহা (পূর্বাহ্নের নামায)
সালাতুদ্দোহা হলো সূর্যোদয়ের পর থেকে যোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আদায় করা নফল নামায। এটি দুই রাকাত, চার রাকাত, ছয় রাকাত বা আট রাকাত হতে পারে। রসূলুল্লাহ সা. সালাতুদ্দোহা আদায় করতেন এবং এর অনেক ফযিলত বর্ণনা করেছেন।
রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি জয়েন্টের জন্য সদকা আছে। প্রতিটি তাসবীহ একটি সদকা, প্রতিটি তাহমীদ একটি সদকা, প্রতিটি তাহলীল একটি সদকা, প্রতিটি তাকবীর একটি সদকা, সৎ কাজের আদেশ করা একটি সদকা, মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা একটি সদকা, আর দোহা নামাযের দুই রাকাত এই সবকিছুর জন্য যথেষ্ট।" (মুসলিম)
এই নামাযকে 'সালাতুল আওয়াবীন'ও বলা হয়।