📄 পিতার বিভিন্ন অবস্থা
আল্লাহ বলেন: 'তার (মৃত ব্যক্তির) সন্তান থাকলে তার পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক ষষ্ঠাংশ। সে নিঃসন্তান হলে এবং শুধু পিতামাতাই উত্তরাধিকারী হলে তার মাতার জন্য এক তৃতীয়াংশ।' (উল্লেখ্য, এ আয়াতে সন্তান দ্বারা ছেলে বা মেয়ে উভয়কে বুঝানো হয়েছে। এখানে মৃত ব্যক্তি নিঃসন্তান হলে মায়ের অংশ উল্লেখ করা ও পিতার অংশ উল্লেখ না করা দ্বারা বুঝা যায়, অবশিষ্ট অংশ পিতার।)
পিতার তিন অবস্থা:
এক অবস্থায় সে শুধু নির্দিষ্ট অংশ পায়, আরেক অবস্থায় সে একাধিক উত্তরাধিকারীর সাথে প্রাপ্য অংশ পায়, আরেক অবস্থায় নির্দিষ্ট ও একাধিক উত্তরাধিকারীর সাথে প্রাপ্য অংশ উভয়ই পায়।
প্রথম অবস্থা: মৃতের একজন মাত্র বা একাধিক পুরুষ সন্তান থাকলে পিতার প্রাপ্য এক ষষ্ঠাংশ।
দ্বিতীয় অবস্থা: মৃতের কোনো পুরুষ বা কন্যা সন্তান উত্তরাধিকারী না থাকলে এবং পিতা একা উত্তরাধিকারী হলে সে সমগ্র সম্পত্তি পাবে। আর মৃতের কোনো সন্তান থাকলে পিতা আসহাবুল ফুরুষের অবশিষ্টদের সাথে প্রাপ্য অংশ পাবে।
তৃতীয় অবস্থা: পিতার সাথে যদি মৃতের কোনো কন্যা সন্তান থাকে, তবে পিতা নির্দিষ্ট এক ষষ্ঠাংশ তো পাবেই, সেই সাথে আসহাবুল ফুরুষের সাথে প্রাপ্য অংশও পাবে।
📄 প্রত্যক্ষ দাদার অবস্থা
দাদা দু'রকম: প্রত্যক্ষ দাদা ও পরোক্ষ দাদা।
প্রত্যক্ষ দাদা হলো সেই দাদা, যার সাথে মৃতের সম্পর্ক কোনো নারীর মাধ্যম ব্যতীত সরাসরিভাবে হওয়া সম্ভব, যেমন পিতার পিতা। আর পরোক্ষ দাদা হলো, মৃতের সাথে যার সম্পর্ক একজন নারীর মাধ্যমে ব্যতীয়ত হয়না, যেমন মায়ের পিতা (নানা), প্রত্যক্ষ দাদা অর্থাৎ পিতার পিতার উত্তরাধিকার সর্বসম্মতভাবে প্রমাণিত। ইম্মান ইবনে হাছীন (রা) থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি রসূল (সা) এর নিকট এসে বললো: আমার ছেলের ছেলে মারা গেছে। তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে আমি কতটুকু পাবো? তিনি বললেন: তুমি এক ষষ্ঠাংশ পাবে। অত:পর যখন সে রওনা হলো, অমনি তিনি তাকে ডেকে বললেন: তুমি এক ষষ্ঠাংশ পাবে। তারপর যখন সে রওনা হলো, অমনি তাকে আবার ডেকে বললেন: অপর এক ষষ্ঠাংশ জীবিকা। (আহমদ, আবুদাউদ, তিরমিযি)।
মৃতের পিতা যখন জীবিত থাকে তখন প্রত্যক্ষ দাদার অংশ বিলুপ্ত হয়। পিতা জীবিত না থাকলে চারটি ক্ষেত্রে ব্যতীত দাদা পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়। সেই চারটি ক্ষেত্র হলো:
১. পিতা জীবিত থাকলে পিতার মা (দাদি) উত্তরাধিকারী হয়না। কেননা সে পিতার সাথে যুক্ত থাকে। সে শুধু দাদা জীবিত থাকলে তার সাথে উত্তরাধিকারী হয়।
২. মৃত ব্যক্তি যখন তার পিতামাতা ও স্বামী-স্ত্রীর একজনকে রেখে যায় তখন স্বামী-স্ত্রীর একজনকে নির্দিষ্ট অংশ দেয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ মা পাবে। কিন্তু যখন পিতার পরিবর্তে দাদা থাকে তখন মা সমগ্র সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ পাবে। উমর (রা) এই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।
৩. পিতা বিদ্যমান থাকলে সহোদর ভাইবোনরা এবং বৈমাত্রেয় ভাইবোনরা উত্তরাধিকার পাবেনা। তবে দাদা থাকলে তার কারণে সহোদর ভাই-বোনরা ও পিতাশরিক ভাইবোনরা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেনা। এটা ইমাম শাফেয়ি, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ ও ইমাম মালেকের মত। ইমাম আবু হানিফা বলেন: পিতার কারণে যেমন তারা বঞ্চিত হয়, তেমনি দাদার কারণেও বঞ্চিত হবে। তাদের উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। (মিসরীয়) উত্তরাধিকার আইনে প্রথমোক্ত মতটি অনুসৃত হয়েছে।
📄 বৈপিত্রেয় ভাইদের বিভিন্ন অবস্থা
আল্লাহ্ বলেন: فَإِنْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ ۖ وَإِنْ كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَلَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ ۚ
'যদি পিতামাতা ও সন্তানহীন কোনো পুরুষ অথবা নারির উত্তরাধিকারী থাকে তার এক বৈপিত্রেয় ভাই অথবা ভগ্নী, তবে প্রত্যেকের জন্য এক ষষ্ঠাংশ। তারা এর চেয়ে অধিক হলে সকলে সমঅংশীদার হবে এক তৃতীয়াংশে।' (সূরা নিসা, আয়াত ১২)।
আয়াতে উল্লিখিত 'কালালা' অর্থ যার পিতা ও সন্তান নেই। আর ভাই ও বোন অর্থ বৈপিত্রেয় ভাই ও বোন। আয়াতটি থেকে জানা যায়, এদের তিনটি অবস্থা:
১. এক ব্যক্তির জন্য একষষ্ঠাংশ, চাই পুরুষ হোক বা নারী।
২. দুই বা ততোধিক ব্যক্তির জন্যে এক তৃতীয়াংশ এবং এতে পুরুষ ও স্ত্রী সমান।
৩. উত্তরাধিকারী সন্তান যথা সন্তান বা ছেলের সন্তান থাকলে অথবা পিতা বা দাদা থাকলে এই ভাই-বোনেরা কোনো উত্তরাধিকার পাবেনা। তবে মা ও দাদি থাকলে পাবে।
📄 স্বামীর বিভিন্ন অবস্থা
আল্লাহ্ বলেন: وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِن لم يَكُن لَمَنْ وَلَنْ جَ فَإِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرَّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ 'তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ তোমাদের জন্য যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে। আর তাদের সন্তান থাকলে তোমাদের জন্য তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ।' (সূরা নিসা, ১২)। এ আয়াতে বলা হলো, স্বামীর দুটো অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: উত্তরাধিকারী সন্তান না থাকলে সে অর্ধেক সম্পত্তি পাবে। এই সন্তান উক্ত স্বামীর ঔরসজাত হোক বা অন্য স্বামীর ঔরসজাত হোক, তাতে কিছু যায় আসে না। সন্তান দ্বারা ছেলে মেয়ে ও ছেলের মেয়ে বুঝায়।
দ্বিতীয় অবস্থা: উত্তরাধিকারী সন্তান থাকলে স্বামী এক চতুর্থাংশ সম্পত্তি পাবে।