📄 আযানের সময় শোনার পর বলা উচিত
আযানের শব্দ শোনার পর শ্রোতাদের জন্য মুস্তাহাব হলো মুয়াজ্জিন যা যা বলে তা পুনরাবৃত্তি করা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যখন তোমরা মুয়াজ্জিনের আযান শুনবে, তখন সে যা বলে তাই বলবে, তারপর আমার উপর দরূদ পড়বে, তারপর আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওসিলা চাইবে, কারণ এটি জান্নাতের একটি স্থান।" (মুসলিম)
তবে 'হায়্যা আলাস সালাহ' এবং 'হায়্যা আলাল ফালাহ' এর উত্তরে 'লা হাওলা ওয়া লা কুব্বাতা ইল্লা বিল্লাহ' (আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই) বলা মুস্তাহাব।
📄 আযানের পরে দোয়া করা
আযানের পর দোয়া কবুল হয়। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "আযান ও ইকামতের মাঝে দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না।" (তিরমিযি)
আযানের পর একটি নির্দিষ্ট দোয়া পড়া মুস্তাহাব:
"আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাজিলাহ, ওয়াবআসহু মাকামাম মাহমুদাল্লাযী ওয়াআদতাহ।" (হে আল্লাহ, এই পরিপূর্ণ আহ্বানের এবং প্রতিষ্ঠিত নামাযের রব! মুহাম্মদকে ওসিলা ও ফযিলত দান করুন এবং তাকে সেই প্রশংসিত স্থানে পৌঁছান, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাকে দিয়েছেন।)
এই দোয়া পাঠ করলে রসূলুল্লাহ সা. এর সুপারিশ লাভের আশা করা যায়।
📄 ইকামতএর সময়ে যিকর
ইকামতের সময় নামাযীরা মনোযোগ সহকারে ইকামতের শব্দগুলো শুনবে এবং জামাতে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত হবে। ইকামতের সময় কোনো বিশেষ যিকর বা দোয়া পড়ার কথা হাদিসে বর্ণিত নেই, তবে নীরবে আল্লাহর যিকর করা বা ইস্তিগফার করা যেতে পারে।
📄 মুয়াযযিনের করণীয়
মুয়াজ্জিনের কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে:
১. ইখলাস: আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আযান দেওয়া।
২. উচ্চস্বরে আযান দেওয়া: যাতে সবাই শুনতে পায়।
৩. তরতীল (ধীরস্থিরতা) ও তারসীল (বিরতি) বজায় রাখা: আযানের শব্দগুলো স্পষ্ট ও ধীরস্থিরভাবে বলতে হবে।
৪. কণ্ঠস্বর সুন্দর হওয়া: সুন্দর কণ্ঠে আযান দেওয়া মুস্তাহাব।
৫. মুয়াজ্জিনকে আমানতদার ও আল্লাহভীরু হতে হবে: কারণ তার উপর নামাযের ওয়াক্তের দায়িত্ব অর্পিত।
৬. আযানের সময় মসজিদে উপস্থিত থাকা: যাতে সময়মতো আযান দেওয়া যায়।