📄 সংজ্ঞা
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 বিধান
তাখারুজ পারস্পরিক সম্পত্তিতে হলে বৈধ। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ তার মৃত্যু প্রাক্কালীন রোগের সময় স্বীয় স্ত্রী তামাদরকে তালাক দেন, তারপর স্ত্রীর ইদ্দত পালনরত অবস্থায় মারা যান। অত:পর উসমান (রা) অন্য তিনজন মহিলাসহ তাকে তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করেন। অত:পর অন্যান্য উত্তরাধিকারীরা তিরাশি হাজার মুদ্রা দিয়ে তার উত্তরাধিকারের এক চতুর্থায়াংশের মূল্যের জন্য তার সাথে আপোস করে।
৪৮ নং ধারায় বলা হয়েছে: 'নির্দিষ্ট কিছুর বিনিময়ে উত্তরাধিকারীদের একজন উত্তরাধিকারীকে উত্তরাধিকার থেকে বহিষ্কার করাকে তাখারুজ বলা হয়। এভাবে একজন উত্তরাধিকারী যখন আরেকজন উত্তরাধিকারীকে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে তাখারুজ করে, তখন সে অপরজনের অংশ লাভ করে ও পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে তার স্থলাভিষিক্ত হয়। আর যখন উত্তরাধিকারীদের একজন অন্য সকলের সাথে তাখারুজ করে তখন যে সম্পদের বিনিময়ে এটা করে তা যদি পরিত্যক্ত সম্পত্তির অংশ হয় তবে তার অংশ তাদের সকলের মধ্যে সকলের প্রাপ্য অনুপাতে বণ্টন করা হবে। আর যদি সেটি তাদের নিজ নিজ সম্পত্তি থেকে দেয়া হয় এবং তাখারুজের চুক্তিতে বহিষ্কৃত উত্তরাধিকারীর অংশ কিভাবে বণ্টিত হবে তার উল্লেখ না থাকে তাহলে তা তাদের মধ্যে সমান হারে বণ্টিত হবে।
📄 উত্তরাধিকার ব্যতীত পরিত্যক্ত সম্পত্তির অধিকারী হওয়া
উত্তরাধিকার আইনের ৪নং ধারায় বলা হয়েছে:
যখন কোনো মৃত ব্যক্তির আদৌ কোনো উত্তরাধিকারী পাওয়া যায়না তখন পরিত্যক্ত সম্পত্তি নিম্নোক্ত ধারাবাহিকতা অনুযায়ী বণ্টিত হবে:
প্রথমত মৃত ব্যক্তি যে অপর ব্যক্তিকে নিজের বংশধর বলে স্বীকার করে।
দ্বিতীয়ত সম্পত্তির যে অংশের সীমার মধ্যে অসিয়ত কার্যকর হয়, তার চেয়ে বেশি অসিয়ত করে। ` দুই শ্রেণির কাউকেও যখন পাওয়া যায়না তখন পরিত্যক্ত সম্পত্তি বা তার অবশিষ্টাংশ রাষ্ট্রীয় গারে জমা হবে। এর অর্থ দাঁড়ালো, মৃত ব্যক্তি যখন কোনো উত্তরাধিকারী না রেখে মারা যায় তখন • সম্পত্তির অংশীদার হয় তিনজন: এ অপব ব্যক্তিকে নিজের বংশধর বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়। /এক তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশি সম্পত্তির অসিয়ত করা হয় যার জন্য। 6. বাইতুল মাল বা সরকারি কোষাগার।
এই তিনটি সম্পর্কে নিম্নে একটু বিশদভাবে আলোচনা করা যাচ্ছে:
📄 যাকে নিজের বংশধর বলে দাবি করা হয়
মিসরে যে আইন প্রচলিত তা হচ্ছে: মৃত ব্যক্তি যখন অপর কোনো ব্যক্তিকে নিজের বংশধর বলে দাবি করে, তখন সেই ব্যক্তির বংশ পরিচয় যদি অজ্ঞাত হয়, তার বংশীয় সম্পর্ক অন্য কারো সাথে আছে প্রমাণিত না হয় এবং তাকে নিজের বংশধর বলে স্বীকার করার পর স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা না হয়, তবে যাকে বংশধর বলে স্বীকার করা হয়েছে সে পরিত্যক্ত সম্পত্তির অধিকারী হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্বীকৃতি দানকারীর মৃত্যুর সময় স্বীকৃতি দানকারীকে মৃত ঘোষণা করার সময় যাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে তার জীবিত থাকা এবং উত্তরাধিকারী হওয়ার পথে কোনো অন্তরায় না থাকা শর্ত। এ আইনের যে বিশ্লেষণ দেয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে: 'যাকে বংশধর বলে স্বীকার করা হয়েছে সে উত্তরাধিকারী নয়। কেননা উত্তরাধিকার প্রকৃত বংশধর প্রমাণিত হওয়ার উপর নির্ভরশীল। অথচ কেবল স্বীকৃতি দিলেই বংশধর প্রমাণিত হয়না। তথাপি ফকিহগণ কোনো কোনো অবস্থায় তার উপর উত্তরাধিকারের বিধি প্রয়োগ করেছেন, যেমন এক তৃতীয়াংশের বেশির অসিয়ত যার জন্য করা হয় তার অতিরিক্ত অংশটুকু দেয়ার উপর তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাকে মৃতের স্থলাভিষিক্ত গণ্য করেছেন, যেমন তার ক্রয় করা পণ্যকে ত্রুটিযুক্ত দেখিয়ে সে ফেরত দেয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে। বস্তুত সে উত্তরাধিকারী না হওয়া সত্ত্বেও কেবল বাস্তবতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির অধিাকরী গণ্য করাকে কল্যাণকর মনে করা হয়েছে।