📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যাকে নিজের বংশধর বলে দাবি করা হয়

📄 যাকে নিজের বংশধর বলে দাবি করা হয়


মিসরে যে আইন প্রচলিত তা হচ্ছে: মৃত ব্যক্তি যখন অপর কোনো ব্যক্তিকে নিজের বংশধর বলে দাবি করে, তখন সেই ব্যক্তির বংশ পরিচয় যদি অজ্ঞাত হয়, তার বংশীয় সম্পর্ক অন্য কারো সাথে আছে প্রমাণিত না হয় এবং তাকে নিজের বংশধর বলে স্বীকার করার পর স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা না হয়, তবে যাকে বংশধর বলে স্বীকার করা হয়েছে সে পরিত্যক্ত সম্পত্তির অধিকারী হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্বীকৃতি দানকারীর মৃত্যুর সময় স্বীকৃতি দানকারীকে মৃত ঘোষণা করার সময় যাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে তার জীবিত থাকা এবং উত্তরাধিকারী হওয়ার পথে কোনো অন্তরায় না থাকা শর্ত। এ আইনের যে বিশ্লেষণ দেয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে: 'যাকে বংশধর বলে স্বীকার করা হয়েছে সে উত্তরাধিকারী নয়। কেননা উত্তরাধিকার প্রকৃত বংশধর প্রমাণিত হওয়ার উপর নির্ভরশীল। অথচ কেবল স্বীকৃতি দিলেই বংশধর প্রমাণিত হয়না। তথাপি ফকিহগণ কোনো কোনো অবস্থায় তার উপর উত্তরাধিকারের বিধি প্রয়োগ করেছেন, যেমন এক তৃতীয়াংশের বেশির অসিয়ত যার জন্য করা হয় তার অতিরিক্ত অংশটুকু দেয়ার উপর তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাকে মৃতের স্থলাভিষিক্ত গণ্য করেছেন, যেমন তার ক্রয় করা পণ্যকে ত্রুটিযুক্ত দেখিয়ে সে ফেরত দেয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে। বস্তুত সে উত্তরাধিকারী না হওয়া সত্ত্বেও কেবল বাস্তবতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির অধিাকরী গণ্য করাকে কল্যাণকর মনে করা হয়েছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 এক তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত যার জন্য অহিযত করা হয়

📄 এক তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত যার জন্য অহিযত করা হয়


মৃত ব্যক্তি যখন কোনো উত্তরাধিকারী না রেখেই মারা যায় এবং সে অপর কোনো ব্যক্তিকে বংশধর বলেও স্বীকার করেনা, তখন একজন অনাত্মীয়কেও সমুদয় পরিত্যক্ত সম্পত্তি বা তার অংশ বিশেষ প্রদানের অসিয়ত করা জায়েয। কেননা এক তৃতীয়াংশের মধ্যে অসিয়তকে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল উত্তরাধিকারীদের স্বার্থেই। তাদের কেউ যখন নেই, তখন আর সেই সীমাবদ্ধতা রাখার বাধ্যবাধকতা নেই।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বাইতুল মাল

📄 বাইতুল মাল


যখন মৃত ব্যক্তি কোনো উত্তরাধিকারী না রেখে মারা যায়, উপরন্তু কাউকে সে নিজের বংশধর বলেও স্বীকার করেনি এবং এক তৃতীয়াংশের বেশি কারো জন্য অসিয়তও করেনি, তখন তার সম্পত্তি মুসলমানদের বাইতুল মালে জমা হবে, যাতে তা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ওয়াজিব অহিযত

📄 ওয়াজিব অহিযত


ওয়াজিব অসিয়ত: হিজরি ১৩৬৫ ও খৃ: ১৯৪৬ সালে ৭১ নং ওয়াজিব অসিয়ত আইন প্রবর্তিত হয়, যার প্রধান বিধিগুলো নিম্নরূপ:
১. মৃত ব্যক্তির জীবদ্দশায় তার যে সন্তান মারা গেছে অথবা কার্যত তার সাথেই মারা গেছে বলে গণ্য হয়েছে, সে সন্তানের সন্তানকে যদি মৃত ব্যক্তি এতটা পরিমাণ সম্পত্তি দেয়ার অসিয়ত না করে গিয়ে থাকে, যা ঐ সন্তান তার মৃত্যুর সময় জীবিত থাকলে পেত, তা হলে তার মোট সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের সীমার মধ্যে উক্ত অংশের সমান উক্ত সন্তানের জন্য অসিয়ত করা ওয়াজিব। তবে এ জন্য শর্ত হলো, সে যেন উত্তরাধিকারী না হয় এবং যতোটুকু তার জন্য অসিয়ত করা ওয়াজিব ততোটুকু পরিমাণ সম্পত্তি মৃত ব্যক্তি ইতোপূর্বে অন্য কোনো পদ্ধতিতে তাকে না দেয়। আর যদি তার চেয়ে কম পরিমাণে তাকে ইতোপূর্বে দিয়ে থাকে তাহলে সেই পরিমাণে তার জন্য অসিয়ত করা ওয়াজিব, যাতে তাকে যতোটুকু দেয়া ওয়াজিব তা পূর্ণ হয়।
এই অসিয়ত মেয়েদের প্রথম স্তরের সন্তানদের জন্য এবং মৃতের সেই সন্তানদের প্রথম স্তরের সন্তানদের জন্যও করতে হবে, যারা মৃতের সাথে কোনো নারীর মাধ্যমে সম্পৃক্ত নয়, চাই যতো নিম্নের হোক। এ জন্য শর্ত হলো, প্রত্যেক ঊর্ধ্বতন তার নিজের 'অধস্তনকে উত্তরাধিকার থেকে বাদ দেবে, অন্যের অধস্তনকে নয়। উপরন্তু প্রত্যেক ঊর্ধ্বতনের অংশ তার অধস্তনের মধ্যে বণ্টন করা হবে, যদিও তাতে উত্তরাধিকার বণ্টনের পরিমাণ নিম্নমুখী হয়। যেমন মৃত ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত ঊর্ধ্বতনরা যদি তার পরে মারা যেত এবং তাদের মৃত্যু প্রজাতির স্তর সমূহের মৃত্যুর মত ধারাবাহিকভাবে হতো।
২. মৃত ব্যক্তি যখন যার জন্য অসিয়ত করা ওয়াজিব তার জন্য তার প্রাপ্য অংশের চেয়ে বেশির ৩ করে তখন অতিরিক্তটুকু হবে ইচ্ছাধীন অসিয়ত। আর যদি তার চেয়ে কম করে তবে যতোটুকু ক তার প্রাপ্য অংশ পূর্ণ হবে ততটুকু অসিয়ত করা ওয়াজিব। আর যাদের জন্য অসিয়ত করা ওয়াজিব তাদে কতকের জন্য করলে ও কতকের জন্য না করলে যাদের জন্য তাদের প্রাপ্য অংশ পরিমাণ অসিয়ত করেনি, তাদের জন্য অসিয়ত করা ওয়াজিব। যার জন্য অসিয়ত করা হয়নি তার অংশ এবং যার জন্য যতটা অসিয়ত করা ওয়াজিব তার চেয়ে কম করেছে তার বাকি অংশ এক তৃতীয়াংশের অবশিষ্টাংশ থেকে নেয়া হবে। সেখান থেকে নিতে গিয়ে যদি সংকুলান না হয় তবে তা থেকেও ইচ্ছাধীন অসিয়তকৃত অংশ থেকে নেয়া হবে।
৩. ওয়াজিব অসিয়ত অন্য সব ধরনের অসিয়তের উপর অগ্রগণ্য। যাদের জন্য অসিয়ত করা ওয়াজিব তাদের জন্য মৃত ব্যক্তি যখন অসিয়ত না করে এবং অন্যদের জন্য অসিয়ত করে, তখন যাদের জন্য অসিয়ত করা ওয়াজিব, তাদের প্রত্যেকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের অবশিষ্টাংশ থেকে নিজ নিজ প্রাপ্য অংশ সংকুলান হলে আদায় করে নেবে। নচেৎ সেই অংশ থেকে ও অন্যদের জন্য অসিয়তকৃত অংশ থেকে আদায় করে নেবে।
ওয়াজিব ওছিয়তের সমস্যাগুলো সমাধানের উপায়:
১. যে সন্তান পিতামাতার একজনের জীবদ্দশায় মারা গেছে, তাকে জীবিত ও উত্তরাধিকারী ধরে নিতে হবে এবং সে জীবিত থাকলে যে অংশ তার পাওনা হতো তা হিসাব করা হবে।
২. মৃত সন্তানের এই অংশ পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে বের করে তার সেই সন্তানকে দেয়া হবে যার জন্য অসিয়ত করা ওয়াজিব, যদি তার অংশ এক তৃতীয়াংশ বা তার চেয়ে কমের সমান হয়। যদি তার চেয়ে বেশি হয় তবে তাকে এক তৃতীয়াংশের মধ্যে সীমিত করা হবে, অত:পর 'এক পুরুষ দুই নারীর সমান' নীতির ভিত্তিতে সন্তানদের মধ্যে বণ্টিত হবে।
৩. পরিত্যক্ত সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের মধ্যে শরিয়ত নির্ধারিত অংশ অনুপাতে বণ্টন করা হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00