📄 আওলের কয়েকটি দৃষ্টান্ত
১. জনৈকা মহিলা স্বামী, দুই সহোদরা বোন ও দুই বৈপিত্রেয় বোন রেখে মারা যায়। এটিকে শুরাইহী মাসয়ালা নামে আখ্যায়িত করা হয়। কেননা খ্যাতিমান বিচারক শুরাইহ্ স্বামীকে তার প্রাপ্য অর্ধেক সম্পত্তির পরিবর্তে দশ ভাগের ৩ ভাগ দিয়েছিলেন। তাই সে গোত্রে গোত্রে ঘুরে বলে বেড়াচ্ছিল: শুরাইহ আমাকে অর্ধেকও দিলনা, এক তৃতীয়াংশও দিলনা। সংবাদ পেয়ে শুরাইহ্ তার কাছে এলেন, তাকে শাস্তি দিলেন এবং বললেন: তুমি অপপ্রচার চালাচ্ছ এবং আওল গোপন করছ।' ২. জনৈক ব্যক্তি স্ত্রী, দুই মেয়ে, পিতা ও মাতা রেখে মারা গেল। আলি (রা) কুফার মসজিদে খুতবা দেয়ার সময় বললেন: 'মহান আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা, যিনি অকাট্যভাবে সত্যের ফায়সালা করেন, প্রত্যেক মানুষকে তার চেষ্টার প্রতিফল দেন এবং তার কাছেই সবাইকে ফিরে যেতে হবে।' এসময় উক্ত ব্যক্তির উত্তরাধিকারের সমস্যাটা জানালে তিনি জবাব দিলেন: মহিলাটির এক অষ্টমাংশ এক নবমাংশে রূপান্তরিত হয়েছে।' তারপর তিনি তাঁর অবশিষ্ট খুতবা সম্পন্ন করেন।
যে সব মাসয়ালায় আওল হয়, তার মূল হচ্ছে ৬-১২- ২৪ অর্থাৎ হয় কখনো সাতে, কখনো আটে, কখনো নয়ে, কখনো দশে রূপান্তরিত হতে পারে। আর বারো কখনো তেরোতে, পনেরোতে বা সতেরোতে রূপান্তরিত হতে পারে। কিন্তু চব্বিশ কখনো সাতাশে ব্যতীত রূপান্তরিত হয়না। আর যে সকল মাসয়ালায় আদৌ আওল হয়না, তা হচ্ছে সেই সব মাসয়ালা, যার মূল ২-৩-৪-৮ উত্তরাধিকার আইনের ১৫ নং ধারায় আওল অনুসৃত হয়েছে। ধারাটিতে বলা হয়েছে, 'আসহাবুল ফুরুষের অংশগুলো যখন মোট পরিত্যক্ত সম্মত্তির চেয়ে বেশি হয়ে যাবে, তখন তা তাদের উত্তরাধিকারের অংশ অনুপাতে তাদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।'
📄 আওলের সমস্যাগুলো সমাধানের পদ্ধতি
আপনাকে মূল মাসয়ালাটি অনুধাবন করতে হবে, প্রত্যেক হকদারের প্রাপ্য অংশ কতটুকু জানতে হবে, তারপর তাদের অংশগুলো যোগ করবেন এবং সমষ্টিকে মূল ধরে নিবেন, অত:পর মোট পরিত্যক্ত সম্পত্তিকে মূল দিয়ে ভাগ দিবেন। এভাবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অংশ থেকে তার ভাগে কতটুকু কম পড়ে জানা যাবে। কাজেই কোনো যুলুম বা বঞ্চনা হবেনা। যেমন স্বামী ও দুই সহোদরা বোনের ব্যাপার ধরুন। মূল সম্পত্তিকে যদি ছয় ধরি, তবে স্বামীর প্রাপ্য হয় অর্ধেক অর্থাৎ তিন, আর দুই বোনের প্রাপ্য দুই তৃতীয়াংশ অর্থাৎ চার। এভাবে সমষ্টি দাঁড়ালো সাত। কাজেই পরিত্যক্ত সম্পত্তিকে সাত ভাগ করতে হবে। (মূল ছিলো হয়। কিন্তু তাকে সাত ভাগ করে আওল করা হলো।)