📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নিখোঁজের উত্তরাধিকার

📄 নিখোঁজের উত্তরাধিকার


নিরুদ্দেশ ব্যক্তি যদি কিছু সম্পত্তি রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে থাকে, তবে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি ততক্ষণ পর্যন্ত তার মালিকানায় থাকবে এবং উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হবেনা, যতক্ষণ তার মৃত্যুর নিশ্চিত খবর না জানা যায় কিংবা বিচারক তাকে মৃত ঘোষণা না করে। যখন তার মৃত্যুর নিশ্চিত খবর জানা যাবে কিংবা বিচারক তাকে মৃত ঘোষণা করবে, তখন যারা উত্তরাধিকারী, তারা মৃত্যুর সময় বা মৃত ঘোষিত হওয়ার সময়েই উত্তরাধিকার পাওয়ার হকদার হবে। তার আগে যে মারা গেছে কিংবা তারপরে উত্তরাধিকারী হয়েছে, সে উত্তরাধিকার পাবেনা।
পক্ষান্তরে যখন সে অন্যের উত্তরাধিকারী হবে, তখন মৃতের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে তার অংশ স্থাগিত রাখা হবে। যখন তাকে মৃত ঘোষণা করা হবে, তখন তার স্থগিত অংশ অন্য উত্তরাধিকারীদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে। আধুনিক আইনেও এ কথাই বলা হয়েছে। ৪৫ নং ধারায় বলা হয়েছে:
নিরুদ্দেশ ব্যক্তির অবস্থা স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত মৃতের উত্তরাধিকারে তার প্রাপ্য অংশ স্থগিত থাকবে। যদি জানা যায় যে, সে জীবিত তবে তার অংশ গ্রহণ করবে। আর যদি মৃত বলে জানা যায়, তবে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময়ে অন্য যারা তার উত্তরাধিকারী ছিলো, তাদেরকে এই অংশটি দেয়া হবে। মৃত ঘোষিত হওয়ার পর যদি সে জীবিত প্রমাণিত হয়, তবে অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের দখলে তার অংশের যতোটুকু অবশিষ্ট আছে তা তাদের কাছ থেকে নিয়ে নেবে। (এ হচ্ছে উত্তরাধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধি, যদি তার স্ত্রী থেকে থাকে তবে সে সম্পর্কে ১৯২৯ সালের ২৫ নং আইনের ২২ নং ধারায় বলা হয়েছে:
'পূর্ববর্তী ধারায় যে ভাবে বর্ণিত হয়েছে, তদনুযায়ী নিরুদ্দেশকে মৃত ঘোষণা করার পর তার স্ত্রী স্বামীর মৃত্যুর পর যেভাবে ইদ্দত পালন করতে হয় সেভাবে ইদ্দত পালন করবে এবং তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি সে সব উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে, যারা বিচারকের রায় ঘোষণার সময় বিদ্যমান ছিলো। আর ১৯২০ সালের ২৫ নং আইনের ৭নং ধারায় বলা হয়েছে: যখন নিরুদ্দেশ ব্যক্তি ফিরে আসবে অথবা জানা যাবে যে, সে জীবিত আছে, তখন তার স্ত্রীর দ্বিতীয় স্বামী যদি তার সাথে সহবাস না করে থাকে তবে সে তার সাথে সহবাস করবে। আর যদি দ্বিতীয় স্বামী প্রথম স্বামীর জীবিত থাকার কথা না জেনে তার সাথে সহবাস করে থাকে তবে স্ত্রী দ্বিতীয় স্বামীরই থাকবে, যদি তার বিয়ে প্রথম স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দতের ভেতরে না হয়ে থাকে।')

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নপুংসক

📄 নপুংসক


সংজ্ঞা: খুনসা বা নপুংসক বলা হয় এমন ব্যক্তিকে, যার পুরুষ হওয়া বা স্ত্রী হওয়া সন্দেহজনক। কেননা হয় তার পুরুষাংগ বা স্ত্রীলিংগ কোনোটাই নেই অথবা দুটোই আছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সংজ্ঞা

📄 সংজ্ঞা


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কিভাবে উত্তরাধিকারী হবে

📄 কিভাবে উত্তরাধিকারী হবে


যদি তার পুরুষ হওয়া স্পষ্ট হয় তবে সে পুরুষের সমান উত্তরাধিকার পাবে, আর যদি তার স্ত্রী হওয়া স্পষ্ট হয় তবে সে স্ত্রীলোকের সমান উত্তরাধিকার পাবে।
পুরুষত্ব ও স্ত্রীত্বের নিদর্শনাবলী দ্বারাই যে কোন একটি জানা যাবে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে পেশাব করা দ্বারা এটা জানা যায়। সে যদি পুরুষাংগ দ্বারা পেশাব করে তবে সে পুরুষ। আর যদি স্ত্রীলিংগ দ্বারা পেশাব করে তবে সে স্ত্রী লোক। আর যদি দুটো দিয়েই করে তবে প্রথমে যেটি দিয়ে পেশাব বের হয় সেটি অনুযায়ী পরিচিত হবে। আর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর যদি তার দাড়ি গজায় কিংবা মেয়েদের কাছে যায় (সহবাসের ইচ্ছা নিয়ে) অথবা পুরুষের ন্যায় তার স্বপ্ন দোষ হয়, তবে সে পুরুষ। আর যদি মেয়েদের মত তার স্তন হয় কিংবা তা দিয়ে দুধ গড়ায় কিংবা হায়েয হয় বা গর্ভ ধারণ করে তবে সে নারী। এ সব ক্ষেত্রে তাকে বলা হবে সাধারণ নপুংসক।
কিন্তু যদি পুরুষ না স্ত্রী বুঝা না যায়, কোনো নিদর্শন দ্বারা তাকে স্পষ্ট চেনা না যায় অথবা নিদর্শনগুলো পরস্পর বিরোধী হয়, তাহলে তাকে বলা হবে জটিল নপুংসক।
ফকিহগণ তার উত্তরাধিকার নিয়ে মত বিরোধে লিপ্ত। ইমাম আবু হানিফা বলেন: তাকে একবার পুরুষ ধরা হবে, অত:পর পুনরায় নারী ধরা হবে। তারপর দুই অবস্থার মধ্যে যেটি খারাপ সেই অনুসারে তার সাথে লেনদেন করা হবে। এক হিসেবে যদি সে উত্তরাধিকারী হয় এবং অন্য হিসেবে উত্তরাধিকারী না হয় তবে তাকে কিছুই দেয়া হবেনা। আর যদি উভয় হিসাবে উত্তরাধিকারী হয় এবং তার হিসসা কম বেশি হয়, তাহলে তাকে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র হিসসাটাই দেয়া হবে। ইমাম মালেক, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমামিয়া শিয়াগণ বলেন: পুরুষ ও স্ত্রীর অংশদ্বয়ের মধ্যবর্তী অংশ তাকে দেয়া হবে। ইমাম শাফেয়ি বলেন: সকল উত্তরাধিকারী ও নপুংসক উভয় অংশের মধ্যে যেটি ক্ষুদ্রতর সেটি পাবে। কেননা ওটাই তাদের উভয়ের জন্য অবশিষ্ট রয়েছে। ইমাম আহমদ বলেন: যদি আশা করা যায় তার প্রকৃত অবস্থা অচিরেই স্পষ্ট হবে, তাহলে প্রত্যেক উত্তরাধিকারী ও নপুংসককে ক্ষুদ্রতর অংশ দেয়া হবে ও অবশিষ্টাংশ স্থগিত রাখা হবে। আর যদি তেমন আশা না থাকে তাহলে পুরুষ ও স্ত্রীর অংশদ্বয়ের মধ্যবর্তী অংশ সে গ্রহণ করবে। এই শেষোক্ত মতটিই অগ্রগণ্য। তবে আধুনিক আইন ইমাম আবু হানিফার মতকে গ্রহণ করেছে। ৪৬ নং ধারায় বলা হয়েছে: 'যে নপুংসক জটিল এবং পুরুষ না স্ত্রী চেনা যায়না, তাকে ক্ষুদ্রতর অংশ দেয়া হবে। আর পরিত্যক্ত সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ অবশিষ্ট উত্তরাধিকারীদের দেয়া হবে।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00