📄 হায়েযের জন্যে বয়সকাল
অধিকাংশ আলেমের মতে মেয়েদের নয় বছর বয়স হওয়ার আগে হায়েয শুরু হয়না। ১১ এই বয়সে উপনীত হওয়ার আগে রক্ত নির্গত হলে তা ঋতুস্রাব নয়, বরং রোগজনিত ও ব্যতিক্রমী স্রাব। এটি জীবনের শেষ সময় পর্যন্তও প্রলম্বিত হতে পারে। এর কোনো শেষ সময় নির্দিষ্ট আছে- এমন কোনো প্রমাণ নেই। কাজেই বৃদ্ধা নারী যখন রক্ত দেখতে পাবে, তখন তা ঋতুস্রাবই গণ্য হবে।
📄 হায়েযের রক্তের বর্ণ
হায়েয বা ঋতুস্রাবের বর্ণ নিম্নলিখিতগুলোর যে কোনো একটি হওয়া চাই: ক. কালো: কেননা ফাতেমা বিনতে আবি হুবাইশের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "ফাতেমা বিনতে আবি হুবাইশের ইসতিহাজা (রোগজনিত স্রাব) হতো। রসূলুল্লাহ সা. তাকে বললেন: ঋতুস্রাবের রক্ত হয়ে থাকলে তা কালো হবে এবং তা মেয়েদের নিকট পরিচিত হবে। ১২ এ রকম যখন হবে, তখন তুমি নামায বন্ধ রেখো, কিন্তু অন্য রকম হলে অযু ও নামায যথারীতি অব্যাহত রেখো। কেননা, ওটা রোগজনিত। -আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে হিব্বান, দারু কুতনি। খ. লাল: কেননা এটাই রক্তের আসল বর্ণ। গ. হলুদ: এটা এক ধরনের পানি, যা পুঁজের মতো দেখা যায়। উপরে হলুদ রং থাকে। ঘ. ধুসর: সাদা ও কালোর মধ্যবর্তী বর্ণ। ময়লা পানির মতো। কেননা আয়েশা রা. এর মুক্ত বাদী মারজানা বলেন: “মহিলারা আয়েশা রা. এর নিকট হলুদ রং মাখা সেই তুলো পাঠাতো, যা তারা ঋতুস্রাবের লক্ষণ অবশিষ্ট আছে কিনা, দেখার জন্য যৌনাংগে ঢুকিয়ে রাখতো। আয়েশা রা. বলতেন, হলুদ রংমুক্ত পরিষ্কার সাদা তুলো না দেখা পর্যন্ত (নামায পড়ার জন্য) তাড়াহুড়ো করোনা। -মালেক, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান, বুখারি।
হলুদ ও ধুসর বর্ণ যদি ঋতুস্রাবের মেয়াদের মধ্যে দৃশ্যমান হয়, তবে তাকে ঋতুস্রাব ধরা হয়। নচেত ঋতুস্রাব গণ্য হয়না। কেননা উম্মে আতিয়া রা. বলেন: “পবিত্রতা অর্জনের পর হলুদ বা ধূসর বর্ণের কোনো কিছুকে আমরা ধর্তব্য মনে করতাম না।" -আবু দাউদ, বুখারি। বুখারির বর্ণনায় 'পবিত্রতা অর্জনের পর' কথাটা নেই।
📄 হায়েয যুক্ত
ঋতুস্রাবের কোনো সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন মেয়াদ নেই। মেয়াদ নির্ধারণের কোনো প্রামাণ্য দলিল নেই। তবে কারো কোনো নির্দিষ্ট অভ্যাস থাকলে সে অনুযায়ী কাজ করা যাবে। উম্মে সালামা রা.-এর হাদিসে বলা হয়েছে: তিনি জনৈক মহিলা সম্পর্কে রসূল সা. কে জিজ্ঞাসা করেন, যার সব সময় রক্ত নির্গত হয়। রসূল সা. বললেন: সে যে কয়দিন ঋতুবতী থাকে, তা মাসের কয়দিন, সেটা যেনো সে লক্ষ্য করে। সেই কয়দিন সে নামায বাদ দেবে, তারপর গোসল করবে ও গুপ্তাংগে একটা ন্যাকড়া বাঁধবে। তারপর নামায পড়বে। -তিরমিমি ব্যতিত অবশিষ্ট পাচঁটি হাদিস গ্রন্থ।
আর যদি কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম না থাকে, তবে রক্তের লক্ষণাদি দ্বারা তার আদি অন্ত নির্ধারণ করা হবে। ইতিপূর্বে ফাতেমা বিনতে আবি হুবাইশের হাদিস এর প্রমাণ। ঐ হাদিসে রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: “হায়েযের রক্ত হলে তা হবে সুপরিচিত কালো বর্ণের।” এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, হায়েয বা ঋতুস্রাবের রক্ত অন্য রক্ত থেকে ভিন্ন এবং মহিলাদের নিকট তা পরিচিত।
📄 দুই হায়েযের মাঝে পবিত্রস্থার মেয়াদ
আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত, দুই ঋতুস্রাবের মধ্যবর্তী পবিত্রাবস্থার সুনির্দিষ্ট সীমা নেই। এর সর্বনিম্ন মেয়াদ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ অনুমান করেছেন পনের দিন। কারো কারো মতে তেরো দিন। প্রকৃত ব্যাপার হলো, সর্বনিম্ন মেয়াদ নির্ধারণের জন্য কোনো অকাট্য দলিল নেই, যা দ্বারা প্রমাণ দর্শানো যায়।