📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 পঞ্চম প্রকার: এঁটো বা উচ্ছিষ্ট পানি

📄 পঞ্চম প্রকার: এঁটো বা উচ্ছিষ্ট পানি


পঞ্চম প্রকার: এটো বা উচ্ছিষ্ট পানি পানি কারো পান করার পর পাত্রে যেটুকু পানি অবশিষ্ট থাকে সেটা উচ্ছিষ্ট। উচ্ছিষ্ট কয়েক প্রকারের:

১. মানুষের উচ্ছিষ্ট: এটা পবিত্র- চাই মুসলমানের হোক, অমুসলমানের হোক, বীর্যপাতজনিত অপবিত্র বা ঋতুবতীর হোক। অবশ্য আল্লাহ যে বলেছেন: 'মুশরিকরা তো অপবিত্র।' (সূরা ৯, আত্-তাওবা : আয়াত-২৮) তার অর্থ হলো নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অপবিত্রতা। মুশরিকদের বাতিল আকীদা বিশ্বাসের কারণে এবং নাপাকি ও নোংরামি থেকে আত্মরক্ষা না করার কারণে এই নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অপবিত্রতার সৃষ্টি হয়। তাদের দেহ ও জিনিসপত্র বা অপবিত্র ব্যাপার তা নয়। তারা তো মুসলমানদের সাথে মেলামেশা করতো এবং তাদের দূতেরা ও প্রতিনিধি দল রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে আসতো, এমনকি মসজিদে নববীতেও প্রবেশ করতো। তিনি কখনো তাদের দেহের সংস্পর্শে আসার কারণে কোনো জিনিসকে ধুয়ে ফেলতে আদেশ দেননি।

"আয়েশা রা. বলেছেন: আমি ঋতুবতী থাকা অবস্থায় কতো কি পান করতাম, তারপর সেই জিনিস রসূলুল্লাহ সা. কে দিতাম। আমি যেখানে মুখ রেখে পান করতাম সেইখানে মুখ রেখে তিনিও পান করতেন।” -মুসলিম।

২. হালাল জন্তুর উচ্ছিষ্ট: এটা পবিত্র। কেননা এসব জন্তুর লালা পবিত্র গোশত থেকে সৃষ্ট। তাই এটাও পবিত্র। আবু বকর ইবনুল মুনযির বলেছেন: আলেমগণের সর্বসম্মত মত হলো, যে জন্তুর গোশত হালাল, তার উচ্ছিষ্ট পানি পান করাও জায়েয। তা দিয়ে অযু করাও বৈধ।

৩. গাধা, খচ্চর, হিংস্র জন্তু ও শিকারী পাখির উচ্ছিষ্ট: এটা পবিত্র। "জাবের রা. বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. কে জিজ্ঞাসা করা হলো: গাধার উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে কি আমরা অযু করতে পারবো? তিনি বললেন, হাঁ। শুধু তাই নয়, যাবতীয় হিংস্র প্রাণীর উচ্ছিষ্ট দিয়ে অযু করা চলবে”। (শাফেয়ী, দারু কুতনি ও বায়হাকি) এ হাদিসের বহু সনদ রয়েছে যা মিলিত হলে এটি সবল হয়।

"ইবনে উমর রা. বলেন: একবার রসূলুল্লাহ সা. রাত্রিকালে সফরে বের হলেন। তিনি সদলবলে এমন এক ব্যক্তির কাছে উপস্থিত হলেন, যে তার একটি পানির চৌবাচ্চার সামনে বসেছিল। উমর রা. বললেন: আপনার চৌবাচ্চা থেকে কি কোনো হিংস্র প্রাণী রাতের বেলা পানি চেটে খেয়েছে? রসূল সা. তৎক্ষণাৎ লোকটাকে বললেন: হে চৌবাচ্চার মালিক! ওকে জানিওনা। সে একজন খুঁতখুঁতে স্বভাবের মানুষ। হিংস্র প্রাণী যদি কিছু খেয়ে থাকে তবে তা তার পেটে আছে। আর যা অবশিষ্ট আছে তা আমাদের জন্য পান যোগ্য ও পবিত্রকারী"। -দার কুতনি।

"ইয়াহিয়া বিন সাঈদ থেকে বর্ণিত, উমর রা. একটি কাফেলার সাথে সফরে বের হলেন। সেই কাফেলায় আমর ইবনুল আ'স ছিলেন। কাফেলা যখন একটা কুয়ার কাছে পৌঁছলো, তখন আমর ইবনুল আ'স বললেন: হে কূয়ার মালিক! আপনার কৃয়ায় কি কোনো হিংস্র জন্তু আসে? উমর রা. তৎক্ষণাৎ বললেন: আপনি এ খবর জানাবেননা। কারণ আমরাও হিংস্র জন্তুর কাছে যাই, তারাও আমাদের কাছে আসে।"-মুয়াত্তায়ে মালেক।

৪. বিড়ালের উচ্ছিষ্ট: এটাও পবিত্র। কেননা আবু কাতাদার সংসারে অবস্থানকারিণী কাবশা বিনতে কা'ব বলেছেন: "আবু কাতাদা আমার কাছে এলেন। আমি তাকে পানি ঢেলে দিলাম। এ সময় একটা বিড়াল পানি পান করতে এলো। আবু কাতাদা তার দিকে পানির পাত্রটা এগিয়ে দিলেন এবং বিড়াল তা থেকে পানি পান করলো। কাবশা বললেন: আবু কাতাদা দেখলেন, আমি সেদিকে তাকিয়ে আছি। তিনি বললেন: হে আমার ভাতিজী, তুমি কি অবাক হচ্ছো? আমি বললাম: হাঁ, তিনি বললেন: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: বিড়ালের উচ্ছিষ্ট নাপাক নয়। বিড়াল তো সর্বক্ষণ তোমাদের আশপাশে ঘুরে বেড়ায়।” (পাঁচটি সহীহ হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত, তিরমিঝি বলেছেন: এটি সহীহ ও ভালো হাদিস, বুখারি প্রমুখ একে সহীহ বলেছেন।

৫. কুকুর ও শুকরের উচ্ছিষ্ট: এটি অপবিত্র এবং এটি থেকে দূরে থাকা ওয়াজিব। কুকুরের উচ্ছিষ্ট অপবিত্র হওয়ার কারণ হলো, বুখারি ও মুসলিমে আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে: "রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যখন কুকুর তোমাদের কোনো পাত্র থেকে পানি পান করে তখন ঐ পাত্রকে সাত বার ধোয়া আবশ্যক।"

"আর আহমদ ও মুসলিমে আছে রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: তোমাদের কোনো পাত্র কুকুরে চাটলে সেটি সাত বার ধুলে পবিত্র হবে। তন্মধ্যে প্রথমবার মাটি দিয়ে ঘষে ধুতে হবে।" আর শুকরের উচ্ছিষ্ট অপবিত্র শুকরের অপবিত্রতা ও নোংরামীর কারণে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00