📄 সালাত ত্যাগকারী সম্পর্কে ফায়সালা কী?
সালাত ত্যাগকারী সম্পর্কে আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। তবে অধিকাংশ আলেম একমত যে, সালাত ত্যাগ করা একটি গুরুতর পাপ এবং এর কঠোর পরিণতি রয়েছে।
১. সালাত ত্যাগকারী কাফের: কিছু আলেম মনে করেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামায ত্যাগ করে, সে কাফের হয়ে যায়। তাদের যুক্তি হলো, নামায এবং শিরকের মাঝে পার্থক্য হলো নামায। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "আমাদের এবং তাদের (কাফেরদের) মাঝে চুক্তি হলো নামায। যে নামায ত্যাগ করল সে কাফের হয়ে গেল।" (তিরমিযি, নাসায়ী)
২. সালাত ত্যাগকারী ফাসিক বা গুনাহগার: অন্যান্য আলেম মনে করেন, সালাত ত্যাগকারী কাফের হয় না, তবে সে ফাসিক বা বড় গুনাহগার। তাদের যুক্তি হলো, ইসলামে প্রবেশ করার জন্য শুধু শাহাদাতাইন (আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস) যথেষ্ট। নামায ত্যাগ করার কারণে তাকে ইসলাম থেকে খারিজ করা যাবে না। তবে তাকে নামায আদায়ের জন্য চাপ দিতে হবে এবং প্রয়োজনে শাস্তি দিতে হবে।
৩. সালাত ত্যাগকারীকে হত্যা: কিছু আলেম মনে করেন, যদি নামায ত্যাগকারী তওবা না করে এবং নামাযে ফিরে না আসে, তাহলে তাকে হত্যা করতে হবে। তবে এটি শুধুমাত্র ইসলামী বিচারকের এখতিয়ার।
মোটকথা, সকল আলেম নামাযের গুরুত্ব সম্পর্কে একমত এবং নামায ত্যাগকারীকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।
📄 নামায কার উপর ফরয
নামায প্রত্যেক মুসলমান, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক এবং পবিত্র ব্যক্তির উপর ফরয।
১. মুসলমান: অমুসলিমের উপর নামায ফরয নয়। তবে ইসলাম গ্রহণ করলে তার উপর নামায ফরয হবে।
২. প্রাপ্তবয়স্ক: শিশুর উপর নামায ফরয নয়, তবে তাকে নামাযের অভ্যাস করানো মুস্তাহাব।
৩. সুস্থ মস্তিষ্ক: পাগলের উপর নামায ফরয নয়।
৪. পবিত্র: নামাযের জন্য পবিত্রতা (ওজু, গোসল) অপরিহার্য।
📄 শিশুর নামায
শিশুর উপর নামায ফরয না হলেও তাকে নামাযের অভ্যাস করানো মুস্তাহাব। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তোমাদের সন্তানদেরকে সাত বছর বয়সে নামাযের আদেশ দাও, দশ বছর বয়সে (যদি আদায় না করে) তাহলে মারো এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও।" (আবু দাউদ)
এই হাদিস শিশুদেরকে ছোটবেলা থেকেই নামাযের প্রতি আগ্রহী করার গুরুত্ব বোঝায়। এটি তাদের নৈতিক ও আত্মিক বিকাশে সাহায্য করে।
📄 ফরয নামায কয় ওয়াক্ত
দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায রয়েছে: ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব এবং এশা। এই পাঁচ ওয়াক্ত নামায প্রতিটি মুসলিমের উপর ফরয করা হয়েছে।