📄 শরিয়তে আযান প্রচলনের কারণ
ইসলামে আযান প্রচলনের মূল কারণ ছিল মুসলিমদেরকে নামাযের জন্য একত্রিত করা এবং নামাযের সময় হওয়ার ঘোষণা দেওয়া। মদিনায় হিজরতের পর মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে নামাযের জন্য একত্রিত হওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। রসূলুল্লাহ সা. সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করলে বিভিন্ন মতামত আসে, যেমন ঘণ্টা বাজানো বা আগুন জ্বালানো। কিন্তু আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ রা. স্বপ্নে আযান ও ইকামতের শব্দগুলো দেখেন এবং রসূলুল্লাহ সা. কে তা জানান। রসূলুল্লাহ সা. এটিকে সঠিক বলে স্বীকৃতি দেন এবং বিলাল রা. কে আযান দেওয়ার আদেশ দেন।
এভাবে আযান মুসলিমদের সম্মিলিত ইবাদতের প্রতীক হয়ে ওঠে।
📄 আযানের পদ্ধতি
আযানের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে, যা রসূলুল্লাহ সা. শিখিয়ে দিয়েছেন। আযানের বাক্যগুলো হলো:
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) – ২ বার
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই) – ২ বার
আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল) – ২ বার
হায়্যা আলাস সালাহ (নামাযের দিকে এসো) – ২ বার
হায়্যা আলাল ফালাহ (কল্যাণের দিকে এসো) – ২ বার
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) – ১ বার
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই) – ১ বার
এই বাক্যগুলো উচ্চস্বরে এবং ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বলতে হবে।
📄 ফজরের আযানে “আস্সালাতু খাইরুম মিনান নাউম” বলা
ফজরের আযানে দ্বিতীয় হায়্যা আলাল ফালাহ'র পর "আস্সালাতু খাইরুম মিনান নাউম" (নামায ঘুম থেকে উত্তম) বলা মুস্তাহাব। এটি 'তাতওয়ীব' নামে পরিচিত। এই বাক্যটি ফজরের নামাযের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে, কারণ মানুষ এই সময়ে ঘুমে মগ্ন থাকে। রসূলুল্লাহ সা. এর যুগে বিলাল রা. এই বাক্যটি ফজরের আযানে ব্যবহার করতেন এবং রসূলুল্লাহ সা. এটিকে সমর্থন করেছিলেন।
তবে এই বাক্যটি অন্য কোনো নামাযের আযানে বলা জায়েয নয়।
📄 ইকামত ও পদ্ধতি
ইকামত হলো নামায শুরু করার পূর্বে জামাতে নামাযীদের সারিবদ্ধ হওয়ার আহ্বান। এটি আযানের চেয়ে দ্রুতগতিতে বলা হয়। ইকামতের বাক্যগুলো হলো:
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) – ১ বার
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই) – ১ বার
আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল) – ১ বার
হায়্যা আলাস সালাহ (নামাযের দিকে এসো) – ১ বার
হায়্যা আলাল ফালাহ (কল্যাণের দিকে এসো) – ১ বার
নকাদ ক্বামাতুল সালাহ (নামায শুরু হয়ে গেছে) – ২ বার
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) – ১ বার
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই) – ১ বার
এই বাক্যগুলো দ্রুত এবং জামাতে নামায শুরু করার সংকেত হিসেবে বলা হয়।