📄 তায়াম্মুম ভঙ্গের কারণসমূহ
যেসব কারণে অযু ভংগ হয়, অবিকল সেসব কারণেই তাইয়াম্মুম ভংগ হয়। কেননা তাইয়াম্মুম হলো অযুর স্থলাভিষিক্ত। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি পানি না পেয়ে তাইয়াম্মুম করেছিল, তার তাইয়াম্মুম পানি পাওয়া মাত্রই ভেংগে যাবে। আর যে ব্যক্তি পানি ব্যবহার করতে সক্ষম ছিলনা, সে সক্ষম হওয়া মাত্রই তার তাইয়াম্মুম ভেংগে যাবে। কিন্তু তাইয়াম্মুম করে নামায পড়ার পর যদি পানি পাওয়া যায়, অথবা নামায পড়ার পর পানি ব্যবহারের ক্ষমতা অর্জিত হয়, তাহলে নামায দোহরাতে হবেনা- যদিও নামাযের ওয়াক্ত অবশিষ্ট থাকে। আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত: "দুই ব্যক্তি সফরে বেরুল। সহসা নামাযের সময় সমাগত হলো। কিন্তু তাদের কাছে পানি ছিলোনা। তাই তারা পবিত্র মাটি দিয়ে তাইয়াম্মুম করে নামায পড়লো। তারপর ওয়াক্তের ভেতরেই পানি পেলো। তাই একজন অযু ও নামায দোহরালো। অপরজন দোহরালোনা। তারপর উভয়ে রসূলুল্লাহ সা. কাছে এলে তাদের ঘটনা বর্ণনা করলো। রসূল সা. যে ব্যক্তি অযু ও নামায দোহরায়নি তাকে বললেন: তুমি সুন্নত সঠিকভাবে আদায় করেছো এবং তোমার নামায তোমার জন্য যথেষ্ট। আর যে জন নামায দোহরিয়েছে ও অযু করেছে, তাকে বললো: তুমি দ্বিগুণ সওয়াব পাবে। -আবু দাউদ ও নাসায়ী। তবে যদি পানি পায় এবং নামায শুরু করার পর ও শেষ করার আগে পানি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়, তাহলে তার অযু ভেংগে যাবে এবং তাকে পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে। এর প্রমাণ আবু যর বর্ণিত উপরোক্ত হাদিস। আর যখন জানাবত তথা বড় নাপাকিতে আক্রান্ত ব্যক্তি অথবা ঋতুবতী মহিলা তাইয়াম্মুম বৈধকারী কারণগুলোর মধ্য হতে কোনো একটি কারণে তাইয়াম্মুম করে ও নামায পড়ে, তখন তার নামায দোহরাতে হবেনা। তবে যখন পানি ব্যবহারে সক্ষম হবে, তখন তার গোসল করা ওয়াজিব হবে। কেননা ইমরান রা. বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে: "রসূলুল্লাহ সা. ইমামতি করে নামায পড়ালেন। যখন নামায শেষ করলেন, দেখলেন এক ব্যক্তি জামাতের সাথে নামায না পড়ে আলাদা এক জায়গায় বসে আছে। তিনি তাকে বললেন ওহে অমুক, জামাতের সাথে নামায পড়লেনা কেন? সে বললো আমাকে বড় নাপাকিতে পেয়ে বসেছে, অথচ পানি পাইনি। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমার মাটি ব্যবহার করা উচিত। ওটাই তোমার জন্য যথেষ্ট। এরপর ইমরান রা. বলেন: যখন পানি পাওয়া গেলো, রসূল সা. জানাবতধারীকে এক পাত্রভর্তি পানি দিয়ে বললেন: “যাও, ওটা তোমার শরীরে ঢেলে নাও”। -বুখারি।