📄 আউযুবিল্লাহ পাঠ করা
নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পূর্বে 'আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম' (আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি) পাঠ করা সুন্নাত। এর উদ্দেশ্য হলো শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা পাওয়া এবং নামাযে একাগ্রতা বজায় রাখা।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "যখন তুমি কুরআন পাঠ করো, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো।" (সূরা নাহল: ৯৮)
এটি নামাযের প্রথম রাকাতে এবং অন্য রাকাতে পাঠ করা যাবে, এ নিয়ে ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
📄 সূরা ফাতিহার শেষে আমীন বলা
ইমাম যখন সূরা ফাতিহা শেষ করে 'ওয়ালাদ্দাল্লীন' বলে, তখন মুক্তাদিদের জন্য জোরে 'আমীন' বলা মুস্তাহাব। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যখন ইমাম 'আমীন' বলে, তখন তোমরাও 'আমীন' বলো, কারণ যার 'আমীন' ফেরেশতাদের 'আমীন' এর সাথে মিলে যায়, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।" (বুখারি, মুসলিম)
এটি ইমাম ও মুক্তাদি উভয়ই নীরবে বা উচ্চস্বরে বলতে পারে, এ নিয়ে ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
📄 সূরা ফাতিহার পরবর্তী কিরাত
ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকাতে এবং নফল নামাযের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর কুরআনের অন্য কোনো সূরা বা অংশের কিরাত (পাঠ) করা সুন্নাত। এটি নামাযের পূর্ণতা ও ফযিলত বৃদ্ধি করে। রসূলুল্লাহ সা. যখন নামায পড়তেন, তখন তিনি সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরা পাঠ করতেন।
কিরাতের পরিমাণ নামাযের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ফজরের নামাযে লম্বা কিরাত, যোহর ও আসরে মাঝারি এবং মাগরিব ও এশাতে সংক্ষিপ্ত কিরাত পড়া মুস্তাহাব।
📄 উঠা বসার তাকবীর
নামাযের বিভিন্ন রুকন যেমন রুকু, সিজদা এবং উঠা বসার সময় 'আল্লাহু আকবার' বলা সুন্নাত। এই তাকবীরগুলো 'তাকবীরাতুল ইনতিকাল' নামে পরিচিত। রসূলুল্লাহ সা. নামাযের প্রতিটি রুকনে এই তাকবীর বলতেন।
এই তাকবীরগুলো নামাযের একাগ্রতা বাড়ায় এবং আল্লাহর বড়ত্ব প্রকাশ করে।