📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মৃত জন্তুর চামড়া পবিত্র করার উপায়

📄 মৃত জন্তুর চামড়া পবিত্র করার উপায়


মরা প্রাণীর চামড়া বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিক দিয়েই পবিত্র হয় দাবাগত অর্থাৎ পাকানো বা পরিশোধনের মাধ্যমে। কারণ ইবনে আব্বাস রা. বর্ণিত হাদিসে রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "চামড়া যখন পাকানো হয় তখন তা পবিত্র হয়।" বুখারি ও মুসলিম।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 আয়না ইত্যাদি পবিত্রকরণ

📄 আয়না ইত্যাদি পবিত্রকরণ


আয়না, ছুরি-চাকু, তলোয়ার, নখ, হাড়, কাঁচ, তৈলাক্ত পাত্র এবং শান দেয়ার এমন ধাতব উপকরণ, যাতে কোনো অতিক্রমণের সূক্ষ্ম পথ নেই- এসব জিনিস থেকে নাপাকি মুছে ফেললেই তা পাক হয়ে যায়। সাহাবিগণ তাদের রক্তমাখা তরবারি বহন করে নামায পড়তেন। তারা রক্ত মুছে ফেলতেন এবং তাকেই যথেষ্ট মনে করতেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জুতা পবিত্রকরণ

📄 জুতা পবিত্রকরণ


নাপাকিযুক্ত জুতা ও মোজা ভূমির সাথে ঢলে মুছে ফেলার পর নাপাকির চিহ্ন দূর হলেই পাক হয়ে যায়। কারণ আবু হুরায়রা রা. বলেন, রসূল (স.) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন তার জুতা দিয়ে কোনো নাপাকি জিনিস মাড়ায়, তখন মাটি তাকে পবিত্র করে।-আবু দাউদ। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: যখন কেউ তার মোজা দিয়ে নাপাক জিনিস মাড়ায়, তখন মাটি দিয়ে সেই মোজা পবিত্র করা যায়। আর আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসে, তখন সে যেনো তার জুতো উল্টিয়ে দেখে নেয়। তাতে যদি কোনো নাপাকি দেখতে পায়, তবে তা যেনো ভূমির সাথে রগড়িয়ে মুছে ফেলে। তারপর তা নিয়ে নামায পড়ে। -আহমদ, আবু দাউদ।

মাটি দিয়ে মুছে ফেলা জুতো পবিত্র হওয়ার আর একটি কারণ এই যে, এটা এমন একটা জায়গা, যার সাথে বারবার প্রায় নাপাকি লেগে থাকে। তাই তাকে জমাট পদার্থ দিয়ে মোছাই যথেষ্ট। যেমন- পেশাব, পায়খানা কুলুখ দিয়ে মুছে ফেলার জায়গাটি। অর্থাৎ মলমূত্র ত্যাগের স্থান। এখান দিয়ে মাত্র দু'বার বা তিনবার নাপাকি নির্গত হয় ও নাপাকি লাগে। অথচ সেটা কুলুখ দিয়ে মোছাতেই পাক হয়ে যায়। জুতোয় তো তার চেয়েও বেশিবার নাপাকি লাগে। সুতরাং জুতো পাক হওয়া আরো বেশি যুক্তি সংগত।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কয়েকটি প্রয়োজনীয় তথ্য

📄 কয়েকটি প্রয়োজনীয় তথ্য


১. যে রশিতে ধোয়া কাপড় নাড়া হয়, তাতে নাপাক কাপড়ও নাড়া হয়। তারপর রোদে বা বাতাসে ঐ রশি শুকিয়ে যায়। তারপর ঐ রশিতে পাক কাপড় নাড়লে ক্ষতি নেই।

২. কোনো ব্যক্তির উপর কোনো তরল পদার্থ পড়লো। কিন্তু ওটা পানি না পেশাব তা সে জানেনা। এমতাবস্থায় তার জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই। আর জিজ্ঞাসা করলে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির জবাব দেয়া জরুরি নয়, যদিও সে জানে ওটা নাপাক পদার্থ। এমতাবস্থায় তার ওটা ধোয়ার দরকার নেই।

৩. রাতের বেলা কারো পায়ে বা কাপড়ে কোনো ভিজে জিনিস লাগলো। সে জানেনা জিনিসটা কী? এমতাবস্থায় ঘ্রাণ শুঁকে জিনিসটার পরিচয় লাভ করা নিষ্প্রয়োজন। কারণ বর্ণিত আছে, একদিন উমর রা. কোথাও যাচ্ছিলেন। সহসা তার গায়ে ছাদের পাইপ থেকে কি যেনো পড়লো। উমর রা.-এর সাথে একজন সংগি ছিলো। সে জিজ্ঞাসা করলো ওহে পাইপওয়ালা! আপনার পানি পাক না নাপাক? উমর রা. বললেন: হে পাইপওয়ালা! আপনি আমাদেরকে এটা জানাবেননা? তারপর তিনি চলে গেলেন।

৪. রাস্তার কাদা লাগলে তা ধোয়া জরুরি নয়। কামাইল বিন যিয়াদ বলেছেন: আমি আলী রা.-কে দেখেছি, বৃষ্টির কাদা পাড়িয়ে মসজিদে ঢুকলেন এবং পা না ধুয়েই নামায পড়লেন।

৫. কোনো লোক নামায শেষ করে চলে যাওয়ার পর তার দেহে বা কাপড়ে নাপাক জিনিস দেখলে, যা তার অজ্ঞাতসারেই লেগেছিল অথবা সে জানতো, কিন্তু ভুলে গিয়েছিল, অথবা ভুলে যায়নি কিন্তু তা দূর করতে অক্ষম ছিলো, তার নামায শুদ্ধ হবে। দ্বিতীয়বার পড়তে হবেনা। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "তোমরা যে ভুল করে ফেলেছ, তাতে তোমাদের কোনো ক্ষতি নেই।” (সূরা ৩৩, আহযাব: আয়াত-৫) সাহাবি ও তাবেয়ীদের অনেকেই এই রায় মোতাবেক ফতোয়া দিয়েছেন।

৬. কাপড়ের ঠিক কোন্ জায়গায় নাপাকি লেগেছিল তা অজ্ঞাত থাকলে পুরো কাপড় ধোয়া ওয়াজিব। কারণ পুরোটা ধোয়া ছাড়া পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত হবার আর কোনো উপায় নেই। কাজেই এটা "যে কাজ না করলে ওয়াজিব আদায় হয়না সে কাজ ওয়াজিব” এই মূলনীতির আওতাভুক্ত।

৭. কয়েকটি কাপড় এক সাথে রয়েছে। তন্মধ্যে একটি নাপাক। কিন্তু কোন্টি তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এমতাবস্থায় কেবলা অজানা থাকলে যেমন কিছুক্ষণ চিন্তা ভাবনা করে যে দিক সম্বন্ধে ধারণা প্রবলতর হয় সেটি স্থির করতে হয়। এখানেও তেমনি করতে হবে। এরূপ ক্ষেত্রে একটি কাপড়ে মাত্র একবার নামায পড়া যাবে। চাই কাপড়ের সংখ্যা বেশি হোক বা কম হোক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00