📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যাবিল আরহাম

📄 যাবিল আরহাম


যাবিল আরহাম এমন আত্মীয়কে বলা হয়, যে কোনো নির্দিষ্ট অংশের অধিকারীও (আসহাবুল ফুরুষ) নয় এবং আসাবাও নয়। ফকিহগণ তাদেরকে উত্তরাধিকার প্রদানের ব্যাপারে নানা মত পোষণ করেন।
ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ির মতে তারা উত্তরাধিকারের হকদার বা প্রাপক নয়। বরং পরিত্যক্ত সম্পত্তি বাইতুল মালে জমা হবে। এ মত আবু বকর (রা) উমর (রা) উসমান (রা) যায়েদ, যুহারি, আওযায়ি ও দাউদেরও। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আহমদের মতে তারা উত্তরাধিকারের হকদার। এ মত আলি (রা) ইবনে আব্বাস (রা) ও ইবনে মাসউদেরও, যখন আসহাবুল ফুরুষ ও আসাবা থাকেনা তখন। সাইদ ইবনুল মুসাইয়াব বলেন; মেয়ের সাথে মামাও উত্তরাধিকারী হয়। আধুনিক আইনে এই মতের প্রতিফলন ঘটেছে। ৩১ থেকে ৩৮ নং ধারায় তাদেরকে উত্তরাধিকার দেয়ার পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে:
ধারা ৩১: প্রত্যক্ষ আসাবা ও প্রত্যক্ষ আসহাবুল ফুরুষের মধ্য থেকে যখন কাউকে পাওয়া যায়না, তখন পরিত্যক্ত সম্পত্তি বা তার অবশিষ্টাংশ যাবিল আরহামের জন্য হবে।
যাবিল আরহাম চার শ্রেণির, তন্মধ্যে উত্তরাধিকারে কতকের উপর কতকের প্রাধান্য রয়েছে নিম্মোক্ত ধারাবাহিকতা অনুসারে:
প্রথম শ্রেণি: মেয়ের সন্তানেরা এবং ছেলের মেয়ের সন্তানেরা, যতো নিম্নের হোক।
দ্বিতীয় শ্রেণি: নানা যতো ঊর্ধ্বের হোক এবং নানি যতো ঊর্ধ্বের হোক।
তৃতীয় শ্রেণি: বৈপিত্রেয় ভাইদের ছেলেরা ও তাদের সন্তানরা, যতো নিচের হোক, আপন বোন বা সৎ বোনদের মেয়েরা, যতো নিচের হোক, আপন বোনদের মেয়েরা বা সৎ বোনদের মেয়েরা, যতো নিচের হোক, আপন বা বৈমাত্রেয় ভাইদের ছেলেদের মেয়েরা, যতো নিচের হোক, এবং তাদের সন্তানেরা যতো নীচের হোক।
চতুর্থ শ্রেণি: চতুর্থ শ্রেণিতে ছয়টি গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত, যাদের মধ্যে একটি অপরটি অপেক্ষা উত্তরাধিকারে অগ্রগণ্যতার দাবি রাখে। অগ্রগণ্যতা অনুসারে তাদের ধারাক্রম নিম্নরূপ:
১. মৃত ব্যক্তির বৈপিত্রেয় চাচারা, আপন ফুফুরা, খালারা ও মামারা অথবা বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় ফুফুরা, মামারা ও খালারা।
২. উপরিউক্তদের সন্তানেরা যতো নিচের হোক, মৃতের আপন চাচাতো বোন অথবা বৈমাত্রেয় চাচাতো বোন এবং তাদের ছেলেদের মেয়েরা যতো নিচের হোক এবং উপরোক্তদের সন্তান যতো নিচের হোক।
৩. মৃতের পিতার বৈপিত্রেয় চাচারা, তার আপন ফুফুরা, মামারা, খালারা বা বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় ফুফুরা, মামারা, খালারা এবং মৃতের আপন চাচারা, ফুফুরা, মামারা ও খালারা অথবা মৃতের মায়ের বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় চাচারা, ফুফুরা, মামারা ও খালারা।
৪. উপর্যুক্তদের সন্তানেরা যতো নিচের হোক, মৃতের পিতার আপন কিংবা বৈমাত্রেয় চাচাতো বোনেরা এবং তাদের পৈত্রীরা যতো নিচের হোক এবং তাদের সন্তানেরা যতো নিচের হোক।
৫. মৃতের পিতার পিতার বৈপিত্রেয় চাচারা, মৃতের মায়ের পিতার আপন অথবা বৈমাত্রেয় চাচারা এবং পিতা ও মাতা উভয়ের আপন অথবা বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় ফুফুরা, মামারা ও খালারা। মৃতের মায়ের মায়ের চাচারা, মৃতের পিতার মায়ের চাচারা এবং মাতাও পিতা উভয়ের আপন কিংবা বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় ফুফুরা, খালারা ও মামারা।
৬. উপর্যুক্তদের সন্তানেরা যতো নিচের হোক। মৃতের পিতার পিতার আপন অথবা বৈমাত্রেয় চাচাতো বোনেরা এবং তাদের বৈপিত্রের যতো নিচের হোক এবং উপর্যুক্তদের সন্তানেরা যতো নিচের হোক।
ধারা ৩২: যাবিল আরহামের প্রথম শ্রেণিটির মধ্যে উত্তরাধিকার পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার তারাই যারা মৃতের সর্বাপেক্ষা ঘনিষ্ঠ জন। যদি তারা সবাই সমান ঘনিষ্ঠ হয়, তাহলে আসহাবুল ফুরুযের সন্তান যাবিল আরহামের সন্তানের চেয়ে অগ্রগণ্য। আর যদি তারা সবাই ঘনিষ্ঠতায় সমান হয় এবং তাদের মধ্যে কোনো আসহাবুল ফুরুষের সন্তান না থাকে অথবা সবাই আসহাবুল ফুরুষের কোনো একজনের সাথে সম্পৃক্ত হয় তাহলে তারা সবাই উত্তরাধিকারের অংশীদার হবে।
ধারা ৩৩: যাবিল আরহামের দ্বিতীয় শ্রেণির মধ্যে উত্তরাধিকারের সবচেয়ে বেশি হকদার তারাই যারা মৃতের ঘনিষ্ঠতম। যদি সবাই ঘনিষ্ঠতায় সমান হয় তবে অগ্রগণ্য হবে যাবিল ফুরুযের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তি। তাতেও যদি সবাই সমান হয় অর্থাৎ হয় সবাই যাবিল ফুরুষের সাথে সম্পৃক্ত, কিংবা কেউ তা নয়, তবে তারা আত্মীয়তার ঘনিষ্ঠতায় সমপর্যায়ের কিনা দেখতে হবে। যদি সমপর্যায়ের হয় তবে উত্তরাধিকারে সমান অংশীদার হবে। আর যদি সমপর্যায়ের না হয়, তবে পিতার আত্মীয়রা পাবে দুই তৃতীয়াংশ এবং মায়ের আত্মীয়রা এক তৃতীয়াংশ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 গর্ভস্থ সন্তান

📄 গর্ভস্থ সন্তান


এখানে শুধু উত্তরাধিকার ও গর্ভের মেয়াদকালের গির্ভস্থ সন্তান নিয়ে আলোচনা হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 উত্তরাধিকারের বিচারে

📄 উত্তরাধিকারের বিচারে


গর্ভস্থ সন্তান যদি মায়ের পেটে থাকে তবে তার বিধান এক রকম, আর যদি ভূমিষ্ঠ হয় তবে তার বিধান অন্য রকম।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 গর্ভস্থ সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে

📄 গর্ভস্থ সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে


সন্তান যদি সম্পূর্ণ জীবিত ভূমিষ্ঠ হয় তবে সেও অন্যের উত্তরাধিকারী হবে এবং অন্যেরাও তার উত্তরাধিকারী হবে। কেননা আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'নবজাতক যখন শব্দ করে তখন তার উপর উত্তরাধিকারের বিধান কার্যকর হয়। 'এখানে শব্দ করার অর্থ সন্তানের জীবিত থাকার লক্ষণ। জীবনের লক্ষণ যে কোনো শব্দ করা, শ্বাস প্রশ্বাস, হাঁচি ইত্যাদি। এটা ইমাম সাওরি, আওযায়ি, শাফেয়ি ও হানাফি ফকিহদের অভিমত। আর যদি সন্তান মৃত ভূমিষ্ঠ হয় এবং সেটা তার মায়ের উপর কোনো আঘাতের কারণে না হয়, তবে সর্বসম্মতভাবে সেও উত্তরাধিকারী হবেনা এবং অন্য কেউও তার উত্তরাধিকারী হবেনা। আর যদি তার মায়ের উপর কোনো অপরাধমূলক আঘাতের কারণে সন্তান মৃত ভূমিষ্ঠ হয় তবে হানাফি মযহাব মতে সে উত্তরাধিকারী হবে এবং অন্যেরাও তার উত্তরাধিকারী হবে।
শাফেয়ি, মালেকি ও হাম্বলি ফকিহগণ বলেন: সে কোনো উত্তরাধিকারের হকদার হবেনা। শুধু দিয়াতের এক দশমাংশ পাবে। আর এই দিয়াতের এক দশমাংশ ব্যতীত অন্য কেউও তার কাছে কোন উত্তরাধিকার পাবেনা। তার উত্তরাধিকারী হতে পারে এমন যাকেই কল্পনা করা যায় সে তার উত্তরাধিকারী হবে।
লায়েস ইবনে সাদ ও রাবিয়া ইবনে আব্দুর রহমান বলেন, গর্ভের সন্তান যদি তার মায়ের উপর কোনো আঘাতের কারণে মৃত ভূমিষ্ঠ হয়, তাহলে সেও কারো উত্তরাধিকারী হবেনা এবং অন্য কেউও তার উত্তরাধিকারী হবেনা। কেবল তার মা দিয়াতের এক দশমাংশ পাবে। এটা শুধু মা পাবে। কেননা গর্ভের সন্তান তার দেহেরই অংশ। আর আঘাতটা যখন একা তার উপরই পড়েছে, তখন ক্ষতিপূরণ সে একাই পাবে। আধুনিক আইনেও এই ব্যবস্থা রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00