📄 কিভাবে উত্তরাধিকারী হবে
যদি তার পুরুষ হওয়া স্পষ্ট হয় তবে সে পুরুষের সমান উত্তরাধিকার পাবে, আর যদি তার স্ত্রী হওয়া স্পষ্ট হয় তবে সে স্ত্রীলোকের সমান উত্তরাধিকার পাবে।
পুরুষত্ব ও স্ত্রীত্বের নিদর্শনাবলী দ্বারাই যে কোন একটি জানা যাবে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে পেশাব করা দ্বারা এটা জানা যায়। সে যদি পুরুষাংগ দ্বারা পেশাব করে তবে সে পুরুষ। আর যদি স্ত্রীলিংগ দ্বারা পেশাব করে তবে সে স্ত্রী লোক। আর যদি দুটো দিয়েই করে তবে প্রথমে যেটি দিয়ে পেশাব বের হয় সেটি অনুযায়ী পরিচিত হবে। আর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর যদি তার দাড়ি গজায় কিংবা মেয়েদের কাছে যায় (সহবাসের ইচ্ছা নিয়ে) অথবা পুরুষের ন্যায় তার স্বপ্ন দোষ হয়, তবে সে পুরুষ। আর যদি মেয়েদের মত তার স্তন হয় কিংবা তা দিয়ে দুধ গড়ায় কিংবা হায়েয হয় বা গর্ভ ধারণ করে তবে সে নারী। এ সব ক্ষেত্রে তাকে বলা হবে সাধারণ নপুংসক।
কিন্তু যদি পুরুষ না স্ত্রী বুঝা না যায়, কোনো নিদর্শন দ্বারা তাকে স্পষ্ট চেনা না যায় অথবা নিদর্শনগুলো পরস্পর বিরোধী হয়, তাহলে তাকে বলা হবে জটিল নপুংসক।
ফকিহগণ তার উত্তরাধিকার নিয়ে মত বিরোধে লিপ্ত। ইমাম আবু হানিফা বলেন: তাকে একবার পুরুষ ধরা হবে, অত:পর পুনরায় নারী ধরা হবে। তারপর দুই অবস্থার মধ্যে যেটি খারাপ সেই অনুসারে তার সাথে লেনদেন করা হবে। এক হিসেবে যদি সে উত্তরাধিকারী হয় এবং অন্য হিসেবে উত্তরাধিকারী না হয় তবে তাকে কিছুই দেয়া হবেনা। আর যদি উভয় হিসাবে উত্তরাধিকারী হয় এবং তার হিসসা কম বেশি হয়, তাহলে তাকে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র হিসসাটাই দেয়া হবে। ইমাম মালেক, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমামিয়া শিয়াগণ বলেন: পুরুষ ও স্ত্রীর অংশদ্বয়ের মধ্যবর্তী অংশ তাকে দেয়া হবে। ইমাম শাফেয়ি বলেন: সকল উত্তরাধিকারী ও নপুংসক উভয় অংশের মধ্যে যেটি ক্ষুদ্রতর সেটি পাবে। কেননা ওটাই তাদের উভয়ের জন্য অবশিষ্ট রয়েছে। ইমাম আহমদ বলেন: যদি আশা করা যায় তার প্রকৃত অবস্থা অচিরেই স্পষ্ট হবে, তাহলে প্রত্যেক উত্তরাধিকারী ও নপুংসককে ক্ষুদ্রতর অংশ দেয়া হবে ও অবশিষ্টাংশ স্থগিত রাখা হবে। আর যদি তেমন আশা না থাকে তাহলে পুরুষ ও স্ত্রীর অংশদ্বয়ের মধ্যবর্তী অংশ সে গ্রহণ করবে। এই শেষোক্ত মতটিই অগ্রগণ্য। তবে আধুনিক আইন ইমাম আবু হানিফার মতকে গ্রহণ করেছে। ৪৬ নং ধারায় বলা হয়েছে: 'যে নপুংসক জটিল এবং পুরুষ না স্ত্রী চেনা যায়না, তাকে ক্ষুদ্রতর অংশ দেয়া হবে। আর পরিত্যক্ত সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ অবশিষ্ট উত্তরাধিকারীদের দেয়া হবে।'
📄 মৃততানের উত্তরাধিকার
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 জারজ ও বৈধ স্বামী কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত সন্তান
বৈধ বিয়ে ব্যতীত যে সন্তানের জন্ম তা জারজ সন্তান। আর বৈধ স্বামী কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত সন্তান হলো, যে সন্তানের পিতৃত্ব বৈধ স্বামী স্বীকার করেনা। শরিয়ত স্বীকৃত পিতৃপরিচয়ের অভাবে সর্বসম্মতভাবে এই দুই সন্তানের সাথে তাদের পিতামাতার উত্তরাধিকারের সম্পর্ক নেই। কেবল তাদের মায়ের সাথে তাদের উত্তরাধিকারের সম্পর্ক বিদ্যমান। ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত: জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সা) এর আমলে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ তুলে 'লিয়ান' করে ও তার সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করে, রসূলুল্লাহ্ (সা) উক্ত স্বামী-স্ত্রীকে বিছিন্ন করে দেন এবং সন্তানকে স্ত্রীর সাথে যুক্ত করে দেন। -বুখারি ও আবু দাউদ। আবু দাউদের ভাষ্য হলো: 'রসূলুল্লাহ্ (সা) লিয়ানের সন্তানের উত্তরাধিকার তার মাকে ও তারপর তার মায়ের উত্তরাধিকারীদেরকে দিয়েছেন'। আর আইনের ৪৭ নং ধারায় বলা হয়েছে: জারজ সন্তান ও লিয়ানের সন্তানের উত্তরাধিকার তার মা ও মায়ের আত্মীয়দের উত্তরাধিকারী হবে এবং তার মা ও মায়ের আত্মীয়রা তাদের উত্তরাধিকারী হবে।'
📄 তাবাকুজ
তাখারুজ: তাখারুজ হলো, উত্তরাধিকারীদের পারস্পরিক সম্পত্তিতে কোনো উত্তরাধিকারীকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির কোনো অংশের বিনিময়ে বা বিনিময় ব্যতীত উত্তরাধিকার থেকে বহিষ্কার করা।