📄 তায়াম্মুমের সংজ্ঞা
তায়াম্মুমের আভিধানিক অর্থ : ইচ্ছা বা সংকল্প করা। তায়াম্মুমের পারিভাষিক অর্থ : নামায যাতে বিশুদ্ধ হয়, সে উদ্দেশ্যে দু'হাত ও মুখমণ্ডলকে মাটি দিয়ে মোছা বা মাসেহ করার ইচ্ছা করা।
📄 শরিয়তে তায়াম্মুমের বৈধতা
শরিয়তে তায়াম্মুমের প্রয়োজনীয়তা ও বৈধতা কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা (মুসলমানদের ঐকমত্য) দ্বারা প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন :
“যদি তোমরা রোগাক্রান্ত হও অথবা প্রবাসে থাকো, অথবা তোমাদের কেউ পেশাব বা পায়খানা করে আসে, কিংবা তোমরা স্ত্রী সহবাস করে থাকো, অথবা পানি পাওনি, তাহলে পবিত্র মাটি পাওয়ার ইচ্ছা করো, তারপর তা দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মুছে নাও। নিশ্চয় আল্লাহ অত্যধিক মার্জনাকারী, অত্যধিক ক্ষমাশীল।” (সূরা ৪, নিসা : আয়াত ৪৩)
সুন্নাহ বা হাদিসের প্রমাণ : আবু উমামা রা. বর্ণনা করেন, রসুল সা. বলেছেন :
"সমগ্র পৃথিবীকে আমার জন্য ও আমার উম্মতের জন্য মসজিদ ও পবিত্রকারী বানানো হয়েছে। সুতরাং আমার উম্মতের যে কোনো ব্যক্তির নিকট যে কোনো স্থানে নামাযের সময় সমাগত হোক, তার কাছে তার পবিত্রকারী রয়েছে।” - আহমদ।
ইজমা : বিশেষ বিশেষ অবস্থায়, অযু ও গোসলের বিকল্প হিসেবে তায়াম্মুম শরীয়তে বৈধ- এ ব্যাপারে মুসলমানগণ মতৈক্যে উপনীত হয়েছে।
📄 এটা উম্মতে মুহাম্মদীর একটি বিশেষত্ব
বহুত তায়াম্মুম এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা দ্বারা আল্লাহ এই উম্মতকে বিশেষভাবে চিহ্নিত ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। জাবির রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন : আমাকে এমন পাঁচটি জিনিস দেয়া হয়েছে, যা আমার পূর্ববর্তী কাউকে দেয়া হয়নি : (১) এক মাসের দূরত্ব থেকে মানুষ আমাকে ভয় পায়- যা দ্বারা আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। (২) জমিনকে আমার জন্য মসজিদ ও পবিত্রকারী বানানো হয়েছে। সুতরাং আমার উম্মতের যে কোনো ব্যক্তির নিকট নামায সমাগত হোক, সে যেনো নামায পড়ে নেয়। (৩) যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আমার জন্য হালাল করা হয়েছে- যা আমার পূর্ববর্তী কারোর জন্য হালাল করা হয়নি। (৪) আমাকে সুপারিশ করার অধিকার দেয়া হয়েছে। (৫) ইতিপূর্বে প্রত্যেক নবী শুধু নিজের জাতির নিকট প্রেরিত হতেন। আর আমি প্রেরিত হয়েছি সমগ্র মানব জাতির নিকট। - বুখারি ও মুসলিম।
📄 তায়াম্মুম শরিয়তে বিধিবদ্ধ হওয়ার কারণ
“আয়েশা রা. বর্ণনা করেন : একদিন আমরা কোনো এক সফরে রসূল সা. এর সাথে বের হলাম। এক মরু প্রান্তরে আমার একটি হার হারিয়ে গেলো। হারটি খোঁজার জন্য রসূল সা. যাত্রাবিরতি করলেন। লোকেরাও (সাহাবিগণ) তাঁর সাথে যাত্রাবিরতি করলো। অথচ সেখানে পানি ছিলোনা। সাহাবিদের নিকটও পানি ছিলোনা। অগত্যা লোকেরা আবু বকরের রা. কাছে এলো। তারা বললো : দেখতে পাচ্ছেন না, (আপনার মেয়ে) আয়েশা কী করেছে? (হার হারিয়ে সবাইকে যাত্রাবিরতি করতে বাধ্য করেছে)। আবু বকর আমার কাছে এলেন। তখন রসূলুল্লাহ সা. আমার উরুর উপর ঘুমিয়ে। আবু বকর আমাকে ভর্ৎসনা করলেন এবং আল্লাহ যেমন চেয়েছিলেন তেমন বকাঝকা করলেন। তারপর ক্রমাগত আমার কোমরে ধাক্কা দিতে লাগলেন (যাতে উঠে রওয়ানা হই), কিন্তু রসূল সা. আমার উরুর উপর ঘুমিয়ে থাকার কারণে আমি নড়াচড়া করতে পারছিলামনা। অবশেষে সকাল পর্যন্ত তিনি পানিবিহীন অবস্থায় ঘুমিয়ে রইলেন। তখন আল্লাহ “তায়াম্মুম করো” আদেশ সম্বলিত আয়াত নাযিল করলেন।
উসাইদ বিন হুযাইর বললেন : হে আবু বকরের বংশধর! এটাই তোমাদের একমাত্র বরকত (শুভাশীষ) নয় (তোমাদের আরো বহু বরকত বা শুভাশীষ রয়েছে)। আয়েশা বলেন : সহসা আমি যে উটটির উপর ছিলাম, তাকে উঠালাম। তার নিচেই হারটি পেয়ে গেলাম।” -তিরমিযি ব্যতিত সবকটি হাদিস গ্রন্থ।