📄 আয়না ইত্যাদি পবিত্রকরণ
আয়না, ছুরি-চাকু, তলোয়ার, নখ, হাড়, কাঁচ, তৈলাক্ত পাত্র এবং শান দেয়ার এমন ধাতব উপকরণ, যাতে কোনো অতিক্রমণের সূক্ষ্ম পথ নেই- এসব জিনিস থেকে নাপাকি মুছে ফেললেই তা পাক হয়ে যায়। সাহাবিগণ তাদের রক্তমাখা তরবারি বহন করে নামায পড়তেন। তারা রক্ত মুছে ফেলতেন এবং তাকেই যথেষ্ট মনে করতেন।
📄 জুতা পবিত্রকরণ
নাপাকিযুক্ত জুতা ও মোজা ভূমির সাথে ঢলে মুছে ফেলার পর নাপাকির চিহ্ন দূর হলেই পাক হয়ে যায়। কারণ আবু হুরায়রা রা. বলেন, রসূল (স.) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন তার জুতা দিয়ে কোনো নাপাকি জিনিস মাড়ায়, তখন মাটি তাকে পবিত্র করে।-আবু দাউদ। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: যখন কেউ তার মোজা দিয়ে নাপাক জিনিস মাড়ায়, তখন মাটি দিয়ে সেই মোজা পবিত্র করা যায়। আর আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসে, তখন সে যেনো তার জুতো উল্টিয়ে দেখে নেয়। তাতে যদি কোনো নাপাকি দেখতে পায়, তবে তা যেনো ভূমির সাথে রগড়িয়ে মুছে ফেলে। তারপর তা নিয়ে নামায পড়ে। -আহমদ, আবু দাউদ।
মাটি দিয়ে মুছে ফেলা জুতো পবিত্র হওয়ার আর একটি কারণ এই যে, এটা এমন একটা জায়গা, যার সাথে বারবার প্রায় নাপাকি লেগে থাকে। তাই তাকে জমাট পদার্থ দিয়ে মোছাই যথেষ্ট। যেমন- পেশাব, পায়খানা কুলুখ দিয়ে মুছে ফেলার জায়গাটি। অর্থাৎ মলমূত্র ত্যাগের স্থান। এখান দিয়ে মাত্র দু'বার বা তিনবার নাপাকি নির্গত হয় ও নাপাকি লাগে। অথচ সেটা কুলুখ দিয়ে মোছাতেই পাক হয়ে যায়। জুতোয় তো তার চেয়েও বেশিবার নাপাকি লাগে। সুতরাং জুতো পাক হওয়া আরো বেশি যুক্তি সংগত।
📄 কয়েকটি প্রয়োজনীয় তথ্য
১. যে রশিতে ধোয়া কাপড় নাড়া হয়, তাতে নাপাক কাপড়ও নাড়া হয়। তারপর রোদে বা বাতাসে ঐ রশি শুকিয়ে যায়। তারপর ঐ রশিতে পাক কাপড় নাড়লে ক্ষতি নেই।
২. কোনো ব্যক্তির উপর কোনো তরল পদার্থ পড়লো। কিন্তু ওটা পানি না পেশাব তা সে জানেনা। এমতাবস্থায় তার জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই। আর জিজ্ঞাসা করলে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির জবাব দেয়া জরুরি নয়, যদিও সে জানে ওটা নাপাক পদার্থ। এমতাবস্থায় তার ওটা ধোয়ার দরকার নেই।
৩. রাতের বেলা কারো পায়ে বা কাপড়ে কোনো ভিজে জিনিস লাগলো। সে জানেনা জিনিসটা কী? এমতাবস্থায় ঘ্রাণ শুঁকে জিনিসটার পরিচয় লাভ করা নিষ্প্রয়োজন। কারণ বর্ণিত আছে, একদিন উমর রা. কোথাও যাচ্ছিলেন। সহসা তার গায়ে ছাদের পাইপ থেকে কি যেনো পড়লো। উমর রা.-এর সাথে একজন সংগি ছিলো। সে জিজ্ঞাসা করলো ওহে পাইপওয়ালা! আপনার পানি পাক না নাপাক? উমর রা. বললেন: হে পাইপওয়ালা! আপনি আমাদেরকে এটা জানাবেননা? তারপর তিনি চলে গেলেন।
৪. রাস্তার কাদা লাগলে তা ধোয়া জরুরি নয়। কামাইল বিন যিয়াদ বলেছেন: আমি আলী রা.-কে দেখেছি, বৃষ্টির কাদা পাড়িয়ে মসজিদে ঢুকলেন এবং পা না ধুয়েই নামায পড়লেন।
৫. কোনো লোক নামায শেষ করে চলে যাওয়ার পর তার দেহে বা কাপড়ে নাপাক জিনিস দেখলে, যা তার অজ্ঞাতসারেই লেগেছিল অথবা সে জানতো, কিন্তু ভুলে গিয়েছিল, অথবা ভুলে যায়নি কিন্তু তা দূর করতে অক্ষম ছিলো, তার নামায শুদ্ধ হবে। দ্বিতীয়বার পড়তে হবেনা। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "তোমরা যে ভুল করে ফেলেছ, তাতে তোমাদের কোনো ক্ষতি নেই।” (সূরা ৩৩, আহযাব: আয়াত-৫) সাহাবি ও তাবেয়ীদের অনেকেই এই রায় মোতাবেক ফতোয়া দিয়েছেন।
৬. কাপড়ের ঠিক কোন্ জায়গায় নাপাকি লেগেছিল তা অজ্ঞাত থাকলে পুরো কাপড় ধোয়া ওয়াজিব। কারণ পুরোটা ধোয়া ছাড়া পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত হবার আর কোনো উপায় নেই। কাজেই এটা "যে কাজ না করলে ওয়াজিব আদায় হয়না সে কাজ ওয়াজিব” এই মূলনীতির আওতাভুক্ত।
৭. কয়েকটি কাপড় এক সাথে রয়েছে। তন্মধ্যে একটি নাপাক। কিন্তু কোন্টি তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এমতাবস্থায় কেবলা অজানা থাকলে যেমন কিছুক্ষণ চিন্তা ভাবনা করে যে দিক সম্বন্ধে ধারণা প্রবলতর হয় সেটি স্থির করতে হয়। এখানেও তেমনি করতে হবে। এরূপ ক্ষেত্রে একটি কাপড়ে মাত্র একবার নামায পড়া যাবে। চাই কাপড়ের সংখ্যা বেশি হোক বা কম হোক।
📄 মলমুত্র ত্যাগের বিধি
মলমূত্র ত্যাগের বিধি মলমূত্র ত্যাগের জন্য কিছু নিয়ম কানুন বা বিধিমালা রয়েছে যা সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
১. আল্লাহর নাম লিখিত আছে এমন কোনো জিনিস মলমূত্র ত্যাগকারী সাথে নিয়ে যাবেনা। অবশ্য হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকলে অথবা সংরক্ষিত জিনিস হিসেবে সাথে থাকলে ভিন্ন কথা। কেননা আনাস রা. বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সা. একটি আংটি পরতেন, যাতে 'মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ' কথাটি খোদিত ছিলো। তিনি যখনই পায়খানায় যেতেন, সেটি খুলে রেখে যেতেন। -চারটি সহীহ হাদিস গ্রন্থ কর্তৃক বর্ণিত। হাফেয এ হাদিসেকে দুর্বল এবং আবু দাউদ অগ্রহণযোগ্য আখ্যায়িত করেছেন। হাদিসের প্রথম অংশ সহীহ।
২. জনসাধারণের সান্নিধ্য থেকে দূরে বা আড়ালে বা পায়খানায় যাওয়া উচিত, বিশেষত মলত্যাগের বেলায়, যাতে কোনো শব্দ না শোনা যায় ও গন্ধ না পাওয়া যায়। কারণ জাবির রা. বলেছেন: "আমরা এক সফরে রসূল সা. এর সাথে বের হলাম। সফরে তিনি যখনই মলত্যাগ করতে যেতেন, অদৃশ্য হয়ে যেতেন এবং তাকে দেখা যেতনা। ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ। আবু দাউদের ভাষা এরকম: "যখন তিনি মলত্যাগ করতে চাইতেন, এমন জায়গায় চলে যেতেন যে, কেউ তাঁকে দেখতোনা এবং অনেক দূরে চলে যেতেন।"
৩. মলমূত্র ত্যাগের ঘরে প্রবেশের সময় ও কাপড় উপরে তোলার সময় সশব্দে আউযু বিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়বে। কারণ আনাস রা. বলেছেন: "রসূল সা. যখনই পায়খানা বা পেশাবখানায় যেতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি নোংরা পুরুষ ও নোংরা স্ত্রীদের থেকে তোমার আশ্রয় চাই: (অর্থাৎ পুরুষ শয়তান ও নারী শয়তান থেকে)। -সব কয়টি সহীহ হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত।
৪. পূর্ণ নিরবতা অবলম্বন করবে। এমনকি যিকির, সালাম ও আযানের জবাব দেয়া থেকেও বিরত থাকবে। তবে একান্ত জরুরি কথা বলা যাবে। যেমন- কোনো অন্ধ ব্যক্তি, যাকে পথের সন্ধান না দিলে তার প্রাণহানি ঘটার আশংকা রয়েছে, তার সাথে প্রয়োজনীয় কথা বলা যাবে। এ সময় হাঁচি হলে মনে মনে আলহামদু লিল্লাহ বলবে। এর জন্য জিহবা নাড়াবেনা। কেননা ইবনে উমর রা. বর্ণিত হাদিসে আছে: "রসূলুল্লাহ সা. পেশাব করছিলেন এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। সে রসূল সা.-কে সালাম করলো, কিন্তু তিনি জবাব দিলেন না। -বুখারি ব্যতিত সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থ।
আর আবু সাঈদ খুদরি রা. বলেন: "আমি রসূলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি, দু'জন লোক যখন সতর খুলতে খুলতে ও পরস্পর কথা বলতে বলতে পেশাবখানায় বা পায়খানায় যায় তখন আল্লাহ অসন্তুষ্টি হন। -আহমদ, আবু দাউদ, ইবেন মাজাহ।
এ হাদিস দৃশ্যত কথা বলাকে নিষিদ্ধ সাব্যস্ত করে। তবে ইজমা (সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত) হলো এ সময় কথা বলা মাকরূহ।
৫. কেবলার মর্যাদা সুন্নত রাখবে। কেবলাকে সামনেও রাখবেনা পেছনেও রাখবেনা। কেননা আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত হাদিসে রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন তার প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করতে বসবে, তখন কেবলাকে সামনেও রাখবেনা, পেছনেও রাখবেনা"। -আহমদ ও মুসলিম।
এ হাদিস দ্বারা কাজটি মাকরূহ বুঝানো হয়েছে। কেননা ইবনে উমর রা. বলেন: "আমি একদিন হাফসা রা.-এর বাড়ির ছাদে উঠলাম। সেখান থেকে দেখলাম রসূল সা. প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করছেন সিরিয়ার দিকে মুখ করে কাবা শরিফকে পেছনে রেখে।” -সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত।
উভয় হাদিসের মধ্যে সমন্বয় রক্ষার জন্য বলা যেতে পারে, খোলা মাঠে কেবলাকে সামনে বা পেছনে রেখে মলমূত্র ত্যাগ করা নিষেধ। আর বাড়ি ঘরে জাযেয়। (বস্তুত এই মতটি পূর্ববর্তী মত অর্থাৎ মাকরূহ সাব্যস্ত করার চেয়ে ভালো)। মারওয়ান আল আসগর রা. বলেন: "ইবনে উমর রা.-কে দেখেছি, নিজের বাহক জন্তুকে থামিয়ে কেবলার দিকে পেশাব করলেন। আমি বললাম: হে আবু আবদুর রহমান! এ কাজটি কি নিষিদ্ধ করা হয়নি? তিনি বললেন হাঁ, এটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে খোলা ময়দানে। তবে যেখানে তোমার ও কেবলার মাঝে এমন কোনো জিনিস থাকবে, যা তোমাকে আড়াল করে, সেখানে কেবলার দিকে মুখ করে বা কেবলাকে পেছনে রেখে মলমূত্র ত্যাগে দোষের কিছু নেই। -আবু দাউদ, ইবনে খুযায়মা, হাকেম।
৬. এমন জায়গা খুঁজে নিতে হবে যা নরম ও নিচু। যাতে নাপাকির ছিটা নিজের শরীর ও কাপড়ে আসা থেকে নিরাপদ থাকা যায়। কারণ আবু মূসা রা. বলেন: "রসূলুল্লাহ সা. একটা দেয়ালের পাশের একটা সমতল জায়গায় এলেন ও পেশাব করেলেন এবং বললেন: তোমাদের কেউ যখন পেশাব করে, তখন সে যেনো পেশাব করার জন্য (উপযুক্ত) স্থান অনুসন্ধান করে।" -আহমদ, আবু দাউদ।
হাদিসটিতে একজন অচেনা বর্ণনাকারী থাকলেও এর বক্তব্য সঠিক।
৭. গর্তের ভেতরে পেশাব পায়খানা করা থেকে বিরত থাকবে, যাতে গর্তের কোনো প্রাণী তাকে দংশন না করে। কাতাদা বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন: “রসূলুল্লাহ সা. গর্তে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। লোকেরা কাতাদাকে বললো: গর্তে পেশাব করা কি কারণে অপছন্দ করা হয়? তিনি বললেন কেননা গর্তগুলো জিনদের বাসস্থান। -আহমদ, নাসায়ী, আবু দাউদ, হাকেম, বায়হাকি, ইবনে খুযায়মা, ইবনুস সাকান।
৮. যেসকল গাছের ছায়ায় মানুষ বিশ্রাম নেয়, যেসব পথ দিয়ে মানুষ চলাফেরা করে ও কথাবার্তা বলে, সেখানে পেশাব পায়খানা করবেনা। কেননা আবু হুরায়রা রা. বলেন: রসূল সা. বলেছেন: "তোমরা অভিশাপদানকারীদের থেকে বেঁচে থাকো (অর্থাৎ অভিশাপের কারণসমূহ থেকে)। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো: অভিশাপকারী কী হে রসূলুল্লাহ! রসূল সা. বললেন: মানুষের চলাফেরার রাস্তায় ও গাছের ছায়ার নিচে পেশাব পায়খানা করা।"-আহমদ, মুসলিম ও আবু দাউদ।
৯. গোসলখানায় প্রবহমান বা অপ্রবহমান পানিতে পেশাব করবেনা। আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রা. বলেন, রসূল সা. বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেনো নিজের গোসলখানায় পেশাব না করে। অতপর সেখানেই অযু না করে। কেননা প্রধানত এ কারণেই শয়তানের কু-প্ররোচনা সৃষ্টি হয়। -পাঁচটি সহীহ হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত। তবে “সেখানেই অযু না করে” কথাটা শুধু আহমদ ও আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে।
জাবির রা. থেকে বর্ণিত : রসূলুল্লাহ সা. স্থির পানিতে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন।” -আহমদ, মুসলিম, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ।
জাবির রা. থেকে আরো বর্ণিত : রসূলুল্লাহ সা. প্রবহমান পানিতে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। -মাজমাউয যাওয়ায়েদে বলা হয়েছে, এটি তাবারানি বর্ণনা করেছে এবং এর সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত। তবে গোসলখানায় যদি পানি সরানোর নল বা নর্দমা থাকে তাহলে তাতে পেশাব করা দূষণীয় নয়।
১০. দাঁড়িয়ে পেশাব করবেনা। কেননা এটা সম্মান, গাম্ভীর্য ও উত্তম চরিত্রের বিপরীত। তাছাড়া এতে গায়ে ছিটে আসার আশংকা থাকে। ছিটে আসার আশংকা না থাকলে জায়েয আছে।
আয়েশা রা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি তোমাদেরকে বলবে- রসূল সা. দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন তার কথা বিশ্বাস করোনা। তিনি বসে ছাড়া পেশাব করতেননা।” -আবু দাউদ ব্যতিত পাঁচটি হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত।
তিরমিযির মতে, এটি এ বিষয়ে সবচেয়ে সুন্দর ও বিশুদ্ধ হাদিস। তবে আয়েশার রা. হাদিসটির ভিত্তি হলো তিনি যা জানতেন তাই। তাই হুযায়ফা থেকে বর্ণিত হাদিস তার বিরোধী নয়। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, “রসূলুল্লাহ সা. একটি গোত্রের বর্জ্য নিক্ষেপের জায়গায় গিয়ে থামলেন এবং দাঁড়িয়ে পেশাব করলেন। আমি সরে গেলাম। পরে তিনি আমাকে বললেন : কাছে এসো। আমি তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখন তিনি অযু করলেন ও তার মোজায় মসেহ করলেন।” -সব কটি সহীহ হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত।
ইমাম নববী বলেছেন : বসে পেশাব করা আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়। দাঁড়িয়ে পেশাব করাও জায়েয। সবটাই রসূল সা. থেকে প্রমাণিত।
১১. মল ও মূত্র নির্গমনের স্থান থেকে নাপাকি দূর করতে হবে। একাজটি পাথর দ্বারা কিংবা অনুরূপ এমন কোনো শক্ত পবিত্র জিনিস দ্বারা করবে, যা নাপাকি দূর করতে সক্ষম এবং যা কোনো সম্মানার্হ বা পবিত্র বস্তু নয়, অথবা শুধু পানি দিয়েই ধুয়ে ফেলবে, অথবা দুটোই ব্যবহার করবে। কেননা আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন পায়খানায় যাবে, তখন তিনটে পাথর দিয়ে শরীর থেকে নাপাকি দূর করবে। এটাই তার জন্য যথেষ্ট। -আহমদ, নাসায়ী, আবু দাউদ, দার কুতনি।
আনাস রা. বলেন: রসূলুল্লাহ সা. যখন পায়খানায় যেতেন তখন আমি ও আমার মতো একটা ছেলে এক বদনা পানি ও একটা লাঠি তার সাথে নিয়ে যেতাম। অতপর তিনি সেই পানি দিয়ে পবিত্র হতেন। -বুখারি ও মুসলিম।
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. দুটো কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন : এরা দু'জন আযাব ভোগ করছে। তবে তেমন বড় কোনো কারণে আযাব ভোগ করছেনা। (অর্থাৎ যে কাজের জন্য আযাব ভোগ করছে তা ত্যাগ করা তাদের জন্য কঠিন কিছু ছিলনা।) তাদের একজন পেশাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করতোনা এবং তা থেকে বেঁচে থাকতোনা। আর অপর জন চোগলখুরি করে বেড়াতো।” -সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত।
আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: পেশাব থেকে বেঁচে থাকো। কেননা কবরের আযাব প্রধানত তা থেকেই হয়ে থাকে।
১২. ডান হাত দিয়ে ইসতিনজা (মলমূত্র থেকে পবিত্রতা অর্জন) করবেনা। আবদুর রহমান বিন যায়েদের বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, সালমানকে বলা হলো: আপনাদের নবী তো আপনাদেরকে সবকিছুই শিক্ষা দিয়েছেন, এমনকি মলমূত্র সম্পর্কেও। সালমান বললেন, অবশ্যি। ... আমাদেরকে তিনি কেবলার দিকে মুখ করে পেশাব বা পায়খানা করতে, ডান হাত দিয়ে ইসতিনজা করতে, অথবা তিনটের কম পাথর (কুলুফ) দ্বারা ইসতিনজা করতে এবং কোনো নাপাক জিনিস দ্বারা বা হাঁড় দ্বারা ইসতিনজা করতে নিষেধ করেছেন। -মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি।
হাফসা রা. থেকে বর্ণিত: রসূল সা. পানাহার করা, কাপড় পরা, নেয়া ও দেয়ার জন্য ডান হাত এবং এগুলো ছাড়া অন্য সকল কাজের জন্য বাম হাত ব্যবহার করতেন। -আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম ও বায়হাকি।
১৩. ইসতিনজার পর পুনরায় হাত মাটি দিয়ে মুছে অথবা সাবান ইত্যাদি দিয়ে ধুয়ে ফেলবে যাতে হাতে লেগে থাকা দুর্গন্ধ দূর হয়। কারণ আবু হুরায়রা রা. বলেছেন: রসূলুল্লাহ সা. যখন পেশাবখানা বা পায়খানায় যেতেন তখন আমি তাঁর কাছে একটা তামার পাত্রে বা চামড়ার পাত্রে করে পানি নিয়ে যেতাম, তারপর সেই পানি দিয়ে তিনি ইসতিনজা করতেন, অতপর তাঁর হাত মাটি দিয়ে মুছতেন।"-আবু দাউদ, নাসায়ী, বায়হাকি, ইবনে মাজাহ।
১৪. পেশাব করার পর গুপ্তাংগে ও পরনের কাপড়ে পানি ছিটিয়ে দেবে। এতে করে ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কু-প্ররোচনা) দূর হয়। পরে যখন ভিজে দেখবে, মনে মনে বলবে, এতো পানি ছিটানোর ভিজা। হাকাম বিন সুফিয়ান অথবা সুফিয়ান বিন হাকাম বলেছেন: “যখন রসূল সা. পেশাব করতেন, তখন অযু করতেন এবং পানি ছিটাতেন।" অপর বর্ণনায় রয়েছে: রসূল সা.কে দেখেছি, পেশাব করেছেন, তারপর নিজের গুপ্তাংগের উপর পানি ছিটিয়েছেন। আর ইবনে উমর রা. তার গুপ্তাংগের উপর এতো পানি ছিটাতেন যে, তার পায়জামা ভিজে যেতো।
১৫. পেশাবখানা বা পায়খানায় প্রবেশের সময় আগে বাম পা বাড়িয়ে দেবে। আর বের হবার সময় আগে ডান পা বের করবে আর বলবে: "গুফরানাকা।” আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত: রসূল সা. যখন পেশাবখানা ও পায়খানা থেকে বের হতেন, বলতেন: "গুফরানাকা।” অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ক্ষমা চাই। -নাসায়ী ব্যতিত সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থ।
আয়েশা রা.-এর উক্ত হাদিসই এ বিষয়ে বর্ণিত সর্বাপেক্ষা সহীহ হাদিস। দুর্বল সনদে বর্ণিত এক হাদিসে রয়েছে, রসূল সা. বলতেন:
"আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা যিনি আমার নিকট থেকে কষ্ট ও অপবিত্রতা দূর করেছেন এবং আমাকে শক্তি দিয়েছেন।" অথবা "আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা, যিনি আমাকে তাঁর স্বাদ উপভোগ করিয়েছেন, আমার মধ্যে তাঁর শক্তি বহাল রেখেছেন এবং আমার কাছ থেকে কষ্ট ও নোংরা জিনিস দূর করেছেন।"