📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 উত্তরাধিকারের অন্তরায়সমূহ

📄 উত্তরাধিকারের অন্তরায়সমূহ


উত্তরাধিকারের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে:
১. সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু অথবা এমনভাবে নিখোঁজ হওয়া যে, বিচারকের রায়ে সে মৃত বলে ঘোষিত হয়। এ ধরনের রায় তাকে মৃত বলেই সাব্যস্ত করে। পক্ষান্তরে কোনো অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রীর উপর কেউ আক্রমণ চালালে এবং তার ফলে সে মৃত সন্তান প্রসব করলে তাকে জীবিত গণ্য করা হবে, যদিও সে তখন মৃত।
২. মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর কার্যত জীবিত থাকা শর্ত। যেমন গর্ভজাত সন্তান। কারণ সে কার্যত জীবিত। কারণ এমন হওয়া অসম্ভব নয় যে, তার দেহে এখনো প্রাণ সঞ্চারিত হয়নি। মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী জীবিত থাকা না থাকার বিষয় যদি অজানা থাকে যেমন ডুবে যাওয়া, আগুনে পোড়া ও বিধ্বস্ত ভবনের নিচে থাকা ব্যক্তি। এ ধরনের লোকেরা যদি বিধি মোতাবেক পরস্পরের উত্তরাধিকারী হয়ও, তবুও তারা পরস্পরের উত্তরাধিকারী গণ্য হবে না, বরং তাদের সম্পত্তি তাদের জীবিত উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।
৩. উত্তরাধিকার কার্যকর হওয়ার পথে নিম্নোক্ত অন্তরায়গুলো না থাকা।
উত্তরাধিকারের অন্তরায়সমূহ: সে ব্যক্তি উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে, যে উত্তরাধিকার লাভের সমস্ত যোগ্যতার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তার সেই সব যোগ্যতা কেড়ে নেয়া হয়েছে কোনো না কোনো অন্তরায় থাকার কারণে। এ ধরনের অন্তরায় চারটি:
১. দাসত্ব, চাই তা পূর্ণ দাসত্ব হোক বা আংশিক।
২. ইচ্ছাকৃত হারাম হত্যাকান্ড ঘটানো। উত্তরাধিকারী যদি তার উত্তরাধিকার দাতাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, তবে সে সর্বসম্মতভাবে তার উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। নাসায়ি বর্ণনা করেন, রসূল (সা) বলেন: 'হত্যাকারীর জন্য কোনো প্রাপ্য নেই।'
ইচ্ছাকৃত ও অন্যায় হত্যাকান্ড সম্পর্কে আলেমগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফেয়ি বলেন: প্রত্যেক হত্যাই উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করে, চাই তা কোনো পাগল বা অপ্রাপ্তবয়স্কের হাতে সংঘটিত হোক এবং চাই তা হক বা কিসাস বাস্তবায়ন বা অনুরূপ বৈধ প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হোক। মালেকি মযহাবের ফকিহগণ বলেন: একমাত্র ইচ্ছাকৃত অবৈধ হত্যাই উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করে, চাই তা প্রত্যক্ষভাবে সংঘটিত হোক বা পরোক্ষভাবে। (মিসরীয়) আইনের ৫ম ধারায় এই মতই অনুসৃত হয়েছে। ধারাটি হলো: উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, উত্তরাধিকার দাতাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা, চাই হন্তা মূল অপরাধী হোক বা তার সহযোগী, অথবা এমন মিথ্যা সাক্ষ্যদাতা, যার সাক্ষ্যের কারণে মৃত্যুদণ্ড দেয়া ও কার্যকর করা হয়, যখন এই হত্যা অবৈধ ও কোনো ওজর ব্যতীত সংঘটিত হয়, হত্যাকারী প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক ও পঁচিশ বছর বয়স্ক হয়। আইন সংগত ভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ছিনিয়ে নেয়াকে ওজর গণ্য করা হয়।
৩. ধর্মের পার্থক্য: কোনো মুসলমান কাফেরের এবং কোনো কাফের মুসলমানের উত্তরাধিকারী হবে না। কেননা চারটি সহিহ হাদিস গ্রন্থ উসামা ইবনে যায়েদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'মুসলমান কাফেরের উত্তরাধিকারী হবেনা এবং কাফের মুসলমানের উত্তরাধিকারী হবেনা।' অপর দিকে মুয়ায, মুয়াবিয়া, ইবনুল মুসাইয়াব, মাস্ত্রক ও নাসায়ি থেকে বর্ণিত মুসলমান কাফেরের উত্তরাধিকারী হবে, কিন্তু কাফের মুসলমানের উত্তরাধিকারী হবেনা, ঠিক যেমন মুসলমান কাফের মহিলাকে বিয়ে করতে পারে, কিন্তু কাফের মুসলিম মহিলাকে বিয়ে করতে পারেনা। কিন্তু অমুসলিমরা পরস্পরের উত্তরাধিকারী হবে। কেননা ইসলামের দৃষ্টিতে তারা সবাই একই ধর্মাবলম্বী।
৪. দেশের পার্থক্য: অর্থাৎ জাতীয়তা ও নাগরিকত্বের পার্থক্য। জাতীয়তা ও নাগরিকত্বের পার্থক্য মুসলমানদের পরস্পরের উত্তরাধিকারী হওয়ার অন্তরায় নয়, চাই দুই দেশের ব্যবধান ও দূরত্ব যতোই বেশি হোক। কিন্তু অমুসলিমদের মধ্যে দেশ, জাতীয়তা ও নাগরিকত্বের পার্থক্য সম্পর্কে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ আলেমের মতে, এটা তাদের মধ্যে পারস্পরিক উত্তরাধিকারের অন্তরায় নয়, যেমন মুসলমানদের মধ্যেও নয়। 'আল মুগনি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এক ধর্মের অনুসারীরা জাতীয়তার পার্থক্য থাকলেও পরস্পরের উত্তরাধিকারী হবে। কেননা কুরআন ও সুন্নাহ্ উক্তিসমূহের ব্যাপকতা ও শর্তহীনতা তাদের পারস্পরিক উত্তরাধিকারের দাবি জানায়। কুরআন বা সুন্নায় এমন কোনো উক্তিই পাওয়া যায়না এবং এই মর্মে কোনো ইজমাও দেখা যায়না যে, তারা পরস্পরের উত্তরাধিকারী হতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে কিয়াসেরও কোনো সুযোগ নেই। প্রচলিত আইনে এই মতই অনুসৃত হয়েছে কেবল একটি ক্ষেত্রে ব্যতীত। ইমাম আবু হানিফা বলেন, যখন ভিন্ন কোনো দেশের আইন তার বিদেশী নাগরিকদের উত্তরাধিকার দিতে অস্বীকার করে। আইনটির ৬নং ধারায় বলা হয়েছে: 'বিদেশী সরকারের অনুসৃত আইন বিদেশীদেরকে উত্তরাধিকার দিতে অস্বীকার করা ব্যতীত আর কোনো কারণে জাতীয়তার পার্থক্য মুসলমানদের মাঝে বা অমুসলমানদের মাঝে উত্তরাধিকার প্রদানের অন্তরায় সৃষ্টি করেনা।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 পরিত্যক্ত সম্পত্তির হকদার কে কে?

📄 পরিত্যক্ত সম্পত্তির হকদার কে কে?


হানাফি মযহাব অনুযায়ী পরিত্যক্ত সম্পত্তির হকদারগণ:
১. আসহাবুল ফুরুষ।
২. আত্মীয় আসাবা বা প্রকৃত আসাবা।
৩. অনাত্মীয় আসাবা বা অপ্রকৃত আসাবা।
৪. আসহাবুল ফুরুযের বাড়তি প্রাপ্য।
৫. সাবিল আরহাম বা মায়ের পক্ষের আত্মীয়।
৬. মাওলাল মুয়ালাত তথা সাবেক মনিব।
৭. অপরকে আত্মীয় বলে স্বীকৃতি দান।
৮. এক তৃতীয়াংশের বেশি অসিয়ত।
৯. বাইতুল মাল।
মিসরীয় আইনে পরিত্যক্ত হকদারদের ক্রমিক তালিকা নিম্নরূপ:
১. আসহাবুল ফুরুষ।
২. আত্মীয় আসাবা বা প্রকৃত আসাবা।
৩. আসহাবুল ফুরুযের বাড়তি প্রাপ্য।
৪. যাবিল আরহাম।
৫. দম্পতির একজনের বাড়তি প্রাপ্য।
৬. অনাত্মীয় আসাবা বা অপ্রকৃত আসাবা।
৭, অপরকে আত্মীয় বলে স্বীকৃতি।
৮: সমগ্র সম্পত্তি যার জন্যে অসিয়ত করা হয়।
৯. বায়তুল মাল।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 আসহাবুল ফুরুয

📄 আসহাবুল ফুরুয


আসহাবুল ফুরুষ সেসব উত্তরাধিকরী, যাদের জন্য ছয়টা নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারিত রয়েছে। যথা: অর্ধাংশ, এক চতুর্থাংশ, এক অষ্টমাংশ, দুই তৃতীয়াংশ, এক তৃতীয়াংশ ও এক ষষ্ঠাংশ।
এই অংশগুলোর হকদার হচ্ছে আসহাবুল ফুরুষ এবং তারা মোট বারোজন: চারজন পুরুষদের মধ্য থেকে এবং আটজন নারীদের মধ্য থেকে। পুরুষ চারজন হলো: পিতা, প্রত্যক্ষ দাদা, (চাই যত ঊর্ধ্বে যাক) মা শরীক ভাই ও স্বামী। আর মহিলা আটজন হচ্ছে, স্ত্রী, মেয়ে, সহোদরা বোন, পিতা শরীক বোন, মা শরীক বোন, ছেলের মেয়ে, মা, প্রত্যক্ষ দাদি, (চাই যতো ঊর্ধ্বে যাক) নিম্নে এই ক'জনের প্রত্যেকের বিশদ বিবরণ দেয়া যাচ্ছে:

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 পিতার বিভিন্ন অবস্থা

📄 পিতার বিভিন্ন অবস্থা


আল্লাহ বলেন: 'তার (মৃত ব্যক্তির) সন্তান থাকলে তার পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক ষষ্ঠাংশ। সে নিঃসন্তান হলে এবং শুধু পিতামাতাই উত্তরাধিকারী হলে তার মাতার জন্য এক তৃতীয়াংশ।' (উল্লেখ্য, এ আয়াতে সন্তান দ্বারা ছেলে বা মেয়ে উভয়কে বুঝানো হয়েছে। এখানে মৃত ব্যক্তি নিঃসন্তান হলে মায়ের অংশ উল্লেখ করা ও পিতার অংশ উল্লেখ না করা দ্বারা বুঝা যায়, অবশিষ্ট অংশ পিতার।)
পিতার তিন অবস্থা:
এক অবস্থায় সে শুধু নির্দিষ্ট অংশ পায়, আরেক অবস্থায় সে একাধিক উত্তরাধিকারীর সাথে প্রাপ্য অংশ পায়, আরেক অবস্থায় নির্দিষ্ট ও একাধিক উত্তরাধিকারীর সাথে প্রাপ্য অংশ উভয়ই পায়।
প্রথম অবস্থা: মৃতের একজন মাত্র বা একাধিক পুরুষ সন্তান থাকলে পিতার প্রাপ্য এক ষষ্ঠাংশ।
দ্বিতীয় অবস্থা: মৃতের কোনো পুরুষ বা কন্যা সন্তান উত্তরাধিকারী না থাকলে এবং পিতা একা উত্তরাধিকারী হলে সে সমগ্র সম্পত্তি পাবে। আর মৃতের কোনো সন্তান থাকলে পিতা আসহাবুল ফুরুষের অবশিষ্টদের সাথে প্রাপ্য অংশ পাবে।
তৃতীয় অবস্থা: পিতার সাথে যদি মৃতের কোনো কন্যা সন্তান থাকে, তবে পিতা নির্দিষ্ট এক ষষ্ঠাংশ তো পাবেই, সেই সাথে আসহাবুল ফুরুষের সাথে প্রাপ্য অংশও পাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00