📄 ওসিয়ত কখন প্রাপ্য হয়
মুবাহ: অসিয়ত সে ক্ষেত্রে মুবাহ্, যখন তা কোনো ধনী ব্যক্তির জন্য করা হয়।
প্রধান উপাদান: অসিয়তের প্রধান উপাদান হলো ইজাব অর্থাৎ অসিয়তকারীর উদ্যোগ তথা প্রস্তাব। এমন যে কোনো শব্দ ব্যবহার করলে ইজাব সম্পন্ন হবে যা দ্বারা মৃত্যুর পরে বিনিময় ব্যতীত কোনো জিনিসের মালিকানা দান করা হয়। যেমন আমি আমার মৃত্যুর পরে অমুককে অমুক জিনিসটি দেয়ার অসিয়ত করলাম। বা আমার পরে তা অমুককে দান করলাম বা অমুককে তার মালিক বানালাম।
অসিয়ত যেমন কথা দ্বারা সম্পন্ন হয় তেমনি তা লেখা বা বোধগম্য ইশারা দ্বারাও সম্পন্ন হয়, যখন অসিয়তকারী কথা বলতে অক্ষম হয়। আর যখন অসিয়ত অনির্দিষ্ট হয়, (অর্থাৎ ব্যক্তি বিশেষের জন্য নির্দিষ্ট না হয়) যথা- মসজিদ, সরাইখানা, বিদ্যালয় বা হাসপাতালের জন্য হয়, তখন তার কবুলের প্রয়োজন হয়না। বরং শুদ্ধ ইজাব দ্বারাই অসিয়ত সম্পন্ন হয়। কেননা এটা এ ক্ষেত্রে সৎকার্য পরিণত হয়। কিন্তু যখন কোনো ব্যক্তির সাথে নির্দিষ্ট হয়, তখন তা যার জন্য অসিয়ত করা হয়, অসিয়তকারীর মৃত্যুর পর তার পক্ষ থেকে বা সে নির্বোধ হলে তার অভিভাবকের পক্ষ থেকে কবুল হওয়া প্রয়োজন। সে যদি কবুল করে তবে অসিয়ত সম্পন্ন হবে। আর প্রত্যাখ্যান করলে বাতিল হবে এবং অসিয়তকারীর উত্তরাধিকারীদের মালিকানা বহাল থাকবে।
আর যে সব বিষয়ে লেনদেনের চুক্তি বৈধ সে সব বিষয়ে অসিয়ত করা হলে অসিয়তকারীর জন্য তা পরিবর্তন করা বা তা সম্পূর্ণ বা আংশিক প্রত্যাহার করা বৈধ। প্রত্যাহার সরাসরি কথার মাধ্যমে করতে পারে, যেমন: 'আমি অসিয়ত প্রত্যাহার করলাম'। আবার তার কাজ দ্বারাও করা হতে পারে, যেমন সে যা অসিয়ত করেছিল, তা বিক্রয় করে দিলো।
অসিয়ত কখন প্রাপ্য হয়: একমাত্র অসিয়তকারীর মৃত্যুর পর ও তার ঋণ পরিশোধের পরই যার জন্য অসিয়ত করা হয় অsiয়ত তার প্রাপ্য হয়। যদি ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে পরিত্যক্ত সম্পত্তির পুরোটাই নিঃশেষ হয়ে যায়, তবে আর যার জন্য অসিয়ত করা হয়, তার কিছুই প্রাপ্য হবেনা। কেননা আল্লাহ্ বলেন: 'অসিয়ত প্রদান বা ঋণ পরিশোধের পরেই' (উত্তরাধিকারীর বণ্টন করা হবে।')
📄 শর্তযুক্ত ওসিয়ত
শর্ত যদি বৈধ হয় তবে শর্তযুক্ত অসিয়ত বৈধ হবে। বৈধ শর্ত দ্বারা এমন শর্ত বুঝায়, যা অসিয়তকারী বা যার জন্য অসিয়ত করা হয় তার জন্যে কল্যাণকর হয় অথবা অন্য কারো জন্যে মংগলজনক হয়, নিষিদ্ধ না হয় বা শরিয়তের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী না হয়। আর শর্ত যখন বিশুদ্ধ ও বৈধ হয়, তখন যতোক্ষণ তার উপকারিতা ও কল্যাণকারিতা বহাল থাকে ততক্ষণ তা মেনে চলা জরুরি। শর্ত যদি বৈধ না হয়, বা তার উপকারিতা বহাল না থাকে তবে তা মেনে চলা জরুরি হবে না।
📄 ওসিয়তের শর্তাবলী
অসিয়তের জন্যে একজন অসিয়তকারি, যার জন্য অসিয়ত করা হয় এবং যা দেয়ার অসিয়ত করা হয় তা থাকা প্রয়োজন। আর তিনটির জন্যেই কিছু শর্ত নির্দিষ্ট রয়েছে। শর্তগুলো নিম্নে উল্লেখ করা যাচ্ছে:
📄 ওসিয়তকারীর জন্য শর্ত
অসিয়তকারীর জন্য শর্ত হলো, তার মধ্যে দান করার পূর্ণ যোগ্যতা থাকতে হবে। একজন মানুষ সুস্থ মস্তিষ্ক, প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত এবং নির্বুদ্ধিতা হেতু লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত না হলে সে দান বা অসিয়ত করার পূর্ণ যোগ্যতার অধিকারী। সে যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক, পাগল, দাস, কারো বলপ্রয়োগের অধীন, কিংবা লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত ব্যক্তি হয়, তবে তার অসিয়ত শুদ্ধ হবেনা। কেননা তার দান বা অসিয়ত করার পূর্ণ যোগ্যতা নেই।
কেবল দুটি ক্ষেত্র এর ব্যতিক্রম:
১. ভালোমন্দ বাছবিচারের যোগ্যতা সম্পন্ন অপ্রাপ্তবয়ষ্ক শিশু যখন নিজের কাফন-দাফন সম্পর্কে অসিয়ত করে তখন সে অসিয়ত যতোক্ষণ কল্যাণকারিতার সীমার মধ্যে থাকবে, ততোক্ষণ তা বৈধ গণ্য হবে।
২. নির্বুদ্ধিতাবশত হিন্দ্র (নিষেধাজ্ঞা) আরোপিত ব্যক্তি যদি সৎ ও জনকল্যাণমূলক কাজে যথা কুরআন শিক্ষা, মসজিদ নির্মাণ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ইত্যাদির জন্যে অসিয়ত করে তবে সে অসিয়ত শুদ্ধ ও বৈধ গণ্য হবে।
এ ধরনের অসিয়তকারীর উত্তরাধিকারীরা যদি অনুমতি দেয় তবে তার অসিয়ত তার সমগ্র সম্পত্তি থেকে বাস্তবায়ন করা হবে। অনুরূপ যদি তার কোনো উত্তরাধিকারী একেবারেই না থাকে তাহলেও তার সমগ্র সম্পত্তি থেকে বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু যদি তার উত্তরাধিকারী থাকে এবং এই অসিয়তকে তারা অনুমোদন না করে তাহলে তা তার সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ থেকে বাস্তবায়িত হবে। এটা হচ্ছে হানাফি মযহাবের মত। ইমাম মালেক এই মতের বিরোধিতা করেন এবং স্বল্পবুদ্ধি সম্পন্নের ও আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের অর্থ বলে এমন অপ্রাপ্ত বয়স্কের অসিয়ত বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন: 'আমাদের নিকট সর্বসম্মত মত হলো, যার বুদ্ধি কম, যে নির্বোধ এবং যে অসুস্থ মস্তিষ্ক ব্যক্তি মাঝে মাঝে সুস্থ মস্তিষ্ক হয়, তারা যদি তাদের কৃত অসিয়তের মর্ম উপলদ্ধি করে, তবে তাদের অসিয়ত বৈধ হবে। অনুরূপ, অপ্রাপ্তবয়ষ্ক শিশু বা বালক যখন তার অসিয়তের অর্থ বোঝে এবং কোনো প্রলাপোক্তি বা অশালীন উক্তি করেনা তখন তার অsiয়ত বৈধ ও কার্যকর।' মিশরের আইনে সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগ অনুমতি দিলে নির্বোধের অসিয়তও বৈধ।