📄 অযুর মর্যাদা ও গুরুত্ব
অযুর ফযিলত সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এখানে কয়েকটি মাত্র উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করছি:
ক. আবদুল্লাহ আস-সোনাবিজী রা. থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: বান্দা যখন অযু করে তখন কুলি করা মাত্র তার মুখ দিয়ে গুনাহগুলো বের হয়ে যায়। তারপর যখন নাকে পানি দেয় তখন তার নাক দিয়ে গুনাহগুলো বের হয়ে যায়। তারপর যখন সে মুখ ধোয়, তখন গুনাহগুলো তার মুখমণ্ডল থেকে বের হয়ে যায়। এমনকি তা তার চোখের পলকের নিচ থেকেও বের হয়ে যায়। তারপর যখন সে তার দু'হাত ধোয়, তখন গুনাহগুলো তার হাত দিয়ে বের হয়ে যায়। এমনকি তার হাতের নখ দিয়েও বের হয়ে যায়। তারপর যখন সে মাথা মাসেহ করে, তখন গুনাহগুলো তার মাথা থেকে বের হয়ে যায়, এমনকি তার দু'কান থেকেও বের হয়ে যায়। তারপর যখন সে তার পা দু'খানা ধোয়, তখন গুনাহগুলো তার দু'পা দিয়ে বের হয়ে যায়। এমনকি তা তার দু'পায়ের নখের নিচ থেকেও বের হয়ে যায়। তারপর তার মসজিদে গমন ও নামায পড়া একটা অতিরিক্ত কল্যাণময়। (অর্থাৎ অযুর পর তার গুনাহ আর অবশিষ্ট থাকেনা যে, নামায দ্বারা অবশিষ্ট গুনাহ মাফ করার প্রয়োজন হবে।) -মালেক, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, হাকেম।
খ. আনাস রা. থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: মানুষের ভেতরে বিদ্যমান প্রতিটি ভালো গুণ দ্বারা আল্লাহ তার যাবতীয় কাজ সংশোধন করে থাকেন। তবে নামাযের জন্য তার পবিত্রতা অর্জন এমন ভালো গুণ, যার দ্বারা আল্লাহ তার গুনাহ মোচন করেন। এরপর তার নামাযটা তার জন্য অতিরিক্ত হিসেবে সংরক্ষিত থাকে। -আবু ইয়া'লা, বাযযার, তাবারানি।
গ. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: আল্লাহ কিসের দ্বারা গুনাহ মোচন করেন এবং কিসের দ্বারা মর্যাদা বাড়ান- তা কি আমি তোমাদের বলবো? লোকেরা বললো: হে রসূলুল্লাহ, বলুন। তিনি বললেন: কষ্টকর অবস্থার মধ্যদিয়েও ভালোভাবে অযু করা। মসজিদের দিকে বেশি বেশি করে পা ফেলা এবং এক নামাযের পর আরেক নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। এটা হলো রিবাত, এটা হলো রিবাত এটা হলো রিবাত।¹-মালেক, মুসলিম, তিরমিযি, নাসায়ী।
ঘ. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সা. কবরস্থানে এলেন। তারপর বললেন: হে মুমিনদের ঘরে অবস্থানকারী লোকেরা, তোমাদের প্রতি সালাম। আল্লাহ চাহেন তো আমরা
টিকাঃ
১. রিবাত অর্থ আল্লাহর পথে জিহাদ। অর্থাৎ সদাসর্বদা অযু করা ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে ইবাদত করা আল্লাহর পথে জিহাদ করার সমতুল্য।
📄 অযুর ফরযসমূহ
অযুর কিছু ফরয ও রুকন (অপরিহার্য স্তম্ভ) রয়েছে, যেগুলো দ্বারা অযুর মূল কাঠামো তৈরি হয়। এর কোনো একটি ফরয বাদ পড়লে অযু বাস্তবায়িত হয়না এবং শরিয়ত অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য হয়না। সেগুলো হলো:
প্রথম ফরয : নিয়ত
নিয়ত হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ ও তাঁর হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কোনো কাজ সম্পন্ন করার ইচ্ছা, সংকল্প ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ। এটা মনের একটা কাজ। এতে জিহ্বার কোনো ভূমিকা নেই। এ সংকল্পকে মুখে উচ্চারণ করতে হবে- এমন কোনো বিধান শরিয়ত প্রবর্তন করেনি। এর ফরয হওয়ার প্রমাণ উমর রা. এর হাদিস:
ইন্নামাল আমালু বিন নিয়াত (ইন্নামাল আমালু বিন নিয়াত, ইন্নামা লি কুল্লি মরাইন মা নাওয়া
রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "নিয়ত দ্বারাই আমল সম্পন্ন হয়। প্রত্যেক মানুষ যা নিয়ত করবে, তাই পাবে।" -সহীহ বুখারি।
দ্বিতীয় ফরয: একবার মুখ ধোয়া
অর্থাৎ সমগ্র মুখমণ্ডলে পানি প্রবাহিত করা। কেননা ধোয়া বলতে পানি প্রবাহিত করাই বুঝায়। মুখমণ্ডলের সীমা হলো কপালের সর্বোচ্চ অংশ থেকে চোয়ালের সর্বনিম্ন অংশ পর্যন্ত দৈর্ঘ্যে, আর এক কানের লতি থেকে আর এক কানের লতি পর্যন্ত প্রন্থে।
তৃতীয় ফরয : কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধোয়া
হাতের মধ্যস্থলের গ্রন্থিকে কনুই বলা হয়। অযুতে হাতের যেটুকু ধোয়া অপরিহার্য, কনুই তার অন্তর্ভুক্ত। এটা রসূল সা. এর রেখে যাওয়া ঐতিহ্য। তিনি কনুই না ধুয়ে কখনো অযু করেছেন এটা কোথাও বর্ণিত হয়নি।
চতুর্থ ফরয : মাথা মাসেহ করা অর্থাৎ মোছা :
মাসেহ হলো ভিজে হাতে স্পর্শ করার নাম। মাসেহকারী অংগটিকে মাসেহকৃত অংগের সাথে যুক্ত করে নাড়ানো বা চালিত করা ছাড়া মাসেহ কার্যসম্পন্ন হতে পারেনা। তাই হাত বা আংগুলকে মাথা বা অন্য কোথাও রেখে দিলেই তাকে মাসেহ বলা যায়না। আল্লাহ তায়ালার উক্তি: "মাথায় মাসেহ করো" দৃশ্যত: সমগ্র মাথা মাসেহ করার বাধ্যবাধকতা বুঝায়না, বরং এ দ্বারা বুঝায় মাথার অংশ বিশেষ মাসেহ করাই হুকুম পালনের জন্য যথেষ্ট। এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সা. এর কাছ থেকে, তিনটি নিয়ম সংরক্ষিত হয়েছে:
ক. পুরো মাথা মাসেহ করা: আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে- "রসূলুল্লাহ সা. তাঁর উভয় হাত দিয়ে নিজের মাথা মাসেহ করলেন। একবার সামনের দিকে আর একবার পেছনের দিকে টেনে নিলেন। প্রথমে মাথার সম্মুখ ভাগ থেকে শুরু করলেন, অতপর হাত দু'খানা মাথার পেছনের দিকে টেনে নিয়ে গেলেন, অতপর পুনরায় হাত দুখানা সেই জায়গায় ফিরিয়ে আনলেন যেখান থেকে শুরু করেছিলেন। -সব কটি হাদিস গ্রন্থ কর্তৃক বর্ণিত।
খ. শুধুমাত্র পাগড়ির উপর মাসেহ করা: আমর ইবনে উমাইয়া বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সা. কে তাঁর পাগড়ি ও মোজার উপর মাসেহ করতে দেখেছি। -আহমদ, বুখারি ও ইবনে মাজাহ। আর বিলাল বলেন: রসূল সা. বলেছেন: তোমরা মোজার উপর ও মাথার উপর রক্ষিত খিমারের উপর (পাগড়ি বা অন্য কোনো কাপড়) মাসেহ করো।-আহমদ। আর উমর রা. বলেছেন: পাগড়ির উপর মাসেহ যাকে পবিত্র করেনা, আল্লাহ তাকে যেনো পবিত্র না করেন। বুখারি মুসলিম ও অন্যান্য ইমামগণ এ প্রসঙ্গে বহু হাদিস বর্ণনা করেছেন। আলেমদের মধ্যে অনেকে তদনুসারে আমলও করেছেন বলে জানা যায়।
গ. কপালে ও পাগড়ির উপরে মাসেহ করা। মুগিরা ইবনে শু'বা রা. বর্ণিত হাদিসে আছে: "রসূলুল্লাহ সা. অযু করলেন এবং নিজের কপাল, পাগড়ি ও মোজার উপরে মাসেহ করলেন। -মুসলিম।
এটাই রসূল সা. থেকে সংরক্ষিত হয়েছে। মাথার অংশ বিশেষের উপর মাসেহ তাঁর পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নেই- যদিও আয়াতের বাহ্যিক ভাষা সেটাই দাবি করে। ঠিক মাথা বরাবর থেকে, বাইরে ঝুলে থাকা চুলের উপর মাসেহ করা যথেষ্ট হবেনা- যেমন খোপার উপর যথেষ্ট হবেনা।
পঞ্চম ফরয : গিরেসহ পা ধোয়া :
রসূল সা. এর কথা ও কাজ থেকে এটাই প্রমাণিত এবং সকল সাহাবি ও বর্ণনাকারীর মাধ্যমে একথা সংরক্ষিত হয়ে এসেছে।
ইবনে উমর রা. বলেছেন: রসূলুল্লাহ সা. একবার এক সফরে আমাদের থেকে পেছনে পড়ে গেলেন। একটু পরে যখন আমাদের কাছে এসে পৌছুলেন, তখন আসরের ওয়াক্ত বিলম্বিত হয়ে গেছে। তাই আমরা অযু করতে লাগলাম এবং আমাদের পায়ে মাসেহ করতে লাগলাম। তখন রসূল সা. সুউচ্চ কণ্ঠে দু'বার বা তিনবার বললেন: “খবরদার, গিরেগুলোকে আগুন থেকে বাঁচাও।" -বুখারি ও মুসলিম।
আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা বলেছেন: রসূল সা. এর সাহাবিগণ পায়ের গিরে দুটো ধোয়া জরুরি- এ মর্মে একমত হয়েছেন। উপরোক্ত ফরযগুলো সূরা মায়েদার ৬ নং আয়াতে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষিত হয়েছে। আয়াতটি উপরে উল্লেখ হয়েছে।
৬ষ্ঠ ফরয: ধারাবাহিকতা:
আল্লাহ তায়ালা অযুর ফরযগুলোকে উক্ত আয়াতে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছেন। লক্ষণীয় যে, হাত ও পায়ের ব্যাপারে ফরয হলো ধোয়া। অথচ এ দুটোর মাঝখানে মাথার উল্লেখ করেছেন, যার ব্যাপারে ফরয হলো মাসেহ করা। আরবদের রীতি হলো, কোনো প্রয়োজন বা সার্থকতা ছাড়া তারা একই ধরনের দুটো জিনিসের মাঝখানে তৃতীয় জিনিসের উল্লেখ করেনা। এখানে এই সার্থকতা ধারাবাহিকতা ছাড়া আর কিছু নয়। আয়াতের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো জরুরি করণীয় কাজ বর্ণনা করা। আর যেহেতু সহীহ হাদিসে রসূলুল্লাহ সা. সাধারণভাবে বলেছেন: "আল্লাহ যেভাবে শুরু করেছেন তোমরা সেভাবে শুরু করো।" অযুর ফরযগুলোর মধ্যে এই বাস্তব ধারাবাহিকতাই ক্রমাগতভাবে চলে আসছে। রসূল সা. এই ধারাবাহিকতা ছাড়া অযু করেছেন- এমন কথা কেউ কখনো বলেনি। অযু হলো একটা ইবাদত। আর প্রত্যেক ইবাদতেরই গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে দ্বিধাহীন চিত্তে তার আনুগত্যের উপর।
📄 অযুর সুন্নতসমূহ
সুন্নত হলো যে সমস্ত কাজ, কথা ও রীতি রসূল সা. থেকে সঠিক বলে বিশ্বস্ত সূত্রে প্রমাণিত এবং যেগুলো বাধ্যতামূলকও নয় আর যে ব্যক্তি এগুলো বর্জন করে তার প্রতি কোনো অসন্তোষও প্রকাশ করা হয়নি। এসব সুন্নতের বিবরণ নিম্নরূপ:
১. শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা:
অযুর জন্য বিমসিল্লাহ বলার পক্ষে কিছু দুর্বল হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তবে সেগুলো একত্রিত হয়ে তাতে যথেষ্ট শক্তি বৃদ্ধি করে এবং প্রমাণ করে যে, এগুলোর একটা ভিত্তি আছে। তাছাড়া এটা মূলত একটা ভালো কাজ এবং সামগ্রিক বিবেচনায় এটা শরিয়ত সম্মত কাজ।
২. মেসওয়াক করা:
এ দ্বারা যে গাছের ডাল দিয়ে সচরাচর দাঁত পরিষ্কার করা হয়, তা ব্যবহারপূর্বক দাঁত পরিষ্কার করাও বুঝায়, আবার শুধু উক্ত গাছের ডাল বা অনুরূপ এমন যে কোনো শক্ত জিনিস দ্বারা দাঁত মাজাকেও বুঝায়, যা দ্বারা দাঁত পরিষ্কার করা হয়। সবচেয়ে ভালো মেসওয়াক হলো হেজায থেকে আমদানি করা, 'আরাক' গাছের ডাল। কেননা এটা দাঁতের গোঁড়া শক্ত করে, দাঁতের রোগ প্রতিরোধ করে, হযম শক্তি বাড়ায় ও পেশাবের বাধা দূর করে। অবশ্য ব্রাশ জাতীয় এমন যে কোনো জিনিস দ্বারাও সুন্নত আদায় হয়ে যায়, যা দাঁতের হলুদ রং দূর করে এবং মুখকে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন করে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: আমার উম্মতের অত্যধিক কষ্ট হবে- এ আশংকা যদি আমি বোধ না করতাম, তাহলে তাদেরকে প্রত্যেক অযুতে মেসওয়াক করার আদেশ দিতাম। -মালেক, শাফেয়ী, বায়হাকি, হাকেম।
আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: মেসওয়াক করলে মুখ পবিত্র হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। -আহমদ, নাসায়ী, তিরমিযি।
বস্তুত মেসওয়াক করা সব সময়ই মুস্তাহাব। কিন্তু পাঁচটি সময়ে অধিকতর মুস্তাহাব:
১. অযুর সময়
২. নামাযের পূর্বে
৩. কুরআন তেলাওয়াতের পূর্বে
৪. ঘুম থেকে জেগে উঠে
৫. মুখের অবস্থার পরিবর্তন হলে।
কেউ রোযাদার হোক বা অ-রোযাদার হোক, দিনের প্রথম ভাগে বা শেষ ভাগে সমভাবে মেসওয়াক করতে পারে। কেননা আমের ইবনে রবীয়া রা. বলেছেন: "আমি রসূল সা. কে অগণিত বার রোযাদার অবস্থায় মেসওয়াক করতে দেখেছি।" -আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযি।
আর পরিচ্ছন্নতার খাতিরে প্রতিবার মেসওয়াক ব্যবহারের পর তা ধুয়ে ফেলা সুন্নত। কেননা আয়েশা রা. বলেছেন: "রসূল সা. মেসওয়াক করতেন। আর মেসওয়াক করার পর আমাকে মেসওয়াকটি দিতেন যেনো আমি তা ধুয়ে রাখি। অতপর আমি তা দিয়ে আবার মেসওয়াক করে আবার ধুয়ে রাখতাম এবং তা তাঁকে দিতাম।"-আবু দাউদ, বায়হাকি।
যার দাঁত নেই, তার জন্য শুধু আংগুল দিয়ে দাঁত মেজে ফেলা সুন্নত। কেননা আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, "তিনি বললেন: হে রসূলুল্লাহ, যার দাঁত পড়ে গেছে, সেও কি মেসওয়াক করবে? তিনি বললেন: হাঁ। আমি বললাম কিভাবে করবে? তিনি বললেন: নিজের আংগুল মুখে ঢুকিয়ে। -তাবারানি।
৩. অযুর শুরুতে তিনবার হাতের তালু ধোয়া:
আওস বিন আওস সাকাফী বলেছেন: আমি দেখেছি, রসূলুল্লাহ সা. অযু করলেন এবং তিনবার হাতের তালু ধুলেন। -আহমদ, নাসায়ী।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, তখন তার হাত তিনবার না ধুয়ে যেনো পানির পাত্রে না ডুবায়, কারণ সে জানেনা তার হাত রাত্রে কোথায় ছিলো।" -সব কটি হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত। তবে বুখারি হাত ধোয়ার সংখ্যা উল্লেখ করেনি।
৪. তিনবার কুলি করা:
লাকীত বিন সাবেরা রা. বলেন: "রসূল সা. বলেছেন, তুমি যখন অযু করবে, তখন কুলি করো।" -আবু দাউদ, বায়হাকি।
৫. নাকে পানি দেয়া ও নাক সাফ করা:
আবু হুরায়রা রা. এর বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "তোমাদের কেউ যখন অযু করে, তখন সে যেনো তার নাকে পানি দেয়, অতপর নাক পরিষ্কার করে।"-বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ।
সুন্নত হলো, নাকে ডান হাত দিয়ে পানি দেবে এবং বাম হাত দিয়ে নাক পরিষ্কার করবে। আলী রা. এর হাদিসে রয়েছে: "তিনি (আলী) অযুর পানি আনতে বললেন, অতপর কুলি করলেন, তারপর নাকে পানি দিলেন ও বাম হাত দিয়ে নাক সাফ করলেন। এ রকম তিনবার করলেন। তারপর বললেন: এ হচ্ছে আল্লাহর নবী সা. এর পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতি। -আহমদ, নাসায়ী।
আর যখন কোনোভাবে নাক ও মুখ পর্যন্ত পানি পৌঁছে যাবে, তখন কুলি ও নাকে পানি দেয়ার কাজ আপনা থেকেই সম্পন্ন হয়ে উভয় সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। তবে রসূল সা. থেকে বিশুদ্ধভাবে এটাই প্রমাণিত যে, তিনি এ কাজ দু'টি সংযুক্তভাবে (অর্থাৎ কুলির অব্যবহিত পর নাকে পানি দেয়া) সম্পন্ন করতো। যেমন আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণিত: "রসূল সা. তিন মুষ্টি পানি দিয়ে কুলি করতেন ও নাকে পানি দিতেন।" -বুখারি, মুসলিম।
যে রোযাদার নয়, তার জন্য সুন্নত হলো খুব ভালো করে কুলি করা ও নাকে পানি দেয়া। লাকীত রা. বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ, আমাকে অযুর নিয়ম শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন: ভালোভাবে অযু করো, আংগুলের মাঝে খিলাল করো (অর্থাৎ পানি পৌছাও) এবং খুব ভালোভাবে নাকে পানি দাও। তবে রোযাদার হলে তা করোনা।-পাঁচটি সহীহ হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত। তিরমিযি এটিকে সহীহ বলেছে।
৬. দাড়ি খিলাল করা:
উসমান রা. বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: রসূলুল্লাহ সা. দাড়ি খিলাল করতেন। -ইবনে মাজাহ, তিরমিযি।
আর আনাস রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. যখন অযু করতেন, তখন এক অঞ্জলি পানি নিয়ে তার তাঁর চোয়ালে ঢুকিয়ে দিতেন এবং তা দিয়ে খিলাল করতেন। আর বলতেন: আমার প্রতিপালক এভাবেই আমাকে আদেশ দিয়েছেন। -আবু দাউদ, বায়হাকি, হাকেম।
৭. আংগুলের মধ্যে খিলাল করা:
ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যখন তুমি অযু করবে, তখন তোমার দু'হাত ও দু'পায়ের আংগুলের মাঝখানে খিলাল করবে। (আংগুল ঢুকিয়ে মর্দনপূর্বক ধুয়ে ফেলা) -আহমদ, তিরমিযি, ইবনে মাজাহ।
মুসতাওরিদ বিন শাদ্দাদ রা. থেকে বর্ণিত: আমি রসূল সা. কে তাঁর কনিষ্ঠ আংগুল দিয়ে দু'পায়ের আংগুলগুলোকে খিলাল করতে দেখেছি। -আহমদ ব্যতিত পাঁচটি সহীহ হাদিস গ্রন্থ বর্ণিত। কিছু কিছু হাদিস থেকে আংটি, চুড়ি, কঙ্কন ইত্যাদি নাড়ানো মুstাহাব বলে জানা যায়। তবে সে হাদিসগুলো সহীহ নয়। তথাপি উত্তমরূপে অযু করার আদেশের আওতায় পড়ে বিধায় সেই হাদিসগুলোর উপর আমল করা ভালো।
৮. তিনবার করে ধোয়া
এটা সেই সুন্নত, যা ব্যাপকভাবে অনুসৃত হয়ে আসছে। এর বিপরীত যেসব হাদিস আছে, তা শুধু বৈধতা প্রমাণ করার উদ্দেশ্যেই বর্ণিত হয়েছে। যেমন আমার বিন
শুয়াইবের দাদা বলেছেন: জনৈক বেদুঈন রসূল সা. এর কাছে এলো এবং অযুর নিয়ম জিজ্ঞাসা করলো। রসূল সা. তাকে তিনবার করে দেখালেন এবং বললেন: এ হচ্ছে অযু। যে ব্যক্তি এর চেয়ে বেশি করবে, সে অন্যায় করবে, বাড়াবাড়ি করবে ও যুলুম করবে। -আহমদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ।
আর উসমান রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. তিনবার তিনবার করে অযু সম্পন্ন করেছেন। -আহমদ, মুসলিম, তিরমিযি।
সহীহ হাদিস থেকে এও প্রমাণিত, তিনি একবার একবার করে ও দু'বার দু'বার করে অযু সম্পন্ন করেছেন। তবে মাথা মাসেহ একবারই করেছেন। এটাই অধিক বর্ণিত।
৯. ডান দিক থেকে শুরু করা:
অর্থাৎ দু'হাত ও দু'পা ধোয়ার সময় বাম হাত ও বাম পার আগে ডান হাত ও ডান পা ধোয়ার মাধ্যমে শুরু করা। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. জুতা পরা, চুল আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জন ও সকল কাজ ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন। -বুখারি ও মুসলিম।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যখন তোমরা অযু করবে ও পোশাক পরবে, তখন ডান দিক থেকে শুরু করবে। -আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী।
১০. মর্দন:
কোনো অংগের উপর পানি দিয়ে বা পানি ব্যবহারের পর হাত চালানো। আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত: রসূল সা. এর নিকট এক মুদের এক তৃতীয়াংশ পানি আনা হলো। তিনি অযু করলেন, অতপর তার বাহু দুটি মর্দন করতে লাগলেন। -ইবনে খুযায়মা।
আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ থেকে অপর এক রেওয়ায়েত এরূপ: রসূল সা. অযু করলেন, তারপর বলতে লাগলেন: এভাবে মর্দন করতে হয়। -আবু দাউদ, তায়ালিসী, আহমদ, ইবনে হিব্বান, আবু ইয়ালা।
১১. বিরতিহীন প্রক্রিয়া:
অর্থাৎ একটা অংগ ধৌত করার পর বিরতিহীনভাবে অপর অংগ ধৌত করা, যেনো অযুকারী অযুর মাঝখানে অন্য এমন কোনো কাজ করে অযু বন্ধ করে না দেয়, যার দরুন সে অযু বর্জন করেছে বলে মনে করা হয়। অযু করার এরূপ বিরতিহীন প্রক্রিয়াই ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকে চালু রয়েছে এবং মুসলমানগণ এই নিয়মই অনুসরণ করে আসছেন।
১২. দু'কান মাসেহ করা:
সুন্নত হলো তর্জনী আংগুল দিয়ে কানের ভেতরে ও বুড়ো আংগুল দিয়ে কানের বাইরে মাথা মাসেহ করার অবশিষ্ট পানি দিয়ে মাসেহ করা। কেননা কান মাথারই অংশ। মিকদাম ইবনে মাদীকারাব রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. অযুর সময় তাঁর মাথা ও উভয় কানের ভেতর ও বাহির মাসেহ করলেন এবং তার দু' আংগুলকে তার কানের গহ্বরে প্রবেশ করালেন। -আবু দাউদ ও তাহাবি।
ইবনে আব্বাস রা. রসূল সা. এর অযুর বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছেন: তিনি তার মাথা ও দু'কান এক সাথেই মাসেহ করলেন। -আহমদ ও আবু দাউদ।
অন্য রেওয়ায়েতে রয়েছে: তিনি তার মাথা ও কানের অভ্যন্তরে উভয় তর্জনী দিয়ে এবং উভয় কানের বাইরে বুড়ো আংগুল দিয়ে মাসেহ করলেন।
১৩. ললাটের ও হাত পায়ের শুভ্রতা দীর্ঘায়িত করা:
ললাটের শুভ্রতা দীর্ঘতর করার উপায় হলো মাথার সামনের এমন একটা অংশ ধৌত করা, যা মুখমণ্ডল ধৌত করার ফরয অংশের অতিরিক্ত। আর হাত-পায়ের শুভ্রতা দীর্ঘতর করার পন্থা হলো কনুই ও পায়ের গিরের উপর খানিকটা অংশ ধৌত করা। কেননা আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত হাদিসে আছে: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: আমার উম্মত কেয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে, তাদের মুখমণ্ডল ও হাত পা অযুর আলামত হিসেবে উজ্জ্বল শুভ্র থাকবে।¹ আবু হুরায়রা বলেছেন: সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার শুভ্রতা দীর্ঘতর করতে পারে সে যেনো তা করে। -আহমদ, বুখারি ও মুসলিম। আবু যারআ' থেকে বর্ণিত: "আবু হুরায়রা অযুর পানি আনতে আদেশ দিলেন, অতপর অযু করলেন এবং হাত এমনভাবে ধুলেন যে, কনুই ছাড়িয়ে গেলো। তারপর যখন পা ধুলেন, তখন পায়ের গিরে ছাড়িয়ে থোড়া পর্যন্ত ধুলেন। আমি বললাম এটা কী? তিনি বললেন: এটা হচ্ছে শুভ্রতার শেষ সীমা। -আহমদ।
১৪. যথাসাধ্য কম পানি ব্যবহার করা উচিত- যদিও সমুদ্র থেকে কোষ ভরে পানি নেয়া হয়:
কারণ আনাস রা. বর্ণিত হাদিসে আছে: "রসূলুল্লাহ সা. এক 'সা'' থেকে পাঁচ 'মুদ' পর্যন্ত পানি দিয়ে গোসল করতেন এবং এক 'মুদ' দিয়ে অযু করতেন।" -বুখারি ও মুসলিম। আর উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত: "এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস রা. কে বললো: কতোটুকু পানি আমার অযুর জন্য যথেষ্ট? তিনি বললেন: এক মুদ। সে বললো: গোসলের জন্য কতোটুকু পানি যথেষ্ট? তিনি বললেন: এক সা। লোকটি বললো: এটা আমার জন্য যথেষ্ট হবেনা। ইবনে আব্বাস বললেন: তোমার কোনো মা নেই! (মৃদু ভর্ৎসনামূলক প্রবাদ বাক্য) তোমার চেয়ে যিনি উত্তম সেই রসূল সা.-এর জন্যও এটা যথেষ্ট হয়েছিল।" -আহমদ, বাযযার, তাবারানি।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. সা'দের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সা'দ তখন অযু করছিলেন। তিনি বললেন: এই অপচয়ের কারণ কী হে সা'দ? সা'দ বললেন: পানিতেও অপচয় হয় নাকি? রসূলুল্লাহ সা. বললেন: হাঁ, প্রবহমান নদীতেও যদি অযু করো তাহলেও (অপচয় হতে পারে।) -আহমদ, ইবনে মাজাহ।
শরিয়ত সম্মত প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করলেই তা অপচয় গণ্য হবে, যেমন তিনবারের বেশি ধোয়া।
আমর বিন শুয়াইব বর্ণিত হাদিসে আছে: জনৈক বেদুঈন রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট এলো এবং তাঁকে অযুর নিয়ম জিজ্ঞাসা করলো। তিনি তাকে তিনবার করে ধোয়া দেখালেন। তারপর বললেন: এ হলো অযু। যে ব্যক্তি এরচেয়ে বেশি করবে সে অন্যায় করবে, বাড়াবাড়ি করবে ও যুলুম করবে। -আহমদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুযায়মা।
আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রা. বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি এই উম্মতে অচিরেই এমন কিছু লোক আবির্ভূত হবে, যারা পবিত্রতা ও দোয়ায় বাড়াবাড়ি করবে। -আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ। ইমাম বুখারি বলেছেন: অযুর পানিতে রসূল সা. এর কাজ দ্বারা সাব্যস্ত পরিমাণ অতিক্রম করাকে আলেমগণ অপছন্দ করেছেন।
১৫. অযুর মাঝে দোয়া:
একমাত্র আবু মূসা আশআরী রা. বর্ণিত হাদিস ব্যতিত রসূল সা. থেকে অযুর আর কোনো দোয়া প্রমাণিত হয়নি। আবু মূসা রা. বলেন: রসূল সা. কে অযুর পানি এনে দিলাম। তিনি অযু করলেন। তখন শুনলাম, তিনি দোয়া করছেন:
"হে আল্লাহ, আমার গুনাহ মাফ করে দাও, আমার গৃহে প্রশস্ততা দাও এবং আমার জীবিকায় বরকত দাও।" আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী! আমি আপনাকে এই শব্দাবলী দ্বারা দোয়া করতে শুনলাম। তিনি বললেন: এই শব্দাবলী কি কিছু বাদ রেখেছে? -নাসায়ী ও ইবনুস সুন্নি সহীহ সনদে। তবে নাসায়ী এ হাদিসের শিরোনাম দিয়েছেন এভাবে: "অযুর শেষে যা বলতে হবে"। আর ইবনুস্ সুন্নির শিরোনাম হলো: "অযুর ভেতরে যা বলতে হয়।" নববী বলেছেন: উভয় শিরোনামই যথার্থ হতে পারে।
১৬. অযুর পরের দোয়া:
উমর রা. বলেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে কেউ উত্তমরূপে অযু করার পর বলবে: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোনো শরিক নেই, আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সা. তার বান্দা ও রসূল।" তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে। তন্মধ্যে সে যেটি দিয়ে প্রবেশ করতে চায় করবে। -মুসলিম।
আবু সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি অযু করার পর বলবে:
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আস্তাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইকা।
"হে আল্লাহ, তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং তোমার প্রশংসা করছি। সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি ব্যতিত কোনো ইলাহ নেই। তোমার কাছে ক্ষমা চাই ও তওবা করি।" তার এই দোয়া প্রথমে একটি সাদা কাগজের ফলকে লেখা হবে, তারপর একটি সিলমোহরে সংরক্ষিত করা করা হবে। তারপর আর কেয়ামত পর্যন্ত তা ভাংবেনা। -তাবারানি, নাসায়ী। নাসায়ীর রেওয়ায়েতের শেষে বলা হয়েছে: "তার উপর সিল মেরে আরশের নিচে রাখা হবে। অতপর কেয়ামত পর্যন্ত তা আর ভাংবেনা।"
তিরমিযিতে কিঞ্চিৎ দুর্বল সনদে এই দোয়াটিও বর্ণিত হয়েছে: “হে আল্লাহ, আমাকে তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করো ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করো।"
১৭. অযুর পরে দু'রাকাত নামায পড়া:
আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বিলালকে বললেন: হে বিলাল, তুমি ইসলাম গ্রহণের পর সবচেয়ে বেশি আশাপ্রদ যে নেক কাজটি করেছো, তা আমাকে বলো। আমি জান্নাতে আমার সামনে তোমার জুতার আওয়াজ শুনেছি। তিনি বললেন: আমি দিনে বা রাতে যখনই পবিত্রতা অর্জনের কোনো কাজ করেছি, তখন সেই পবিত্রতা নিয়ে যতোটা আমার ভাগ্যে জুটেছে নামায পড়েছি। এরচেয়ে বেশি আশাপ্রদ কোনো নেক কাজ করিনি। -বুখারি, মুসলিম।
উকবা ইবনে আমের থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু করার পর একান্ত মনোযোগ সহকারে দু'রাকাত নামায পড়বে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। -মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও ইবনে খুযায়মা।
উসমান রা. এর স্বাধীনকৃত গোলাম খুমরান থেকে বর্ণিত: তিনি উসমান রা. কে দেখলেন অযুর পানি আনতে বললেন। তারপর পাত্র থেকে কিছু পানি নিজের ডান হাতে ঢেলে হাতটি তিনবার ধুলেন, তারপর তার ডান হাত অযুর পানিতে ঢুকালেন, তারপর তিনবার কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, নাক সাফ করলেন ও মুখ ধুলেন। তারপর বললেন: আমি রসূল সা. কে আমার এই অযুর মতো অযু করতে দেখেছি। যে ব্যক্তি আমার এই অযুর মতো অযু করবে, তারপর দু'রাকাত নামায পড়বে, এই সময়ে নিজের মনে মনে কোনো কথা বলবেনা। তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। -বুখারি, মুসলিম ইত্যাদি।
এছাড়া চোখের পাতা ও মুখমণ্ডলের ভাজ মর্দন, আংটি নাড়ানো, ঘাড় মাসেহ করা, এসবের উল্লেখ করলামনা। কারণ এ সংক্রান্ত হাদিসগুলো সহীহর পর্যায়ভুক্ত নয়। তবে পরিচ্ছন্নতাকে পূর্ণতা দান করার উদ্দেশ্যে এ কাজগুলো করা হয়ে থাকে।
📄 অযুর মাকরূহসমূহ
উপরোক্ত সুন্নতগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি ত্যাগ করা অযুকারীর জন্য মাকরূহ। এতে সে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। কেননা মাকরূহ কাজ করা সওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর সুন্নত তরক করাই মাকরূহের সমার্থক।