📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 রদ সম্পর্কে ফকিহদের অভিমত

📄 রদ সম্পর্কে ফকিহদের অভিমত


রদ সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে কোনো বক্তব্য নেই। এ জন্য এ ব্যাপারে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ হয়েছে। কেউ বলেন: আসহাবুল ফুরুষের কাউকে উদ্বৃত্ত থেকে কোনো অংশ রদ করা বা ফিরিয়ে দেয়া যাবেনা। বরং আসহাবুল ফুরুষ কর্তৃক নিজ নিজ অংশ নেয়ার পর যা উদ্বৃত্ত থাকবে এবং কোনো উত্তরাধিকারী পাওয়া যাবেনা, তা বাইতুল মালে জমা হবে। (এটা যায়েদ ইবনে সাবিত, উরওয়া, যুহরি, ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেয়ির মত)। আবার কেউ বলেন: সকল আসহাবুল ফুরুষকে উদ্বৃত্ত অংশ তাদের অংশের অনুপাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে। এমনকি স্বামী স্ত্রীকেও। এটা উসমান (রা) এর মত।
কারো কারো মত: স্বামী, স্ত্রী পিতা ও পিতামহ ব্যতীত সকল আসহাবুল ফুরুজকে উদ্বৃত্ত অংশ দেয়া হবে। সুতরাং মোট আট শ্রেণিকে উদ্বৃত্ত অংশ দেয়া হবে:
১. মেয়ে
২. ছেলের মেয়ে
৩. সহোদর বোন
৪. বৈমাত্রেয় বোন
৫. মা
৬. দাদি
৭. বৈপিত্রেয় ভাই
৮. বৈপিত্রেয় বোন
বস্তুত এটাই সর্বজনগ্রাহ্য মত। এটা ওমর (রা), আলি (রা) অধিকাংশ সাহাবি, অধিকাংশ তাবেয়ির মত। তাছাড়া বাইতুল মালে যখন বিপর্যয় ঘটে, তখন ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আহমদ, ইমাম শাফিয়ি, মাযহাবের নির্ভরযোগ্য অংশ এবং ইমাম মালেকের কোনো কোনো শিষ্যেরও মত এটাই। তারা বলেন: স্বামী স্ত্রীকে দেয়া হবেনা এজন্য যে, একমাত্র রক্ত সম্পর্কের কল্যাণেই উদ্বৃত্ত অংশ পাওয়া যায়। অথচ দাম্পত্য সম্পর্ক হেতু এখানে রক্ত সম্পর্কের অস্তিত্ব নেই। পিতা ও পিতামহও উদ্বৃত্ত অংশ পাবেনা। কেননা এটা শুধু উত্তরাধিকারী না থাকলেই পাওয়া যায়। অথচ পিতা ও পিতামহ উত্তরাধিকারী। কাজেই তারা অবশিষ্ট অংশ উত্তরাধিকারী সূত্রে পাবে, উদ্ধৃত্ত হিসাবে নয়। আধুনিক আইন এই মতটিকে সর্বত্রই অনুসরণ করে শুধু একটি মাসয়ালা ব্যতীত। সেই মাসলায় উসমান (রা) এর মত অনুসরণ করা হয়েছে। সেখানে স্বামী স্ত্রীর একজনকে উদ্বৃত্ত অংশ দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। মাসয়ালাটি হলো; স্বামী স্ত্রীর একজন যখন মারা যায় এবং অপর জন ব্যতীত আর কোনো উত্তরাধিকারী রেখে যায়না, তখন স্বামী স্ত্রীর মধ্য হতে যে জন জীবিত, সে উত্তরাধিকার হিসাবেও এবং রদ হিসাবেও সমগ্র পরিত্যক্ত সম্পত্তি পাবে। তবে আইনে স্বামী স্ত্রীর একজনকে উদ্বৃত্ত অংশ দেয়ার সময় অবশ্যই মাতৃপক্ষীয় আত্মীয়দের পরে দিতে হবে। ৩০ নং ধারায় বলা হয়েছে
'উত্তরাধিকারের নির্ধারিত অংশগুলো যদি গোটা পরিত্যক্ত সম্পত্তিকে গ্রাস না করে এবং প্রত্যক্ষ আসাবার মধ্য থেকেও কাউকে না পাওয়া যায়, তবে অবশিষ্ট পরিত্যক্ত সম্পত্তি স্বামী স্ত্রী ব্যতীত অন্যান্য আসহাবুল ফুরুষকে তাদের প্রাপ্য অংশের অনুপাতে দেয়া হবে। অত:পর যেটুকু অবশিষ্ট থাকবে তা শুধু তখনই স্বামী স্ত্রীর একজনকে দেয়া হবে যখন প্রত্যক্ষ আসাবার কাউকে পাওয়া যাবেনা, কিংবা কোনো বংশীয় উত্তরাধিকারীও পাওয়া যাবেনা কিংবা কোনো মাতৃপক্ষীয় আত্মীয়ও পাওয়া যাবেনা।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 রদের সমস্যাবলী সমাধানের পদ্ধতি

📄 রদের সমস্যাবলী সমাধানের পদ্ধতি


আসহাবুল ফুরুষের সংগে যখন স্বামী স্ত্রীর একজন থাকে, যাকে উদ্বৃত্ত পরিত্যক্ত সম্পত্তি দেয়া যায়না, তখন সে মূল পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে তার যে নির্দিষ্ট অংশ পাওনা থাকে তা গ্রহণ করবে।
অত:পর যেটুকু উদ্বৃত্ত থাকে তা আসহাবুল ফুরুষের জন্য থাকবে। তারা যদি একই শ্রেণির হয় তবে তাদের সংখ্যা অনুযায়ী তাদের মধ্যে বণ্টিত হবে। চাই উক্ত শ্রেণির মধ্য থেকে একজন থাকুক, যেমন এক মেয়ে অথবা একাধিক থাকুক যেমন তিন মেয়ে। আর যদি একাধিক শ্রেণির হয় যেমন মা ও মেয়ে। তাহলে উদ্বৃত্ত পরিত্যক্ত সম্পত্তি তাদের মধ্যে তাদের প্রাপ্য অংশ অনুপাতে বষ্টিত হবে এবং উদ্বৃত্ত অংশও সেই অনুপাতে রদ করা হবে। আর যদি আস্হাবুল ফুরুষের সাথে স্বামী স্ত্রীর একজন না থাকে, তাহলে তাদের প্রাপ্য অংশ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা তাদেরকে তাদের সংখ্যা অনুযায়ী দেয়া হবে যদি একই শ্রেণীভুক্ত হয়। চাই উক্ত শ্রেণির মধ্য থেকে মাত্র একজন উপস্থিত থাকুক, অথবা একাধিক জন। আর যদি একাধিক শ্রেণির লোক থাকে তবে অবশিষ্টাংশ তাদেরকে তাদের অংশ অনুপাতে দেয়া হবে। এভাবে প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর অংশ তার অংশ অনুপাতে বেড়ে যাবে এবং সে অংশ ও রদ উভয় হিসাবে উত্তরাধিকার লাভ করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00