📄 ফজরের আযানে “আস্সালাতু খাইরুম মিনান নাউম” বলা
ফজরের আযানে দ্বিতীয় হায়্যা আলাল ফালাহ'র পর "আস্সালাতু খাইরুম মিনান নাউম" (নামায ঘুম থেকে উত্তম) বলা মুস্তাহাব। এটি 'তাতওয়ীব' নামে পরিচিত। এই বাক্যটি ফজরের নামাযের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে, কারণ মানুষ এই সময়ে ঘুমে মগ্ন থাকে। রসূলুল্লাহ সা. এর যুগে বিলাল রা. এই বাক্যটি ফজরের আযানে ব্যবহার করতেন এবং রসূলুল্লাহ সা. এটিকে সমর্থন করেছিলেন।
তবে এই বাক্যটি অন্য কোনো নামাযের আযানে বলা জায়েয নয়।
📄 ইকামত ও পদ্ধতি
ইকামত হলো নামায শুরু করার পূর্বে জামাতে নামাযীদের সারিবদ্ধ হওয়ার আহ্বান। এটি আযানের চেয়ে দ্রুতগতিতে বলা হয়। ইকামতের বাক্যগুলো হলো:
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) – ১ বার
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই) – ১ বার
আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল) – ১ বার
হায়্যা আলাস সালাহ (নামাযের দিকে এসো) – ১ বার
হায়্যা আলাল ফালাহ (কল্যাণের দিকে এসো) – ১ বার
নকাদ ক্বামাতুল সালাহ (নামায শুরু হয়ে গেছে) – ২ বার
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) – ১ বার
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই) – ১ বার
এই বাক্যগুলো দ্রুত এবং জামাতে নামায শুরু করার সংকেত হিসেবে বলা হয়।
📄 আযানের সময় শোনার পর বলা উচিত
আযানের শব্দ শোনার পর শ্রোতাদের জন্য মুস্তাহাব হলো মুয়াজ্জিন যা যা বলে তা পুনরাবৃত্তি করা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যখন তোমরা মুয়াজ্জিনের আযান শুনবে, তখন সে যা বলে তাই বলবে, তারপর আমার উপর দরূদ পড়বে, তারপর আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওসিলা চাইবে, কারণ এটি জান্নাতের একটি স্থান।" (মুসলিম)
তবে 'হায়্যা আলাস সালাহ' এবং 'হায়্যা আলাল ফালাহ' এর উত্তরে 'লা হাওলা ওয়া লা কুব্বাতা ইল্লা বিল্লাহ' (আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই) বলা মুস্তাহাব।
📄 আযানের পরে দোয়া করা
আযানের পর দোয়া কবুল হয়। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "আযান ও ইকামতের মাঝে দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না।" (তিরমিযি)
আযানের পর একটি নির্দিষ্ট দোয়া পড়া মুস্তাহাব:
"আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাজিলাহ, ওয়াবআসহু মাকামাম মাহমুদাল্লাযী ওয়াআদতাহ।" (হে আল্লাহ, এই পরিপূর্ণ আহ্বানের এবং প্রতিষ্ঠিত নামাযের রব! মুহাম্মদকে ওসিলা ও ফযিলত দান করুন এবং তাকে সেই প্রশংসিত স্থানে পৌঁছান, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাকে দিয়েছেন।)
এই দোয়া পাঠ করলে রসূলুল্লাহ সা. এর সুপারিশ লাভের আশা করা যায়।