📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নিজের বিরুদ্ধে নির্বোধের স্বীকারোক্তি

📄 নিজের বিরুদ্ধে নির্বোধের স্বীকারোক্তি


ইবনুল মুনযির বলেন: আমি যতো জন আলেমের মতামত স্মরণ রেখেছি, তারা সবাই একমত যে, নির্বোধ ব্যক্তি নিজের বিরুদ্ধে ব্যভিচার, চুরি, মদপান, অপবাদ বা হত্যার স্বীকারোক্তি করলে তা বৈধ এবং তার উপর হদ্দ কার্যকর হবে। আর যদি তার কাছে কারো কোনো পাওনা আছে মর্মে স্বীকারোক্তি করে তবে তার উপর থেকে হিজর অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত তার কাছ থেকে তা দাবি করা যাবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নির্বোধ ও দেউলের উপর হিজর আরোপের প্রচার

📄 নির্বোধ ও দেউলের উপর হিজর আরোপের প্রচার


নির্বোধ ও দেউলের উপর হিজর আরোপিত হয়ে থাকলে তার ব্যাপক প্রচার মুস্তাহাব, যাতে জনগণ তা জানে, তাদের ব্যাপারে ধোঁকায় না পড়ে এবং মানুষ তাদের সাথে লেনদেন করতে চাইলে জেনে বুঝে করে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অপ্রাপ্ত বয়স্কের উপর হিজর

📄 অপ্রাপ্ত বয়স্কের উপর হিজর


নির্বোধের উপর যেমন তার নির্বুদ্ধিতার কারণে হিজর আরোপিত হয়, তেমনি অপ্রাপ্তবয়স্কের উপরও হিজর আরোপিত হয় এবং তাকে তার ধন-সম্পদে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত রাখা হয়, যাতে তার সম্পত্তি নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায়। কেবল দুই শর্তে তাকে তার সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করার অনুমতি দেয়া যায়। এক: প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া; দুই: বুদ্ধিমত্তা লাভ।
সূরা নিসার ৬ নং আয়াতে আল্লাহ্ বলেন: وَابْتَلُوا الْيَتَامَىٰ حَتَّىٰ إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ ۚ فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ ۖ
'ইয়াতীমদেরকে যাচাই করো যতক্ষণ পর্যন্ত তারা বিয়ের যোগ্য হয়। যদি তাদের মধ্যে ভাল মন্দ বিচারের জ্ঞান দেখতে পাও তবে তাদের সম্পদ তাদেরকে ফিরিয়ে দাও।'এ আয়াতটি সাবিত ইবনে রিফায়া ও তার চাচা সম্পর্কে নাযিল হয়। রিফায়া তার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে সাবিতকে রেখে মারা গেলে সাবিতের চাচা রসূল (সা) এর নিকট এসে বললো: আমার এই ভাতিজা ইয়াতিম এবং আমার নিকট লালিত-পালিত হচ্ছে। তার সম্পদ থেকে কতটুকু আমার জন্যে হালাল এবং কবে তার সম্পদ তার কাছে অর্পণ করবো? তখন আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করলেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বয়প্রাপ্তির দিনর্শনাবলী

📄 বয়প্রাপ্তির দিনর্শনাবলী


নিম্নোক্ত নিদর্শনাবলীর যে কোনোটি প্রকাশ পেলে বয়োপ্রাপ্তি প্রমাণিত হয়:
১. বীর্যপাত, চাই তা ঘুমের মধ্যে হোক বা জাগ্রত অবস্থায়। আল্লাহ্ সূরা নূরের ৫৯ নং আয়াতে বলেন: وَإِذَا بَلَغَ الْأَطْفَالُ مِنْكُمُ الْحُلُمَ فَلْيَسْتَأْذِنُوا كَمَا اسْتَأْذَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ ۚ
'তোমাদের সন্তানেরা বয়োপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন অনুমতি প্রার্থনা করে যেমন অনুমতি প্রার্থনা করে থাকে তাদের বয়োজ্যেষ্ঠগণ।'
আবু দাউদ আলি (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: তিন ব্যক্তি দায়মুক্ত: শিশু যতক্ষণ না তার বীর্যপাত হয়, ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না জাগ্রত হয় এবং পাগল যতক্ষণ না তার জ্ঞান ফিরে আসে।' আলি (রা) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: বীর্যপাতের পর আর কেউ ইয়াতিম (অর্থাৎ নাবালক) থাকেনা।' (আবু দাউদ)।
২. বয়ষ্ক পনেরো বছর অতিক্রম করা। কেননা ইবনে উমর (রা) বলেন: 'আমার বয়স যখন চৌদ্দ বছর, তখন আমি ওহুদ যুদ্ধে যাওয়ার জন্যে রসূল (সা) এর সামনে নিজেকে পেশ করি। কিন্তু তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। খন্দকের দিন যখন তাঁর সামনে নিজেকে পেশ করলাম তখন আমার বয়স পনেরো বছর। রসূল (সা) তখন আমাকে অনুমতি দিলেন।'
উমর ইবনে আব্দুল আযীয এ হাদিস শুনে তাঁর কর্মকর্তাদের নিকট লিখলেন, তারা যেন পনেরো বছরের কম বয়সী কাউকে কোনো আদেশ না দেয়।' ইমাম মালেক ও ইমাম আবু হানিফা বলেন: যার বীর্যপাত হয়নি, তার সতেরো বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বয়োপ্রাপ্ত গণ্য করা হবেনা। সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুসারে ইমাম আবু হানিফার মতে উনিশ বছর। তিনি মেয়ের ক্ষেত্রে বলেছেন: তার বয়োপ্রাপ্তি সতেরো বছরে। দাউদ বলেন: বয়স দ্বারা কেউ বয়োপ্রাপ্ত গণ্য হবেনা, যতোক্ষণ বীর্যপাত না হয়, চাই তার বয়স চল্লিশ বছর হোক না কেন।
৩. যৌনাংগের আশপাশে লোম গজানো। অর্থাৎ ঘনকালো চুল গজানো। শুধু চুল গজালেই হবেনা। কেননা তা সব শিশুরই গজায়। বনু কুরায়যার যুদ্ধে এই চুল দেখেই চিহ্নিত করা হতো যে, সে যোদ্ধা বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত।
ইমাম আবু হানিফা বলেন: লোম গজানো দেখে ফায়সালা করা যাবেনা। এটা বয়োপ্রাপ্তির লক্ষণও নয়।
৪. মাসিক স্রাব ও গর্ভধারণ: উপর্যুক্ত প্রত্যেকটি নিদর্শন দ্বারা নারী ও পুরুষ উভয়ের বয়োপ্রাপ্তি প্রমাণিত হয়। নারীর জন্য অতিরিক্ত দুটো নিদর্শন হলো মাসিক স্রাব ও গর্ভ ধারণ। কেননা ইমাম বুখারী প্রমুখ আয়েশা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন। রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: আল্লাহ্ ওড়না ব্যতীত ঋতুবতি মহিলার নামায কবুল করেন না। আর 'ভালমন্দ বিচারের জ্ঞান' দ্বারা বুঝায় ধন-সম্পদকে বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা ও তার উন্নতি সাধনের ক্ষমতা, যার ফলে সে মারাত্মকভাবে ঠকবেনা এবং হারাম কাজে সম্পদ ব্যয় করবেনা। যখন কোনো ব্যক্তি বয়োপ্রাপ্ত হয় কিন্তু ভালমন্দ বিচারের জ্ঞানের অধিকারী হয়না, তখন সে অন্যের আর্থিক অভিভাবকত্বের অধীন থাকবে, যতক্ষণ না ভালমন্দ বিচারের জ্ঞান তার মধ্যে না দেখা যায়। এ জন্যে কোনো নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণ করা হবেনা, যেমন কুরআনের বাণী থেকে বাহ্যত প্রতীয়মান হয়। তবে এটা ইমাম আবু হানিফার মতের পরিপন্থী। আর ভালোমন্দ বিচারের জ্ঞান প্রকাশ পাওয়ার পর যদি কারো মধ্যে পুনরায় নির্বুদ্ধিতা প্রকাশ পায়, তবে তার উপর পুনরায় হিজ্ব (লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা) আরোপ করা হবে। কেননা জাস্সাস বলেন, নির্বুদ্ধিতার ক্ষতি সকলকেই গ্রাস করে। সে যখন অপচয় দ্বারা নিজের সম্পদ উজাড় করবে, তখন সে সমাজের জন্যে ও সরকারি কোষাগারের জন্যে বিপজ্জনক ও গলগ্রহ হয়ে দাঁড়াবে। এভাবে নির্বুদ্ধিতার কারণে ধন সম্পদের উপর তার অভিভাবকত্বের অবসান ঘটে। আর তার নিজের উপর অন্যের অভিভাবকত্বের অবসান ঘটে তখনই, যখন সে বুদ্ধিমান অবস্থায় বয়োপ্রাপ্ত হয় ও আইনী দায়দায়িত্বের অধিকারী হয়। ইবনে আব্বাস (রা)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো: ইয়াতিমের ইয়াতিমত্বের অবসান কখন হয়? তিনি জবাব দিলেন: আল্লাহ্র কসম, দাড়ি গজানোর পরও অনেকে উপার্জনে দুর্বল এবং অন্যকে দেয়ায়ও দুর্বল থাকে। যখন কেউ নিজের জন্যে ভাল উপার্জন করতে শিখবে তখন তার ইয়াতিমত্ব ঘুচে যাবে। সাঈদ ইবনে মনসূরে, বর্ণনা অনুসারে মুজাহিদ সূত্রে বর্ণনা করেন: 'যদি তোমরা তাদের মধ্যে ভালমন্দ বিচারের জ্ঞান দেখতে পাও' এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মুজাহিদ বলেন: মানুষ শুধু বয়োপ্রাপ্ত এবং বুদ্ধিমান হলেই নিজের ধন-সম্পদের কর্তৃত্ব পায় না, যতক্ষণ না ভালমন্দ বিচারের জ্ঞান তার মধ্যে না দেখা যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00