📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী

📄 তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী


রজয়ী (প্রত্যাহারযোগ্য) তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর স্বামী স্ত্রীর ইদ্দত সমাপনের আগে মারা গেলে সে স্বামীর উত্তরাধিকার পাবে। হাম্বলি ফকিহগণের মতে, যে স্ত্রীকে সহবাস ও নির্জন সাক্ষাতের পূর্বে তালাক দেয়া হয়েছে, তার স্বামী যদি মৃত্যু প্রাক্কালীন রোগাবস্থায় তালাক দিয়ে ঐ রোগাবস্থায়ই মারা যায়, তবে স্ত্রী অন্য স্বামীকে বিয়ে না করা পর্যন্ত উত্তরাধিকার পাবে। তবে তাকে মৃত্যুজনিত ইদ্দত পালন করতে হবে।
আধুনিক আইন মৃত্যু প্রাক্কালীন রোগাবস্থায় বায়েন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে স্ত্রী গণ্য করে, যদি স্ত্রী ঐ তালাকে অসম্মত থাকে এবং তার ইদ্দত পালনরত অবস্থায় একই রোগে স্বামী মারা যায়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 উত্তরাসজাত কন্যার অবস্থা

📄 উত্তরাসজাত কন্যার অবস্থা


আল্লাহ্ তায়ালা বলেন: 'আল্লাহ্ তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক ছেলের অংশ দুই মেয়ের অংশের সমান। কিন্তু কেবল কন্যা দুইয়ের অধিক থাকলে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ। আর মাত্র এক কন্যা থাকলে তার জন্যে অর্ধাংশ।' এ আয়াত থেকে জানা যাচ্ছে: ঔরসজাত কন্যার তিন রকম অবস্থা।
প্রথম অবস্থা: একটি মাত্র কন্যা থাকলে সে পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক পাবে।
দ্বিতীয় অবস্থা: দুই বা ততোধিক কন্যা থাকলে এবং তাদের সাথে এক বা একাধিক পুত্র না থাকলে উক্ত দুই বা ততোধিক কন্যা পাবে দুই তৃতীয়াংশ। ইবনে কুদামা বলেন: ইবনে আব্বাসের একটি বিরল বর্ণনা ব্যতীত সমগ্র আলেম সমাজ একমত যে, দুই মেয়ের অংশ দুই তৃতীয়াংশ। ইবনে রুশদ বলেন: ইবনে আব্বাসের বহুল পরিচিত মতটি অন্য সকলের মতের অনুরূপ।
তৃতীয় অবস্থা: যখন মেয়ের সাথে এক বা একাধিক ছেলে থাকে তখন মেয়ে সকলের সাথে দুই কন্যার সমান এক ছেলে ভিত্তিতে অংশ পাবে। অনুরূপ মেয়ে বা ছেলে একাধিক হলে তখনও তদ্রূপ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সহোদর বোনের অবস্থা

📄 সহোদর বোনের অবস্থা


আল্লাহ্ সূরা নিসার শেষ আয়াতে বলেন: يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللهُ يَفْتِيْكُمْ فِي الْكَلْلَةِ ط إِنِ امْرُوا مَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدْ وَلَةٌ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا ترك ج وَهُوَ يَرِثُهَا إِن لَّمْ يَكُنْ لَمَا وَلَنْ طَ فَإِنْ كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلْنِ مِمَّا تَرَكَ طَ وَإِنْ كَانُوا إِخْوَةٌ رجالاً ونِسَاءً فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأَنْثَيَيْنِ.
'লোকেরা তোমার নিকট ব্যবস্থা জানতে চায়। বল, পিতামাতাহীন নি:সন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তোমাদেরকে আল্লাহ্ ব্যবস্থা জানাচ্ছেন: কোনো পুরুষ মারা গেলে সে যদি সন্তানহীন হয় এবং তার একটা বোন থাকে, তবে সে বোনের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক এবং সে বোন যদি সন্তানহীনা হয় তবে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে। আর দুই বোন থাকলে তাদের জন্য তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ। আর যদি ভাই বোন উভয় থাকে, তবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান।'
রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'তোমরা বোনদেরকে মেয়েদের সাথে আসাব বানিয়ে নাও।'
সহোদরা বোনের পাঁচটি অবস্থা:
১. একমাত্র বোন থাকলে এবং তার সাথে কোনো সন্তান, ছেলের সন্তান, পিতা, দাদা, বা সহোদর ভাই না থাকলে, সে অর্ধেক সম্পত্তি পাবে।
২. দুই বা ততোধিক সহোদর বোন হলে, কোনো পুরুষ উত্তরাধিকারী না থাকলে দুই তৃতীয়াংশ পাবে।
৩. দুই বা ততোধিক সহোদর বোনের সাথে একজন সহোদর ভাই থাকলে উক্ত ভাই বোনদের সাথে 'দুই নারীর সমান এক পুরুষ' ভিত্তিতে উত্তরাধিকার পাবে।
৪. বোনরা মেয়েদের সাথে ও ছেলের মেয়েদের সাথে উত্তরাধিকারী হবে, তারা মেয়েদের বা ছেলের মেয়েদের অংশের পর বাদবাকি সম্পত্তি নেবে।
৫. ছেলে বা ছেলের ছেলের সাথে এবং পিতার সাথে মিলিত হলে সহোদর বোনেরা কিছুই পাবেনা। এটা ফকিহদের সর্বসম্মত মত। দাদা থাকলেও ইমাম আবু হানিফার মতে সহোদর বোনেরা কিছুই পাবেনা। এ ব্যাপারে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের দ্বিমত রয়েছে, যা ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বৈমাত্রেয় বোনদের অবস্থা

📄 বৈমাত্রেয় বোনদের অবস্থা


বৈমাত্রেয় বোনদের ছয় অবস্থা:
১. আর কোন বৈমাত্রেয় ভাই নেই, বোন নেই, সহোদর বোন নেই, এমতাবস্থায় একমাত্র বৈমাত্রেয় বোন পাবে অর্ধেক সম্পত্তি।
২. দুই বা ততোধিক বৈমাত্রেয় বোন পাবে দুই তৃতীয়াংশ।
৩. একমাত্র সহোদর বোনের সাথে পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যাতে দুই তৃতীয়াংশ পূর্ণ হয়।
৪. এক বা একাধিক বৈমাত্রেয় বোনের সাথে যখন বৈমাত্রেয় ভাই থাকে, তখন 'দুই নারীর সমান এক পুরুষ' এই নীতির ভিত্তিতে উত্তরাধিকার পাবে।
৫. এক বা একাধিক বৈমাত্রেয় বোনের সাথে যখন মেয়ে বা ছেলের মেয়ে থাকে, তখন মেয়ে ও ছেলের মেয়ের অংশ দিয়ে যা অবশিষ্ট থাকবে তা তাদের হবে।
৬. নিম্নোক্ত ব্যক্তিরা যুক্ত হলে বৈমাত্রেয় বোনেরা কিছুই পাবেনা:
১. উত্তরাধিকারী ছেলে বা পিতা।
২. সহোদর ভাই।
৩. সহোদরা বোন, যখন সে মেয়ে বা ছেলের মেয়ের সাথে যুক্ত হবে। কেননা সে এরূপ অবস্থায় সহোদর ভাইয়ের সমপর্যায়ে চলে যাবে। তাই তাকে বৈমাত্রেয় ভাই ও বৈমাত্রেয় বোনদের চেয়ে ঊর্ধ্বে স্থান দেয়া হবে, যখন সে অন্যদের সাথে যুক্ত হবে।
৪. দুই সহোদরা বোনের সাথে। তবে যখন তাদের সমপর্যায়ে কোনো বৈমাত্রেয় ভাই থাকবে, তখন অবশিষ্ট সম্পত্তি 'দুই নারীর সমান এক পুরুষ' ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে। সুতরাং মৃত ব্যক্তি যখন দু'জন সহোদর বোন, দু'য়ের অধিক বৈমাত্রেয় বোন এবং একজন বৈমাত্রেয় ভাই রেখে যাবে, তখন সহোদরা দুই বোনের জন্য দুই তৃতীয়াংশ থাকবে। আর অবশিষ্ট সম্পত্তি বৈমাত্রেয় বোনদের ও বৈমাত্রেয় ভাইয়ের মধ্যে দুই নারীর সমান এক পুরুষ' নীতির ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00