📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 গোসল সংক্রান্ত কতিপয় মাসায়েল

📄 গোসল সংক্রান্ত কতিপয় মাসায়েল


১. ঋতুস্রাব ও জানাবত- উভয়ের জন্য, জুমা ও ঈদের জন্য, কিংবা জানাবত ও জুমার জন্য একই গোসল যথেষ্ট হবে- যদি উভয়ের জন্য নিয়ত করা হয়। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: প্রত্যেক ব্যক্তি যেমন নিয়ত করবে, তেমন ফল পাবে।
২. জানাবতের জন্য যখন গোসল করা হয়, তার পূর্বে অযু না করলেও গোসলেই অযুর কাজ হয়ে যাবে। আয়েশা রা. বলেছেন: রসূল সা. গোসলের পর অযু করতেননা। ইবনে উমর রা. বলেছেন: এক ব্যক্তি তাকে বললো: আমি গোসলের পর অযু করে থাকি। ইবনে উমর রা. তাকে বললেন: তুমি অতিমাত্রায় করছো। আবু বকর ইবনুল আরাবী বলেছেন: আলেমগণ একমত হয়েছেন, অযু গোসলের আওতাধীন। আর জানাবত থেকে পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত ক্ষুদ্রতর নাপাকি থেকেও পবিত্রতা অর্জন করিয়ে দেয় ও নাপাকি দূর করে। কেননা জানাবতের বাধা 'হাদাসে'র (ক্ষুদ্রতর নাপাকির) বাধার চেয়ে অনেক বেশি। তাই ক্ষুদ্রতর নাপাকি থেকে মুক্তির নিয়ত বৃহত্তর নাপাকি থেকে মুক্তির আওতাভুক্ত হয়ে যায় এবং বৃহত্তরটির নিয়ত যথেষ্ট হয়ে যায়।
৩. জুনুবি ও ঋতুবতীর জন্য লোম অপসারণ, নখ কাটা ও বাজারে যাওয়া জায়েয। এটা মাকরূহও নয়। আতা বলেছেন: জুনুবি ক্ষৌর কাজ সম্পাদন করবে, নখ কাটবে ও মাথার চুল কামাবে। অযু করুক বা না করুক- তাতে কিছু যায় আসে না। -বুখারি।
৪. গোসলখানায় প্রবেশ করাতে কোনো দোষ নেই- যদি প্রবেশকারী কারো শরীরের গোপনীয় অংশের দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকে এবং অন্য কেউ তার গোপনীয় অংশের দিকে না তাকায়। আহমদ বলেন: যদি জানো, গণ-গোসলখানায় যারা আছে তারা লুংগি বা পাজামা পরিহিত আছে, তবে প্রবেশ করো, নচেত করোনা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "কোনো পুরুষ অপর পুরুষের এবং কোনো নারী অপর নারীর গোপন অংগের দিকে তাকাবেনা।” গোসল খানায় আল্লাহর নাম উচ্চারণে বাধা নেই। আল্লাহর স্মরণ সর্বাবস্থায় ভালো কাজ- যতোক্ষণ না কোনো নিষেধাজ্ঞা আসে। রসূল সা. সব সময় আল্লাহকে স্মরণ করতেন।
৫. রুমাল তোয়ালে ইত্যাদি দিয়ে অংগ প্রত্যংগ মোছা অযুতে, গোসলে, শীতে ও গ্রীষ্মে জায়েয।
৬. নারীর গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুরুষের গোসল এবং পুরুষের গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে নারীর গোসল জায়েয। অনুরূপ, স্বামী ও স্ত্রীর একই পাত্র থেকে এক সাথে গোসল করাও জায়েয। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত : রসুল সা. এর জনৈক স্ত্রী একটি পাত্রে গোসল করতেন। এরপর সেই পাত্র থেকে অযু করার জন্য অথবা গোসল করার জন্য রসুল সা. এলেন। স্ত্রী বললেন : হে রসুলুল্লাহ, আমি জুনুবি ছিলাম। রসুল সা. বললেন : পানি কখনো জুনুবি হয়না। -আহমদ, আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযি।
আয়েশা রা. রসুল সা. এর সাথে একই পাত্র থেকে একই সাথে গোসল করতেন আর একে অপরকে বলতেন : "আমার জন্য একটু পানি রেখো।"
৭. জনসমক্ষে উলঙ্গ হয়ে গোসল করা যায়েয নেই। কোনো সতর খোলা হারাম। কাপড় ইত্যাদি দিয়ে আড়াল করে নিলে ক্ষতি নেই। ফাতেমা রা. রসুল সা. কে কাপড় দিয়ে আড়াল করে দিতেন এবং তিনি গোসল করতেন। অবশ্য লোকজনের দৃষ্টি থেকে দূরে উলঙ্গ হয়ে গোসল করলে দোষ নেই। মুসা (আ.) উলঙ্গ হয়ে গোসল করেছিলেন - যেমন বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসুল সা. বলেছেন : আইয়ুব (আ.) যখন নগ্ন হয়ে গোসল করছিলেন, তখন সহসা তাঁর উপর এর থলি স্বর্ণমুদ্রা পড়লো। আইয়ুব (আ.) সেটি নিজের কাপড়ের মধ্যে লুকাতে লাগলেন। আল্লাহ তাঁকে বললেন : হে আইয়ুব, তুমি যা দেখতে পাচ্ছো, তা থেকে কি তোমাকে আমি অভাবশূন্য করিনি? আইয়ুব বললেন : হে আল্লাহ, তোমার সম্মানের শপথ, অবশ্যই করেছো, তোমার বরকত থেকে আমি কখনো অভাবশূন্য নই। -আহমদ, বুখারি, নাসায়ী।

১. ঋতুস্রাব ও জানাবত- উভয়ের জন্য, জুমা ও ঈদের জন্য, কিংবা জানাবত ও জুমার জন্য একই গোসল যথেষ্ট হবে- যদি উভয়ের জন্য নিয়ত করা হয়। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: প্রত্যেক ব্যক্তি যেমন নিয়ত করবে, তেমন ফল পাবে।
২. জানাবতের জন্য যখন গোসল করা হয়, তার পূর্বে অযু না করলেও গোসলেই অযুর কাজ হয়ে যাবে। আয়েশা রা. বলেছেন: রসূল সা. গোসলের পর অযু করতেননা। ইবনে উমর রা. বলেছেন: এক ব্যক্তি তাকে বললো: আমি গোসলের পর অযু করে থাকি। ইবনে উমর রা. তাকে বললেন: তুমি অতিমাত্রায় করছো। আবু বকর ইবনুল আরাবী বলেছেন: আলেমগণ একমত হয়েছেন, অযু গোসলের আওতাধীন। আর জানাবত থেকে পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত ক্ষুদ্রতর নাপাকি থেকেও পবিত্রতা অর্জন করিয়ে দেয় ও নাপাকি দূর করে। কেননা জানাবতের বাধা 'হাদাসে'র (ক্ষুদ্রতর নাপাকির) বাধার চেয়ে অনেক বেশি। তাই ক্ষুদ্রতর নাপাকি থেকে মুক্তির নিয়ত বৃহত্তর নাপাকি থেকে মুক্তির আওতাভুক্ত হয়ে যায় এবং বৃহত্তরটির নিয়ত যথেষ্ট হয়ে যায়।
৩. জুনুবি ও ঋতুবতীর জন্য লোম অপসারণ, নখ কাটা ও বাজারে যাওয়া জায়েয। এটা মাকরূহও নয়। আতা বলেছেন: জুনুবি ক্ষৌর কাজ সম্পাদন করবে, নখ কাটবে ও মাথার চুল কামাবে। অযু করুক বা না করুক- তাতে কিছু যায় আসে না। -বুখারি।
৪. গোসলখানায় প্রবেশ করাতে কোনো দোষ নেই- যদি প্রবেশকারী কারো শরীরের গোপনীয় অংশের দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকে এবং অন্য কেউ তার গোপনীয় অংশের দিকে না তাকায়। আহমদ বলেন: যদি জানো, গণ-গোসলখানায় যারা আছে তারা লুংগি বা পাজামা পরিহিত আছে, তবে প্রবেশ করো, নচেত করোনা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "কোনো পুরুষ অপর পুরুষের এবং কোনো নারী অপর নারীর গোপন অংগের দিকে তাকাবেনা।” গোসল খানায় আল্লাহর নাম উচ্চারণে বাধা নেই। আল্লাহর স্মরণ সর্বাবস্থায় ভালো কাজ- যতোক্ষণ না কোনো নিষেধাজ্ঞা আসে। রসূল সা. সব সময় আল্লাহকে স্মরণ করতেন।
৫. রুমাল তোয়ালে ইত্যাদি দিয়ে অংগ প্রত্যংগ মোছা অযুতে, গোসলে, শীতে ও গ্রীষ্মে জায়েয।
৬. নারীর গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুরুষের গোসল এবং পুরুষের গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে নারীর গোসল জায়েয। অনুরূপ, স্বামী ও স্ত্রীর একই পাত্র থেকে এক সাথে গোসল করাও জায়েয। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত : রসুল সা. এর জনৈক স্ত্রী একটি পাত্রে গোসল করতেন। এরপর সেই পাত্র থেকে অযু করার জন্য অথবা গোসল করার জন্য রসুল সা. এলেন। স্ত্রী বললেন : হে রসুলুল্লাহ, আমি জুনুবি ছিলাম। রসুল সা. বললেন : পানি কখনো জুনুবি হয়না। -আহমদ, আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযি।
আয়েশা রা. রসুল সা. এর সাথে একই পাত্র থেকে একই সাথে গোসল করতেন আর একে অপরকে বলতেন : "আমার জন্য একটু পানি রেখো।"
৭. জনসমক্ষে উলঙ্গ হয়ে গোসল করা যায়েয নেই। কোনো সতর খোলা হারাম। কাপড় ইত্যাদি দিয়ে আড়াল করে নিলে ক্ষতি নেই। ফাতেমা রা. রসুল সা. কে কাপড় দিয়ে আড়াল করে দিতেন এবং তিনি গোসল করতেন। অবশ্য লোকজনের দৃষ্টি থেকে দূরে উলঙ্গ হয়ে গোসল করলে দোষ নেই। মুসা (আ.) উলঙ্গ হয়ে গোসল করেছিলেন - যেমন বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসুল সা. বলেছেন : আইয়ুব (আ.) যখন নগ্ন হয়ে গোসল করছিলেন, তখন সহসা তাঁর উপর এর থলি স্বর্ণমুদ্রা পড়লো। আইয়ুব (আ.) সেটি নিজের কাপড়ের মধ্যে লুকাতে লাগলেন। আল্লাহ তাঁকে বললেন : হে আইয়ুব, তুমি যা দেখতে পাচ্ছো, তা থেকে কি তোমাকে আমি অভাবশূন্য করিনি? আইয়ুব বললেন : হে আল্লাহ, তোমার সম্মানের শপথ, অবশ্যই করেছো, তোমার বরকত থেকে আমি কখনো অভাবশূন্য নই। -আহমদ, বুখারি, নাসায়ী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00