📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ফারায়েযের ইলমের মর্যাদা

📄 ফারায়েযের ইলমের মর্যাদা


১. ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: তোমরা কুরআন শিখ ও শিখাও। আর ফারায়েয শিখ ও শিখাও। কেননা আমি একজন মরণশীল মানুষ এবং জ্ঞানও একদিন অন্তর্হিত হবে। অচিরেই এমন একদিন আসতে পারে, যখন ফারায়েয ও মাসয়ালায় দুটি নাম ভিন্ন ভিন্ন রকমের হবে, অথচ তাদেরকে জানানোর জন্য কাউকে পাওয়া যাবে না।' (আহমদ)।
২. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: জ্ঞান তিন রকমের। এ ছাড়া আর সব কিছু অতিরিক্ত; সুস্পষ্ট বিধান সংবলিত আয়াত, বাস্তবায়িত সুন্নাত এবং ন্যায়সংগত উত্তরাধিকার।' (আবুদাউদ, ইবনে মাজা)।
৩. আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: তোমরা ফারায়েয শিখ ও শিখাও। কারণ এটা জ্ঞানের অর্ধেক। এটা একদিন ভুলে যাওয়া হবে এবং এটাই সর্ব প্রথম আমার উম্মতের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হবে। (ইবনে মাজা, দারু কুতনি)।
পরিত্যক্ত সম্পত্তি: পরিত্যক্ত সম্পত্তির সংজ্ঞা হানাফি মযহাব অনুযায়ী: মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সমগ্র সম্পত্তি। ইমাম ইবনে হাযম এই সংজ্ঞার সমর্থনে বলেন: 'মানুষ তার মৃত্যুর পর যে সম্পদ রেখে যায়, তাতে আল্লাহ্ উত্তরাধিকার নির্ধারণ করেছেন, যা সম্পদ নয় তাতে নির্ধারণ করেননি। অধিকারসমূহের মধ্যে যা সম্পদের অন্তর্ভুক্ত বা সম্পদের পর্যায়ভুক্ত, তা ব্যতীত আর কোনোটায় উত্তরাধিকার নির্ধারণ করেননি, যেমন উপকার পাওয়ার অধিকার, ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব লাভের অধিকার। নির্মাণ ও চাষাবাদের জন্য নির্ধারিত জমিতে অবস্থানের অধিকার। মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মযহাবে এ অধিকারসমূহ মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সমস্ত সম্পত্তিও অধিকারের অন্তর্ভুক্ত, চাই এ সব অধিকার আর্থিক হোক বা আর্থিক ব্যতীত অন্য কিছু হোক।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 পরিত্যক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত অধিকারসমূহ

📄 পরিত্যক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত অধিকারসমূহ


পরিত্যক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত অধিকার চার প্রকার। এগুলো সব সমান নয়, বরং একটি অপরটির চেয়ে অগ্রগণ্যতার দাবি রাখে এবং আগে সেই খাতে ব্যয় করতে হয়। যেমন:
১ প্রথম অধিকার: পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে সর্ব প্রথম ব্যয় করা হবে মৃতের কাফন-দাফন বাবদ, যেমন জানাযা ও কাফন-দাফন সংক্রান্ত আলোচনায় ইতোপূর্বে বলা হয়েছে।
২. দ্বিতীয় অধিকার: তার ঋণ পরিশোধ করা। এ ক্ষেত্রে ইমাম শাফেয়ি ও ইবনে হাযম আল্লাহ্ ঋণ যথা যাকাত ও কাফ্ফারাকে বান্দার ঋণের চেয়ে অগ্রগণ্য মনে করেন। কিন্তু হানাফিগণ মৃত্যুর সাথে সাথে আল্লাহর অধিকার রহিত হয় বলে মনে করেন। ফলে উত্তরাধিকারীদের উপর তা পরিশোধ করার দায়িত্ব অর্পিত হয়না। তবে তারা স্বেচ্ছায় সেটা পরিশোধ করতে পারে কিংবা মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর পূর্বে তা পরিশোধ করার অসিয়ত করলে পরিশোধ করতে পারে। যদি সে অসিয়ত করে তবে তা একজন অচেনা বা অনাত্মীয়কে অসিয়ত করার মতো হবে। উত্তরাধিকারী বা যাকে অসিয়ত করা হয়েছে সে কাফন দাফন ও বান্দাদের ঋণ পরিশোধের পর যে সম্পত্তি উদ্বৃত্ত থাকে তার এক চতুর্থাংশের ভেতর থেকে তা পরিশোধ করবে। এ ব্যবস্থা গৃহীত হবে তখন যখন তার কোনো উত্তরাধিকারী থাকবে। উত্তরাধিকারী না থাকলে সমগ্র সম্পত্তি থেকে পরিশোধ করা হবে। হাম্বলি ফকিহগণ সর্বাবস্থায় গোটা সম্পত্তি থেকে পরিশোধ করার পক্ষপাতী। তা ছাড়া তারা বান্দার নির্দিষ্ট সামগ্রীর ঋণ সাধারণ ঋণের আগে পরিশোধ করা জরুরি, এ ব্যাপারে একমত।
৩. তৃতীয় অধিকার: ঋণ পরিশোধের পর যে সম্পত্তি উদ্বৃত্ত থাকে তার একতৃতীয়াংশ থেকে অসিয়ত বাস্তবায়ন।
৪. চতুর্থ অধিকার: অবশিষ্ট পরিত্যক্ত সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 উত্তরাধিকারের মূল উপাদান

📄 উত্তরাধিকারের মূল উপাদান


উত্তরাধিকার তিনটি উপাদানের উপস্থিতি দাবি করে:
১. উত্তরাধিকারী: অর্থাৎ এমন ব্যক্তি, যে উত্তরাধিকারের কারণসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি কারণে মৃত ব্যক্তির সাথে সম্পর্কযুক্ত।
২. মৃত ব্যক্তি বা এমন নিখোঁজ ব্যক্তি, যাকে মৃত গণ্য করা হয়েছে।
৩. উত্তরাধিকার বা পরিত্যক্ত সম্পত্তি; যে সম্পত্তি বা অধিকার মৃত ব্যক্তির মালিকানা থেকে উত্তরাধিকারীর মালিকানায় হস্তান্তরিত হয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 উত্তরাধিকারের কারণসমূহ

📄 উত্তরাধিকারের কারণসমূহ


তিন কারণে উত্তরাধিকার পাওনা হয়ে থাকে:
১. প্রকৃত সম্পর্ক বা প্রত্যক্ষ আত্মীয়তা: আল্লাহ্ সূরা আনফালে বলেন:
وَأُولُوا الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ فِي كِتٰبِ اللَّهِ .
'আত্মীয়গণ আল্লাহ্ বিধানে একে অন্য অপেক্ষা অধিক হকদার।' (আনফাল: ৭৫)
২. পরোক্ষ আত্মীয়তা: যেমন রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: ক্রীতদাসকে মুক্ত করা জনিত আত্মীয়তা প্রকৃত আত্মীয়তার মত। (ইবনে হাব্বান ও হাকেম)। [প্রকৃত আত্মীয় উত্তরাধিকারী নেই এমন ব্যক্তি যখন অন্য কারো সাথে এভাবে মৈত্রী বা বন্ধুত্বের চুক্তি সম্পাদন করে যে, নিজের মৃত্যুর পর একে অপরকে নিজের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী বানায় এবং সে ভুলক্রমে কাউকে নিহত বা আহত করলে প্রয়োজনীয় দিয়াত বা রক্তপণ পরিশোধ করার দায়িত্ব অর্পণ করে ও অপরজন তা স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে, তখন যে সম্পর্ক সৃষ্টি হয়, তা ইমাম আবু হানিফার নিকট উত্তরাধিকারের একটি কারণ হিসাবে গণ্য। কিন্তু অন্যান্যদের নিকট গণ্য নয়। প্রচলিত আইনে শেষোক্ত মতের প্রতিফলন ঘটেছে।]
৩. বিশুদ্ধ বৈবাহিক বন্ধন: আল্লাহ্ বলেন: 'তোমাদের স্ত্রীগণ যে সম্পত্তি রেখে যায়, তার অর্ধাংশ তোমাদের প্রাপ্য, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00