📄 নামাযের সময় ঘুমে থাকলে বা ভুলে গেলে
যদি কেউ নামাযের ওয়াক্তে ঘুমে থাকে বা নামাযের কথা ভুলে যায়, তাহলে যখন তার ঘুম ভাঙবে বা যখন তার নামাযের কথা মনে পড়বে, তখনই সে নামায আদায় করবে। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যদি তোমাদের কেউ নামাযের কথা ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে পড়ে, তাহলে যখন তার মনে পড়বে বা যখন তার ঘুম ভাঙবে, তখনই সে নামায আদায় করবে।" (বুখারি, মুসলিম)
এটি একটি বিশেষ বিধান, যা মানুষের প্রাকৃতিক দুর্বলতার কারণে ক্ষমা করা হয়েছে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে নামাযের ওয়াক্ত পার করা জায়েয নয়।
📄 নামাযের নিষিদ্ধ ওয়াক্তসমূহ
কিছু নির্দিষ্ট সময়ে নামায আদায় করা নিষিদ্ধ বা মাকরূহ:
১. সূর্যোদয়ের সময়: সূর্য উদয় হওয়ার সময় থেকে যতক্ষণ না তা এক বা দুই বর্শা পরিমাণ উপরে উঠে।
২. ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়: সূর্য যখন ঠিক মাথার উপর থাকে, আসরের পূর্বে, জুমার দিন ব্যতীত।
৩. সূর্যাস্তের সময়: সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় যতক্ষণ না তা সম্পূর্ণরূপে ডুবে যায়।
এই তিন ওয়াক্তে ফরয নামায ব্যতীত অন্য কোনো নামায আদায় করা নিষিদ্ধ। তবে ফরয নামায কাযা হয়ে গেলে এই ওয়াক্তেও আদায় করা যায়।
📄 ফজর ও আসরের পরে নামায পড়া সম্পর্কে ফকীহগণের অভিমত
ফজর নামাযের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসর নামাযের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নফল নামায আদায় করা মাকরূহ। এই বিষয়ে ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে:
১. ইমাম আবু হানিফা: ফজর ও আসরের পর নফল নামায আদায় করা মাকরূহ তাহরীমী (হারামের কাছাকাছি)। তবে কাযা নামায বা জানাযার নামায আদায় করা জায়েয।
২. ইমাম শাফেয়ী: এই ওয়াক্তে নফল নামায আদায় করা মাকরূহ তানযিহী (অপছন্দনীয়), তবে হারাম নয়। কারণ রসূলুল্লাহ সা. কিছু হাদিসে এই ওয়াক্তে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন।
৩. ইমাম মালেক: এই ওয়াক্তে নফল নামায আদায় করা মাকরূহ, তবে এর বাইরে অন্য কোনো নিষেধ নেই।
৪. ইমাম আহমদ: এই ওয়াক্তে নফল নামায আদায় করা হারাম, যদি না তা কারণযুক্ত নামায হয়, যেমন তাহিয়্যাতুল মসজিদ (মসজিদে প্রবেশের নামায)।
তবে ফরয নামায কাযা হয়ে গেলে ফজর ও আসরের পর তা আদায় করা জায়েয।
📄 সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও দ্বিপ্রহরের সময় নামায পড়া সম্পর্কে মতামত
সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত এবং ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় (ইস্তাওয়ার সময়) নামায আদায় করা নিষিদ্ধ। এই বিষয়ে ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে:
১. ইমাম আবু হানিফা: এই তিন ওয়াক্তে যেকোনো নামায আদায় করা মাকরূহ তাহরীমী (হারামের কাছাকাছি), এমনকি কাযা নামাযও। তবে জানাযার নামায এবং তিলাওয়াতে সিজদা (কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা) জায়েয।
২. ইমাম শাফেয়ী: এই ওয়াক্তে নফল নামায আদায় করা মাকরূহ তানযিহী, তবে ফরয নামায কাযা হয়ে গেলে বা কারণযুক্ত নামায (যেমন তাহিয়্যাতুল মসজিদ, জানাযা) আদায় করা জায়েয।
৩. ইমাম মালেক: এই ওয়াক্তে নফল নামায আদায় করা মাকরূহ। তবে কারণযুক্ত নামায আদায় করা জায়েয।
৪. ইমাম আহমদ: এই ওয়াক্তে যেকোনো নামায আদায় করা হারাম, যদি না তা কাযা নামায বা কারণযুক্ত নামায হয়।
এই ওয়াক্তে নামাযের নিষিদ্ধতার কারণ হলো, মুশরিকরা সূর্য পূজা করত, তাই মুসলিমদেরকে তাদের সাথে সাদৃশ্য থেকে বিরত থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে।