📄 তায়াম্মুমের পদ্ধতি
তায়াম্মুমকারীর উচিত, সর্বপ্রথমে নিয়ত করা (তায়াম্মুমে নিয়ত করা ফরয। এ ব্যাপারে অযুর অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে)। অতপর আল্লাহর নাম নেবে। পবিত্র মাটির উপর দু'হাত মারবে। আর সেই দু'হাত দিয়ে মুখমণ্ডল ও হাতের কনুই পর্যন্ত মুছে নেবে। এ ব্যাপারে আম্মার রা. এর হাদিসের চেয়ে বিশুদ্ধ ও স্পষ্ট আর কোনো হাদিস বর্ণিত হয়নি। আম্মার বলেন: "আমি জানাবত তথা বড় নাপাকিতে আক্রান্ত হলাম। এরপর পানি পেলামনা। অগত্যা মাটিতে গড়াগড়ি খেলাম এবং নামায পড়লাম। অতপর এ ঘটনা রসূল সা. কে জানালাম। তিনি বললেন: (গড়াগড়ি না খেয়ে) তোমরা শুধু এ রকম করলেই চলতো : এই বলে রসূল সা. তাঁর দু'হাতের তালু মাটিতে মারলেন, হাত দুখানিতে ফুঁ দিলেন (ধুলো ঝেড়ে ফেললেন) তারপর সেই দু'হাত দিয়ে নিজের মুখমণ্ডল ও হাত মুছে নিলেন। -বুখারি ও মুসলিম। অপর বর্ণনার ভাষা হলো: তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তোমার দু'হাতের তালু মাটিতে মারবে, তারপর হাতের তালুতে ফুঁ দেবে, অতপর সেই হাতের তালু দুখানা দিয়ে তোমার মুখমণ্ডল ও হাতের তালু কনুই পর্যন্ত মুছে নেবে বা মাসেহ করবে। -দার কুতনি। এ হাদিস থেকে জানা গেলো, একবার হাত মারাই যথেষ্ট এবং দু'হাত মাসেহ করার সময় হাতের তালু মাসেহ করাই যথেষ্ট। আর মাটি দিয়ে তাইয়াম্মুম করার সময় ফুঁ দিয়ে হাত থেকে ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলা এবং মুখে ধুলো না মাখা সুন্নত।
📄 তায়াম্মুম দ্বারা কী কী কাজ করা বৈধ হয়?
তায়াম্মুম হচ্ছে পানির অবর্তমানে অযু ও গোসলের বিকল্প। কাজেই অযু ও গোসল দ্বারা যে যে কাজ বৈধ হয়, তাইয়াম্মুম দ্বারাও সেই সকল কাজ বৈধ, যেমন- নামায পড়া ও কুরআন স্পর্শ করা ইত্যাদি। এর বিশুদ্ধতার জন্য নামাযের ওয়াক্ত হওয়া শর্ত নয়। তাইয়াম্মুমকারী এক তাইয়াম্মুম দ্বারা যতো ইচ্ছা ফরয ও নফল নামায পড়তে পারবে। তাইয়াম্মুমের বিধি হুবহু অযুর বিধির মতোই এবং সম্পূর্ণ সমান। আবু যর রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: মাটি হচ্ছে মুসলমানের পবিত্রকারী- এমনকি যদি দশ বছর ধরেও পানি না পায়। তারপর যখনই পানি পাবে, তৎক্ষণাত তা নিজের শরীরের চামড়ায় স্পর্শ করাবে। কেননা সেটাই উত্তম।” -আহমদ ও তিরমিযি।
📄 তায়াম্মুম ভঙ্গের কারণসমূহ
যেসব কারণে অযু ভংগ হয়, অবিকল সেসব কারণেই তাইয়াম্মুম ভংগ হয়। কেননা তাইয়াম্মুম হলো অযুর স্থলাভিষিক্ত। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি পানি না পেয়ে তাইয়াম্মুম করেছিল, তার তাইয়াম্মুম পানি পাওয়া মাত্রই ভেংগে যাবে। আর যে ব্যক্তি পানি ব্যবহার করতে সক্ষম ছিলনা, সে সক্ষম হওয়া মাত্রই তার তাইয়াম্মুম ভেংগে যাবে। কিন্তু তাইয়াম্মুম করে নামায পড়ার পর যদি পানি পাওয়া যায়, অথবা নামায পড়ার পর পানি ব্যবহারের ক্ষমতা অর্জিত হয়, তাহলে নামায দোহরাতে হবেনা- যদিও নামাযের ওয়াক্ত অবশিষ্ট থাকে। আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত: "দুই ব্যক্তি সফরে বেরুল। সহসা নামাযের সময় সমাগত হলো। কিন্তু তাদের কাছে পানি ছিলোনা। তাই তারা পবিত্র মাটি দিয়ে তাইয়াম্মুম করে নামায পড়লো। তারপর ওয়াক্তের ভেতরেই পানি পেলো। তাই একজন অযু ও নামায দোহরালো। অপরজন দোহরালোনা। তারপর উভয়ে রসূলুল্লাহ সা. কাছে এলে তাদের ঘটনা বর্ণনা করলো। রসূল সা. যে ব্যক্তি অযু ও নামায দোহরায়নি তাকে বললেন: তুমি সুন্নত সঠিকভাবে আদায় করেছো এবং তোমার নামায তোমার জন্য যথেষ্ট। আর যে জন নামায দোহরিয়েছে ও অযু করেছে, তাকে বললো: তুমি দ্বিগুণ সওয়াব পাবে। -আবু দাউদ ও নাসায়ী। তবে যদি পানি পায় এবং নামায শুরু করার পর ও শেষ করার আগে পানি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়, তাহলে তার অযু ভেংগে যাবে এবং তাকে পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে। এর প্রমাণ আবু যর বর্ণিত উপরোক্ত হাদিস। আর যখন জানাবত তথা বড় নাপাকিতে আক্রান্ত ব্যক্তি অথবা ঋতুবতী মহিলা তাইয়াম্মুম বৈধকারী কারণগুলোর মধ্য হতে কোনো একটি কারণে তাইয়াম্মুম করে ও নামায পড়ে, তখন তার নামায দোহরাতে হবেনা। তবে যখন পানি ব্যবহারে সক্ষম হবে, তখন তার গোসল করা ওয়াজিব হবে। কেননা ইমরান রা. বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে: "রসূলুল্লাহ সা. ইমামতি করে নামায পড়ালেন। যখন নামায শেষ করলেন, দেখলেন এক ব্যক্তি জামাতের সাথে নামায না পড়ে আলাদা এক জায়গায় বসে আছে। তিনি তাকে বললেন ওহে অমুক, জামাতের সাথে নামায পড়লেনা কেন? সে বললো আমাকে বড় নাপাকিতে পেয়ে বসেছে, অথচ পানি পাইনি। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমার মাটি ব্যবহার করা উচিত। ওটাই তোমার জন্য যথেষ্ট। এরপর ইমরান রা. বলেন: যখন পানি পাওয়া গেলো, রসূল সা. জানাবতধারীকে এক পাত্রভর্তি পানি দিয়ে বললেন: “যাও, ওটা তোমার শরীরে ঢেলে নাও”। -বুখারি।