📄 ইস্তেহাযা (রোগজনিত রক্তস্রাব)
১. সংজ্ঞা: অসময়ে ও অনিয়মিত অব্যাহত রক্তস্রাবকে এস্তেহাযা বলা হয়। ২. মুস্তাহাযার (রোগজনিত রক্তস্রাবগ্রস্ত মহিলার) অবস্থা মুস্তাহাযার তিন রকমের অবস্থা হতে পারে: ক. এস্তেহাযার পূর্বে ঋতুস্রাবের একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ তার জানা ছিলো। এমতাবস্থায় সেই পরিচিত মেয়াদটাই তার ঋতুস্রাবের মেয়াদ গণ্য হবে। বাদবাকি সময়টা গণ্য হবে এস্তেহাযা হিসেবে। কেননা উম্মে সালামার হাদিসে উল্লেখ রয়েছে: তিনি অনিয়মিত রক্তস্রাবগ্রস্ত জনৈক মহিলা সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সা.কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি জবাব দেন মহিলা কতদিন ঋতুবতী থাকতো, তা গুণে দেখবে এবং তা মাসের কতদিন তা হিসাব করবে, তারপর গোসল করবে। যৌনাংগে ন্যাকড়া বাঁধবে, অতপর নামায পড়বে। -মালেক, শাফেয়ী ও তিরমিযি ব্যতিত পাঁচটি সহীহ হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত। খাত্তাবী বলেছেন: এটা সেই মহিলার বিধি, যার সুস্থাবস্থায় ঋতুবতী হওয়ার দিনের সংখ্যা জানা ছিলো রোগ হওয়ার পূর্বে। এরপর রোগ দেখা দিলো এবং অব্যাহত রক্তস্রাব হতে থাকলো। তাই রসূল সা. তাকে আদেশ করলেন, যতদিন সুস্থাবস্থায় ঋতুবতী থাকতো ততদিন নামায বর্জন করবে। সেই দিনগুলো শেষে একবার গোসল করবে, তখন সে পবিত্র বলে গণ্য হবে।
খ. ক্রমাগত রক্তস্রাব হয়, অথচ ইতিপূর্বেকার ঋতুর দিনের সংখ্যা নির্দিষ্ট ছিলোনা। এর কারণ, সে তার অভ্যাসের কথা ভুলে গেছে। অথবা যৌবনে পদার্পণই করেছে মুস্তাহাযা অবস্থায়। ফলে সে ঋতুর রক্ত ও এস্তেহাযার রক্তের পার্থক্য করতে পারেনা। এ পরিস্থিতিতে তার ঋতু ছয় দিন বা সাত দিন ধরতে হবে, যা অধিকাংশ মহিলার অভ্যাস। কেননা হামনা বিনতে জাহাশের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: তিনি বলেছেন: আমার খুব বেশি এস্তেহাযা হতো। তাই রসূলুল্লাহর কাছে এলাম তাঁর কাছ থেকে জেনে নেয়া ও তাঁকে আমার অবস্থা অবহিত করার জন্য। তাঁকে পেলাম আমার বোন যয়নব বিনতে জাহাশের বাড়িতে। আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ সা., আমার অত্যধিক এস্তেহাযা হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে আপনার মত কী? এর কারণে আমার তো নামায রোযা বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বললেন: আমি তোমাকে তুলা ব্যবহারের ব্যবস্থা দিচ্ছি। এতে তোমার রক্ত বন্ধ হবে। হামনা বললেন: রক্তের প্রবাহ তার চেয়েও বেশি। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তাহলে রক্তের স্থানে এক টুকরো ন্যাকড়া বেঁধে নাও লাগামের মতো করে। হামনা বললো: রক্তের প্রবাহ এর চেয়েও বেশি। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: আমি তোমাকে দুটো কাজের আদেশ দেবো। এর যে কোনো একটা করলেই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। আর যদি দুটো করতে সক্ষম হও তাহলে সেটা তুমিই ভালো জানো। রসূলুল্লাহ সা. তাকে বললেন: এটা শয়তানের একটা ধাক্কা। কাজেই তুমি ছয় থেকে সাতদিন ঋতু হিসাবে ধরে নাও, প্রকৃত সংখ্যা আল্লাহর জ্ঞানের উপরই সোপর্দ করো। তারপর গোসল করো। যখন দেখবে, তুমি পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন হয়ে গেছো, তখন তেইশ দিন বা চব্বিশ দিন নামায ও রোযা করো। এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। এভাবে তুমি প্রতি মাসে করো, যেমন মহিলারা তাদের ঋতু ও পবিত্রতার মেয়াদ অনুসারে ঋতুবতী ও পবিত্র হয়ে থাকে। আর যদি যোহর বিলম্বিত ও আসর ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হও, তাহলে গোসল করে যোহর ও আসর এক সাথে পড়ো। পুনরায় মাগরিবকে বিলম্বিত ও এশা ত্বরান্বিত করো এবং গোসল করে মাগরিব ও এশা এক সাথে পড়ো, আর ফজরের সাথে গোসল করো ও নামায পড়ো। এভাবে তুমি চালিয়ে যাও, নামায পড়ো ও রোযা করো, যদি তা করতে সক্ষম হও। রসূলুল্লাহ সা. বললেন উক্ত দুই কাজের মধ্যে এটাই আমার নিকট অধিকতর পছন্দনীয়।” -আহমদ, আবু দাউদ ও তিরমিযি। তিরিমিযি এটিকে উত্তম ও সহীহ বলেছেন। বুখারিও একে উত্তম বলেছেন। আহমদ ইবনে হাম্বলও একে উত্তম ও সহীহ হাদিস বলেছেন। খাত্তাবী এই হাদিসের ব্যাখ্যা প্রসংগে বলেছেন: এই মহিলা প্রথম ঋতুবতী ছিলেন, ইতিপূর্বে তার কোনো ঋতুর দিন অতিবাহিত হয়নি এবং তিনি ঋতুর রক্ত চিনতেও সক্ষম ছিলেননা। তার রক্ত প্রবাহ অব্যাহত থাকায় অধিকাংশ সময়ই তার স্রাব চলতো। এজন্য রসূলুল্লাহ সা. তার ব্যাপারটাকে প্রচলিত রীতি এবং মহিলাদের অধিকাংশ সময় যে অবস্থা থাকে তার আলোকে বিচার বিবেচনা করেন। অনুরূপ তিনি মহিলাদের প্রচলিত রীতি অনুসারে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে রকম হয়ে থাকে, তার প্রতি মাসে একবার ঋতুবতী হওয়াকে সেই আলোকে নির্ধারণ করে দিলেন। রসূলুল্লাহ সা. এর উক্তি: "যেমন মহিলারা তাদের ঋতু ও পবিত্রতার মেয়াদে ঋতুবতী ও পবিত্র হয়ে থাকে" দ্বারা সে কথাই প্রতিষ্ঠিত হয়। খাত্তাবী বলেন: ঋতুস্রাব, সন্তান ধারণ, বয়োপ্রাপ্ত হওয়া ও অনুরূপ অন্যান্য বিষয়ে মহিলাদের একজনের অবস্থা আর একজনের অবস্থার আলোকে বিচার বিবেচনার জন্য এটাই মূল সূত্র।