📄 জুনুবির জন্যে যেসব কাজ নিষেধ
জুনুবির উপর নিম্নোক্ত কাজগুলো নিষিদ্ধ:
১. নামায। ২. তওয়াফ। যেসব কাজের জন্য অযু করা জরুরি, সেগুলোর বিবরণে এগুলোর প্রমাণাদি উল্লেখ করা হয়েছে। ৩. কুরআন স্পর্শ করা ও বহন করা: এটা নিষেধ হওয়া সম্পর্কে অনেক ইমাম একমত, তবে ইমাম দাউদ ও ইবনে হাযম জুনুবির কুরআন স্পর্শ করা ও বহন করাকে জায়েয মনে করেন এবং একে দূষণীয় মনে করেন না। তারা বুখারি ও মুসলিমের যে হাদিসটিকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন সেটি হলো:
"রসূলুল্লাহ সা. হিরাক্লিয়াসের নিকট একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন, তাতে লেখা ছিলো: বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম..... অবশেষে সূরা আলে-ইমরানের এ আয়াতও লেখা ছিলো: قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتٰبِ تَعَالَوْ إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ ، فَإِن تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ .
অর্থ: "হে আহলে কিতাব, এসো এমন একটি বাণীর দিকে, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে এক, তা হলো: আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো দাসত্ব করবোনা। তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবোনা এবং আমরা একে অপরকে আল্লাহর বিকল্প প্রভু হিসেবে গ্রহণ করবোনা। এরপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তোমরা বলে দিও: তোমরা সাক্ষী থাকো, আমরা মুসলিম।” (সূরা আল ইমরান: আয়াত ৬৪)
ইবনে হাযম বলেন: রসূল সা. খৃস্টানদের নিকট এই আয়াত সম্বলিত চিঠিটি পাঠালেন। তিনি তো নিশ্চিত জানতেন, তারা এই চিঠি স্পর্শ করবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ ইমামগণ এই যুক্তির জবাবে বলেছেন: এতো একটা চিঠি। চিঠি, তফসীর ও ফিকহের কিতাব ইত্যাদিতে আয়াত থাকা সত্ত্বেও তা স্পর্শ করাতে কোনো দোষ নেই। কারণ এগুলোকে কুরআন বলা হয়না এবং এগুলো কুরআনের ন্যায় সম্মানিত নয়।* ৪. কুরআন পড়া: অনেক ইমামের নিকট জুনুবির জন্য কুরআনের কোনো অংশ পড়া নিষেধ। আলী রা. বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: "জানাবত (গোসল ওয়াজিব হয় এমন অপবিত্রতা- যার বিবরণ ইতিপূর্বে দেয়া হয়েছে) ব্যতিত আর কোনো জিনিস রসূল সা.কে কুরআন থেকে দূরে রাখতোনা।” -আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ। হাফেয ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে বলেছেন: কেউ কেউ এ হাদিসের কোনো কোনো বর্ণনাকারীকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। তবে এটি উত্তম হাদিস, যা. থেকে প্রমাণ নেয়া যেতে পারে। আলী রা. থেকে আরো বর্ণিত: আমি রসূল সা.কে দেখলাম, অযু করলেন, তারপর কুরআনের একাংশ পড়লেন, তারপর বললেন: যে ব্যক্তি জুনুবি নয়, তার জন্য এরূপ করা জায়েয। জুনুবির জন্য নয়- এমনকি একটি আয়াতও নয়। -আহমদ ও আবু ইয়ালা। হায়ছামী বলেছেন: এ হাদিসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। শওকানি বলেছেন: "এ হাদিস যদি সহীহ হয়, তাহলে এ দ্বারা জুনুবির কুরআন পড়া নিষিদ্ধ হওয়ার পক্ষে প্রমাণ দর্শানো যায়। কিন্তু প্রথমোক্ত হাদিসটিতে এমন কোনো বক্তব্য নেই, যা দ্বারা কুরআন পড়া নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়। কেননা এতে সর্বাধিক যেটি জানা যায় তা হলো, রসূল সা. জানাবতের অবস্থায় কুরআন পড়া থেকে বিরত ছিলেন। এ ধরনের বক্তব্য দ্বারা কুরআন পড়া মাকরূহও প্রমাণিত হয়না, হারাম কিভাবে প্রমাণিত হবে?" ইমাম বুখারি, তাবারানি, দাউদ যাহেরি ও ইবনে হাযমের মতে জুনুবির জন্য কুরআন পড়া জায়েয। ইমাম বুখারি বলেছেন: ইবরাহীমের বক্তব্য হলো, ঋতুবতী মহিলা কুরআনের আয়াত পড়তে পারে। আর ইবনে আব্বাস রা. জুনুবির কুরআন পড়াকে দূষণীয় মনে করেননা। রসূল সা. সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকর করতেন। হাফেয ইবনে হাজার এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, জুনুবি ও ঋতুবতী মহিলার কুরআন পড়া নিষিদ্ধ- এই মর্মে বর্ণিত কোনো হাদিস ইমাম বুখারি সহীহ মনে করেন না। এ সংক্রান্ত হাদিসগুলো সামগ্রিকভাবে অন্যদের নিকট প্রামাণ্য হলেও এর বেশির ভাগ ব্যাখ্যা সাপেক্ষ।
৫. মসজিদে অবস্থান করা: জুনুবির জন্য মসজিদে অবস্থান করা নিষেধ। আয়েশা রা. বলেছেন : একদিন রসূল সা. এলেন। তখন তাঁর সাহাবিদের বাড়ি মসজিদমুখী ছিলো। তিনি বললেন: এ সমস্ত বাড়ির দরজা মসজিদ থেকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দাও। এ কথা বলে রসূল সা. (নিজ ঘরে বা মসজিদে) প্রবেশ করলেন। লোকেরা কিছু করলোনা। তারা আশা করছিল, তাদের জন্য কোনো অবকাশ নাযিল হবে। পরক্ষণে রসূল সা. তাদের কাছে বেরিয়ে এলেন এবং বললেন: তোমরা এসব ঘরের দরজা মসজিদ থেকে ঘুরিয়ে দাও। কেননা আমি কোনো ঋতুবতী ও জুনুবির জন্য মসজিদকে বৈধ রাখিনা। -আবু দাউদ।
আর উম্মে সালামা রা. বলেছেন: রসূলুল্লাহ সা. এই মসজিদের চত্বরে প্রবেশ করে ঘোষণা করলেন: মসজিদ জুনুবি ও ঋতুবতীর জন্য হালাল নয়।-ইবনে মাজাহ ও তাবারানি।
উল্লিখিত উভয় হাদিস জুনুবি ও ঋতুবতীর জন্য মসজিদ হালাল নয়- এটিই প্রমাণ করে। তবে মসজিদের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করা জুনুবি ও ঋতুবতী উভয়ের জন্য জায়েয। কেননা আল্লাহ বলেছেন: “হে মুমিনগণ, তোমরা যখন মাতাল থাকো, তখন নামাযের কাছে যেওনা- যতোক্ষণ না তোমরা কী বলছ তা বুঝতে পারো। আর যখন জুনুবি থাক, তখনো নামাযের নিকট যেওনা- যতোক্ষণ না গোসল করো। তবে পথ অতিক্রমকারী হিসেবে হলে দোষ নেই।” (সূরা ৪ নিসা, আয়াত: ৪৩)
জাবির রা. বলেন: আমাদের কেউ কেউ জুনুবি অবস্থায় মসজিদের মধ্যদিয়ে অতিক্রম করতো। -ইবনে আবি শায়বা ও সাঈদ ইবনে মানসুর।
আর যায়দ বিন আসলাম বলেছেন: রসূলুল্লাহ সা. এর সাহাবিগণ জুনুবি অবস্থায় মসজিদের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতেন। (ইবনুল মুনযির)। ইয়াযীদ বিন হাবীব রা. থেকে বর্ণিত: আনসারদের কিছু লোকের বাড়ির দরজা মসজিদমুখী ছিলো। তাদের জানাবত হতো। কিন্তু তারা মসজিদ ছাড়া পানি সংগ্রহ করতেও পানির কাছে যেতে পারতোনা। তাই আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেন: জুনুবি অবস্থায়ও নামাযের নিকট যেওনা, কেবল পথ অতিক্রমকারী হিসেবে ব্যতিত। -ইবনে জারির।
শওকানি এরপর বলেন: এ দ্বারা প্রতিপাদ্য বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। আয়েশা রা. বলেছেন: “রসূলুল্লাহ সা. আমাকে বললেন: মসজিদ থেকে আমাকে রুমালটি এনে দাও। আমি বললাম: আমি ঋতুবতী। তিনি বললেন : তোমার ঋতু তো তোমার হাতে নেই। -বুখারি ব্যতিত সকল হাদিস গ্রন্থ।
মাইমুনা রা. থেকে বর্ণিত: "ঋতুবতী অবস্থায় আমাদের কারো কারো ঘরে বসূল সা. আসতেন। তার কোলে মাথা রেখে কুরআন পড়তেন। অথচ সে ঋতুবতী। তারপর আমাদের কেউ তার রুমাল নিয়ে মসজিদে রেখে আসতো ঋতুবতী অবস্থায়।"-আহমদ ও নাসায়ী। এই বক্তব্য সম্বলিত আরো হাদিস রয়েছে।
জুনুবির উপর নিম্নোক্ত কাজগুলো নিষিদ্ধ:
১. নামায। ২. তওয়াফ। যেসব কাজের জন্য অযু করা জরুরি, সেগুলোর বিবরণে এগুলোর প্রমাণাদি উল্লেখ করা হয়েছে। ৩. কুরআন স্পর্শ করা ও বহন করা: এটা নিষেধ হওয়া সম্পর্কে অনেক ইমাম একমত, তবে ইমাম দাউদ ও ইবনে হাযম জুনুবির কুরআন স্পর্শ করা ও বহন করাকে জায়েয মনে করেন এবং একে দূষণীয় মনে করেন না। তারা বুখারি ও মুসলিমের যে হাদিসটিকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন সেটি হলো:
"রসূলুল্লাহ সা. হিরাক্লিয়াসের নিকট একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন, তাতে লেখা ছিলো: বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম..... অবশেষে সূরা আলে-ইমরানের এ আয়াতও লেখা ছিলো: قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتٰبِ تَعَالَوْ إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ ، فَإِن تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ .
অর্থ: "হে আহলে কিতাব, এসো এমন একটি বাণীর দিকে, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে এক, তা হলো: আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো দাসত্ব করবোনা। তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবোনা এবং আমরা একে অপরকে আল্লাহর বিকল্প প্রভু হিসেবে গ্রহণ করবোনা। এরপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তোমরা বলে দিও: তোমরা সাক্ষী থাকো, আমরা মুসলিম।” (সূরা আল ইমরান: আয়াত ৬৪)
ইবনে হাযম বলেন: রসূল সা. খৃস্টানদের নিকট এই আয়াত সম্বলিত চিঠিটি পাঠালেন। তিনি তো নিশ্চিত জানতেন, তারা এই চিঠি স্পর্শ করবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ ইমামগণ এই যুক্তির জবাবে বলেছেন: এতো একটা চিঠি। চিঠি, তফসীর ও ফিকহের কিতাব ইত্যাদিতে আয়াত থাকা সত্ত্বেও তা স্পর্শ করাতে কোনো দোষ নেই। কারণ এগুলোকে কুরআন বলা হয়না এবং এগুলো কুরআনের ন্যায় সম্মানিত নয়।* ৪. কুরআন পড়া: অনেক ইমামের নিকট জুনুবির জন্য কুরআনের কোনো অংশ পড়া নিষেধ। আলী রা. বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: "জানাবত (গোসল ওয়াজিব হয় এমন অপবিত্রতা- যার বিবরণ ইতিপূর্বে দেয়া হয়েছে) ব্যতিত আর কোনো জিনিস রসূল সা.কে কুরআন থেকে দূরে রাখতোনা।” -আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ। হাফেয ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে বলেছেন: কেউ কেউ এ হাদিসের কোনো কোনো বর্ণনাকারীকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। তবে এটি উত্তম হাদিস, যা. থেকে প্রমাণ নেয়া যেতে পারে। আলী রা. থেকে আরো বর্ণিত: আমি রসূল সা.কে দেখলাম, অযু করলেন, তারপর কুরআনের একাংশ পড়লেন, তারপর বললেন: যে ব্যক্তি জুনুবি নয়, তার জন্য এরূপ করা জায়েয। জুনুবির জন্য নয়- এমনকি একটি আয়াতও নয়। -আহমদ ও আবু ইয়ালা। হায়ছামী বলেছেন: এ হাদিসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। শওকানি বলেছেন: "এ হাদিস যদি সহীহ হয়, তাহলে এ দ্বারা জুনুবির কুরআন পড়া নিষিদ্ধ হওয়ার পক্ষে প্রমাণ দর্শানো যায়। কিন্তু প্রথমোক্ত হাদিসটিতে এমন কোনো বক্তব্য নেই, যা দ্বারা কুরআন পড়া নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়। কেননা এতে সর্বাধিক যেটি জানা যায় তা হলো, রসূল সা. জানাবতের অবস্থায় কুরআন পড়া থেকে বিরত ছিলেন। এ ধরনের বক্তব্য দ্বারা কুরআন পড়া মাকরূহও প্রমাণিত হয়না, হারাম কিভাবে প্রমাণিত হবে?" ইমাম বুখারি, তাবারানি, দাউদ যাহেরি ও ইবনে হাযমের মতে জুনুবির জন্য কুরআন পড়া জায়েয। ইমাম বুখারি বলেছেন: ইবরাহীমের বক্তব্য হলো, ঋতুবতী মহিলা কুরআনের আয়াত পড়তে পারে। আর ইবনে আব্বাস রা. জুনুবির কুরআন পড়াকে দূষণীয় মনে করেননা। রসূল সা. সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকর করতেন। হাফেয ইবনে হাজার এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, জুনুবি ও ঋতুবতী মহিলার কুরআন পড়া নিষিদ্ধ- এই মর্মে বর্ণিত কোনো হাদিস ইমাম বুখারি সহীহ মনে করেন না। এ সংক্রান্ত হাদিসগুলো সামগ্রিকভাবে অন্যদের নিকট প্রামাণ্য হলেও এর বেশির ভাগ ব্যাখ্যা সাপেক্ষ।
৫. মসজিদে অবস্থান করা: জুনুবির জন্য মসজিদে অবস্থান করা নিষেধ। আয়েশা রা. বলেছেন : একদিন রসূল সা. এলেন। তখন তাঁর সাহাবিদের বাড়ি মসজিদমুখী ছিলো। তিনি বললেন: এ সমস্ত বাড়ির দরজা মসজিদ থেকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দাও। এ কথা বলে রসূল সা. (নিজ ঘরে বা মসজিদে) প্রবেশ করলেন। লোকেরা কিছু করলোনা। তারা আশা করছিল, তাদের জন্য কোনো অবকাশ নাযিল হবে। পরক্ষণে রসূল সা. তাদের কাছে বেরিয়ে এলেন এবং বললেন: তোমরা এসব ঘরের দরজা মসজিদ থেকে ঘুরিয়ে দাও। কেননা আমি কোনো ঋতুবতী ও জুনুবির জন্য মসজিদকে বৈধ রাখিনা। -আবু দাউদ।
আর উম্মে সালামা রা. বলেছেন: রসূলুল্লাহ সা. এই মসজিদের চত্বরে প্রবেশ করে ঘোষণা করলেন: মসজিদ জুনুবি ও ঋতুবতীর জন্য হালাল নয়।-ইবনে মাজাহ ও তাবারানি।
উল্লিখিত উভয় হাদিস জুনুবি ও ঋতুবতীর জন্য মসজিদ হালাল নয়- এটিই প্রমাণ করে। তবে মসজিদের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করা জুনুবি ও ঋতুবতী উভয়ের জন্য জায়েয। কেননা আল্লাহ বলেছেন: “হে মুমিনগণ, তোমরা যখন মাতাল থাকো, তখন নামাযের কাছে যেওনা- যতোক্ষণ না তোমরা কী বলছ তা বুঝতে পারো। আর যখন জুনুবি থাক, তখনো নামাযের নিকট যেওনা- যতোক্ষণ না গোসল করো। তবে পথ অতিক্রমকারী হিসেবে হলে দোষ নেই।” (সূরা ৪ নিসা, আয়াত: ৪৩)
জাবির রা. বলেন: আমাদের কেউ কেউ জুনুবি অবস্থায় মসজিদের মধ্যদিয়ে অতিক্রম করতো। -ইবনে আবি শায়বা ও সাঈদ ইবনে মানসুর।
আর যায়দ বিন আসলাম বলেছেন: রসূলুল্লাহ সা. এর সাহাবিগণ জুনুবি অবস্থায় মসজিদের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতেন। (ইবনুল মুনযির)। ইয়াযীদ বিন হাবীব রা. থেকে বর্ণিত: আনসারদের কিছু লোকের বাড়ির দরজা মসজিদমুখী ছিলো। তাদের জানাবত হতো। কিন্তু তারা মসজিদ ছাড়া পানি সংগ্রহ করতেও পানির কাছে যেতে পারতোনা। তাই আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেন: জুনুবি অবস্থায়ও নামাযের নিকট যেওনা, কেবল পথ অতিক্রমকারী হিসেবে ব্যতিত। -ইবনে জারির।
শওকানি এরপর বলেন: এ দ্বারা প্রতিপাদ্য বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। আয়েশা রা. বলেছেন: “রসূলুল্লাহ সা. আমাকে বললেন: মসজিদ থেকে আমাকে রুমালটি এনে দাও। আমি বললাম: আমি ঋতুবতী। তিনি বললেন : তোমার ঋতু তো তোমার হাতে নেই। -বুখারি ব্যতিত সকল হাদিস গ্রন্থ।
মাইমুনা রা. থেকে বর্ণিত: "ঋতুবতী অবস্থায় আমাদের কারো কারো ঘরে বসূল সা. আসতেন। তার কোলে মাথা রেখে কুরআন পড়তেন। অথচ সে ঋতুবতী। তারপর আমাদের কেউ তার রুমাল নিয়ে মসজিদে রেখে আসতো ঋতুবতী অবস্থায়।"-আহমদ ও নাসায়ী। এই বক্তব্য সম্বলিত আরো হাদিস রয়েছে।
📄 মুস্তাহাব গোসল
অর্থাৎ যে গোসলের প্রশংসা করা হয় ও সওয়াব হয়, কিন্তু না করলে কোনো তিরস্কারও করা হয়না, গুনাহও হয়না। এ ধরনের গোসল ছয়টি:
১. জুমার গোসল: যেহেতু জুমার দিন মুসলমানদের ইবাদত ও নামাযের জন্য সমবেত হওয়ার দিন। তাই শরিয়ত প্রণেতা রসূলুল্লাহ সা. এদিন গোসল করার আদেশ দিয়েছেন ও তার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে মুসলমানরা তাদের সমাবেশে উৎকৃষ্টতম পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উপস্থিত হয়। আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্কের উপর জুমার দিন গোসল করা ও সাধ্যমত সুগন্ধি ব্যবহার করা ওয়াজিব। -বুখারি ও মুসলিম। 'ওয়াজিব' অর্থ গুরুত্বপূর্ণ মুস্তাহাব। এর প্রমাণ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত বুখারির এই হাদিস: জুমার দিন উমর ইবনুল খাত্তাব দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। সহসা রসূল সা. এর সাহাবিদের মধ্য থেকে জনৈক প্রবীণ মুহাজির উপস্থিত হলেন। তিনি ছিলেন উসমান। উমর তাকে ডেকে বললেন: এখন কোন্ সময়? তিনি বললেন: আমি কাজে নিয়োজিত ছিলাম। ঘরে ফেরার আগেই আযান শুনতে পেলাম। ফলে অযুর বেশি কিছু করতে পারিনি। উমর বললেন: মাত্র অযু? অথচ আপনি তো জানেন, রসূল সা. গোসল করার আদেশ দিতেন।"
ইমাম শাফেয়ী বলেন: উসমান যখন গোসল না করতে পারায় নামায ছাড়েননি। আর উমরও তাকে গোসল করার জন্য মসজিদ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেননি। তখন প্রমাণিত হলো যে, তারা উভয়ে জানতেন, গোসল ইচ্ছাধীন ব্যাপার। আর গোসল যে মুstahab সেটা প্রমাণিত হয় আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত মুসলিমের এই হাদিস থেকেও। রসূল সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি ভালোভাবে অযু করে জুমার নামাযে আসবে এবং নীরবে শুনবে, এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত এবং আরো তিন দিন পর্যন্ত তার যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
এই হাদিস দ্বারা কিভাবে মুস্তাহাব প্রমাণিত হয়, তার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কুরতবী বলেন: অযু ও তৎসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজের উল্লেখ করে তার সওয়াব বর্ণনা, যা নামাযের বিশুদ্ধতার দাবি জানায়, প্রমাণ করে, অযুই যথেষ্ট। হাফেয ইবনে হাজার তাঁর গ্রন্থ 'তালখীসে' বলেছেন: জুমার গোসল যে ফরয নয় এ হাদিস তার সবচেয়ে বলিষ্ঠ প্রমাণ। যেহেতু গোসল বাদ দেয়ায় কোনো ক্ষতি হয়না, তাই এটিকে মুস্তাহাব বলা হয়েছে। তবে গোসল বাদ দেয়ার কারণে যদি ঘাম ও দুর্গন্ধের দরুন মানুষের কষ্ট হয়, কিংবা অনুরূপ খারাপ কিছু হয়, তাহলে গোসল ওয়াজিব ও তা বাদ দেয়া হারাম হবে। একদল আলেম গোসল বাদ দিলে যদি কারো কষ্ট না-ও হয়, তথাপি জুমার জন্য গোসল ওয়াজিব বলে রায় দিয়েছেন। তারা আবু হুরায়রার নিম্নোক্ত হাদিস দ্বারা প্রমাণ দর্শান, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: প্রত্যেক মুসলমানের জন্য সপ্তাহে একদিন গোসল করা জরুরি। সে যেনো নিজের মাথা ও শরীর ধৌত করে।-বুখারি ও মুসলিম,।
এ বিষয়ে যে সকল হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তারা সেগুলোকে বাহ্যিক অর্থেই (অর্থাৎ ওয়াজিব) গ্রহণ করেন এবং এর বিপরীত অর্থ প্রত্যাখ্যান করেন।
গোসলের সময় ফজর থেকে শুরু করে জুমার নামায পর্যন্ত বিস্তৃত। অবশ্য গোসল করার অব্যবহিত পর নামাযে যাওয়া মুস্তাহাব। আর গোসলের পর অযু ভংগকারী নাপাকি সংঘটিত হলে অযু করাই যথেষ্ট হবে। আছরাম বলেছেন: শুনেছি, ইমাম আহমদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ইমাম যে ব্যক্তি গোসল করেছে, তারপর তার অযু ভংগ হয়েছে, তার কি অযু যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন: হাঁ। এ ব্যাপারে আমি আবদুর রহমান ইবনে আবযার হাদিসের চেয়ে উত্তম কিছু শুনিনি। ইবনে আবযা তার সাহাবি পিতা থেকে বর্ণনা করেন: তিনি জুমার দিন গোসল করতেন। আর গোসলের পর অযু ভংগ হলে শুধু অযু করতেন। পুন: গোসল করতেননা। জুমার নামায শেষ হওয়ার সাথে গোসলের সময় শেষ হয়। কাজেই যে ব্যক্তি জুমার নামাযের পর গোসল করে, তার গোসল জুমার গোসল হবেনা। এই গোসল দ্বারা মুস্তাহাবও আদায় হবেনা। কেননা ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন জুমার নামাযে আসতে চায়, তখন সে যেনো গোসল করে। -সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থ।
ইবনে আবদুল বার বলেছেন, এ ব্যাপারে মুসলমানদের ঐকমত্য হয়েছে।
২. ঈদের গোসল: আলেমগণ ঈদের গোসলকে মুstahab বলেছেন। এ বিষয়ে কোনো সহীহ হাদিস পাওয়া যায়না। বদরে মুনীর গ্রন্থে বলা হয়েছে ঈদের গোসল সংক্রান্ত হাদিস দুর্বল। তবে এ সম্পর্কে সাহাবিদের কিছু ভালো উক্তি রয়েছে।
৩. যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল করিয়েছে তার গোসল বহু আলেমের মতে, যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল করিয়েছে, তার গোসল করা মুstahab। কেননা আবু হুরায়রা বর্ণনা করেন, রসূল সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল করালো, সে যেনো গোসল করে, আর যে তাকে বহন করেছে, সে যেনো অযু করে। -আহমদ ও সুনানের গ্রন্থসমূহ।
তবে ইমামগণ এ হাদিসের সমালোচনা করেছেন। আলী ইবনুল মাদায়েনী, আহমদ, ইবনুল মুনযির ও রাফেয়ী প্রমুখ বলেছেন, হাদিস বিশারদগণ এ বিষয়ে কোনো হাদিসকেই সহীহ আখ্যায়িত করেননি। তবে হাফেয ইবনে হাজার এ হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন: এ হাদিসকে তিরমিযি উত্তম ও ইবনে হিব্বান সহীহ বলেছেন। এটি বহু সংখ্যক সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে কমের পক্ষে উত্তম না হয়েই পারেনা। যাহাবী বলেছেন: ফকীহগণ প্রামাণ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন এমন বহু হাদিসের চেয়ে এ হাদিসের সনদ অধিকতর শক্তিশালী। উক্ত হাদিসে যে আদেশ সূচক ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে, তা দ্বারা মুstahab বুঝানো হয়েছে। কেননা উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমরা মৃত ব্যক্তি গোসল করাতাম। এরপর আমাদের কেউ গোসল করতো, কেউ করতোনা। হাদিসটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেছেন খতীব। আবু বকর সিদ্দিক রা. এর ইন্তিকালের পর তাঁর স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস তাকে গোসল করালেন, তখন গোসলের পর বেরিয়ে এসে সেখানে উপস্থিত মুহাজিরদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন: আজ বড় কঠিন ঠাণ্ডার দিন। আমি রোযাদার। আমার কি গোসল করা জরুরি? তারা বললেন: না।-মালেক।
৪. ইহরামের গোসল: অধিকাংশ আলেমের মতে হজ্জ যা উমরার জন্য ইহরাম করতে সংকল্প করলে গোসল করা মুstahab। কেননা যায়দ ইবনে সাবেত রা. বলেছেন: তিনি রসূল সা.কে দেখেছেন, তিনি তার ইহরামের জন্য পোশাক খুলেছেন ও গোসল করেছেন। -দার কুতনি, বায়হাকি, তিরমিযি। তিরমিযি এ হাদিসকে উত্তম ও উকাইলী দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন।
৫. মক্কায় প্রবেশের সময় গোসল যে ব্যক্তি মক্কা শরিফে প্রবেশ করতে ইচ্ছা করে তার জন্য গোসল করা মুstahab। কেননা ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রসূল সা. যখন মক্কায় যেতেন, তার আগের রাত যি তুয়ায় সকাল পর্যন্ত অবস্থান করতেন, তারপর দিনের বেলা মক্কায় প্রবেশ করতেন। তিনি রসূল সা. থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি গোসল করতেন। -বুখারি ও মুসলিম।
ইবনুল মুনযির বলেছেন: সকল আলেমের মতেই মক্কায় প্রবেশের প্রাক্কালে গোসল করা মুstahab। তবে না করলে কোনো ফিদিয়া দিতে হবেনা। অধিকাংশ আলেম বলেছেন: অযু করাই যথেষ্ট হবে।
৬. আরাফায় অবস্থানের জন্য গোসল: হজ্জের উদ্দেশ্যে আরাফায় অবস্থানে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য গোসল করা মুstahab। কেননা নাফে' থেকে মালেক বর্ণনা করেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. ইহরামের জন্য ইহরামের প্রাক্কালে, মক্কায় প্রবেশের জন্য ও বিকালে আরাফায় অবস্থানের জন্য গোসল করতেন।
অর্থাৎ যে গোসলের প্রশংসা করা হয় ও সওয়াব হয়, কিন্তু না করলে কোনো তিরস্কারও করা হয়না, গুনাহও হয়না। এ ধরনের গোসল ছয়টি:
১. জুমার গোসল: যেহেতু জুমার দিন মুসলমানদের ইবাদত ও নামাযের জন্য সমবেত হওয়ার দিন। তাই শরিয়ত প্রণেতা রসূলুল্লাহ সা. এদিন গোসল করার আদেশ দিয়েছেন ও তার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে মুসলমানরা তাদের সমাবেশে উৎকৃষ্টতম পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উপস্থিত হয়। আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্কের উপর জুমার দিন গোসল করা ও সাধ্যমত সুগন্ধি ব্যবহার করা ওয়াজিব। -বুখারি ও মুসলিম। 'ওয়াজিব' অর্থ গুরুত্বপূর্ণ মুস্তাহাব। এর প্রমাণ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত বুখারির এই হাদিস: জুমার দিন উমর ইবনুল খাত্তাব দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। সহসা রসূল সা. এর সাহাবিদের মধ্য থেকে জনৈক প্রবীণ মুহাজির উপস্থিত হলেন। তিনি ছিলেন উসমান। উমর তাকে ডেকে বললেন: এখন কোন্ সময়? তিনি বললেন: আমি কাজে নিয়োজিত ছিলাম। ঘরে ফেরার আগেই আযান শুনতে পেলাম। ফলে অযুর বেশি কিছু করতে পারিনি। উমর বললেন: মাত্র অযু? অথচ আপনি তো জানেন, রসূল সা. গোসল করার আদেশ দিতেন।"
ইমাম শাফেয়ী বলেন: উসমান যখন গোসল না করতে পারায় নামায ছাড়েননি। আর উমরও তাকে গোসল করার জন্য মসজিদ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেননি। তখন প্রমাণিত হলো যে, তারা উভয়ে জানতেন, গোসল ইচ্ছাধীন ব্যাপার। আর গোসল যে মুstahab সেটা প্রমাণিত হয় আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত মুসলিমের এই হাদিস থেকেও। রসূল সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি ভালোভাবে অযু করে জুমার নামাযে আসবে এবং নীরবে শুনবে, এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত এবং আরো তিন দিন পর্যন্ত তার যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
এই হাদিস দ্বারা কিভাবে মুস্তাহাব প্রমাণিত হয়, তার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কুরতবী বলেন: অযু ও তৎসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজের উল্লেখ করে তার সওয়াব বর্ণনা, যা নামাযের বিশুদ্ধতার দাবি জানায়, প্রমাণ করে, অযুই যথেষ্ট। হাফেয ইবনে হাজার তাঁর গ্রন্থ 'তালখীসে' বলেছেন: জুমার গোসল যে ফরয নয় এ হাদিস তার সবচেয়ে বলিষ্ঠ প্রমাণ। যেহেতু গোসল বাদ দেয়ায় কোনো ক্ষতি হয়না, তাই এটিকে মুস্তাহাব বলা হয়েছে। তবে গোসল বাদ দেয়ার কারণে যদি ঘাম ও দুর্গন্ধের দরুন মানুষের কষ্ট হয়, কিংবা অনুরূপ খারাপ কিছু হয়, তাহলে গোসল ওয়াজিব ও তা বাদ দেয়া হারাম হবে। একদল আলেম গোসল বাদ দিলে যদি কারো কষ্ট না-ও হয়, তথাপি জুমার জন্য গোসল ওয়াজিব বলে রায় দিয়েছেন। তারা আবু হুরায়রার নিম্নোক্ত হাদিস দ্বারা প্রমাণ দর্শান, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: প্রত্যেক মুসলমানের জন্য সপ্তাহে একদিন গোসল করা জরুরি। সে যেনো নিজের মাথা ও শরীর ধৌত করে।-বুখারি ও মুসলিম,।
এ বিষয়ে যে সকল হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তারা সেগুলোকে বাহ্যিক অর্থেই (অর্থাৎ ওয়াজিব) গ্রহণ করেন এবং এর বিপরীত অর্থ প্রত্যাখ্যান করেন।
গোসলের সময় ফজর থেকে শুরু করে জুমার নামায পর্যন্ত বিস্তৃত। অবশ্য গোসল করার অব্যবহিত পর নামাযে যাওয়া মুস্তাহাব। আর গোসলের পর অযু ভংগকারী নাপাকি সংঘটিত হলে অযু করাই যথেষ্ট হবে। আছরাম বলেছেন: শুনেছি, ইমাম আহমদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ইমাম যে ব্যক্তি গোসল করেছে, তারপর তার অযু ভংগ হয়েছে, তার কি অযু যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন: হাঁ। এ ব্যাপারে আমি আবদুর রহমান ইবনে আবযার হাদিসের চেয়ে উত্তম কিছু শুনিনি। ইবনে আবযা তার সাহাবি পিতা থেকে বর্ণনা করেন: তিনি জুমার দিন গোসল করতেন। আর গোসলের পর অযু ভংগ হলে শুধু অযু করতেন। পুন: গোসল করতেননা। জুমার নামায শেষ হওয়ার সাথে গোসলের সময় শেষ হয়। কাজেই যে ব্যক্তি জুমার নামাযের পর গোসল করে, তার গোসল জুমার গোসল হবেনা। এই গোসল দ্বারা মুস্তাহাবও আদায় হবেনা। কেননা ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন জুমার নামাযে আসতে চায়, তখন সে যেনো গোসল করে। -সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থ।
ইবনে আবদুল বার বলেছেন, এ ব্যাপারে মুসলমানদের ঐকমত্য হয়েছে।
২. ঈদের গোসল: আলেমগণ ঈদের গোসলকে মুstahab বলেছেন। এ বিষয়ে কোনো সহীহ হাদিস পাওয়া যায়না। বদরে মুনীর গ্রন্থে বলা হয়েছে ঈদের গোসল সংক্রান্ত হাদিস দুর্বল। তবে এ সম্পর্কে সাহাবিদের কিছু ভালো উক্তি রয়েছে।
৩. যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল করিয়েছে তার গোসল বহু আলেমের মতে, যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল করিয়েছে, তার গোসল করা মুstahab। কেননা আবু হুরায়রা বর্ণনা করেন, রসূল সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল করালো, সে যেনো গোসল করে, আর যে তাকে বহন করেছে, সে যেনো অযু করে। -আহমদ ও সুনানের গ্রন্থসমূহ।
তবে ইমামগণ এ হাদিসের সমালোচনা করেছেন। আলী ইবনুল মাদায়েনী, আহমদ, ইবনুল মুনযির ও রাফেয়ী প্রমুখ বলেছেন, হাদিস বিশারদগণ এ বিষয়ে কোনো হাদিসকেই সহীহ আখ্যায়িত করেননি। তবে হাফেয ইবনে হাজার এ হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন: এ হাদিসকে তিরমিযি উত্তম ও ইবনে হিব্বান সহীহ বলেছেন। এটি বহু সংখ্যক সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে কমের পক্ষে উত্তম না হয়েই পারেনা। যাহাবী বলেছেন: ফকীহগণ প্রামাণ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন এমন বহু হাদিসের চেয়ে এ হাদিসের সনদ অধিকতর শক্তিশালী। উক্ত হাদিসে যে আদেশ সূচক ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে, তা দ্বারা মুstahab বুঝানো হয়েছে। কেননা উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমরা মৃত ব্যক্তি গোসল করাতাম। এরপর আমাদের কেউ গোসল করতো, কেউ করতোনা। হাদিসটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেছেন খতীব। আবু বকর সিদ্দিক রা. এর ইন্তিকালের পর তাঁর স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস তাকে গোসল করালেন, তখন গোসলের পর বেরিয়ে এসে সেখানে উপস্থিত মুহাজিরদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন: আজ বড় কঠিন ঠাণ্ডার দিন। আমি রোযাদার। আমার কি গোসল করা জরুরি? তারা বললেন: না।-মালেক।
৪. ইহরামের গোসল: অধিকাংশ আলেমের মতে হজ্জ যা উমরার জন্য ইহরাম করতে সংকল্প করলে গোসল করা মুstahab। কেননা যায়দ ইবনে সাবেত রা. বলেছেন: তিনি রসূল সা.কে দেখেছেন, তিনি তার ইহরামের জন্য পোশাক খুলেছেন ও গোসল করেছেন। -দার কুতনি, বায়হাকি, তিরমিযি। তিরমিযি এ হাদিসকে উত্তম ও উকাইলী দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন।
৫. মক্কায় প্রবেশের সময় গোসল যে ব্যক্তি মক্কা শরিফে প্রবেশ করতে ইচ্ছা করে তার জন্য গোসল করা মুstahab। কেননা ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রসূল সা. যখন মক্কায় যেতেন, তার আগের রাত যি তুয়ায় সকাল পর্যন্ত অবস্থান করতেন, তারপর দিনের বেলা মক্কায় প্রবেশ করতেন। তিনি রসূল সা. থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি গোসল করতেন। -বুখারি ও মুসলিম।
ইবনুল মুনযির বলেছেন: সকল আলেমের মতেই মক্কায় প্রবেশের প্রাক্কালে গোসল করা মুstahab। তবে না করলে কোনো ফিদিয়া দিতে হবেনা। অধিকাংশ আলেম বলেছেন: অযু করাই যথেষ্ট হবে।
৬. আরাফায় অবস্থানের জন্য গোসল: হজ্জের উদ্দেশ্যে আরাফায় অবস্থানে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য গোসল করা মুstahab। কেননা নাফে' থেকে মালেক বর্ণনা করেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. ইহরামের জন্য ইহরামের প্রাক্কালে, মক্কায় প্রবেশের জন্য ও বিকালে আরাফায় অবস্থানের জন্য গোসল করতেন।
📄 গোসলের আরকান
শরিয়ত নির্দেশিত গোসল দুটো জিনিস ছাড়া সম্পন্ন হয়না: ১. নিয়ত :
এটাই মানুষের স্বাভাবিক ও প্রকৃতিগত কাজকর্ম আর ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। নিয়ত নিছক মনের কাজ। মুখে নিয়ত উচ্চারণ করার যে প্রথা লোকেরা রপ্ত ও চালু করেছে এবং তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তা একটা নতুন আবিষ্কৃত ও শরিয়ত বহির্ভূত কাজ। এই প্রথা বর্জন করা উচিত। ইতিপূর্বে অযু সংক্রান্ত আলোচনায় নিয়তের হাকিকত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করে এসেছি।
২. সকল অংগ প্রত্যংগ ধৌত করা: আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "আর যদি তোমরা জুনুবি হয়ে থাকো তবে উত্তমরূপে পবিত্র হও।” (সূরা ৫, মায়িদা: আয়াত ৬ অংশ বিশেষ)।
আল্লাহ আরো বলেছেন: "তারা তোমাকে মাসিক রক্তস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বলো, ওটা একটা অপবিত্র ও বিব্রতকর অবস্থা। কাজেই রক্তস্রাব চলাকালে তোমরা স্ত্রীদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখো। তারা পবিত্রতা অর্জন না করা পর্যন্ত তাদের কাছে যেওনা।” (সূরা বাকারা: আয়াত ২২২) উভয় আয়াতে পবিত্রতা অর্জনের অর্থ যে গোসল করা, তার প্রমাণ নিম্নোক্ত আয়াতে সুস্পষ্ট: “হে মুমিনগণ, তোমরা মাতাল অবস্থায় নামাযের নিকটবর্তী হয়োনা যতোক্ষণ না তোমরা কী বলছো তা অবগত হও। আর জুনুবি অবস্থায়ও কেবল রাস্তা অতিক্রমের জন্য ব্যতিত নামাযের নিকটবর্তী হয়োনা, যতোক্ষণ না গোসল করো।” (সূরা ৪, নিসা: আয়াত ৪৩) বস্তুত, গোসল অর্থই হলো সকল অংগ প্রত্যংগ ধোয়া।
শরিয়ত নির্দেশিত গোসল দুটো জিনিস ছাড়া সম্পন্ন হয়না: ১. নিয়ত :
এটাই মানুষের স্বাভাবিক ও প্রকৃতিগত কাজকর্ম আর ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। নিয়ত নিছক মনের কাজ। মুখে নিয়ত উচ্চারণ করার যে প্রথা লোকেরা রপ্ত ও চালু করেছে এবং তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তা একটা নতুন আবিষ্কৃত ও শরিয়ত বহির্ভূত কাজ। এই প্রথা বর্জন করা উচিত। ইতিপূর্বে অযু সংক্রান্ত আলোচনায় নিয়তের হাকিকত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করে এসেছি।
২. সকল অংগ প্রত্যংগ ধৌত করা: আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "আর যদি তোমরা জুনুবি হয়ে থাকো তবে উত্তমরূপে পবিত্র হও।” (সূরা ৫, মায়িদা: আয়াত ৬ অংশ বিশেষ)।
আল্লাহ আরো বলেছেন: "তারা তোমাকে মাসিক রক্তস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বলো, ওটা একটা অপবিত্র ও বিব্রতকর অবস্থা। কাজেই রক্তস্রাব চলাকালে তোমরা স্ত্রীদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখো। তারা পবিত্রতা অর্জন না করা পর্যন্ত তাদের কাছে যেওনা।” (সূরা বাকারা: আয়াত ২২২) উভয় আয়াতে পবিত্রতা অর্জনের অর্থ যে গোসল করা, তার প্রমাণ নিম্নোক্ত আয়াতে সুস্পষ্ট: “হে মুমিনগণ, তোমরা মাতাল অবস্থায় নামাযের নিকটবর্তী হয়োনা যতোক্ষণ না তোমরা কী বলছো তা অবগত হও। আর জুনুবি অবস্থায়ও কেবল রাস্তা অতিক্রমের জন্য ব্যতিত নামাযের নিকটবর্তী হয়োনা, যতোক্ষণ না গোসল করো।” (সূরা ৪, নিসা: আয়াত ৪৩) বস্তুত, গোসল অর্থই হলো সকল অংগ প্রত্যংগ ধোয়া।
📄 গোসলের সুন্নতসমূহ
রসূল সা. যেভাবে গোসল করতেন, প্রত্যেক গোসলকারীর সেভাবে গোসল করা সুন্নত। প্রথমে: (১) দু'হাত তিনবার ধৌত করবে, (২) তারপর গুপ্তাংগ ধৌত করবে, (৩) তারপর নামাযের অযুর মতো পূর্ণাংগভাবে অযু করবে। যখন কোনো ক্ষুদ্র পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করা হয়, তখন গোসলের শেষ পর্যায় পর্যন্ত পা ধোয়া বিলম্বিত করতে পারে। (৪) তারপর তিনবার মাথায় পানি ঢালবে, সেই সাথে চুলে আংগুল চালিয়ে চুলের গোড়া পর্যন্ত পানি প্রবেশ করাবে। (৫) তারপর সারা শরীরে পানি ঢালবে, প্রথমে ডান দিকে ও পরে বাম দিকে। সেই সাথে বোগল, কানের ভেতরে, নাভির ভেতরে ও পায়ের আংগুলের মাঝে ও সমগ্র শরীরকে যতোটা পারা যায় কচলাবে। এ সম্পর্কে আয়েশা রা. এর হাদিসে বিস্তারিত বিবরণ এসেছে, তিনি বলেন: “রসূল সা. যখন জানাবত থেকে পবিত্র হবার জন্য গোসল করতেন তখন শুরুতে তাঁর হাত ধুতেন, তারপর নিজের ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢেলে তা দিয়ে নিজের গুপ্তাংগ ধুতেন, তারপর নামাযের অযুর মতো অযু করতেন। তারপর পানি নিয়ে চুলের গোড়ায় আংগুল ঢুকিয়ে পানি পৌছাতেন। যখন নিশ্চিত হতেন চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে গেছে, তারপরও মুঠো ভরে তিনবার মাথায় পানি দিতেন। তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দিতেন।” -বুখারি ও মুসলিম।
বুখারি ও মুসলিমের অপর বর্ণনায় রয়েছে: অতপর নিজের দু'হাত দিয়ে চুলের মধ্যে খিলাল করতেন বা বিলি দিতেন, এভাবে যখন বুঝতেন, মাথার চামড়া পানি দিয়ে সিক্ত করেছেন, তখন মাথার উপর তিনবার পানি ঢেলে দিতেন। বুখারি ও মুসলিমে আয়েশার অপর হাদিসে বলা হয়েছে: রসূল সা. যখন জানাবতের গোসল করতেন, তখন পানি আনাতেন, হাতের তালুতে পানি ঢালতেন, তারপর প্রথমে মাথার ডান পাশে তারপর বাম পাশে পানি দিতেন, তারপর উভয় হাতের তালু মাথার উপর ঘোরাতেন।
মাইমুনা রা. থেকে বর্ণিত: “আমি রসূল সা. এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম, তিনি দুই হাতে পানি ঢাললেন, দু'হাত দু'বার বা তিনবার ধুলেন, তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢাললেন, সেই পানি দিয়ে গুপ্তাংগ ধুলেন, তারপর মাটি দিয়ে হাত কচলালেন, তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তারপর মুখ ও হাত ধুলেন, তারপর তিনবার মাথা ধুলেন, তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢাললেন, তারপর তাঁর দাঁড়ানোর জায়গা থেকে সরে গিয়ে পা ধুলেন। এরপর আমি তাঁকে এক টুকরো কাপড় দিলাম, কিন্তু তিনি তা নিলেননা। (বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন।) বরং হাত দিয়ে পানি ঝাড়তে লাগলেন।” -সব কটি সহীহ হাদিস গ্রন্থ।
রসূল সা. যেভাবে গোসল করতেন, প্রত্যেক গোসলকারীর সেভাবে গোসল করা সুন্নত। প্রথমে: (১) দু'হাত তিনবার ধৌত করবে, (২) তারপর গুপ্তাংগ ধৌত করবে, (৩) তারপর নামাযের অযুর মতো পূর্ণাংগভাবে অযু করবে। যখন কোনো ক্ষুদ্র পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করা হয়, তখন গোসলের শেষ পর্যায় পর্যন্ত পা ধোয়া বিলম্বিত করতে পারে। (৪) তারপর তিনবার মাথায় পানি ঢালবে, সেই সাথে চুলে আংগুল চালিয়ে চুলের গোড়া পর্যন্ত পানি প্রবেশ করাবে। (৫) তারপর সারা শরীরে পানি ঢালবে, প্রথমে ডান দিকে ও পরে বাম দিকে। সেই সাথে বোগল, কানের ভেতরে, নাভির ভেতরে ও পায়ের আংগুলের মাঝে ও সমগ্র শরীরকে যতোটা পারা যায় কচলাবে। এ সম্পর্কে আয়েশা রা. এর হাদিসে বিস্তারিত বিবরণ এসেছে, তিনি বলেন: “রসূল সা. যখন জানাবত থেকে পবিত্র হবার জন্য গোসল করতেন তখন শুরুতে তাঁর হাত ধুতেন, তারপর নিজের ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢেলে তা দিয়ে নিজের গুপ্তাংগ ধুতেন, তারপর নামাযের অযুর মতো অযু করতেন। তারপর পানি নিয়ে চুলের গোড়ায় আংগুল ঢুকিয়ে পানি পৌছাতেন। যখন নিশ্চিত হতেন চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে গেছে, তারপরও মুঠো ভরে তিনবার মাথায় পানি দিতেন। তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দিতেন।” -বুখারি ও মুসলিম।
বুখারি ও মুসলিমের অপর বর্ণনায় রয়েছে: অতপর নিজের দু'হাত দিয়ে চুলের মধ্যে খিলাল করতেন বা বিলি দিতেন, এভাবে যখন বুঝতেন, মাথার চামড়া পানি দিয়ে সিক্ত করেছেন, তখন মাথার উপর তিনবার পানি ঢেলে দিতেন। বুখারি ও মুসলিমে আয়েশার অপর হাদিসে বলা হয়েছে: রসূল সা. যখন জানাবতের গোসল করতেন, তখন পানি আনাতেন, হাতের তালুতে পানি ঢালতেন, তারপর প্রথমে মাথার ডান পাশে তারপর বাম পাশে পানি দিতেন, তারপর উভয় হাতের তালু মাথার উপর ঘোরাতেন।
মাইমুনা রা. থেকে বর্ণিত: “আমি রসূল সা. এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম, তিনি দুই হাতে পানি ঢাললেন, দু'হাত দু'বার বা তিনবার ধুলেন, তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢাললেন, সেই পানি দিয়ে গুপ্তাংগ ধুলেন, তারপর মাটি দিয়ে হাত কচলালেন, তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তারপর মুখ ও হাত ধুলেন, তারপর তিনবার মাথা ধুলেন, তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢাললেন, তারপর তাঁর দাঁড়ানোর জায়গা থেকে সরে গিয়ে পা ধুলেন। এরপর আমি তাঁকে এক টুকরো কাপড় দিলাম, কিন্তু তিনি তা নিলেননা। (বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন।) বরং হাত দিয়ে পানি ঝাড়তে লাগলেন।” -সব কটি সহীহ হাদিস গ্রন্থ।