📄 নামাযের নিয়ম
নামাযের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যা রসূলুল্লাহ সা. শিখিয়ে দিয়েছেন। প্রতিটি নামায তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে শুরু হয়, তারপর কিয়াম, রুকু, সিজদা এবং তাশাহহুদ ও সালামের মাধ্যমে শেষ হয়।
নামাযের প্রতিটি অংশে সুনির্দিষ্ট যিকর ও দোয়া রয়েছে, যা সঠিকভাবে আদায় করতে হবে। নামাযের প্রতিটি রুকন (অংশ) সঠিকভাবে আদায় করা অপরিহার্য।
📄 বিতির নামায
বিতির নামায এশার নামাযের পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আদায় করা যায়। এটি এক রাকাত, তিন রাকাত, পাঁচ রাকাত বা তারও বেশি সংখ্যক রাকাত হতে পারে। রসূলুল্লাহ সা. বিতির নামায আদায় করতেন এবং এটিকে ওয়াজিব বা সুন্নাতুল মুয়াক্কাদা মনে করা হয়।
বিতির নামাযের শেষ রাকাতে রুকুর পূর্বে বা রুকুর পরে 'কুনুতে বিতির' (বিশেষ দোয়া) পাঠ করা মুস্তাহাব।
📄 পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে কুনুতে নাযেলা পড়া
কুনুতে নাযেলা হলো বিশেষ বিপদ বা দুর্যোগের সময় আল্লাহর নিকট সাহায্য চেয়ে পাঠ করা দোয়া। এটি পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের শেষ রাকাতে রুকুর পর এবং সিজদার পূর্বে পাঠ করা যায়। রসূলুল্লাহ সা. বিভিন্ন বিপদ বা দুর্যোগের সময় কুনুতে নাযেলা পাঠ করতেন।
এই কুনুত পাঠ করার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কাছে বিপদ থেকে মুক্তি এবং মুসলিমদের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করা।
📄 ফজরের নামাযে কুনুত পড়া
ফজরের নামাযে কুনুত পড়া জায়েয কিনা, তা নিয়ে ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
১. ইমাম শাফেয়ী: ফজরের নামাযে সবসময় কুনুত পড়া সুন্নাত, তবে তা কুনুতে নাযেলার মতো নয়।
২. ইমাম আবু হানিফা: ফজরের নামাযে কুনুত পড়া জায়েয নয়, যদি না কোনো বিশেষ বিপদ বা দুর্যোগ থাকে।
৩. ইমাম মালেক: ফজরের নামাযে কুনুত পড়া জায়েয, তবে তা সুন্নাত নয়।
৪. ইমাম আহমদ: ফজরের নামাযে কুনুত পড়া জায়েয নয়, যদি না কোনো বিশেষ বিপদ বা দুর্যোগ থাকে।
তবে কুনুতে নাযেলা যেকোনো ফরয নামাযে পড়া যেতে পারে।