📄 হিজর আরোপিত ব্যক্তির অভিভাবক বা ওহি হওয়ার শর্তাবলী
ওছি হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যিনি হিজর আরোপিত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব লাভ করেন, চাই এই দায়িত্ব আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকে দেয়া হোক বা শাসকের পক্ষ থেকে। ওছি নারী হোক বা পুরুষ, দীনদারী, সততা ও বিজ্ঞতায় তার প্রসিদ্ধ হওয়া জরুরি। উমর (রা) হাস্সা (রা) কে ওছি নিযুক্ত করেছিলেন। ওছির দায়িত্ব হলো ইয়াতিমের ধন সম্পদ বা হিজর আরোপিত ব্যক্তির ধন সম্পদ এমনভাবে ব্যবহার করবে যাতে তা বৃদ্ধি পায়। ইমাম মালেকের মতে ওছি বা পিতা স্বজনপ্রীতির মনোভাব এড়িয়ে ইয়াতিমের সম্পত্তি থেকে কিছু কিনতে বা তার সম্পদের বিনিময়ে নিজেদের সম্পত্তি বিক্রয় করতে পারে।
📄 দুর্বৃত্ত থাকা অভিভাবক হওয়ার পরিহার করা উচিত
আবু যর (রা) সূত্রে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: হে আবু যর! আমি তোমাকে দুর্বল মনে করি। তাই আমি নিজের জন্যে যা পছন্দ করি, তোমার জন্যেও তা পছন্দ করি। তুমি কখনো দুই ব্যক্তির আমীর হবে না এবং ইয়াতীমের সম্পত্তির অভিভাবক হবেনা।
📄 অভিভাবক ইয়াতীমের সম্পত্তি থেকে ভক্ষণ করতে পারে
সূরা নিসার ৬ নং আয়াতে আল্লাহ্ বলেন: 'যে অভাবমুক্ত সে যেন নিবৃত্ত থাকে এবং যে বিত্তহীন সে যেন সংগত পরিমাণে ভোগ করে।' এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয়, বিত্তশালী বা সচ্ছল অভিভাবকের ইয়াতীমের মালে কোনো অধিকার নাই। অভিভাবকত্বের প্রতিদান সে আল্লাহ্র কাছ থেকে পাবে। তবে শাসক তার জন্যে কোনো ভাতা নির্ধারণ করলে তা তার জন্যে ভোগ করা হালাল। আর সে বিত্তহীন হলে তার সম্পত্তি থেকে সে সংগত পরিমাণে নিতে পারে। অর্থাৎ যে ধরনের পরিশ্রম সে করে তার জন্য প্রচলিত নিয়মানুসারে পারিশ্রমিক নিতে পারে।
আয়েশা (রা) এ আয়াত প্রসংগে বলেন: এ আয়াত নাযিল হয় ইয়াতিমের তত্ত্বাবধায়ক সম্পর্কে, যে তার সম্পত্তির দেখাশুনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। সে দরিদ্র হলে সংগত পরিমাণে তা থেকে কিছু ভক্ষণ করতে পারে। আমর ইবনে শুয়াইব সূত্রে বর্ণিত: এক ব্যক্তি রসূল (সা) এর কাছে এসে বললো: আমি দরিদ্র। আমার কিছুই নেই। আমার তদারকীতে একজন ইয়াতিম রয়েছে। রসূল (সা) বললেন: তুমি তোমার ইয়াতিমের সম্পত্তি থেকে কিছু খেতে পার। কিন্তু অপচয় অপব্যয় করবেনা। সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেলে আর তার অভিভাবকত্ব করবেনা এবং তার সম্পদ (নিজের জন্য) সঞ্চয় করবেনা। অন্য কথায়, প্রচলিত নিয়মে একই কাজে যে পারিশ্রমিক দেয়া হয় তার চেয়ে বেশি নেয়া নিষেধ।
📄 প্রাপ্ত বয়স্কের ভরণপোষণ
আল্লাহ্ সূরা নিসার ৫নং আয়াতে বলেন: وَلَا تُؤْتُوا السُّفَهَاء أَمْوَالَكُمُ الَّتِي جَعَلَ اللهُ لَكُمْ فِيهَا وَ ارْزُقُوهُمْ فِيْهَا وَاكْسُوهُمْ وَقُولُوا لَهُمْ قَوْلاً مَّعْرُوفًا
'তোমাদের সম্পদ, যা আল্লাহ্ তোমাদের জন্যে উপজীবিকা করেছেন, তা নির্বোধদের হাতে অর্পণ করোনা। তা তাকে তাদের গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা করবে এবং তাদের সাথে সদালাপ করবে।' ইমাম কুরতুবী বলেন: 'ওছি ইয়াতিমের ব্যয় তার অবস্থা ও সম্পদ অনুযায়ী নির্বাহ করবে। সে যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং তার সম্পত্তি অনেক থাকে, তবে তার জন্যে ধাত্রী পালনকারিণী নিয়োগ করবে এবং তার ব্যয় নির্বাহে প্রশস্ততার নীতি অবলম্বন করবে। আর যদি প্রাপ্তবয়স্ক হয় তবে তার জন্য উত্তম পোশাক, মজাদার খাবার ও ভৃত্যের ব্যবস্থা করবে। আর যদি সম্পদ কম থাকে তবে সেই অনুপাতে ব্যয় নির্বাহ করবে। আর যদি আরো কম থাকে তবে সাধারণ খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সাধারণ পোশাকের ব্যবস্থা করবে। ইয়াতিম যদি এত দরিদ্র হয় যে তার কিছুই নেই, তবে বাইতুল মাল থেকে তার জন্যে ভাতা বরাদ্দ করা শাসকের কর্তব্য। শাসক তা না করলে মুসলমানদের উপর তা দায়িত্ব বর্তাবে। প্রথমে বিশিষ্ট জনদের উপর, তারপর সর্বসাধারণের উপর। তার মেয়ে তার জন্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাকে স্তন্য দান, ও দেখাশুনা করা তার কর্তব্য। এ জন্য সে কারো কাছে পাওনাদার হবেনা।