📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 পরিত্যক্ত সম্পত্তির হকদার কে কে?

📄 পরিত্যক্ত সম্পত্তির হকদার কে কে?


হানাফি মযহাব অনুযায়ী পরিত্যক্ত সম্পত্তির হকদারগণ:
১. আসহাবুল ফুরুষ।
২. আত্মীয় আসাবা বা প্রকৃত আসাবা।
৩. অনাত্মীয় আসাবা বা অপ্রকৃত আসাবা।
৪. আসহাবুল ফুরুযের বাড়তি প্রাপ্য।
৫. সাবিল আরহাম বা মায়ের পক্ষের আত্মীয়।
৬. মাওলাল মুয়ালাত তথা সাবেক মনিব।
৭. অপরকে আত্মীয় বলে স্বীকৃতি দান।
৮. এক তৃতীয়াংশের বেশি অসিয়ত।
৯. বাইতুল মাল।
মিসরীয় আইনে পরিত্যক্ত হকদারদের ক্রমিক তালিকা নিম্নরূপ:
১. আসহাবুল ফুরুষ।
২. আত্মীয় আসাবা বা প্রকৃত আসাবা।
৩. আসহাবুল ফুরুযের বাড়তি প্রাপ্য।
৪. যাবিল আরহাম।
৫. দম্পতির একজনের বাড়তি প্রাপ্য।
৬. অনাত্মীয় আসাবা বা অপ্রকৃত আসাবা।
৭, অপরকে আত্মীয় বলে স্বীকৃতি।
৮: সমগ্র সম্পত্তি যার জন্যে অসিয়ত করা হয়।
৯. বায়তুল মাল।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 আসহাবুল ফুরুয

📄 আসহাবুল ফুরুয


আসহাবুল ফুরুষ সেসব উত্তরাধিকরী, যাদের জন্য ছয়টা নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারিত রয়েছে। যথা: অর্ধাংশ, এক চতুর্থাংশ, এক অষ্টমাংশ, দুই তৃতীয়াংশ, এক তৃতীয়াংশ ও এক ষষ্ঠাংশ।
এই অংশগুলোর হকদার হচ্ছে আসহাবুল ফুরুষ এবং তারা মোট বারোজন: চারজন পুরুষদের মধ্য থেকে এবং আটজন নারীদের মধ্য থেকে। পুরুষ চারজন হলো: পিতা, প্রত্যক্ষ দাদা, (চাই যত ঊর্ধ্বে যাক) মা শরীক ভাই ও স্বামী। আর মহিলা আটজন হচ্ছে, স্ত্রী, মেয়ে, সহোদরা বোন, পিতা শরীক বোন, মা শরীক বোন, ছেলের মেয়ে, মা, প্রত্যক্ষ দাদি, (চাই যতো ঊর্ধ্বে যাক) নিম্নে এই ক'জনের প্রত্যেকের বিশদ বিবরণ দেয়া যাচ্ছে:

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 পিতার বিভিন্ন অবস্থা

📄 পিতার বিভিন্ন অবস্থা


আল্লাহ বলেন: 'তার (মৃত ব্যক্তির) সন্তান থাকলে তার পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক ষষ্ঠাংশ। সে নিঃসন্তান হলে এবং শুধু পিতামাতাই উত্তরাধিকারী হলে তার মাতার জন্য এক তৃতীয়াংশ।' (উল্লেখ্য, এ আয়াতে সন্তান দ্বারা ছেলে বা মেয়ে উভয়কে বুঝানো হয়েছে। এখানে মৃত ব্যক্তি নিঃসন্তান হলে মায়ের অংশ উল্লেখ করা ও পিতার অংশ উল্লেখ না করা দ্বারা বুঝা যায়, অবশিষ্ট অংশ পিতার।)
পিতার তিন অবস্থা:
এক অবস্থায় সে শুধু নির্দিষ্ট অংশ পায়, আরেক অবস্থায় সে একাধিক উত্তরাধিকারীর সাথে প্রাপ্য অংশ পায়, আরেক অবস্থায় নির্দিষ্ট ও একাধিক উত্তরাধিকারীর সাথে প্রাপ্য অংশ উভয়ই পায়।
প্রথম অবস্থা: মৃতের একজন মাত্র বা একাধিক পুরুষ সন্তান থাকলে পিতার প্রাপ্য এক ষষ্ঠাংশ।
দ্বিতীয় অবস্থা: মৃতের কোনো পুরুষ বা কন্যা সন্তান উত্তরাধিকারী না থাকলে এবং পিতা একা উত্তরাধিকারী হলে সে সমগ্র সম্পত্তি পাবে। আর মৃতের কোনো সন্তান থাকলে পিতা আসহাবুল ফুরুষের অবশিষ্টদের সাথে প্রাপ্য অংশ পাবে।
তৃতীয় অবস্থা: পিতার সাথে যদি মৃতের কোনো কন্যা সন্তান থাকে, তবে পিতা নির্দিষ্ট এক ষষ্ঠাংশ তো পাবেই, সেই সাথে আসহাবুল ফুরুষের সাথে প্রাপ্য অংশও পাবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 প্রত্যক্ষ দাদার অবস্থা

📄 প্রত্যক্ষ দাদার অবস্থা


দাদা দু'রকম: প্রত্যক্ষ দাদা ও পরোক্ষ দাদা।
প্রত্যক্ষ দাদা হলো সেই দাদা, যার সাথে মৃতের সম্পর্ক কোনো নারীর মাধ্যম ব্যতীত সরাসরিভাবে হওয়া সম্ভব, যেমন পিতার পিতা। আর পরোক্ষ দাদা হলো, মৃতের সাথে যার সম্পর্ক একজন নারীর মাধ্যমে ব্যতীয়ত হয়না, যেমন মায়ের পিতা (নানা), প্রত্যক্ষ দাদা অর্থাৎ পিতার পিতার উত্তরাধিকার সর্বসম্মতভাবে প্রমাণিত। ইম্মান ইবনে হাছীন (রা) থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি রসূল (সা) এর নিকট এসে বললো: আমার ছেলের ছেলে মারা গেছে। তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে আমি কতটুকু পাবো? তিনি বললেন: তুমি এক ষষ্ঠাংশ পাবে। অত:পর যখন সে রওনা হলো, অমনি তিনি তাকে ডেকে বললেন: তুমি এক ষষ্ঠাংশ পাবে। তারপর যখন সে রওনা হলো, অমনি তাকে আবার ডেকে বললেন: অপর এক ষষ্ঠাংশ জীবিকা। (আহমদ, আবুদাউদ, তিরমিযি)।
মৃতের পিতা যখন জীবিত থাকে তখন প্রত্যক্ষ দাদার অংশ বিলুপ্ত হয়। পিতা জীবিত না থাকলে চারটি ক্ষেত্রে ব্যতীত দাদা পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়। সেই চারটি ক্ষেত্র হলো:
১. পিতা জীবিত থাকলে পিতার মা (দাদি) উত্তরাধিকারী হয়না। কেননা সে পিতার সাথে যুক্ত থাকে। সে শুধু দাদা জীবিত থাকলে তার সাথে উত্তরাধিকারী হয়।
২. মৃত ব্যক্তি যখন তার পিতামাতা ও স্বামী-স্ত্রীর একজনকে রেখে যায় তখন স্বামী-স্ত্রীর একজনকে নির্দিষ্ট অংশ দেয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ মা পাবে। কিন্তু যখন পিতার পরিবর্তে দাদা থাকে তখন মা সমগ্র সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ পাবে। উমর (রা) এই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।
৩. পিতা বিদ্যমান থাকলে সহোদর ভাইবোনরা এবং বৈমাত্রেয় ভাইবোনরা উত্তরাধিকার পাবেনা। তবে দাদা থাকলে তার কারণে সহোদর ভাই-বোনরা ও পিতাশরিক ভাইবোনরা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেনা। এটা ইমাম শাফেয়ি, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ ও ইমাম মালেকের মত। ইমাম আবু হানিফা বলেন: পিতার কারণে যেমন তারা বঞ্চিত হয়, তেমনি দাদার কারণেও বঞ্চিত হবে। তাদের উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। (মিসরীয়) উত্তরাধিকার আইনে প্রথমোক্ত মতটি অনুসৃত হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00