📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 এক তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশির ওসিয়ত করা

📄 এক তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশির ওসিয়ত করা


অসিয়তকারীর যদি উত্তরাধিকারী থাকে তবে তার পক্ষে এক তৃতীয়াংশের বেশি সম্পত্তির অসিয়ত করা বৈধ নয়। যদি করে তবে কার্যকর হবে না, যতোক্ষণ না উত্তরাধিকারীরা তার অনুমতি দেয়। এর কার্যকারিতার জন্যে দুটো শর্ত রয়েছে:
১. অসিয়ত মৃত্যুর পরে কার্যকর করতে হবে। কেননা অসিয়তকারীর মৃত্যুর পূর্বে উত্তরাধিকারীর কোনো কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না। তাই তার অনুমতির কোনো মূল্য নেই। তার জীবদ্দশায় অনুমতি দিলে সে যখন ইচ্ছা অসিয়ত প্রত্যাহার করতে পারে। মৃত্যুর পর অনুমতি দিলে অসিয়ত কার্যকর হবে। যুহরি ও রবিয়া বলেন: অসিয়তকারী কখনো প্রত্যাহার করতে পারবে না।
২. অনুমতি দানকারী উত্তরাধিকারীর অনুমতি দানের সময় পূর্ণ যোগ্যতার অধিকারী হওয়া জরুরি। নির্বোধ হওয়ার কারণে তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত না হওয়া চাই। আর যদি কোনো উত্তরাধিকারী না থাকে তাহলেও অধিকাংশ আলেমের মতে এক তৃতীয়াংশের বেশি অসিয়ত করা জায়েয নয়।
হানাফি মযহাব, ইস্হাক, শুরাইহ্ ও এক বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম আহমদের মত হলো, এক তৃতীয়াংশের বেশি অসিয়ত করা জায়েয। এটা আলি (রা) ও ইবনে মাস্টদেরও মত। কেননা এ অবস্থায় অসিয়তকারী এমন কাউকে রেখে যাচ্ছে না, যার অভাবে পতিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। তাছাড়া যেহেতু আয়াতে অসিয়তের কথা শর্তহীনভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই এক তৃতীয়াংশের মধ্যে অসিয়তকে সীমিত করা বৈধ নয়। হাদিসে এই সীমা আরোপ করা হয়েছে যার উত্তরাধিকারী আছে তার জন্য। কাজেই যার উত্তরাধিকারী নেই, তার ব্যাপারে কোনো সীমা আরোপ করা বৈধ নয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ওসিয়ত কখন বাতিল হয়

📄 ওসিয়ত কখন বাতিল হয়


ইতোপূর্বে বর্ণিত শর্তাবলীর কোনো একটি অপূর্ণ থাকলে এবং নিম্নোক্ত অবস্থাসমূহে অসিয়ত বাতিল হবে:
১. অসিয়তকারী যদি পাগল হয় এবং মৃত্যুর পূর্বে তার মস্তিষ্ক সুস্থ না হয়।
২. যার জন্য অসিয়ত করা হয়েছে সে অসিয়তকারীর আগে মারা গেলে।
৩. অসিয়তের সামগ্রীটি নির্দিষ্ট হলে এবং যার জন্য অসিয়ত করা হয়েছে তার দখলে যাওয়ার আগে ধ্বংস হয়ে গেলে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00