📄 রফে ইয়াদাইন (হাত উঠানো)
নামাযে রফে ইয়াদাইন (হাত উঠানো) একটি সুন্নাত। এটি কয়েকটি স্থানে করা হয়:
১. তাকবীরে তাহরীমা বলার সময়: নামায শুরু করার সময় 'আল্লাহু আকবার' বলার সাথে সাথে হাত কান পর্যন্ত উঠানো।
২. রুকুতে যাওয়ার সময়: রুকুতে যাওয়ার পূর্বে হাত কাঁধ বরাবর উঠানো।
৩. রুকু থেকে ওঠার সময়: রুকু থেকে ওঠার পর হাত কাঁধ বরাবর উঠানো।
৪. দ্বিতীয় রাকাতের পর তাশাহহুদ থেকে ওঠার সময় (কিছু মাযহাবের মতে): দ্বিতীয় রাকাতের পর তাশাহহুদ থেকে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ানোর সময় হাত কাঁধ বরাবর উঠানো।
রসূলুল্লাহ সা. এই রফে ইয়াদাইন করতেন এবং এর অনেক ফযিলত রয়েছে। এই বিষয়ে ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ আলেম এটিকে সুন্নাত মনে করেন।
📄 বাম হাতের উপরে ডান হাত রাখা
নামাযে বাম হাতের উপরে ডান হাত রাখা সুন্নাত। এটি তাকবীরে তাহরীমা বলার পর করা হয় এবং এটি কিয়াম (দাঁড়ানো) অবস্থায় রাখা হয়। হাত বুকের উপর, নাভির নিচে বা নাভির উপর রাখা যাবে, এ নিয়ে ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
রসূলুল্লাহ সা. যখন নামায পড়তেন, তখন তিনি তার ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতেন। এটি নামাযে বিনয় ও একাগ্রতা প্রকাশ করে।
📄 নামায শুরুর দোয়া
নামায শুরু করার পর তাকবীরে তাহরীমার পর নামায শুরুর দোয়া (দোয়ায়ে ইস্তিতাহ) পড়া সুন্নাত। এই দোয়াটি বিভিন্ন রূপে বর্ণিত হয়েছে, যেমন: "সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।" (হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র এবং আপনার প্রশংসা করছি, আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা সুউচ্চ, এবং আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।)
এই দোয়া নামাযে একাগ্রতা বাড়াতে এবং আল্লাহর প্রতি বিনয় প্রকাশ করতে সাহায্য করে।
📄 আউযুবিল্লাহ পাঠ করা
নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পূর্বে 'আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম' (আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি) পাঠ করা সুন্নাত। এর উদ্দেশ্য হলো শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা পাওয়া এবং নামাযে একাগ্রতা বজায় রাখা।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "যখন তুমি কুরআন পাঠ করো, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো।" (সূরা নাহল: ৯৮)
এটি নামাযের প্রথম রাকাতে এবং অন্য রাকাতে পাঠ করা যাবে, এ নিয়ে ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।