📄 পরনির্ভর আসাবা
পরনির্ভর আসাবা এমন মহিলাকে বলা হয়, যে আসাবা হতে অন্য মহিলার উপর নির্ভরশীল। পরনির্ভর আসাবা মাত্র দু'রকমের:
১. সহোদরা বোন বা সহোদরা বোনের মেয়ে বা ছেলের মেয়ের সাথে।
২. বৈমাত্রেয় এক বা একাধিক বোন, মেয়ে বা ছেলের মেয়ের সাথে।
নির্ধারিত অংশগুলো বণ্টনের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি তারা পাবে।
📄 পুরুষ আসাবাকে উত্তরাধিকার প্রদানের পদ্ধতি
কিভাবে মহিলা আসাবা ও পরনির্ভর আসাবাকে উত্তরাধিকার প্রদান করতে হয়, তা ইতোপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
এখন পুরুষ আসাবাকে কিভাবে উত্তরাধিকার প্রদান করতে হবে তা আলোচনা করছি:
পুরুষ আসাবা চার প্রকার এবং তারা নিম্নরূপ ধারাক্রমে উত্তরাধিকার পাবে:
১. ছেলে ও ছেলের ছেলে, যত নিম্ন পর্যন্ত যাক।
২. ছেলে ও ছেলের ছেলের দিকের কাউকে না পাওয়া গেলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি পিতৃপুরুষদের দিকে স্থানান্তরিত হবে এবং তাদের মধ্যে পিতা, দাদা ও তদূর্ধ্বগণ অন্তর্ভুক্ত।
৩. পিতৃপুরুষদের মধ্য থেকে কেউ জীবিত না থাকলে ভাইয়েরা পরিত্যক্ত সম্পত্তি বা তার অবশিষ্টাংশ পাবে। আর ভাইদের মধ্যে আপন ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই, আপন ভাইয়ের ছেলেরা, বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলেরা ও তদনিম্নবর্তীরা অন্তর্ভুক্ত।
৪. এ দিকের কেউ জীবিত না থাকলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বা তার অবশিষ্টাংশ চাচাদের দিকে স্থানান্তরিত হবে, চাই তারা মৃত ব্যক্তির চাচা হোক বা তার পিতা বা দাদার চাচা। তবে সর্বাবস্থায় মৃত ব্যক্তির চাচারা তার পিতার চাচাদের উপর এবং পিতার চাচারা দাদার চাচাদের উপর অগ্রাধিকার পাবে। একই পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তিকে পাওয়া গেলে তাদের মধ্যে যিনি মৃত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠতর তিনিই উত্তরাধিকার প্রাপ্তিতে অগ্রগণ্য হবেন। আর মৃত ব্যক্তির সাথে তাদের সবার সম্পর্ক যদি সমান হয়, তবে যার আত্মীয়তা অধিকতর শক্তিশালী, সে উত্তরাধিকারে অগ্রগণ্য হবে। আর সকলের আত্মীয়তা সমান শক্তিশালী হলে তারা সবাই সমভাবে উত্তরাধিকারী হবে এবং সংখ্যা অনুযায়ী তাদের মধ্যে উত্তরাধিকার বন্টিত হবে।
অপ্রকৃত আসাবা: অপ্রকৃত আসাবা হলো সাবেক মনিব, চাই পুরুষ হোক বা স্ত্রী। সাবেক মনিব না থাকলে মৃতের পুরুষ আসাবার মধ্যে উত্তরাধিকার বন্টিত হবে।
📄 অবরুদ্ধ আসাবা
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 উত্তরাধিকার থেকে আধুনিক বঞ্চনা ও পূর্ণ বঞ্চনা
কোনো ব্যক্তির উপস্থিতির কারণে অপর ব্যক্তি উত্তরাধিকার থেকে আংশিক বা পুরোপুরি বঞ্চিত হলে তাকে ‘হজব’ বলা হয় এবং বঞ্চিতকে বলা হয় ‘মাহজুব’। আর উত্তরাধিকার প্রাপ্তিতে কোনো বিধিগত অন্তরায় সৃষ্টির কারণে কাউকে তার গোটা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করাকে ‘হিরমান’ ও বঞ্চিতকে ‘মাহরুম’ বলা হয়।