📄 অযুর মাকরূহসমূহ
উপরোক্ত সুন্নতগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি ত্যাগ করা অযুকারীর জন্য মাকরূহ। এতে সে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। কেননা মাকরূহ কাজ করা সওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর সুন্নত তরক করাই মাকরূহের সমার্থক।
📄 অযু ভংগের কারণসমূহ
যেসকল কারণে অযু নষ্ট হয় এবং যে কাজের উদ্দেশ্যে অযু করা হয়েছে সে কাজ করা অবৈধ হয়ে যায়, সেগুলো নিম্নরূপ:
১. পেশাব ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে যে কোনো জিনিস নির্গত হওয়া, যেমন:
ক. পেশাব, খ. মল।
আল্লাহ বলেন: “অথবা তোমাদের কেউ যদি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে আসে।” এ কথা দ্বারা পেশাব ও পায়খানা দুটোই বুঝানো হয়েছে।
গ. মলদ্বার থেকে নির্গত বায়ু।
আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন নাপাক হয়, তখন অযু না করা পর্যন্ত তার নামায আল্লাহ কবুল করেননা।" হাজরামাউত থেকে আগত এক ব্যক্তি বললো: নাপাক হওয়ার অর্থ কী হে আবু হুরায়রা? তিনি বললেন: 'বায়ু নি:সরণ।' -বুখারি ও মুসলিম।
আবু হুরায়রা রা. থেকে আরো বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন পেটে কিছু অনুভব করে কিন্তু পেট থেকে কিছু বের হয়েছে কিনা বুঝতে পারেনা, তখন সে যেনো কিছুতেই মসজিদ থেকে বের না হয়, যতোক্ষণ না কোনো শব্দ শুনতে পায় অথবা দুর্গন্ধ টের পায়।-মুসলিম।
প্রকৃতপক্ষে শব্দ শোনা বা গন্ধ পাওয়া শর্ত নয়। এ দ্বারা পেট থেকে কিছু নির্গত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়াই বুঝানো হয়েছে।
ঘ. ঙ. চ. মনি (বীর্য), মযি ও ওদি নির্গমন:
রসূলুল্লাহ সা. মযি সম্পর্কে বলেছেন: "এতে অযু করা লাগবে।" আর মনি সম্পর্কে ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন: মনি নির্গত হলে গোসল করতেই হবে। তবে মযি ও ওদি সম্পর্কে তিনি বলেছেন: তোমার গুপ্তাংগ ধুয়ে ফেলো এবং নামাযের জন্য অযু করো।-বায়হাকি।
২. এমন ঘুম যাতে চেতনা থাকেনা এবং যথাস্থানে বসেও থাকতে পারেনা। সাফওয়ান বিন আসমাল রা. বলেছেন: রসূলুল্লাহ সা. আমাদেরকে সফরে থাকা অবস্থায় আদেশ দিতেন যেনো 'জানাবাত' (বৃহত্তর অপবিত্রতা) ব্যতিত মোজা না খুলি তিন দিন তিন রাত পর্যন্ত। তবে পেশাব, পায়খানা ও ঘুমের কারণে খোলা যায়। -আহমদ, নাসায়ী ও তিরমিযি। তাই যখন কেউ বসে বসে ঘুমায় এবং যথাস্থানে বসে থাকতে সক্ষম হয়। তখন তার অযু নষ্ট হবেনা। আনাস রা.-এর এ হাদিসটি থেকেও একই কথা বুঝা যায়। তিনি বলেন: রসূল সা. এর সাহাবিগণ রাতের শেষ ভাগে এশার নামায পড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকতে থাকতে তাদের মাথা
চুলে পড়তো, তারপর অযু না করেই নামায পড়তেন। -শাফেয়ী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি।
শু'বার সূত্রে বর্ণিত হাদিসে তিরমিযির ভাষা এরূপ: আমি রসূলের সাহাবিদেরকে দেখেছি, নামাযের জন্য তাদেরকে জাগানো হতো, এমনকি তাদের কারো কারো নাক ডাকানিও শুনতাম, তারপর তারা উঠে নামায পড়তেন, অযু করতেননা। ইবনুল মুবারক বলেছেন আমাদের মতে তারা তখন বসা অবস্থায় থাকতেন।
৩. সংজ্ঞা লোপ পাওয়া:
চাই এটা মস্তিষ্ক বিকৃতির কারণে ঘটুক, অজ্ঞান হওয়ার কারণে ঘটুক, মাতাল হওয়ার কারণে হোক, কিংবা কোনো ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় ঘটুক, চাই অল্প হোক বা বেশি হোক এবং চাই যথা স্থানে বসে থাকতে পারুক বা না পারুক। কেননা এসব কারণে যে সংজ্ঞাহীনতা ঘটে, তা ঘুমের চেয়ে অনেক বেশি। এর উপর আলেমগণ একমত।
৪. আবরণ ছাড়াই গুপ্তাংগ স্পর্শ করা:
বুস্রা বিনতে সাফওয়ান রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি তার গুপ্তাংগ স্পর্শ করেছে, সে যেন অযু না করা পর্যন্ত নামায না পড়ে। -পাঁচটি সহীহ্ হাদিস গ্রন্থ কর্তৃক বর্ণিত। তিরমিযি এটিকে সহীহ বলেছেন। বুখারি বলেছেন, এটি এ বিষয়ে সবচেয়ে সহীহ হাদিস। মালেক, শাফেয়ী ও আহমদ প্রমুখও এটি বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ বলেছেন: আমি ইমাম আহমদকে বললাম: বুস্ট্রার হাদিসটি সহীহ নয়। তিনি বললেন: অবশ্যই ওটা সহীহ। আহমদ ও নাসায়ীতে বুস্রা থেকে বর্ণিত: তিনি রসূল সা. কে বলতে শুনেছেন: "যৌনাংগ স্পর্শ করলে অযু করতে হবে।" নিজের যৌনাংগ ও অপরের যৌনাংগ উভয়ই এর আওতাভুক্ত। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত: রসূল সা. বলেছেন : যে ব্যক্তি কোনো আবরণ ছাড়াই হাত দিয়ে যৌনাংগ স্পর্শ করলো, তার জন্য অযু করা ওয়াজিব। -আহমদ, ইবনে হিব্বান, হাকেম। হাকেম ও ইবনে আবদুল বার এটিকে সহীহ বলেছেন। ইবনুস্ সাকান বলেছেন: এ অধ্যায়ে এটিই সবচেয়ে সহীহ হাদিস। ইমাম শাফেয়ীর হাদিসের ভাষা হলো: তোমাদের কেউ যখন এমন অবস্থায় যৌনাংগে হাত দেয় যে, হাত ও যৌনাংগের মাঝে কোনো আবরণ নেই, তখন তার অযু করা জরুরি। আমর বিন শুয়াইব তার পিতা থেকে ও তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন: যে কোনো পুরুষ নিজের গুপ্তাংগ স্পর্শ করুক এবং যে কোনো নারী নিজের গুপ্তাংগ স্পর্শ করুক, উভয়কে অযু করতে হবে। -আহমদ। ইবনুল কাইয়িম বলেছেন: হাযেমীর মতে এটি সহীহ্ বর্ণনা। একটি বিশুদ্ধ হাদিসের ভিত্তিতে হানাফীদের মত হলো, গুপ্তাংগ স্পর্শ করলে অযু ভংগ হয়না। হাদিসটি হলো: এক ব্যক্তি রসূল সা. কে জিজ্ঞাসা করলো: "এক ব্যক্তি নিজের পুরুষাংগ স্পর্শ করলো। তার কি অযু করতে হবে? তিনি বললেন: না। ওটা তো তোমারই একটা অংশ।"-পাঁচটি সহীহ হাদিস গ্রন্থ কর্তৃক বর্ণিত। ইবনে হিব্বান এটিকে সহীহ বলেছেন। ইবনুল মদিনী বলেছেন: এটি বুস্রার হাদিসের চেয়ে উত্তম। *
📄 যে সমস্ত কারণে অযু ভংগ হয়না
সেই কারণগুলো উল্লেখ করা সমীচীন মনে হচ্ছে, যেগুলোকে অযু ভংগকারী বলে মনে করা হয়, অথচ সেগুলো অযু ভংগকারী নয়। কেননা সেগুলোর সপক্ষে কোনো নির্ভুল প্রমাণ নেই। সেগুলো নিম্নরূপ:
১. আবরণ ব্যতিত স্ত্রীকে স্পর্শ করা:
আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. রোযাদার অবস্থায় তাকে চুমু খেয়েছেন এবং বলেছেন: চুমু খেলে অযুও ভংগ হয়না, রোযাও ভংগ হয়না। -ইসহাক বিন রাহওয়াই এটি বর্ণনা করেছেন। বাযযার এটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেছেন। আবদুল হক বলেছেন: এ হাদিসের এমন কোনো ত্রুটি জানিনা যার জন্য তা বর্জন করতে হবে।
আয়েশা রা. থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন রাতে দেখলাম, রসূলুল্লাহ সা. বিছানায় নেই। আমি তাকে খুঁজতে লাগলাম। সহসা তার পায়ের মধ্যস্থলে আমার হাত পড়লো। তিনি তখন মসজিদে। তাঁর পা দুটো বিস্তৃত। তিনি বলছিলেন: “হে আল্লাহ আমি তোমার অসন্তোষ থেকে সন্তুষ্টির নিকট পানাহ চাই। তোমার আযাব থেকে তোমার ক্ষমার নিকট পানাহ চাই। তোমার থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই। তোমার প্রশংসা গুণে শেষ করতে পারিনা। তুমি তেমনই, যেমন নিজের প্রশংসা করেছো।" -মুসলিম, তিরমিযি।
আয়েশা রা. থেকে আরো বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. তাঁর জনৈক স্ত্রীকে চুমু খেলেন। তারপর মসজিদে গেলেন। অযু করলেননা। -আহমদ ও চারটি সহীহ হাদিস গ্রন্থ কর্তৃক বিশুদ্ধ সনদ সহকারে বর্ণিত।
আয়েশা রা. থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি রসূল সা. এর সামনে ঘুমিয়ে থাকতাম। তখন আমার পা দুটো তাঁর সামনে থাকতো (অর্থাৎ সাজদার জায়গায়) তাই যখন তিনি সাজদায় যেতেন, আমাকে হাত দিয়ে টিপতেন, আমি তৎক্ষণাত পা গুটিয়ে নিতাম। অন্য বর্ণনার ভাষা হলো: তিনি যখন সাজদা করতে চাইতেন, আমার পায়ে টিপ দিতেন। -বুখারি ও মুসলিম।
২. স্বাভাবিক নির্গমন স্থান ব্যতিত অন্য স্থান থেকে রক্ত নির্গমন, চাই জখমের কারণে হোক, কিংবা শিংগা লাগানোর কারণে হোক, কিংবা নাক দিয়ে রক্ত পড়ুক, আর চাই তা পরিমাণে কম হোক বা বেশি। হাসান রা. বলেছেন: মুসলমানরা নিজেদের ক্ষতস্থান নিয়েই নামায পড়তো। -বুখারি।
বুখারি আরো বলেছেন: ইবনে উমর তার ব্রণ বা ফুসকুড়িতে চাপ দিলেন, অমনি তা থেকে রক্ত বেরুলো। কিন্তু তিনি অযু করলেননা। ইবনে আবি আওফার থুথুর সাথে রক্ত বের হওয়া সত্ত্বেও তিনি নামায অব্যাহত রাখলেন। আর উমর রা. এর ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরছিল এ অবস্থায় তিনি নামায পড়েছেন। আব্বাদ বিন বিশর নামাযরত অবস্থায় তীরবিদ্ধ হলেন এবং তিনি নামায অব্যাহত রাখলেন। -আবু দাউদ, ইবনে খুযায়মা ও বুখারি।
৩. বমি: চাই মুখ ভর্তি বমি হোক বা কম হোক, এ দ্বারা অযু ভংগ হয়- এ মর্মে কোনো প্রামাণ্য হাদিস পাওয়া যায়নি।
৪. উটের গোশত খাওয়া: চার খলিফা ও বহু সংখ্যক সাহাবি ও তাবেয়ীর মতে উটের গোস্ত খেলে অযু ভংগ হয়না। তবে এ জন্য অযু করার আদেশ সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। জাবের বিন সামুরা রা. থেকে বর্ণিত: "এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সা. কে জিজ্ঞাসা করলো, ভেড়া বা ছাগলের গোশত খেয়ে অযু করবো নাকি? তিনি বললেন: ইচ্ছা হলে করো, নচেত করোনা। সে বললো: উটের গোশত খেয়ে অযু করবো কি? তিনি বললেন: হাঁ। উটের গোশত খেয়ে অযু করো। সে বললো: ছাগল ভেড়ার থাকার জায়গায় নামায পড়তে পারবো কি? তিনি বললেন: হাঁ। সে বললো: উটের থাকার জায়গায় নামায পড়া যাবে কি? তিনি বললেন: না।" -আহমদ ও মুসলিম।
বারা ইবনে আযেব থেকে বর্ণিত: রসূল সা. কে জিজ্ঞাসা করা হলো: উটের গোশত খেয়ে কি অযু করতে হবে? তিনি বললেন: অযু করো। জিজ্ঞাসা করা হলো: ছাগল ভেড়ার গোশত খেয়ে? তিনি বললেন: অযু করো না। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: উটের পালের থাকার জায়গায় কি নামায পড়া যাবে? তিনি বললেন: ওখানে নামায পড়োনা। ওটা শয়তানের জায়গা। ছাগল ভেড়ার থাকার জায়গায় নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে বললেন: ওখানে নামায পড়ো। কারণ ওটা বরকতের জায়গা। -আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান। ইবনে খুযায়মা বলেছেন: এই হাদিসের বর্ণনাকারীর সততার কারণে এর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে হাদিস বিশারদদের মধ্যে কোনো মতভেদ দেখিনি। ইমাম নববী বলেছেন: এই মত প্রমাণের দিক দিয়ে অপেক্ষাকৃত সবল- যদিও অধিকাংশ আলেম এ মতের বিপক্ষে।
৫. অযুকারীর অযু হওয়া নিয়ে সন্দেহ: যখন পবিত্র ব্যক্তির সন্দেহ হয় অযু ভংগ হয়েছে কিনা, তখন এই সন্দেহে কোনো ক্ষতি হবে না এবং অযু ভংগ হবেনা, চাই নামাযের ভেতরে থাকুক বা বাইরে। অযু ভংগ হয়েছে মর্মে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অযু ভংগ হবেনা। আব্বাদ বিন তামীম থেকে তার চাচার সূত্রে বর্ণিত: এক ব্যক্তি রসূল সা. কে জানালো যে, নামাযের মধ্যে তার ধারণা জন্মে তার একটা কিছু হয়েছে। (অর্থাৎ অযু ভংগকারী কিছু ঘটেছে।) তিনি বললেন: কোনো শব্দ না শোনা বা গন্ধ না পাওয়া পর্যন্ত নামায ছেড়ে যাবেনা। -তিরমিযি ব্যতিত সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থ।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ তার পেটে (অস্বাভাবিক) কিছু টের পায়। কিন্তু পেট থেকে কিছু বেরিয়েছে কিনা বুঝতে পারেনা, তখন সে যতোক্ষণ কোনো শব্দ না শুনবে কিংবা কোনো গন্ধ না পাবে, ততোক্ষণ যেনো মসজিদ থেকে বের না হয়।-মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি। এখানে নির্দিষ্টভাবে শব্দ শোনা ও গন্ধ পাওয়াই উদ্দেশ্য নয়, বরং নিশ্চিত হওয়া, পেট থেকে কিছু বের হয়েছে কিনা। ইবনুল মুবারক বলেছেন: নাপাক হওয়া সম্পর্কে কেবল সন্দেহ হলে অযু করার প্রয়োজন নেই, যতোক্ষণ না ততোটা নিশ্চিত হয় যে, কসম খেতে পারে। কিন্তু যখন নাপাক হওয়া নিশ্চিত হয় এবং পাক থাকা নিয়ে সন্দেহ হয়, তখন মুসলমানদের সর্বসম্মত মত অনুসারে তাকে অযু করতে হবে।
৬. নামাযে অট্ট হাসিতে অযু ভংগ হবেনা। কেননা এ সংক্রান্ত হাদিস সহীহ নয়।
৭. মৃত ব্যক্তিকে গোসল করালে অযু করা জরুরি নয়, কারণ অযু ভংগ হওয়ার প্রমাণ দুর্বল।
📄 যেসব কাজে অযু জরুরি
এক: যে কোনো নামায পড়ার জন্য, চাই তা ফরয হোক বা নফল হোক। এমনকি জানাযার নামায পড়তে হলেও অযু করা চাই। কেননা আল্লাহ বলেছেন: "হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামায পড়তে ইচ্ছা করবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত দু'হাত ধৌত করো, তোমাদের মাথা মাসেহ করো, আর গিরে পর্যন্ত দু'পা ধৌত করো।" অর্থাৎ তোমরা বে অযু থাকো, তখন নামায পড়তে চাইলে ধৌত করো। আর রসূল সা. বলেছেন: আল্লাহ পবিত্রতা ব্যতিত নামায কবুল করেননা, আর গনিমতের মাল বণ্টন হওয়ার আগে আত্মসাৎ করলে তা থেকে সদকা কবুল করেননা। -বুখারি ব্যতিত সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থ।
দুই: পবিত্র কাবা'র তওয়াফ করার জন্যে। কেননা ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: তওয়াফ নামাযই। কেবল আল্লাহ এর ভেতর কথা বলা জায়েয করেছেন। তবে যে কথা বলবে, সে যেনো ভাল কথা বলে।-তিরমিযি ও দার কুতনি। হাকেম, ইবনে সাকান ও ইবনে খুযায়মা এটিকে সহীহ বলেছেন।
তিন: পবিত্র কুরআন স্পর্শ করা। কেননা আবু বকর বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. ইয়ামানবাসীর নিকট একটা চিঠিতে লিখলেন: পবিত্র ব্যক্তি ব্যতিত কুরআনকে স্পর্শ করবেনা। -নাসায়ী, দার কুতনি, বায়হাকি, আছরাম। ইবনে আবদুল বার বলেছেন: এ হাদিসটি জনগণের ব্যাপক গ্রহণের কারণে মুতাওয়াতিরের কাছাকাছি চলে গেছে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: কুরআনকে পবিত্র ব্যক্তি ব্যতিত স্পর্শ করবেনা। -মাজমাউয যাওয়ায়েদ। বস্তুত এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, পবিত্র অবস্থায় ব্যতিত কুরআন শরিফ স্পর্শ করা জায়েয নয়। তবে 'পবিত্র' শব্দটা একাধিক অর্থবোধক। বৃহৎ নাপাকি (বীর্য স্খলন বা ঋতু উত্তর নাপাকি) থেকে মুক্ত থাকা, ক্ষুদ্র নাপাকি (পেশাব পায়খানা বা বায়ু নির্গমনজনিত নাপাকি) থেকে মুক্ত থাকা, মুমিন ব্যক্তি- যার শরীরে কোনো নাপাকি নেই- এসব ব্যক্তিকে পবিত্র বলা হয়। একটি অর্থ থেকে কোনো একটিকে নির্দিষ্ট করার জন্য কোনো প্রতীক থাকা প্রয়োজন। তাই ক্ষুদ্র নাপাকিতে লিপ্ত ব্যক্তিকে কুরআন স্পর্শ করতে নিষেধ করার জন্য এ হাদিস কোনো অকাট্য প্রমাণ নয়। কুরআনের উক্তি : লা ইয়ামাসসুহু ইল্লাল মুতহ্হারুন (এ গ্রন্থকে পবিত্র লোকেরা ব্যতিত স্পর্শ করেনা।) (সূরা ৫, ওয়াকিয়া: আয়াত ২৯)
স্পষ্টতই এ আয়াতে গোপনে সুরক্ষিত কিতাব 'লওহে মাহফুয'কে বুঝানো হয়েছে। কেননা ওটাই নিকটতর। আর পবিত্র লোকেরা অর্থ ফেরেশতাগণ। যেমন আল্লাহ বলেছেন:
ফি সুহুফিম মুকাররামাহ মারফূ'আতিম মুতহ্হারাতিন বি আইদি সাফারাতিন কিরামিন বারারাহ।
"সম্মানিত গ্রন্থসমূহে রক্ষিত, সুউচ্চ স্থানে উন্নীত পবিত্র, সম্মানিত মহান লেখকগণের হাতে।" (সূরা ৮০, আবাসা: আয়াত ১৩-১৬)
ইবনে আব্বাস শা'বী, দাহাক, যায়েদ বিন আলী, আল-মুয়াইয়াদ বিল্লাহ, দাউদ যাহেরি, ইবনে হাযম ও হাম্মাদ বিন আবু সুলাইমানের মতে ছোট নাপাকিতে লিপ্ত ব্যক্তির জন্য কুরআন স্পর্শ করা জায়েয। আর স্পর্শ না করে কুরআন পড়া সর্বসম্মতভাবে জায়েয।