📄 আকস্মিক ঘটনাক্রমে বিয়ে বাতিল হওয়ার উদাহরণ
বিয়ের চুক্তি বাতিল হওয়ার অর্থ হলো, তার অবসান হওয়া ও দাম্পত্য সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া। বিয়ের আকদ বা চুক্তিতে গুরুতর কোনো ত্রুটি থাকলে বা তা টিকে থাকা অসম্ভব করে দেয় এমন কোনো কারণ ঘটলেও বিয়ে বাতিল হয়ে যেতে পারে।
আকদে ত্রুটি থাকার কারণে বিয়ে বাতিল হওয়ার কয়েকটি উদাহরণ, যেমন:
১. আকদ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রমাণিত হলো যে, যে স্ত্রীর সাথে তার বিয়ে হয়েছে, সে তার দুধবোন।
২. পিতা বা দাদা ব্যতীত অন্য কোনো অভিভাবক অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকার বিয়ে দিয়েছে, অতপর সেই বালক বা বালিকা প্রাপ্তবয়স্ক হলো। এক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেকের ঐ বিয়ে বহাল রাখা বা বাতিল করার ক্ষমতা থাকে। সে যদি বিয়ে বাতিল করার পথ বেছে নেয়, তাহলে বিয়ে বাতিল হবে।
আকস্মিক ঘটনাক্রমে বিয়ে বাতিল হওয়ার উদাহরণ:
১. স্বামী ও স্ত্রীর যে কোনো একজন ইসলাম ত্যাগ করলে এবং ইসলামের দিকে ফিরে না এলে আকস্মিক মুরতাদ হওয়া জনিত কারণে বিয়ে বাতিল হবে।
২. স্বামী ইসলাম গ্রহণ করলে এবং তার মুশরিক স্ত্রী ইসলাম গ্রহণ না করলে বিয়ে বাতিল হয়ে যাবে। তবে স্ত্রী যদি ইহুদী বা খৃস্টান হয় তাহলে সে মুসলমান না হলেও বিয়ে বহাল থাকবে। কেননা ইহুদী বা খৃস্টান মহিলার সাথে মুসলিম পুরুষের বিয়ে মূলতই বিধিসম্মত।
বিয়ে বাতিল হওয়ার কারণে স্বামী স্ত্রীতে যে বিচ্ছেদ হয়, তা তালাকজনিত বিচ্ছেদ থেকে ভিন্ন। কেননা তালাক দু'রকম : রজয়ি ও বায়েন। রজয়ি তাৎক্ষণিকভাবে দাম্পত্য জীবনের বিলুপ্তি বা অবসান ঘটায়না। কিন্তু বায়েন তাৎক্ষণিকভাবে দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটায়। পক্ষান্তরে বিয়ে বাতিল হওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটায়, চাই তা বিয়ের পর কোনো আকস্মিক ঘটনার কারণে হোক অথবা বিয়েতে কোনো ত্রুটি থাকার কারণে হোক। অপরদিকে তালাকজনিত বিচ্ছেদ তালাকের সংখ্যা হ্রাস করে। উদাহরণস্বরূপ, স্বামী যদি স্ত্রীকে রজয়ি তালাক দেয়, তারপর তার ইদ্দত পালনকালে তালাক প্রত্যাহার তথা সম্পর্ক পুনর্বহাল করে, অথবা ইদ্দত শেষ হওয়ার পর তাকে নতুন আকদের মাধ্যমে বিয়ে করে, তাহলে তার সেই তালাক তালাক হিসেবে গণ্য থাকবে এবং এরপর সে স্ত্রীকে আর মাত্র দু'টো তালাক দিতে পারবে। কিন্তু বিয়ে বাতিল হওয়াজনিত বিচ্ছেদে তালাকের সংখ্যা হ্রাস পায়না। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর যদি কেউ নিজের বিয়ে বাতিল করে, অতপর উভয়ে পুনরায় বিয়ে করে, তাহলে স্বামী এরপর তিনটে তালাক দেয়ার অধিকারী হবে। তালাকজনিত ও বিয়ে বাতিল হওয়াজনিত এই দু'ধরনের বিচ্ছেদে পার্থক্য করার জন্য ফকিহগণ একটা মূলনীতি উদ্ভাবন করেছেন। তারা বলেছেন : যে বিচ্ছেদ স্বামীর পক্ষ থেকে সংঘটিত হয় এবং স্ত্রীর পক্ষ থেকে হওয়া সম্ভব নয়, সেটা তালাক। আর যে বিচ্ছেদ স্ত্রীর পক্ষ থেকে সংঘটিত হয়, কিন্তু তাতে স্বামীর কোনো হাত থাকেনা অথবা স্বামীর পক্ষ থেকে সংঘটিত হয়। কিন্তু স্ত্রীর দ্বারাও তা সংঘটিত হওয়া সম্ভব, সেটা বিয়ে বাতিল হওয়াজনিত বিচ্ছেদ।
📄 বিয়ে বাতিল সংক্রান্ত
বিয়ের চুক্তি বাতিল হওয়ার অর্থ হলো, তার অবসান হওয়া ও দাম্পত্য সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া। বিয়ের আকদ বা চুক্তিতে গুরুতর কোনো ত্রুটি থাকলে বা তা টিকে থাকা অসম্ভব করে দেয় এমন কোনো কারণ ঘটলেও বিয়ে বাতিল হয়ে যেতে পারে।
আকদে ত্রুটি থাকার কারণে বিয়ে বাতিল হওয়ার কয়েকটি উদাহরণ, যেমন:
১. আকদ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রমাণিত হলো যে, যে স্ত্রীর সাথে তার বিয়ে হয়েছে, সে তার দুধবোন।
২. পিতা বা দাদা ব্যতীত অন্য কোনো অভিভাবক অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকার বিয়ে দিয়েছে, অতপর সেই বালক বা বালিকা প্রাপ্তবয়স্ক হলো। এক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেকের ঐ বিয়ে বহাল রাখা বা বাতিল করার ক্ষমতা থাকে। সে যদি বিয়ে বাতিল করার পথ বেছে নেয়, তাহলে বিয়ে বাতিল হবে।
📄 আদালত দ্বারা বিয়ে বাতিল করণ
কিছু কিছু ক্ষেত্র এমন আছে, যেখানে বিয়ে বাতিল হওয়ার কারণ এত স্পষ্ট হয়ে থাকে যে, আদালতের ফায়সালার প্রয়োজন হয়না। যখন স্বামী স্ত্রী জানতে পারে যে, তারা পরস্পরের দুধ-ভাইবোন, তখন তাদের উভয়ের জন্যই স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে বিয়ে বাতিল করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।
তবে ক্ষেত্র বিশেষে বিয়ে বাতিল হওয়ার কারণ অজ্ঞাত বা অস্পষ্ট থাকে। সেক্ষেত্রে আদালতের ফায়সালা প্রয়োজন হয় এবং আদালতের ফায়সালা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি মওকুফ থাকে। যেমন স্বামী ইসলাম গ্রহণ করলে এবং মুশরিক স্ত্রী ইসলাম গ্রহণ না করলে বিয়ে বাতিল হওয়া মওকুফ থাকবে। স্ত্রী ইসলাম গ্রহণ করলে বাতিল হবেনা।