📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 গর্ভস্থ সন্তান

📄 গর্ভস্থ সন্তান


এখানে শুধু উত্তরাধিকার ও গর্ভের মেয়াদকালের গির্ভস্থ সন্তান নিয়ে আলোচনা হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 উত্তরাধিকারের বিচারে

📄 উত্তরাধিকারের বিচারে


গর্ভস্থ সন্তান যদি মায়ের পেটে থাকে তবে তার বিধান এক রকম, আর যদি ভূমিষ্ঠ হয় তবে তার বিধান অন্য রকম।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 গর্ভস্থ সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে

📄 গর্ভস্থ সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে


সন্তান যদি সম্পূর্ণ জীবিত ভূমিষ্ঠ হয় তবে সেও অন্যের উত্তরাধিকারী হবে এবং অন্যেরাও তার উত্তরাধিকারী হবে। কেননা আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'নবজাতক যখন শব্দ করে তখন তার উপর উত্তরাধিকারের বিধান কার্যকর হয়। 'এখানে শব্দ করার অর্থ সন্তানের জীবিত থাকার লক্ষণ। জীবনের লক্ষণ যে কোনো শব্দ করা, শ্বাস প্রশ্বাস, হাঁচি ইত্যাদি। এটা ইমাম সাওরি, আওযায়ি, শাফেয়ি ও হানাফি ফকিহদের অভিমত। আর যদি সন্তান মৃত ভূমিষ্ঠ হয় এবং সেটা তার মায়ের উপর কোনো আঘাতের কারণে না হয়, তবে সর্বসম্মতভাবে সেও উত্তরাধিকারী হবেনা এবং অন্য কেউও তার উত্তরাধিকারী হবেনা। আর যদি তার মায়ের উপর কোনো অপরাধমূলক আঘাতের কারণে সন্তান মৃত ভূমিষ্ঠ হয় তবে হানাফি মযহাব মতে সে উত্তরাধিকারী হবে এবং অন্যেরাও তার উত্তরাধিকারী হবে।
শাফেয়ি, মালেকি ও হাম্বলি ফকিহগণ বলেন: সে কোনো উত্তরাধিকারের হকদার হবেনা। শুধু দিয়াতের এক দশমাংশ পাবে। আর এই দিয়াতের এক দশমাংশ ব্যতীত অন্য কেউও তার কাছে কোন উত্তরাধিকার পাবেনা। তার উত্তরাধিকারী হতে পারে এমন যাকেই কল্পনা করা যায় সে তার উত্তরাধিকারী হবে।
লায়েস ইবনে সাদ ও রাবিয়া ইবনে আব্দুর রহমান বলেন, গর্ভের সন্তান যদি তার মায়ের উপর কোনো আঘাতের কারণে মৃত ভূমিষ্ঠ হয়, তাহলে সেও কারো উত্তরাধিকারী হবেনা এবং অন্য কেউও তার উত্তরাধিকারী হবেনা। কেবল তার মা দিয়াতের এক দশমাংশ পাবে। এটা শুধু মা পাবে। কেননা গর্ভের সন্তান তার দেহেরই অংশ। আর আঘাতটা যখন একা তার উপরই পড়েছে, তখন ক্ষতিপূরণ সে একাই পাবে। আধুনিক আইনেও এই ব্যবস্থা রয়েছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মায়ের পেটে সন্তান

📄 মায়ের পেটে সন্তান


১. মায়ের পেটে যে সন্তান থাকে, সে যখন উত্তরাধিকারী হয়না অথবা অন্যের কারণে সে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তার জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে কিছুই স্থগিত রাখা যাবেনা। যখন কোন ব্যক্তি স্ত্রী, পিতা এবং তার পিতা ব্যতীত অন্যের ঔরসের সন্তান গর্ভে ধারণকারিণী মাতাকে রেখে মারা যায়, তখন এই গর্ভস্থ সন্তান কোনো উত্তরাধিকার পাবেনা। কেননা এই সন্তান বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন ছাড়া অন্য কিছু হতে পারেনা। আর আসল উত্তরাধিকারী পিতার সাথে বৈপিত্রেয় ভাই-বোন উত্তরাধিকারী হয়না।
২. গর্ভের সন্তান যদি উত্তরাধিকারী হয় এবং তার সাথে আর কোনো উত্তরাধিকারী একেবারেই না থাকে অথবা তার সাথে এমন একজন উত্তরাধিকারী থাকে, যে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত, তবে গর্ভের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত পরিত্যক্ত সম্পত্তির বণ্টন স্থগিত রাখা হবে। অনুরূপ যখন উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত নয় এমন উত্তরাধিকারীরা তার সাথে থাকবে এবং তারা সবাই স্পষ্টভাবে, মৌনভাবে বা বণ্টনের দাবি না জানানোর মাধ্যমে বন্টন স্থগিত রাখতে সম্মত থাকে তাহলেও বণ্টন স্থগিত রাখা হবে।
৩. গর্ভস্থ সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে যে উত্তরাধিকারীর হিসসা পরিবর্তিত হয়না, তার পুরো হিসসা দিয়ে দেয়া হবে এবং অন্যদের উত্তরাধিকার বণ্টন স্থগিত রাখা হবে। যেমন যখন কেউ দাদি ও গর্ভবতী স্ত্রী রেখে মারা যায় তখন দাদিকে এক ষষ্ঠাংশ দিয়ে দেয়া হবে। কেননা সন্তান ছেলে বা মেয়ে যাই হোক দাদির হিসসা অপরিবর্তিতই থাকবে।
৪. যে উত্তরাধিকারীর উত্তরাধিকার গর্ভস্থ সন্তানের দুই অবস্থার এক অবস্থায় রহিত হয় এবং অপর অবস্থায় রহিত হয় না, তাকে কোনো অংশ দেয়া হবেনা। কেননা তার প্রাপ্য অংশ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যেমন কেউ যদি ভাই ও গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে মারা যায় তবে ভাই কিছুই (আপাতত) পাবেনা। কারণ গর্ভস্থ সন্তান ছেলে হতে পারে। এটা অধিকাংশ আলেমের মত।
৫. গর্ভস্থ সন্তানের লিংগভেদে আসহাবুল ফুরুষের মধ্য হতে যার অংশ পরিবর্তিত হয়ে যায়, তাকে দুই অংশের মধ্যে যেটি ক্ষুদ্রতর সেটি দেয়া হবে এবং বৃহত্তর অংশ সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হবে। সন্তান যদি জীবিত ভূমিষ্ঠ হয় এবং বৃহত্তর অংশ তার প্রাপ্য হয়, তবে সে বৃহত্তর অংশটি নেবে। আর যদি বৃহত্তর অংশ তার প্রাপ্য না হয় বরং ক্ষুদ্রতর অংশ প্রাপ্য হয় তবে সে সেটি নেবে এবং অবশিষ্টাংশ সে উত্তরাধিকারীদেরকে ফেরত দেবে। যদি মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় তবে সে কিছুই পাবেনা এবং সমগ্র পরিত্যক্ত সম্পত্তি নবজাতককে ভ্রুক্ষেপ না করেই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00