📄 মুস্তাহাব গোসল
অর্থাৎ যে গোসলের প্রশংসা করা হয় ও সওয়াব হয়, কিন্তু না করলে কোনো তিরস্কারও করা হয়না, গুনাহও হয়না। এ ধরনের গোসল ছয়টি:
১. জুমার গোসল: যেহেতু জুমার দিন মুসলমানদের ইবাদত ও নামাযের জন্য সমবেত হওয়ার দিন। তাই শরিয়ত প্রণেতা রসূলুল্লাহ সা. এদিন গোসল করার আদেশ দিয়েছেন ও তার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে মুসলমানরা তাদের সমাবেশে উৎকৃষ্টতম পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উপস্থিত হয়। আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্কের উপর জুমার দিন গোসল করা ও সাধ্যমত সুগন্ধি ব্যবহার করা ওয়াজিব। -বুখারি ও মুসলিম। 'ওয়াজিব' অর্থ গুরুত্বপূর্ণ মুস্তাহাব। এর প্রমাণ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত বুখারির এই হাদিস: জুমার দিন উমর ইবনুল খাত্তাব দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। সহসা রসূল সা. এর সাহাবিদের মধ্য থেকে জনৈক প্রবীণ মুহাজির উপস্থিত হলেন। তিনি ছিলেন উসমান। উমর তাকে ডেকে বললেন: এখন কোন্ সময়? তিনি বললেন: আমি কাজে নিয়োজিত ছিলাম। ঘরে ফেরার আগেই আযান শুনতে পেলাম। ফলে অযুর বেশি কিছু করতে পারিনি। উমর বললেন: মাত্র অযু? অথচ আপনি তো জানেন, রসূল সা. গোসল করার আদেশ দিতেন।"
ইমাম শাফেয়ী বলেন: উসমান যখন গোসল না করতে পারায় নামায ছাড়েননি। আর উমরও তাকে গোসল করার জন্য মসজিদ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেননি। তখন প্রমাণিত হলো যে, তারা উভয়ে জানতেন, গোসল ইচ্ছাধীন ব্যাপার। আর গোসল যে মুstahab সেটা প্রমাণিত হয় আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত মুসলিমের এই হাদিস থেকেও। রসূল সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি ভালোভাবে অযু করে জুমার নামাযে আসবে এবং নীরবে শুনবে, এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত এবং আরো তিন দিন পর্যন্ত তার যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
এই হাদিস দ্বারা কিভাবে মুস্তাহাব প্রমাণিত হয়, তার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কুরতবী বলেন: অযু ও তৎসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজের উল্লেখ করে তার সওয়াব বর্ণনা, যা নামাযের বিশুদ্ধতার দাবি জানায়, প্রমাণ করে, অযুই যথেষ্ট। হাফেয ইবনে হাজার তাঁর গ্রন্থ 'তালখীসে' বলেছেন: জুমার গোসল যে ফরয নয় এ হাদিস তার সবচেয়ে বলিষ্ঠ প্রমাণ। যেহেতু গোসল বাদ দেয়ায় কোনো ক্ষতি হয়না, তাই এটিকে মুস্তাহাব বলা হয়েছে। তবে গোসল বাদ দেয়ার কারণে যদি ঘাম ও দুর্গন্ধের দরুন মানুষের কষ্ট হয়, কিংবা অনুরূপ খারাপ কিছু হয়, তাহলে গোসল ওয়াজিব ও তা বাদ দেয়া হারাম হবে। একদল আলেম গোসল বাদ দিলে যদি কারো কষ্ট না-ও হয়, তথাপি জুমার জন্য গোসল ওয়াজিব বলে রায় দিয়েছেন। তারা আবু হুরায়রার নিম্নোক্ত হাদিস দ্বারা প্রমাণ দর্শান, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: প্রত্যেক মুসলমানের জন্য সপ্তাহে একদিন গোসল করা জরুরি। সে যেনো নিজের মাথা ও শরীর ধৌত করে।-বুখারি ও মুসলিম,।
এ বিষয়ে যে সকল হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তারা সেগুলোকে বাহ্যিক অর্থেই (অর্থাৎ ওয়াজিব) গ্রহণ করেন এবং এর বিপরীত অর্থ প্রত্যাখ্যান করেন।
গোসলের সময় ফজর থেকে শুরু করে জুমার নামায পর্যন্ত বিস্তৃত। অবশ্য গোসল করার অব্যবহিত পর নামাযে যাওয়া মুস্তাহাব। আর গোসলের পর অযু ভংগকারী নাপাকি সংঘটিত হলে অযু করাই যথেষ্ট হবে। আছরাম বলেছেন: শুনেছি, ইমাম আহমদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ইমাম যে ব্যক্তি গোসল করেছে, তারপর তার অযু ভংগ হয়েছে, তার কি অযু যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন: হাঁ। এ ব্যাপারে আমি আবদুর রহমান ইবনে আবযার হাদিসের চেয়ে উত্তম কিছু শুনিনি। ইবনে আবযা তার সাহাবি পিতা থেকে বর্ণনা করেন: তিনি জুমার দিন গোসল করতেন। আর গোসলের পর অযু ভংগ হলে শুধু অযু করতেন। পুন: গোসল করতেননা। জুমার নামায শেষ হওয়ার সাথে গোসলের সময় শেষ হয়। কাজেই যে ব্যক্তি জুমার নামাযের পর গোসল করে, তার গোসল জুমার গোসল হবেনা। এই গোসল দ্বারা মুস্তাহাবও আদায় হবেনা। কেননা ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন জুমার নামাযে আসতে চায়, তখন সে যেনো গোসল করে। -সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থ।
ইবনে আবদুল বার বলেছেন, এ ব্যাপারে মুসলমানদের ঐকমত্য হয়েছে।
২. ঈদের গোসল: আলেমগণ ঈদের গোসলকে মুstahab বলেছেন। এ বিষয়ে কোনো সহীহ হাদিস পাওয়া যায়না। বদরে মুনীর গ্রন্থে বলা হয়েছে ঈদের গোসল সংক্রান্ত হাদিস দুর্বল। তবে এ সম্পর্কে সাহাবিদের কিছু ভালো উক্তি রয়েছে।
৩. যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল করিয়েছে তার গোসল বহু আলেমের মতে, যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল করিয়েছে, তার গোসল করা মুstahab। কেননা আবু হুরায়রা বর্ণনা করেন, রসূল সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল করালো, সে যেনো গোসল করে, আর যে তাকে বহন করেছে, সে যেনো অযু করে। -আহমদ ও সুনানের গ্রন্থসমূহ।
তবে ইমামগণ এ হাদিসের সমালোচনা করেছেন। আলী ইবনুল মাদায়েনী, আহমদ, ইবনুল মুনযির ও রাফেয়ী প্রমুখ বলেছেন, হাদিস বিশারদগণ এ বিষয়ে কোনো হাদিসকেই সহীহ আখ্যায়িত করেননি। তবে হাফেয ইবনে হাজার এ হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন: এ হাদিসকে তিরমিযি উত্তম ও ইবনে হিব্বান সহীহ বলেছেন। এটি বহু সংখ্যক সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে কমের পক্ষে উত্তম না হয়েই পারেনা। যাহাবী বলেছেন: ফকীহগণ প্রামাণ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন এমন বহু হাদিসের চেয়ে এ হাদিসের সনদ অধিকতর শক্তিশালী। উক্ত হাদিসে যে আদেশ সূচক ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে, তা দ্বারা মুstahab বুঝানো হয়েছে। কেননা উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমরা মৃত ব্যক্তি গোসল করাতাম। এরপর আমাদের কেউ গোসল করতো, কেউ করতোনা। হাদিসটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেছেন খতীব। আবু বকর সিদ্দিক রা. এর ইন্তিকালের পর তাঁর স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস তাকে গোসল করালেন, তখন গোসলের পর বেরিয়ে এসে সেখানে উপস্থিত মুহাজিরদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন: আজ বড় কঠিন ঠাণ্ডার দিন। আমি রোযাদার। আমার কি গোসল করা জরুরি? তারা বললেন: না।-মালেক।
৪. ইহরামের গোসল: অধিকাংশ আলেমের মতে হজ্জ যা উমরার জন্য ইহরাম করতে সংকল্প করলে গোসল করা মুstahab। কেননা যায়দ ইবনে সাবেত রা. বলেছেন: তিনি রসূল সা.কে দেখেছেন, তিনি তার ইহরামের জন্য পোশাক খুলেছেন ও গোসল করেছেন। -দার কুতনি, বায়হাকি, তিরমিযি। তিরমিযি এ হাদিসকে উত্তম ও উকাইলী দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন।
৫. মক্কায় প্রবেশের সময় গোসল যে ব্যক্তি মক্কা শরিফে প্রবেশ করতে ইচ্ছা করে তার জন্য গোসল করা মুstahab। কেননা ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রসূল সা. যখন মক্কায় যেতেন, তার আগের রাত যি তুয়ায় সকাল পর্যন্ত অবস্থান করতেন, তারপর দিনের বেলা মক্কায় প্রবেশ করতেন। তিনি রসূল সা. থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি গোসল করতেন। -বুখারি ও মুসলিম।
ইবনুল মুনযির বলেছেন: সকল আলেমের মতেই মক্কায় প্রবেশের প্রাক্কালে গোসল করা মুstahab। তবে না করলে কোনো ফিদিয়া দিতে হবেনা। অধিকাংশ আলেম বলেছেন: অযু করাই যথেষ্ট হবে।
৬. আরাফায় অবস্থানের জন্য গোসল: হজ্জের উদ্দেশ্যে আরাফায় অবস্থানে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য গোসল করা মুstahab। কেননা নাফে' থেকে মালেক বর্ণনা করেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. ইহরামের জন্য ইহরামের প্রাক্কালে, মক্কায় প্রবেশের জন্য ও বিকালে আরাফায় অবস্থানের জন্য গোসল করতেন।
অর্থাৎ যে গোসলের প্রশংসা করা হয় ও সওয়াব হয়, কিন্তু না করলে কোনো তিরস্কারও করা হয়না, গুনাহও হয়না। এ ধরনের গোসল ছয়টি:
১. জুমার গোসল: যেহেতু জুমার দিন মুসলমানদের ইবাদত ও নামাযের জন্য সমবেত হওয়ার দিন। তাই শরিয়ত প্রণেতা রসূলুল্লাহ সা. এদিন গোসল করার আদেশ দিয়েছেন ও তার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে মুসলমানরা তাদের সমাবেশে উৎকৃষ্টতম পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উপস্থিত হয়। আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্কের উপর জুমার দিন গোসল করা ও সাধ্যমত সুগন্ধি ব্যবহার করা ওয়াজিব। -বুখারি ও মুসলিম। 'ওয়াজিব' অর্থ গুরুত্বপূর্ণ মুস্তাহাব। এর প্রমাণ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত বুখারির এই হাদিস: জুমার দিন উমর ইবনুল খাত্তাব দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। সহসা রসূল সা. এর সাহাবিদের মধ্য থেকে জনৈক প্রবীণ মুহাজির উপস্থিত হলেন। তিনি ছিলেন উসমান। উমর তাকে ডেকে বললেন: এখন কোন্ সময়? তিনি বললেন: আমি কাজে নিয়োজিত ছিলাম। ঘরে ফেরার আগেই আযান শুনতে পেলাম। ফলে অযুর বেশি কিছু করতে পারিনি। উমর বললেন: মাত্র অযু? অথচ আপনি তো জানেন, রসূল সা. গোসল করার আদেশ দিতেন।"
ইমাম শাফেয়ী বলেন: উসমান যখন গোসল না করতে পারায় নামায ছাড়েননি। আর উমরও তাকে গোসল করার জন্য মসজিদ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেননি। তখন প্রমাণিত হলো যে, তারা উভয়ে জানতেন, গোসল ইচ্ছাধীন ব্যাপার। আর গোসল যে মুstahab সেটা প্রমাণিত হয় আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত মুসলিমের এই হাদিস থেকেও। রসূল সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি ভালোভাবে অযু করে জুমার নামাযে আসবে এবং নীরবে শুনবে, এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত এবং আরো তিন দিন পর্যন্ত তার যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
এই হাদিস দ্বারা কিভাবে মুস্তাহাব প্রমাণিত হয়, তার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কুরতবী বলেন: অযু ও তৎসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজের উল্লেখ করে তার সওয়াব বর্ণনা, যা নামাযের বিশুদ্ধতার দাবি জানায়, প্রমাণ করে, অযুই যথেষ্ট। হাফেয ইবনে হাজার তাঁর গ্রন্থ 'তালখীসে' বলেছেন: জুমার গোসল যে ফরয নয় এ হাদিস তার সবচেয়ে বলিষ্ঠ প্রমাণ। যেহেতু গোসল বাদ দেয়ায় কোনো ক্ষতি হয়না, তাই এটিকে মুস্তাহাব বলা হয়েছে। তবে গোসল বাদ দেয়ার কারণে যদি ঘাম ও দুর্গন্ধের দরুন মানুষের কষ্ট হয়, কিংবা অনুরূপ খারাপ কিছু হয়, তাহলে গোসল ওয়াজিব ও তা বাদ দেয়া হারাম হবে। একদল আলেম গোসল বাদ দিলে যদি কারো কষ্ট না-ও হয়, তথাপি জুমার জন্য গোসল ওয়াজিব বলে রায় দিয়েছেন। তারা আবু হুরায়রার নিম্নোক্ত হাদিস দ্বারা প্রমাণ দর্শান, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: প্রত্যেক মুসলমানের জন্য সপ্তাহে একদিন গোসল করা জরুরি। সে যেনো নিজের মাথা ও শরীর ধৌত করে।-বুখারি ও মুসলিম,।
এ বিষয়ে যে সকল হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তারা সেগুলোকে বাহ্যিক অর্থেই (অর্থাৎ ওয়াজিব) গ্রহণ করেন এবং এর বিপরীত অর্থ প্রত্যাখ্যান করেন।
গোসলের সময় ফজর থেকে শুরু করে জুমার নামায পর্যন্ত বিস্তৃত। অবশ্য গোসল করার অব্যবহিত পর নামাযে যাওয়া মুস্তাহাব। আর গোসলের পর অযু ভংগকারী নাপাকি সংঘটিত হলে অযু করাই যথেষ্ট হবে। আছরাম বলেছেন: শুনেছি, ইমাম আহমদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ইমাম যে ব্যক্তি গোসল করেছে, তারপর তার অযু ভংগ হয়েছে, তার কি অযু যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন: হাঁ। এ ব্যাপারে আমি আবদুর রহমান ইবনে আবযার হাদিসের চেয়ে উত্তম কিছু শুনিনি। ইবনে আবযা তার সাহাবি পিতা থেকে বর্ণনা করেন: তিনি জুমার দিন গোসল করতেন। আর গোসলের পর অযু ভংগ হলে শুধু অযু করতেন। পুন: গোসল করতেননা। জুমার নামায শেষ হওয়ার সাথে গোসলের সময় শেষ হয়। কাজেই যে ব্যক্তি জুমার নামাযের পর গোসল করে, তার গোসল জুমার গোসল হবেনা। এই গোসল দ্বারা মুস্তাহাবও আদায় হবেনা। কেননা ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন জুমার নামাযে আসতে চায়, তখন সে যেনো গোসল করে। -সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থ।
ইবনে আবদুল বার বলেছেন, এ ব্যাপারে মুসলমানদের ঐকমত্য হয়েছে।
২. ঈদের গোসল: আলেমগণ ঈদের গোসলকে মুstahab বলেছেন। এ বিষয়ে কোনো সহীহ হাদিস পাওয়া যায়না। বদরে মুনীর গ্রন্থে বলা হয়েছে ঈদের গোসল সংক্রান্ত হাদিস দুর্বল। তবে এ সম্পর্কে সাহাবিদের কিছু ভালো উক্তি রয়েছে।
৩. যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল করিয়েছে তার গোসল বহু আলেমের মতে, যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল করিয়েছে, তার গোসল করা মুstahab। কেননা আবু হুরায়রা বর্ণনা করেন, রসূল সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল করালো, সে যেনো গোসল করে, আর যে তাকে বহন করেছে, সে যেনো অযু করে। -আহমদ ও সুনানের গ্রন্থসমূহ।
তবে ইমামগণ এ হাদিসের সমালোচনা করেছেন। আলী ইবনুল মাদায়েনী, আহমদ, ইবনুল মুনযির ও রাফেয়ী প্রমুখ বলেছেন, হাদিস বিশারদগণ এ বিষয়ে কোনো হাদিসকেই সহীহ আখ্যায়িত করেননি। তবে হাফেয ইবনে হাজার এ হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন: এ হাদিসকে তিরমিযি উত্তম ও ইবনে হিব্বান সহীহ বলেছেন। এটি বহু সংখ্যক সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে কমের পক্ষে উত্তম না হয়েই পারেনা। যাহাবী বলেছেন: ফকীহগণ প্রামাণ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন এমন বহু হাদিসের চেয়ে এ হাদিসের সনদ অধিকতর শক্তিশালী। উক্ত হাদিসে যে আদেশ সূচক ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে, তা দ্বারা মুstahab বুঝানো হয়েছে। কেননা উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমরা মৃত ব্যক্তি গোসল করাতাম। এরপর আমাদের কেউ গোসল করতো, কেউ করতোনা। হাদিসটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেছেন খতীব। আবু বকর সিদ্দিক রা. এর ইন্তিকালের পর তাঁর স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস তাকে গোসল করালেন, তখন গোসলের পর বেরিয়ে এসে সেখানে উপস্থিত মুহাজিরদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন: আজ বড় কঠিন ঠাণ্ডার দিন। আমি রোযাদার। আমার কি গোসল করা জরুরি? তারা বললেন: না।-মালেক।
৪. ইহরামের গোসল: অধিকাংশ আলেমের মতে হজ্জ যা উমরার জন্য ইহরাম করতে সংকল্প করলে গোসল করা মুstahab। কেননা যায়দ ইবনে সাবেত রা. বলেছেন: তিনি রসূল সা.কে দেখেছেন, তিনি তার ইহরামের জন্য পোশাক খুলেছেন ও গোসল করেছেন। -দার কুতনি, বায়হাকি, তিরমিযি। তিরমিযি এ হাদিসকে উত্তম ও উকাইলী দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন।
৫. মক্কায় প্রবেশের সময় গোসল যে ব্যক্তি মক্কা শরিফে প্রবেশ করতে ইচ্ছা করে তার জন্য গোসল করা মুstahab। কেননা ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রসূল সা. যখন মক্কায় যেতেন, তার আগের রাত যি তুয়ায় সকাল পর্যন্ত অবস্থান করতেন, তারপর দিনের বেলা মক্কায় প্রবেশ করতেন। তিনি রসূল সা. থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি গোসল করতেন। -বুখারি ও মুসলিম।
ইবনুল মুনযির বলেছেন: সকল আলেমের মতেই মক্কায় প্রবেশের প্রাক্কালে গোসল করা মুstahab। তবে না করলে কোনো ফিদিয়া দিতে হবেনা। অধিকাংশ আলেম বলেছেন: অযু করাই যথেষ্ট হবে।
৬. আরাফায় অবস্থানের জন্য গোসল: হজ্জের উদ্দেশ্যে আরাফায় অবস্থানে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য গোসল করা মুstahab। কেননা নাফে' থেকে মালেক বর্ণনা করেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. ইহরামের জন্য ইহরামের প্রাক্কালে, মক্কায় প্রবেশের জন্য ও বিকালে আরাফায় অবস্থানের জন্য গোসল করতেন।
📄 গোসলের আরকান
শরিয়ত নির্দেশিত গোসল দুটো জিনিস ছাড়া সম্পন্ন হয়না: ১. নিয়ত :
এটাই মানুষের স্বাভাবিক ও প্রকৃতিগত কাজকর্ম আর ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। নিয়ত নিছক মনের কাজ। মুখে নিয়ত উচ্চারণ করার যে প্রথা লোকেরা রপ্ত ও চালু করেছে এবং তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তা একটা নতুন আবিষ্কৃত ও শরিয়ত বহির্ভূত কাজ। এই প্রথা বর্জন করা উচিত। ইতিপূর্বে অযু সংক্রান্ত আলোচনায় নিয়তের হাকিকত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করে এসেছি।
২. সকল অংগ প্রত্যংগ ধৌত করা: আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "আর যদি তোমরা জুনুবি হয়ে থাকো তবে উত্তমরূপে পবিত্র হও।” (সূরা ৫, মায়িদা: আয়াত ৬ অংশ বিশেষ)।
আল্লাহ আরো বলেছেন: "তারা তোমাকে মাসিক রক্তস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বলো, ওটা একটা অপবিত্র ও বিব্রতকর অবস্থা। কাজেই রক্তস্রাব চলাকালে তোমরা স্ত্রীদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখো। তারা পবিত্রতা অর্জন না করা পর্যন্ত তাদের কাছে যেওনা।” (সূরা বাকারা: আয়াত ২২২) উভয় আয়াতে পবিত্রতা অর্জনের অর্থ যে গোসল করা, তার প্রমাণ নিম্নোক্ত আয়াতে সুস্পষ্ট: “হে মুমিনগণ, তোমরা মাতাল অবস্থায় নামাযের নিকটবর্তী হয়োনা যতোক্ষণ না তোমরা কী বলছো তা অবগত হও। আর জুনুবি অবস্থায়ও কেবল রাস্তা অতিক্রমের জন্য ব্যতিত নামাযের নিকটবর্তী হয়োনা, যতোক্ষণ না গোসল করো।” (সূরা ৪, নিসা: আয়াত ৪৩) বস্তুত, গোসল অর্থই হলো সকল অংগ প্রত্যংগ ধোয়া।
শরিয়ত নির্দেশিত গোসল দুটো জিনিস ছাড়া সম্পন্ন হয়না: ১. নিয়ত :
এটাই মানুষের স্বাভাবিক ও প্রকৃতিগত কাজকর্ম আর ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। নিয়ত নিছক মনের কাজ। মুখে নিয়ত উচ্চারণ করার যে প্রথা লোকেরা রপ্ত ও চালু করেছে এবং তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তা একটা নতুন আবিষ্কৃত ও শরিয়ত বহির্ভূত কাজ। এই প্রথা বর্জন করা উচিত। ইতিপূর্বে অযু সংক্রান্ত আলোচনায় নিয়তের হাকিকত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করে এসেছি।
২. সকল অংগ প্রত্যংগ ধৌত করা: আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "আর যদি তোমরা জুনুবি হয়ে থাকো তবে উত্তমরূপে পবিত্র হও।” (সূরা ৫, মায়িদা: আয়াত ৬ অংশ বিশেষ)।
আল্লাহ আরো বলেছেন: "তারা তোমাকে মাসিক রক্তস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বলো, ওটা একটা অপবিত্র ও বিব্রতকর অবস্থা। কাজেই রক্তস্রাব চলাকালে তোমরা স্ত্রীদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখো। তারা পবিত্রতা অর্জন না করা পর্যন্ত তাদের কাছে যেওনা।” (সূরা বাকারা: আয়াত ২২২) উভয় আয়াতে পবিত্রতা অর্জনের অর্থ যে গোসল করা, তার প্রমাণ নিম্নোক্ত আয়াতে সুস্পষ্ট: “হে মুমিনগণ, তোমরা মাতাল অবস্থায় নামাযের নিকটবর্তী হয়োনা যতোক্ষণ না তোমরা কী বলছো তা অবগত হও। আর জুনুবি অবস্থায়ও কেবল রাস্তা অতিক্রমের জন্য ব্যতিত নামাযের নিকটবর্তী হয়োনা, যতোক্ষণ না গোসল করো।” (সূরা ৪, নিসা: আয়াত ৪৩) বস্তুত, গোসল অর্থই হলো সকল অংগ প্রত্যংগ ধোয়া।
📄 গোসলের সুন্নতসমূহ
রসূল সা. যেভাবে গোসল করতেন, প্রত্যেক গোসলকারীর সেভাবে গোসল করা সুন্নত। প্রথমে: (১) দু'হাত তিনবার ধৌত করবে, (২) তারপর গুপ্তাংগ ধৌত করবে, (৩) তারপর নামাযের অযুর মতো পূর্ণাংগভাবে অযু করবে। যখন কোনো ক্ষুদ্র পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করা হয়, তখন গোসলের শেষ পর্যায় পর্যন্ত পা ধোয়া বিলম্বিত করতে পারে। (৪) তারপর তিনবার মাথায় পানি ঢালবে, সেই সাথে চুলে আংগুল চালিয়ে চুলের গোড়া পর্যন্ত পানি প্রবেশ করাবে। (৫) তারপর সারা শরীরে পানি ঢালবে, প্রথমে ডান দিকে ও পরে বাম দিকে। সেই সাথে বোগল, কানের ভেতরে, নাভির ভেতরে ও পায়ের আংগুলের মাঝে ও সমগ্র শরীরকে যতোটা পারা যায় কচলাবে। এ সম্পর্কে আয়েশা রা. এর হাদিসে বিস্তারিত বিবরণ এসেছে, তিনি বলেন: “রসূল সা. যখন জানাবত থেকে পবিত্র হবার জন্য গোসল করতেন তখন শুরুতে তাঁর হাত ধুতেন, তারপর নিজের ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢেলে তা দিয়ে নিজের গুপ্তাংগ ধুতেন, তারপর নামাযের অযুর মতো অযু করতেন। তারপর পানি নিয়ে চুলের গোড়ায় আংগুল ঢুকিয়ে পানি পৌছাতেন। যখন নিশ্চিত হতেন চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে গেছে, তারপরও মুঠো ভরে তিনবার মাথায় পানি দিতেন। তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দিতেন।” -বুখারি ও মুসলিম।
বুখারি ও মুসলিমের অপর বর্ণনায় রয়েছে: অতপর নিজের দু'হাত দিয়ে চুলের মধ্যে খিলাল করতেন বা বিলি দিতেন, এভাবে যখন বুঝতেন, মাথার চামড়া পানি দিয়ে সিক্ত করেছেন, তখন মাথার উপর তিনবার পানি ঢেলে দিতেন। বুখারি ও মুসলিমে আয়েশার অপর হাদিসে বলা হয়েছে: রসূল সা. যখন জানাবতের গোসল করতেন, তখন পানি আনাতেন, হাতের তালুতে পানি ঢালতেন, তারপর প্রথমে মাথার ডান পাশে তারপর বাম পাশে পানি দিতেন, তারপর উভয় হাতের তালু মাথার উপর ঘোরাতেন।
মাইমুনা রা. থেকে বর্ণিত: “আমি রসূল সা. এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম, তিনি দুই হাতে পানি ঢাললেন, দু'হাত দু'বার বা তিনবার ধুলেন, তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢাললেন, সেই পানি দিয়ে গুপ্তাংগ ধুলেন, তারপর মাটি দিয়ে হাত কচলালেন, তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তারপর মুখ ও হাত ধুলেন, তারপর তিনবার মাথা ধুলেন, তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢাললেন, তারপর তাঁর দাঁড়ানোর জায়গা থেকে সরে গিয়ে পা ধুলেন। এরপর আমি তাঁকে এক টুকরো কাপড় দিলাম, কিন্তু তিনি তা নিলেননা। (বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন।) বরং হাত দিয়ে পানি ঝাড়তে লাগলেন।” -সব কটি সহীহ হাদিস গ্রন্থ।
রসূল সা. যেভাবে গোসল করতেন, প্রত্যেক গোসলকারীর সেভাবে গোসল করা সুন্নত। প্রথমে: (১) দু'হাত তিনবার ধৌত করবে, (২) তারপর গুপ্তাংগ ধৌত করবে, (৩) তারপর নামাযের অযুর মতো পূর্ণাংগভাবে অযু করবে। যখন কোনো ক্ষুদ্র পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করা হয়, তখন গোসলের শেষ পর্যায় পর্যন্ত পা ধোয়া বিলম্বিত করতে পারে। (৪) তারপর তিনবার মাথায় পানি ঢালবে, সেই সাথে চুলে আংগুল চালিয়ে চুলের গোড়া পর্যন্ত পানি প্রবেশ করাবে। (৫) তারপর সারা শরীরে পানি ঢালবে, প্রথমে ডান দিকে ও পরে বাম দিকে। সেই সাথে বোগল, কানের ভেতরে, নাভির ভেতরে ও পায়ের আংগুলের মাঝে ও সমগ্র শরীরকে যতোটা পারা যায় কচলাবে। এ সম্পর্কে আয়েশা রা. এর হাদিসে বিস্তারিত বিবরণ এসেছে, তিনি বলেন: “রসূল সা. যখন জানাবত থেকে পবিত্র হবার জন্য গোসল করতেন তখন শুরুতে তাঁর হাত ধুতেন, তারপর নিজের ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢেলে তা দিয়ে নিজের গুপ্তাংগ ধুতেন, তারপর নামাযের অযুর মতো অযু করতেন। তারপর পানি নিয়ে চুলের গোড়ায় আংগুল ঢুকিয়ে পানি পৌছাতেন। যখন নিশ্চিত হতেন চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে গেছে, তারপরও মুঠো ভরে তিনবার মাথায় পানি দিতেন। তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দিতেন।” -বুখারি ও মুসলিম।
বুখারি ও মুসলিমের অপর বর্ণনায় রয়েছে: অতপর নিজের দু'হাত দিয়ে চুলের মধ্যে খিলাল করতেন বা বিলি দিতেন, এভাবে যখন বুঝতেন, মাথার চামড়া পানি দিয়ে সিক্ত করেছেন, তখন মাথার উপর তিনবার পানি ঢেলে দিতেন। বুখারি ও মুসলিমে আয়েশার অপর হাদিসে বলা হয়েছে: রসূল সা. যখন জানাবতের গোসল করতেন, তখন পানি আনাতেন, হাতের তালুতে পানি ঢালতেন, তারপর প্রথমে মাথার ডান পাশে তারপর বাম পাশে পানি দিতেন, তারপর উভয় হাতের তালু মাথার উপর ঘোরাতেন।
মাইমুনা রা. থেকে বর্ণিত: “আমি রসূল সা. এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম, তিনি দুই হাতে পানি ঢাললেন, দু'হাত দু'বার বা তিনবার ধুলেন, তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢাললেন, সেই পানি দিয়ে গুপ্তাংগ ধুলেন, তারপর মাটি দিয়ে হাত কচলালেন, তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তারপর মুখ ও হাত ধুলেন, তারপর তিনবার মাথা ধুলেন, তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢাললেন, তারপর তাঁর দাঁড়ানোর জায়গা থেকে সরে গিয়ে পা ধুলেন। এরপর আমি তাঁকে এক টুকরো কাপড় দিলাম, কিন্তু তিনি তা নিলেননা। (বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন।) বরং হাত দিয়ে পানি ঝাড়তে লাগলেন।” -সব কটি সহীহ হাদিস গ্রন্থ।
📄 মহিলাদের গোসল
নারীর গোসল পুরুষের গোসলের মতোই। কিন্তু নারীর জন্য খোপা খোলা জরুরি নয়। চুলের গোড়ায় পানি পৌছানোই যথেষ্ট। কেননা উম্মে সালামা রা. বলেন: “জনৈক মহিলা জিজ্ঞাসা করে: হে রসূলুল্লাহ! আমি তো খোপা বেঁধে থাকি। জানাবতের গোসলের সময় কি তা খুলবো? রসূল সা. বললেন: তুমি তোমার মাথায় তিনবার কোষ ভরে পানি দেবে এবং তারপর সমগ্র শরীরে পানি ঢালবে- এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট। এতেই তুমি পাক হয়ে যাবে। -আহমদ, মুসলিম ও তিরমিযি।
তিরমিযি একে উত্তম ও সহীহ বলেছেন। উবাইদ বিন উমাইর রা. থেকে বর্ণিত: আয়েশা রা. জানতে পারলেন আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. মহিলাদেরকে গোসলের সময় মাথার খোপা খুলতে আদেশ দেন। আয়েশা বললেন ইবনে উমরের জন্য অবাক হচ্ছি। সে মহিলাদের গোসলের সময় মাথার খোপা খুলতে আদেশ দিচ্ছে। তাদের মাথার চুল কামিয়ে ফেলার জন্য আদেশ দিচ্ছেনা কেন? আমি ও রসূল সা. একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। তিনবার মাথায় পানি ঢেলে দেয়ার চেয়ে বেশি কিছু তো করতামনা। -আহমদ ও মুসলিম।
কোনো মহিলা মাসিক ঋতুস্রাব ও প্রসবোত্তর স্রাব শেষে যখন গোসল করে, তখন তার জন্য মুস্তাহাব হলো: এক টুকরা তুলা বা অনুরূপ কিছু নেবে, তাতে মেঙ্ক বা অন্য কোনো সুগন্ধি লাগাবে, তারপর তা দিয়ে রক্তের চিহ্ন মুছে ফেলবে। এতে জায়গাটা সুগন্ধিযুক্ত হবে, সেখান থেকে দুর্গন্ধ দূর হবে। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত: "আসমা বিনতে ইয়াযীদ রা. রসূলুল্লাহ সা. কে ঋতুস্রাবোত্তর গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। রসূল সা. বললেন তোমাদের কোনো মহিলা গোসলের সময় প্রয়োজনীয় পানি ও বরুই পাতা নেবে, তারপর ভালো মতো অযু করবে। তারপর মাথায় পানি ঢালবে, মাথা জোরে জোরে কচলাবে যাতে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে। তারপর তার উপর পানি ঢালবে। তারপর মেঙ্কযুক্ত এক টুকরো ন্যাকড়া নেবে এবং তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে। আসমা বললেন: মেঙ্কযুক্ত ন্যাকড়া দিয়ে কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করবো? তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ! তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে! আয়েশা বললেন: সে (আসমা) সম্ভবত বিষয়টি গোপন করছিলো (অর্থাৎ বুঝেও না বুঝার ভান করছিল)। তুমি রক্তের চিহ্নগুলো মুছে ফেলবে। তারপর সে জানাবতের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। রসূল সা. বললেন: তুমি তোমার প্রয়োজনীয় পানি নেবে, তারপর উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করবে, তারপর মাথায় পানি ঢালবে, মাথা কচলাবে যাতে চামড়ায় পানি পৌঁছে যায়। তারপর উপর থেকে পানি ঢালবে। আয়েশা রা. বললেন: আনসার রমণীগণ কতো ভালো? দীন সম্পর্কে উত্তমরূপে জ্ঞান অর্জনে লজ্জা তাদের বাধা দেয়না। -তিরমিযি ব্যতিত সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থ।
নারীর গোসল পুরুষের গোসলের মতোই। কিন্তু নারীর জন্য খোপা খোলা জরুরি নয়। চুলের গোড়ায় পানি পৌছানোই যথেষ্ট। কেননা উম্মে সালামা রা. বলেন: “জনৈক মহিলা জিজ্ঞাসা করে: হে রসূলুল্লাহ! আমি তো খোপা বেঁধে থাকি। জানাবতের গোসলের সময় কি তা খুলবো? রসূল সা. বললেন: তুমি তোমার মাথায় তিনবার কোষ ভরে পানি দেবে এবং তারপর সমগ্র শরীরে পানি ঢালবে- এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট। এতেই তুমি পাক হয়ে যাবে। -আহমদ, মুসলিম ও তিরমিযি।
তিরমিযি একে উত্তম ও সহীহ বলেছেন। উবাইদ বিন উমাইর রা. থেকে বর্ণিত: আয়েশা রা. জানতে পারলেন আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. মহিলাদেরকে গোসলের সময় মাথার খোপা খুলতে আদেশ দেন। আয়েশা বললেন ইবনে উমরের জন্য অবাক হচ্ছি। সে মহিলাদের গোসলের সময় মাথার খোপা খুলতে আদেশ দিচ্ছে। তাদের মাথার চুল কামিয়ে ফেলার জন্য আদেশ দিচ্ছেনা কেন? আমি ও রসূল সা. একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। তিনবার মাথায় পানি ঢেলে দেয়ার চেয়ে বেশি কিছু তো করতামনা। -আহমদ ও মুসলিম।
কোনো মহিলা মাসিক ঋতুস্রাব ও প্রসবোত্তর স্রাব শেষে যখন গোসল করে, তখন তার জন্য মুস্তাহাব হলো: এক টুকরা তুলা বা অনুরূপ কিছু নেবে, তাতে মেঙ্ক বা অন্য কোনো সুগন্ধি লাগাবে, তারপর তা দিয়ে রক্তের চিহ্ন মুছে ফেলবে। এতে জায়গাটা সুগন্ধিযুক্ত হবে, সেখান থেকে দুর্গন্ধ দূর হবে। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত: "আসমা বিনতে ইয়াযীদ রা. রসূলুল্লাহ সা. কে ঋতুস্রাবোত্তর গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। রসূল সা. বললেন তোমাদের কোনো মহিলা গোসলের সময় প্রয়োজনীয় পানি ও বরুই পাতা নেবে, তারপর ভালো মতো অযু করবে। তারপর মাথায় পানি ঢালবে, মাথা জোরে জোরে কচলাবে যাতে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে। তারপর তার উপর পানি ঢালবে। তারপর মেঙ্কযুক্ত এক টুকরো ন্যাকড়া নেবে এবং তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে। আসমা বললেন: মেঙ্কযুক্ত ন্যাকড়া দিয়ে কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করবো? তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ! তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে! আয়েশা বললেন: সে (আসমা) সম্ভবত বিষয়টি গোপন করছিলো (অর্থাৎ বুঝেও না বুঝার ভান করছিল)। তুমি রক্তের চিহ্নগুলো মুছে ফেলবে। তারপর সে জানাবতের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। রসূল সা. বললেন: তুমি তোমার প্রয়োজনীয় পানি নেবে, তারপর উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করবে, তারপর মাথায় পানি ঢালবে, মাথা কচলাবে যাতে চামড়ায় পানি পৌঁছে যায়। তারপর উপর থেকে পানি ঢালবে। আয়েশা রা. বললেন: আনসার রমণীগণ কতো ভালো? দীন সম্পর্কে উত্তমরূপে জ্ঞান অর্জনে লজ্জা তাদের বাধা দেয়না। -তিরমিযি ব্যতিত সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থ।