📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 গোসলের আরকান

📄 গোসলের আরকান


শরিয়ত নির্দেশিত গোসল দুটো জিনিস ছাড়া সম্পন্ন হয়না: ১. নিয়ত :
এটাই মানুষের স্বাভাবিক ও প্রকৃতিগত কাজকর্ম আর ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। নিয়ত নিছক মনের কাজ। মুখে নিয়ত উচ্চারণ করার যে প্রথা লোকেরা রপ্ত ও চালু করেছে এবং তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তা একটা নতুন আবিষ্কৃত ও শরিয়ত বহির্ভূত কাজ। এই প্রথা বর্জন করা উচিত। ইতিপূর্বে অযু সংক্রান্ত আলোচনায় নিয়তের হাকিকত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করে এসেছি।
২. সকল অংগ প্রত্যংগ ধৌত করা: আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "আর যদি তোমরা জুনুবি হয়ে থাকো তবে উত্তমরূপে পবিত্র হও।” (সূরা ৫, মায়িদা: আয়াত ৬ অংশ বিশেষ)।
আল্লাহ আরো বলেছেন: "তারা তোমাকে মাসিক রক্তস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বলো, ওটা একটা অপবিত্র ও বিব্রতকর অবস্থা। কাজেই রক্তস্রাব চলাকালে তোমরা স্ত্রীদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখো। তারা পবিত্রতা অর্জন না করা পর্যন্ত তাদের কাছে যেওনা।” (সূরা বাকারা: আয়াত ২২২) উভয় আয়াতে পবিত্রতা অর্জনের অর্থ যে গোসল করা, তার প্রমাণ নিম্নোক্ত আয়াতে সুস্পষ্ট: “হে মুমিনগণ, তোমরা মাতাল অবস্থায় নামাযের নিকটবর্তী হয়োনা যতোক্ষণ না তোমরা কী বলছো তা অবগত হও। আর জুনুবি অবস্থায়ও কেবল রাস্তা অতিক্রমের জন্য ব্যতিত নামাযের নিকটবর্তী হয়োনা, যতোক্ষণ না গোসল করো।” (সূরা ৪, নিসা: আয়াত ৪৩) বস্তুত, গোসল অর্থই হলো সকল অংগ প্রত্যংগ ধোয়া।

শরিয়ত নির্দেশিত গোসল দুটো জিনিস ছাড়া সম্পন্ন হয়না: ১. নিয়ত :
এটাই মানুষের স্বাভাবিক ও প্রকৃতিগত কাজকর্ম আর ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। নিয়ত নিছক মনের কাজ। মুখে নিয়ত উচ্চারণ করার যে প্রথা লোকেরা রপ্ত ও চালু করেছে এবং তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তা একটা নতুন আবিষ্কৃত ও শরিয়ত বহির্ভূত কাজ। এই প্রথা বর্জন করা উচিত। ইতিপূর্বে অযু সংক্রান্ত আলোচনায় নিয়তের হাকিকত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করে এসেছি।
২. সকল অংগ প্রত্যংগ ধৌত করা: আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "আর যদি তোমরা জুনুবি হয়ে থাকো তবে উত্তমরূপে পবিত্র হও।” (সূরা ৫, মায়িদা: আয়াত ৬ অংশ বিশেষ)।
আল্লাহ আরো বলেছেন: "তারা তোমাকে মাসিক রক্তস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বলো, ওটা একটা অপবিত্র ও বিব্রতকর অবস্থা। কাজেই রক্তস্রাব চলাকালে তোমরা স্ত্রীদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখো। তারা পবিত্রতা অর্জন না করা পর্যন্ত তাদের কাছে যেওনা।” (সূরা বাকারা: আয়াত ২২২) উভয় আয়াতে পবিত্রতা অর্জনের অর্থ যে গোসল করা, তার প্রমাণ নিম্নোক্ত আয়াতে সুস্পষ্ট: “হে মুমিনগণ, তোমরা মাতাল অবস্থায় নামাযের নিকটবর্তী হয়োনা যতোক্ষণ না তোমরা কী বলছো তা অবগত হও। আর জুনুবি অবস্থায়ও কেবল রাস্তা অতিক্রমের জন্য ব্যতিত নামাযের নিকটবর্তী হয়োনা, যতোক্ষণ না গোসল করো।” (সূরা ৪, নিসা: আয়াত ৪৩) বস্তুত, গোসল অর্থই হলো সকল অংগ প্রত্যংগ ধোয়া।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 গোসলের সুন্নতসমূহ

📄 গোসলের সুন্নতসমূহ


রসূল সা. যেভাবে গোসল করতেন, প্রত্যেক গোসলকারীর সেভাবে গোসল করা সুন্নত। প্রথমে: (১) দু'হাত তিনবার ধৌত করবে, (২) তারপর গুপ্তাংগ ধৌত করবে, (৩) তারপর নামাযের অযুর মতো পূর্ণাংগভাবে অযু করবে। যখন কোনো ক্ষুদ্র পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করা হয়, তখন গোসলের শেষ পর্যায় পর্যন্ত পা ধোয়া বিলম্বিত করতে পারে। (৪) তারপর তিনবার মাথায় পানি ঢালবে, সেই সাথে চুলে আংগুল চালিয়ে চুলের গোড়া পর্যন্ত পানি প্রবেশ করাবে। (৫) তারপর সারা শরীরে পানি ঢালবে, প্রথমে ডান দিকে ও পরে বাম দিকে। সেই সাথে বোগল, কানের ভেতরে, নাভির ভেতরে ও পায়ের আংগুলের মাঝে ও সমগ্র শরীরকে যতোটা পারা যায় কচলাবে। এ সম্পর্কে আয়েশা রা. এর হাদিসে বিস্তারিত বিবরণ এসেছে, তিনি বলেন: “রসূল সা. যখন জানাবত থেকে পবিত্র হবার জন্য গোসল করতেন তখন শুরুতে তাঁর হাত ধুতেন, তারপর নিজের ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢেলে তা দিয়ে নিজের গুপ্তাংগ ধুতেন, তারপর নামাযের অযুর মতো অযু করতেন। তারপর পানি নিয়ে চুলের গোড়ায় আংগুল ঢুকিয়ে পানি পৌছাতেন। যখন নিশ্চিত হতেন চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে গেছে, তারপরও মুঠো ভরে তিনবার মাথায় পানি দিতেন। তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দিতেন।” -বুখারি ও মুসলিম।
বুখারি ও মুসলিমের অপর বর্ণনায় রয়েছে: অতপর নিজের দু'হাত দিয়ে চুলের মধ্যে খিলাল করতেন বা বিলি দিতেন, এভাবে যখন বুঝতেন, মাথার চামড়া পানি দিয়ে সিক্ত করেছেন, তখন মাথার উপর তিনবার পানি ঢেলে দিতেন। বুখারি ও মুসলিমে আয়েশার অপর হাদিসে বলা হয়েছে: রসূল সা. যখন জানাবতের গোসল করতেন, তখন পানি আনাতেন, হাতের তালুতে পানি ঢালতেন, তারপর প্রথমে মাথার ডান পাশে তারপর বাম পাশে পানি দিতেন, তারপর উভয় হাতের তালু মাথার উপর ঘোরাতেন।
মাইমুনা রা. থেকে বর্ণিত: “আমি রসূল সা. এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম, তিনি দুই হাতে পানি ঢাললেন, দু'হাত দু'বার বা তিনবার ধুলেন, তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢাললেন, সেই পানি দিয়ে গুপ্তাংগ ধুলেন, তারপর মাটি দিয়ে হাত কচলালেন, তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তারপর মুখ ও হাত ধুলেন, তারপর তিনবার মাথা ধুলেন, তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢাললেন, তারপর তাঁর দাঁড়ানোর জায়গা থেকে সরে গিয়ে পা ধুলেন। এরপর আমি তাঁকে এক টুকরো কাপড় দিলাম, কিন্তু তিনি তা নিলেননা। (বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন।) বরং হাত দিয়ে পানি ঝাড়তে লাগলেন।” -সব কটি সহীহ হাদিস গ্রন্থ।

রসূল সা. যেভাবে গোসল করতেন, প্রত্যেক গোসলকারীর সেভাবে গোসল করা সুন্নত। প্রথমে: (১) দু'হাত তিনবার ধৌত করবে, (২) তারপর গুপ্তাংগ ধৌত করবে, (৩) তারপর নামাযের অযুর মতো পূর্ণাংগভাবে অযু করবে। যখন কোনো ক্ষুদ্র পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করা হয়, তখন গোসলের শেষ পর্যায় পর্যন্ত পা ধোয়া বিলম্বিত করতে পারে। (৪) তারপর তিনবার মাথায় পানি ঢালবে, সেই সাথে চুলে আংগুল চালিয়ে চুলের গোড়া পর্যন্ত পানি প্রবেশ করাবে। (৫) তারপর সারা শরীরে পানি ঢালবে, প্রথমে ডান দিকে ও পরে বাম দিকে। সেই সাথে বোগল, কানের ভেতরে, নাভির ভেতরে ও পায়ের আংগুলের মাঝে ও সমগ্র শরীরকে যতোটা পারা যায় কচলাবে। এ সম্পর্কে আয়েশা রা. এর হাদিসে বিস্তারিত বিবরণ এসেছে, তিনি বলেন: “রসূল সা. যখন জানাবত থেকে পবিত্র হবার জন্য গোসল করতেন তখন শুরুতে তাঁর হাত ধুতেন, তারপর নিজের ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢেলে তা দিয়ে নিজের গুপ্তাংগ ধুতেন, তারপর নামাযের অযুর মতো অযু করতেন। তারপর পানি নিয়ে চুলের গোড়ায় আংগুল ঢুকিয়ে পানি পৌছাতেন। যখন নিশ্চিত হতেন চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে গেছে, তারপরও মুঠো ভরে তিনবার মাথায় পানি দিতেন। তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দিতেন।” -বুখারি ও মুসলিম।
বুখারি ও মুসলিমের অপর বর্ণনায় রয়েছে: অতপর নিজের দু'হাত দিয়ে চুলের মধ্যে খিলাল করতেন বা বিলি দিতেন, এভাবে যখন বুঝতেন, মাথার চামড়া পানি দিয়ে সিক্ত করেছেন, তখন মাথার উপর তিনবার পানি ঢেলে দিতেন। বুখারি ও মুসলিমে আয়েশার অপর হাদিসে বলা হয়েছে: রসূল সা. যখন জানাবতের গোসল করতেন, তখন পানি আনাতেন, হাতের তালুতে পানি ঢালতেন, তারপর প্রথমে মাথার ডান পাশে তারপর বাম পাশে পানি দিতেন, তারপর উভয় হাতের তালু মাথার উপর ঘোরাতেন।
মাইমুনা রা. থেকে বর্ণিত: “আমি রসূল সা. এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম, তিনি দুই হাতে পানি ঢাললেন, দু'হাত দু'বার বা তিনবার ধুলেন, তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢাললেন, সেই পানি দিয়ে গুপ্তাংগ ধুলেন, তারপর মাটি দিয়ে হাত কচলালেন, তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তারপর মুখ ও হাত ধুলেন, তারপর তিনবার মাথা ধুলেন, তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢাললেন, তারপর তাঁর দাঁড়ানোর জায়গা থেকে সরে গিয়ে পা ধুলেন। এরপর আমি তাঁকে এক টুকরো কাপড় দিলাম, কিন্তু তিনি তা নিলেননা। (বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন।) বরং হাত দিয়ে পানি ঝাড়তে লাগলেন।” -সব কটি সহীহ হাদিস গ্রন্থ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মহিলাদের গোসল

📄 মহিলাদের গোসল


নারীর গোসল পুরুষের গোসলের মতোই। কিন্তু নারীর জন্য খোপা খোলা জরুরি নয়। চুলের গোড়ায় পানি পৌছানোই যথেষ্ট। কেননা উম্মে সালামা রা. বলেন: “জনৈক মহিলা জিজ্ঞাসা করে: হে রসূলুল্লাহ! আমি তো খোপা বেঁধে থাকি। জানাবতের গোসলের সময় কি তা খুলবো? রসূল সা. বললেন: তুমি তোমার মাথায় তিনবার কোষ ভরে পানি দেবে এবং তারপর সমগ্র শরীরে পানি ঢালবে- এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট। এতেই তুমি পাক হয়ে যাবে। -আহমদ, মুসলিম ও তিরমিযি।
তিরমিযি একে উত্তম ও সহীহ বলেছেন। উবাইদ বিন উমাইর রা. থেকে বর্ণিত: আয়েশা রা. জানতে পারলেন আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. মহিলাদেরকে গোসলের সময় মাথার খোপা খুলতে আদেশ দেন। আয়েশা বললেন ইবনে উমরের জন্য অবাক হচ্ছি। সে মহিলাদের গোসলের সময় মাথার খোপা খুলতে আদেশ দিচ্ছে। তাদের মাথার চুল কামিয়ে ফেলার জন্য আদেশ দিচ্ছেনা কেন? আমি ও রসূল সা. একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। তিনবার মাথায় পানি ঢেলে দেয়ার চেয়ে বেশি কিছু তো করতামনা। -আহমদ ও মুসলিম।
কোনো মহিলা মাসিক ঋতুস্রাব ও প্রসবোত্তর স্রাব শেষে যখন গোসল করে, তখন তার জন্য মুস্তাহাব হলো: এক টুকরা তুলা বা অনুরূপ কিছু নেবে, তাতে মেঙ্ক বা অন্য কোনো সুগন্ধি লাগাবে, তারপর তা দিয়ে রক্তের চিহ্ন মুছে ফেলবে। এতে জায়গাটা সুগন্ধিযুক্ত হবে, সেখান থেকে দুর্গন্ধ দূর হবে। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত: "আসমা বিনতে ইয়াযীদ রা. রসূলুল্লাহ সা. কে ঋতুস্রাবোত্তর গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। রসূল সা. বললেন তোমাদের কোনো মহিলা গোসলের সময় প্রয়োজনীয় পানি ও বরুই পাতা নেবে, তারপর ভালো মতো অযু করবে। তারপর মাথায় পানি ঢালবে, মাথা জোরে জোরে কচলাবে যাতে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে। তারপর তার উপর পানি ঢালবে। তারপর মেঙ্কযুক্ত এক টুকরো ন্যাকড়া নেবে এবং তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে। আসমা বললেন: মেঙ্কযুক্ত ন্যাকড়া দিয়ে কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করবো? তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ! তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে! আয়েশা বললেন: সে (আসমা) সম্ভবত বিষয়টি গোপন করছিলো (অর্থাৎ বুঝেও না বুঝার ভান করছিল)। তুমি রক্তের চিহ্নগুলো মুছে ফেলবে। তারপর সে জানাবতের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। রসূল সা. বললেন: তুমি তোমার প্রয়োজনীয় পানি নেবে, তারপর উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করবে, তারপর মাথায় পানি ঢালবে, মাথা কচলাবে যাতে চামড়ায় পানি পৌঁছে যায়। তারপর উপর থেকে পানি ঢালবে। আয়েশা রা. বললেন: আনসার রমণীগণ কতো ভালো? দীন সম্পর্কে উত্তমরূপে জ্ঞান অর্জনে লজ্জা তাদের বাধা দেয়না। -তিরমিযি ব্যতিত সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থ।

নারীর গোসল পুরুষের গোসলের মতোই। কিন্তু নারীর জন্য খোপা খোলা জরুরি নয়। চুলের গোড়ায় পানি পৌছানোই যথেষ্ট। কেননা উম্মে সালামা রা. বলেন: “জনৈক মহিলা জিজ্ঞাসা করে: হে রসূলুল্লাহ! আমি তো খোপা বেঁধে থাকি। জানাবতের গোসলের সময় কি তা খুলবো? রসূল সা. বললেন: তুমি তোমার মাথায় তিনবার কোষ ভরে পানি দেবে এবং তারপর সমগ্র শরীরে পানি ঢালবে- এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট। এতেই তুমি পাক হয়ে যাবে। -আহমদ, মুসলিম ও তিরমিযি।
তিরমিযি একে উত্তম ও সহীহ বলেছেন। উবাইদ বিন উমাইর রা. থেকে বর্ণিত: আয়েশা রা. জানতে পারলেন আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. মহিলাদেরকে গোসলের সময় মাথার খোপা খুলতে আদেশ দেন। আয়েশা বললেন ইবনে উমরের জন্য অবাক হচ্ছি। সে মহিলাদের গোসলের সময় মাথার খোপা খুলতে আদেশ দিচ্ছে। তাদের মাথার চুল কামিয়ে ফেলার জন্য আদেশ দিচ্ছেনা কেন? আমি ও রসূল সা. একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। তিনবার মাথায় পানি ঢেলে দেয়ার চেয়ে বেশি কিছু তো করতামনা। -আহমদ ও মুসলিম।
কোনো মহিলা মাসিক ঋতুস্রাব ও প্রসবোত্তর স্রাব শেষে যখন গোসল করে, তখন তার জন্য মুস্তাহাব হলো: এক টুকরা তুলা বা অনুরূপ কিছু নেবে, তাতে মেঙ্ক বা অন্য কোনো সুগন্ধি লাগাবে, তারপর তা দিয়ে রক্তের চিহ্ন মুছে ফেলবে। এতে জায়গাটা সুগন্ধিযুক্ত হবে, সেখান থেকে দুর্গন্ধ দূর হবে। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত: "আসমা বিনতে ইয়াযীদ রা. রসূলুল্লাহ সা. কে ঋতুস্রাবোত্তর গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। রসূল সা. বললেন তোমাদের কোনো মহিলা গোসলের সময় প্রয়োজনীয় পানি ও বরুই পাতা নেবে, তারপর ভালো মতো অযু করবে। তারপর মাথায় পানি ঢালবে, মাথা জোরে জোরে কচলাবে যাতে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে। তারপর তার উপর পানি ঢালবে। তারপর মেঙ্কযুক্ত এক টুকরো ন্যাকড়া নেবে এবং তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে। আসমা বললেন: মেঙ্কযুক্ত ন্যাকড়া দিয়ে কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করবো? তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ! তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে! আয়েশা বললেন: সে (আসমা) সম্ভবত বিষয়টি গোপন করছিলো (অর্থাৎ বুঝেও না বুঝার ভান করছিল)। তুমি রক্তের চিহ্নগুলো মুছে ফেলবে। তারপর সে জানাবতের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। রসূল সা. বললেন: তুমি তোমার প্রয়োজনীয় পানি নেবে, তারপর উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করবে, তারপর মাথায় পানি ঢালবে, মাথা কচলাবে যাতে চামড়ায় পানি পৌঁছে যায়। তারপর উপর থেকে পানি ঢালবে। আয়েশা রা. বললেন: আনসার রমণীগণ কতো ভালো? দীন সম্পর্কে উত্তমরূপে জ্ঞান অর্জনে লজ্জা তাদের বাধা দেয়না। -তিরমিযি ব্যতিত সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 গোসল সংক্রান্ত কতিপয় মাসায়েল

📄 গোসল সংক্রান্ত কতিপয় মাসায়েল


১. ঋতুস্রাব ও জানাবত- উভয়ের জন্য, জুমা ও ঈদের জন্য, কিংবা জানাবত ও জুমার জন্য একই গোসল যথেষ্ট হবে- যদি উভয়ের জন্য নিয়ত করা হয়। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: প্রত্যেক ব্যক্তি যেমন নিয়ত করবে, তেমন ফল পাবে।
২. জানাবতের জন্য যখন গোসল করা হয়, তার পূর্বে অযু না করলেও গোসলেই অযুর কাজ হয়ে যাবে। আয়েশা রা. বলেছেন: রসূল সা. গোসলের পর অযু করতেননা। ইবনে উমর রা. বলেছেন: এক ব্যক্তি তাকে বললো: আমি গোসলের পর অযু করে থাকি। ইবনে উমর রা. তাকে বললেন: তুমি অতিমাত্রায় করছো। আবু বকর ইবনুল আরাবী বলেছেন: আলেমগণ একমত হয়েছেন, অযু গোসলের আওতাধীন। আর জানাবত থেকে পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত ক্ষুদ্রতর নাপাকি থেকেও পবিত্রতা অর্জন করিয়ে দেয় ও নাপাকি দূর করে। কেননা জানাবতের বাধা 'হাদাসে'র (ক্ষুদ্রতর নাপাকির) বাধার চেয়ে অনেক বেশি। তাই ক্ষুদ্রতর নাপাকি থেকে মুক্তির নিয়ত বৃহত্তর নাপাকি থেকে মুক্তির আওতাভুক্ত হয়ে যায় এবং বৃহত্তরটির নিয়ত যথেষ্ট হয়ে যায়।
৩. জুনুবি ও ঋতুবতীর জন্য লোম অপসারণ, নখ কাটা ও বাজারে যাওয়া জায়েয। এটা মাকরূহও নয়। আতা বলেছেন: জুনুবি ক্ষৌর কাজ সম্পাদন করবে, নখ কাটবে ও মাথার চুল কামাবে। অযু করুক বা না করুক- তাতে কিছু যায় আসে না। -বুখারি।
৪. গোসলখানায় প্রবেশ করাতে কোনো দোষ নেই- যদি প্রবেশকারী কারো শরীরের গোপনীয় অংশের দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকে এবং অন্য কেউ তার গোপনীয় অংশের দিকে না তাকায়। আহমদ বলেন: যদি জানো, গণ-গোসলখানায় যারা আছে তারা লুংগি বা পাজামা পরিহিত আছে, তবে প্রবেশ করো, নচেত করোনা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "কোনো পুরুষ অপর পুরুষের এবং কোনো নারী অপর নারীর গোপন অংগের দিকে তাকাবেনা।” গোসল খানায় আল্লাহর নাম উচ্চারণে বাধা নেই। আল্লাহর স্মরণ সর্বাবস্থায় ভালো কাজ- যতোক্ষণ না কোনো নিষেধাজ্ঞা আসে। রসূল সা. সব সময় আল্লাহকে স্মরণ করতেন।
৫. রুমাল তোয়ালে ইত্যাদি দিয়ে অংগ প্রত্যংগ মোছা অযুতে, গোসলে, শীতে ও গ্রীষ্মে জায়েয।
৬. নারীর গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুরুষের গোসল এবং পুরুষের গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে নারীর গোসল জায়েয। অনুরূপ, স্বামী ও স্ত্রীর একই পাত্র থেকে এক সাথে গোসল করাও জায়েয। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত : রসুল সা. এর জনৈক স্ত্রী একটি পাত্রে গোসল করতেন। এরপর সেই পাত্র থেকে অযু করার জন্য অথবা গোসল করার জন্য রসুল সা. এলেন। স্ত্রী বললেন : হে রসুলুল্লাহ, আমি জুনুবি ছিলাম। রসুল সা. বললেন : পানি কখনো জুনুবি হয়না। -আহমদ, আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযি।
আয়েশা রা. রসুল সা. এর সাথে একই পাত্র থেকে একই সাথে গোসল করতেন আর একে অপরকে বলতেন : "আমার জন্য একটু পানি রেখো।"
৭. জনসমক্ষে উলঙ্গ হয়ে গোসল করা যায়েয নেই। কোনো সতর খোলা হারাম। কাপড় ইত্যাদি দিয়ে আড়াল করে নিলে ক্ষতি নেই। ফাতেমা রা. রসুল সা. কে কাপড় দিয়ে আড়াল করে দিতেন এবং তিনি গোসল করতেন। অবশ্য লোকজনের দৃষ্টি থেকে দূরে উলঙ্গ হয়ে গোসল করলে দোষ নেই। মুসা (আ.) উলঙ্গ হয়ে গোসল করেছিলেন - যেমন বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসুল সা. বলেছেন : আইয়ুব (আ.) যখন নগ্ন হয়ে গোসল করছিলেন, তখন সহসা তাঁর উপর এর থলি স্বর্ণমুদ্রা পড়লো। আইয়ুব (আ.) সেটি নিজের কাপড়ের মধ্যে লুকাতে লাগলেন। আল্লাহ তাঁকে বললেন : হে আইয়ুব, তুমি যা দেখতে পাচ্ছো, তা থেকে কি তোমাকে আমি অভাবশূন্য করিনি? আইয়ুব বললেন : হে আল্লাহ, তোমার সম্মানের শপথ, অবশ্যই করেছো, তোমার বরকত থেকে আমি কখনো অভাবশূন্য নই। -আহমদ, বুখারি, নাসায়ী।

১. ঋতুস্রাব ও জানাবত- উভয়ের জন্য, জুমা ও ঈদের জন্য, কিংবা জানাবত ও জুমার জন্য একই গোসল যথেষ্ট হবে- যদি উভয়ের জন্য নিয়ত করা হয়। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: প্রত্যেক ব্যক্তি যেমন নিয়ত করবে, তেমন ফল পাবে।
২. জানাবতের জন্য যখন গোসল করা হয়, তার পূর্বে অযু না করলেও গোসলেই অযুর কাজ হয়ে যাবে। আয়েশা রা. বলেছেন: রসূল সা. গোসলের পর অযু করতেননা। ইবনে উমর রা. বলেছেন: এক ব্যক্তি তাকে বললো: আমি গোসলের পর অযু করে থাকি। ইবনে উমর রা. তাকে বললেন: তুমি অতিমাত্রায় করছো। আবু বকর ইবনুল আরাবী বলেছেন: আলেমগণ একমত হয়েছেন, অযু গোসলের আওতাধীন। আর জানাবত থেকে পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত ক্ষুদ্রতর নাপাকি থেকেও পবিত্রতা অর্জন করিয়ে দেয় ও নাপাকি দূর করে। কেননা জানাবতের বাধা 'হাদাসে'র (ক্ষুদ্রতর নাপাকির) বাধার চেয়ে অনেক বেশি। তাই ক্ষুদ্রতর নাপাকি থেকে মুক্তির নিয়ত বৃহত্তর নাপাকি থেকে মুক্তির আওতাভুক্ত হয়ে যায় এবং বৃহত্তরটির নিয়ত যথেষ্ট হয়ে যায়।
৩. জুনুবি ও ঋতুবতীর জন্য লোম অপসারণ, নখ কাটা ও বাজারে যাওয়া জায়েয। এটা মাকরূহও নয়। আতা বলেছেন: জুনুবি ক্ষৌর কাজ সম্পাদন করবে, নখ কাটবে ও মাথার চুল কামাবে। অযু করুক বা না করুক- তাতে কিছু যায় আসে না। -বুখারি।
৪. গোসলখানায় প্রবেশ করাতে কোনো দোষ নেই- যদি প্রবেশকারী কারো শরীরের গোপনীয় অংশের দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকে এবং অন্য কেউ তার গোপনীয় অংশের দিকে না তাকায়। আহমদ বলেন: যদি জানো, গণ-গোসলখানায় যারা আছে তারা লুংগি বা পাজামা পরিহিত আছে, তবে প্রবেশ করো, নচেত করোনা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "কোনো পুরুষ অপর পুরুষের এবং কোনো নারী অপর নারীর গোপন অংগের দিকে তাকাবেনা।” গোসল খানায় আল্লাহর নাম উচ্চারণে বাধা নেই। আল্লাহর স্মরণ সর্বাবস্থায় ভালো কাজ- যতোক্ষণ না কোনো নিষেধাজ্ঞা আসে। রসূল সা. সব সময় আল্লাহকে স্মরণ করতেন।
৫. রুমাল তোয়ালে ইত্যাদি দিয়ে অংগ প্রত্যংগ মোছা অযুতে, গোসলে, শীতে ও গ্রীষ্মে জায়েয।
৬. নারীর গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুরুষের গোসল এবং পুরুষের গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে নারীর গোসল জায়েয। অনুরূপ, স্বামী ও স্ত্রীর একই পাত্র থেকে এক সাথে গোসল করাও জায়েয। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত : রসুল সা. এর জনৈক স্ত্রী একটি পাত্রে গোসল করতেন। এরপর সেই পাত্র থেকে অযু করার জন্য অথবা গোসল করার জন্য রসুল সা. এলেন। স্ত্রী বললেন : হে রসুলুল্লাহ, আমি জুনুবি ছিলাম। রসুল সা. বললেন : পানি কখনো জুনুবি হয়না। -আহমদ, আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযি।
আয়েশা রা. রসুল সা. এর সাথে একই পাত্র থেকে একই সাথে গোসল করতেন আর একে অপরকে বলতেন : "আমার জন্য একটু পানি রেখো।"
৭. জনসমক্ষে উলঙ্গ হয়ে গোসল করা যায়েয নেই। কোনো সতর খোলা হারাম। কাপড় ইত্যাদি দিয়ে আড়াল করে নিলে ক্ষতি নেই। ফাতেমা রা. রসুল সা. কে কাপড় দিয়ে আড়াল করে দিতেন এবং তিনি গোসল করতেন। অবশ্য লোকজনের দৃষ্টি থেকে দূরে উলঙ্গ হয়ে গোসল করলে দোষ নেই। মুসা (আ.) উলঙ্গ হয়ে গোসল করেছিলেন - যেমন বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসুল সা. বলেছেন : আইয়ুব (আ.) যখন নগ্ন হয়ে গোসল করছিলেন, তখন সহসা তাঁর উপর এর থলি স্বর্ণমুদ্রা পড়লো। আইয়ুব (আ.) সেটি নিজের কাপড়ের মধ্যে লুকাতে লাগলেন। আল্লাহ তাঁকে বললেন : হে আইয়ুব, তুমি যা দেখতে পাচ্ছো, তা থেকে কি তোমাকে আমি অভাবশূন্য করিনি? আইয়ুব বললেন : হে আল্লাহ, তোমার সম্মানের শপথ, অবশ্যই করেছো, তোমার বরকত থেকে আমি কখনো অভাবশূন্য নই। -আহমদ, বুখারি, নাসায়ী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00