📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ফজর ও আসরের পরে নামায পড়া সম্পর্কে ফকীহগণের অভিমত

📄 ফজর ও আসরের পরে নামায পড়া সম্পর্কে ফকীহগণের অভিমত


ফজর নামাযের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসর নামাযের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নফল নামায আদায় করা মাকরূহ। এই বিষয়ে ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে:

১. ইমাম আবু হানিফা: ফজর ও আসরের পর নফল নামায আদায় করা মাকরূহ তাহরীমী (হারামের কাছাকাছি)। তবে কাযা নামায বা জানাযার নামায আদায় করা জায়েয।
২. ইমাম শাফেয়ী: এই ওয়াক্তে নফল নামায আদায় করা মাকরূহ তানযিহী (অপছন্দনীয়), তবে হারাম নয়। কারণ রসূলুল্লাহ সা. কিছু হাদিসে এই ওয়াক্তে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন।
৩. ইমাম মালেক: এই ওয়াক্তে নফল নামায আদায় করা মাকরূহ, তবে এর বাইরে অন্য কোনো নিষেধ নেই।
৪. ইমাম আহমদ: এই ওয়াক্তে নফল নামায আদায় করা হারাম, যদি না তা কারণযুক্ত নামায হয়, যেমন তাহিয়্যাতুল মসজিদ (মসজিদে প্রবেশের নামায)।

তবে ফরয নামায কাযা হয়ে গেলে ফজর ও আসরের পর তা আদায় করা জায়েয।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও দ্বিপ্রহরের সময় নামায পড়া সম্পর্কে মতামত

📄 সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও দ্বিপ্রহরের সময় নামায পড়া সম্পর্কে মতামত


সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত এবং ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় (ইস্তাওয়ার সময়) নামায আদায় করা নিষিদ্ধ। এই বিষয়ে ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে:

১. ইমাম আবু হানিফা: এই তিন ওয়াক্তে যেকোনো নামায আদায় করা মাকরূহ তাহরীমী (হারামের কাছাকাছি), এমনকি কাযা নামাযও। তবে জানাযার নামায এবং তিলাওয়াতে সিজদা (কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা) জায়েয।
২. ইমাম শাফেয়ী: এই ওয়াক্তে নফল নামায আদায় করা মাকরূহ তানযিহী, তবে ফরয নামায কাযা হয়ে গেলে বা কারণযুক্ত নামায (যেমন তাহিয়্যাতুল মসজিদ, জানাযা) আদায় করা জায়েয।
৩. ইমাম মালেক: এই ওয়াক্তে নফল নামায আদায় করা মাকরূহ। তবে কারণযুক্ত নামায আদায় করা জায়েয।
৪. ইমাম আহমদ: এই ওয়াক্তে যেকোনো নামায আদায় করা হারাম, যদি না তা কাযা নামায বা কারণযুক্ত নামায হয়।

এই ওয়াক্তে নামাযের নিষিদ্ধতার কারণ হলো, মুশরিকরা সূর্য পূজা করত, তাই মুসলিমদেরকে তাদের সাথে সাদৃশ্য থেকে বিরত থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার পর এবং ফজরের নামাযের আগে নফল পড়া

📄 ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার পর এবং ফজরের নামাযের আগে নফল পড়া


ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার পর কিন্তু ফরয নামায আদায়ের আগে শুধুমাত্র ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামায পড়া জায়েয। এই সুন্নত নামাযকে 'সুনানুল ফজর' বলা হয় এবং এর ফযিলত অনেক বেশি। রসূলুল্লাহ সা. এই সুন্নতকে কখনো ছাড়তেন না।

তবে এই সময়ে ফজরের সুন্নত ছাড়া অন্য কোনো নফল নামায পড়া মাকরূহ। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার পর ফজরের দুই রাকাত সুন্নত ছাড়া আর কোনো নামায নেই।" (তিরমিযি)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00