📄 স্বামীর বিভিন্ন অবস্থা
আল্লাহ্ বলেন: وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِن لم يَكُن لَمَنْ وَلَنْ جَ فَإِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرَّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ 'তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ তোমাদের জন্য যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে। আর তাদের সন্তান থাকলে তোমাদের জন্য তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ।' (সূরা নিসা, ১২)। এ আয়াতে বলা হলো, স্বামীর দুটো অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: উত্তরাধিকারী সন্তান না থাকলে সে অর্ধেক সম্পত্তি পাবে। এই সন্তান উক্ত স্বামীর ঔরসজাত হোক বা অন্য স্বামীর ঔরসজাত হোক, তাতে কিছু যায় আসে না। সন্তান দ্বারা ছেলে মেয়ে ও ছেলের মেয়ে বুঝায়।
দ্বিতীয় অবস্থা: উত্তরাধিকারী সন্তান থাকলে স্বামী এক চতুর্থাংশ সম্পত্তি পাবে।
📄 স্ত্রীর অবস্থা
আল্লাহ্ বলেন: ولَهُنَّ الرَّبعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّكُمْ وَلَدْ ج فَإِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَنْ فَلَهُنَّ الثَّمَنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ . 'তোমাদের সন্তান না থাকলে তোমাদের স্ত্রীদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ, আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক অষ্টমাংশ।' (সূরা নিসা, ১২) এ আয়াত থেকে জানা গেল স্ত্রীর দু'টি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: স্বামীর উত্তরাধিকারী সন্তান না থাকলে সে এক চতুর্থাংশ পাবে। চাই এ সন্তান তার উদরজাত হোক বা অন্য কারো উদরজাত।
দ্বিতীয় অবস্থা: স্বামীর উত্তরাধিকারী সন্তান থাকলে স্ত্রী এক অষ্টমাংশ পাবে। একাধিক স্ত্রী থাকলে তারা প্রথম অবস্থায় এক চতুর্থাংশ ও দ্বিতীয় অবস্থায় এক অষ্টমাংশ নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেবে।
📄 তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী
রজয়ী (প্রত্যাহারযোগ্য) তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর স্বামী স্ত্রীর ইদ্দত সমাপনের আগে মারা গেলে সে স্বামীর উত্তরাধিকার পাবে। হাম্বলি ফকিহগণের মতে, যে স্ত্রীকে সহবাস ও নির্জন সাক্ষাতের পূর্বে তালাক দেয়া হয়েছে, তার স্বামী যদি মৃত্যু প্রাক্কালীন রোগাবস্থায় তালাক দিয়ে ঐ রোগাবস্থায়ই মারা যায়, তবে স্ত্রী অন্য স্বামীকে বিয়ে না করা পর্যন্ত উত্তরাধিকার পাবে। তবে তাকে মৃত্যুজনিত ইদ্দত পালন করতে হবে।
আধুনিক আইন মৃত্যু প্রাক্কালীন রোগাবস্থায় বায়েন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে স্ত্রী গণ্য করে, যদি স্ত্রী ঐ তালাকে অসম্মত থাকে এবং তার ইদ্দত পালনরত অবস্থায় একই রোগে স্বামী মারা যায়।
📄 উত্তরাসজাত কন্যার অবস্থা
আল্লাহ্ তায়ালা বলেন: 'আল্লাহ্ তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক ছেলের অংশ দুই মেয়ের অংশের সমান। কিন্তু কেবল কন্যা দুইয়ের অধিক থাকলে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ। আর মাত্র এক কন্যা থাকলে তার জন্যে অর্ধাংশ।' এ আয়াত থেকে জানা যাচ্ছে: ঔরসজাত কন্যার তিন রকম অবস্থা।
প্রথম অবস্থা: একটি মাত্র কন্যা থাকলে সে পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক পাবে।
দ্বিতীয় অবস্থা: দুই বা ততোধিক কন্যা থাকলে এবং তাদের সাথে এক বা একাধিক পুত্র না থাকলে উক্ত দুই বা ততোধিক কন্যা পাবে দুই তৃতীয়াংশ। ইবনে কুদামা বলেন: ইবনে আব্বাসের একটি বিরল বর্ণনা ব্যতীত সমগ্র আলেম সমাজ একমত যে, দুই মেয়ের অংশ দুই তৃতীয়াংশ। ইবনে রুশদ বলেন: ইবনে আব্বাসের বহুল পরিচিত মতটি অন্য সকলের মতের অনুরূপ।
তৃতীয় অবস্থা: যখন মেয়ের সাথে এক বা একাধিক ছেলে থাকে তখন মেয়ে সকলের সাথে দুই কন্যার সমান এক ছেলে ভিত্তিতে অংশ পাবে। অনুরূপ মেয়ে বা ছেলে একাধিক হলে তখনও তদ্রূপ।